বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

দুবাইয়ে বেসরকারি ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে রুমানা-জাহানারা

ক্রিকেট বিশ্বে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফ্রাঞ্চাইজি আসর। এই ফ্রাঞ্চাইজি আসরগুলো আয়োজন করে থাকে একেকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড। সেখনে সাধারণত নিজ নিজ দেশের ক্রিকেটারদের বাইরে অন্য টেস্ট খেলুড়ে দেশের ক্রিকেটাররা খেলে থাকেন। টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে সহযোগী দেশের ক্রিকেটাররা কমই সুযোগ পেয়ে থাকেন। যে কয়দিন এই আসর চলে, সবাই বুঁদ হয়ে থাকেন খেলা নিয়ে। চার-ছক্কার বাহারি মার আর টানটান উত্তেজনায় পার হয় এক একটি দিন। থাকে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচও।

মেয়েদের ফ্রাঞ্চাইজি আসর এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া শুরু করেছে। তবে এখনো জমজমাট হয়ে উঠতে পারেনি। এরই মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হংকংয়ের ফেয়ারব্রেক মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ফ্রাঞ্চাইজি আসরের উদ্যোগ নিয়ে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। একেতো ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সেখানে আবার ৩৫টি দেশের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ, যা ছেলেদের ক্রিকেটেও এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি। খেলা হবে মরুর বুকে দুবাইয়ে। রুমানা বার্মি আর্মি এবং জাহানারা ফ্যালকন দলে খেলবেন। দুই জনেকেই ইতিমধ্যে বিসিবি থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিল দুই ক্রিকেটার দুবাই যাবেন। ছয় দলের আসর শুরু হবে ১ মে। শেষ হবে ১৫ মে। মোট খেলা হবে ১৯টি।

এই আসরকে ইতিমধ্যে আইসিসি স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কারণে আসরের প্রতিটি ম্যাচই আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পাবে। মেয়েদেরে ক্রিকেটে এটি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় আসর। এর আয়োজক হংকং। কিন্তু করোণার কারণে ভেন্যু পরিবর্তন করে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আইসিসি স্বীকৃতি দেওয়াতে পূর্ণ সদস্য দেশের অনেক নামী-দামী ক্রিকেটাররাও এই আসরে খেলছেন। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি ক্রিকেট খেলুড়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশেরই নারী ক্রিকেটাররা এই আসরে অংশ নিচ্ছেন। ৩৫ দেশের ৯০ জন ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন এই আসরে। ভারতের হানপ্রিত কাউর, দিপ্তি শর্মা থেকে শুরু করে উইন্ডিজের দেন্দ্রা ডত্তিন, স্টেফানি টেলর, পাকিস্তানের সানা মির, ফতিমা সানা, বিসমা মাহরুফ, দক্ষিণ আফ্রিকার মারিজানে কপ, অস্ট্রেলিয়ার জর্জিয়া রেডমাইন, শ্রীলঙ্কার চামারি আত্তাপাত্তু যেমন খেলছেন, তেমনি ভুটানের আঞ্জু গৌরাং, ব্রাজিলের রবের্টা মরেট্টিও খেলছেন। ৯০ জন ক্রিকেটারের মাঝে ৪০ জন পূর্ণ সদস্য দেশের। বাকি ৫০ জন সহযোগী দেশের। ক্রিকেটারদের কোনো নিলাম হবে না। আয়োজকরাই বিভিন্ন দলে ভাগ করে দেবেন।

ফেয়ারব্রেকের এটি দ্বিতীয় আয়োজন। প্রথমবার তারা করেছিল ছোট পরিসরে হংকংয়ে ২০১৮ সালে। দ্বিতীয় আসর তারা বড় পরিসরে কর্রা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু করোনার কারণে হংকং সরকারের নানা বিধি নিষেধের কারণে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভেন্যু পরিবর্তন করে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়।

ফেয়ারব্রেক মূলত বিশ্বে মেয়েদের সমঅধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে। বড় পরিসরে দ্বিতীয় আসর আয়োজন করতে গিয়ে তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে শুরুতে কোনো রকমের সহযোগিতা পায়নি। ছেলেদের মতো মেয়েদেরও অনাপত্তি পত্র দিতে নারাজ ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে তারা কয়েকজন ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র দিয়েছে। ভারতীয়দের ছাড়পত্র পাওয়াতে আসরের জৌলুষ অনেক বেড়ে গেছে। কারণ ক্রিকেট বিশ্বে ভারত এখন মহা শক্তিশালী দেশ ও বাজার। বেসরকারি উদ্যোগ হওয়াতে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবিকেও শুরুতে ভাবতে হয়েছে; কিন্তু আইসিসি স্বীকৃতি দেয়াতে রুমানা ও জাহানারার ছাড়পত্র বিসিবি দিয়ে দেয়।

জাহানারাকে এই আসরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল গত বছর বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ে সফরের সময়। সব কিছু জানার পর তিনি খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কারণ এটি শুধু একটি খেলা না, মেয়েদের অধিকারের বিষয়টিও জড়িত। কিন্তু প্রস্তাব প্ওায়ার পর তিনি দিধায় ছিলেন বিসিবির অনাপত্তি পত্র পাবেন কি না? তার শঙ্কার কারণ ছিল আসরটির প্রাইভেটলি করা হচ্ছে। অনাপত্তি পত্র পাওয়ার পর তিনি যারপর নাই খুশি হয়েছেন।

ঢাকাপ্রকাশকে জাহানারা বলেন, ‘অসাধারণ এক অনুভুতি। বলে বুঝাতে পারব না। আমরা তো এমনিতেই ক্রিকেট খেলি। কিন্তু এই সংগঠন বিশ্বে মেয়েদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাই এরকম একটি আসরে খেলতে পারার অনুভুতিই আলাদা।’

জাহানারা গতবার আইপিএলে খেলেছেন ভেলোসিটির হয়ে। আসর বসেছিল দুবাইতে; কিন্তু করোনার কারণে দর্শক বিহীন মাঠে খেলতে হয়েছিল। তাই আলাাদ কোনো উত্তেজনা অনুভব করেননি। এই আসর হবে দর্শকেদের উপস্থিতিতে। দর্শকদের উপস্থিতিতে খেলার উত্তেজনাই আলাদা।

জাহানারা বলেন, ‘বেসরকারি উদ্যোগে এ রকম একটি আয়োজন অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। এই আসরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে ৩৫টি দেশের ক্রিকেটাররা খেলবেন। আইপিএলে কিন্তু এতো দেশের ক্রিকেটাররা খেলেননি। মাঠে দর্শক থাকবেন। এখানে যেমন তারকা ক্রিকেটাররা খেলবেন, তেমনি অনেক অখ্যাত ক্রিকেটাররাও খেলবেন। পুরানো অনেকের সঙ্গে দেখা হবে। নতুনদের সঙ্গে পরিচয় হবে। আমি যেমন অন্যদের কাছ থেকে শিখতে পারব, তেমনি আমিও অন্যদের হেল্প করতে পারব। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যাতে ভালো করতে পারি।’

জাতীয় দলের অধিনায়ক রুমানা আহমেদের বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তিনি খেলেছিলেন হার্বার হ্যারিকেনে। ফেয়ারব্রেক ফ্রাঞ্চাইজি আসরে খেলার সুযোগ পেয়ে তিনিও পুলকিত। ঢাকাপ্রকাশকে তিনি বলেন, ‘ডিফারেন্ট অনুভূতি। প্রথম খেলতে যাচ্ছি। পরিচিত-অপিরিচিত অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ হবে। অনেক কিছুই শেয়ার করা যাবে। খেলার পাশাপাশি এখানে আমাদের অধিকারের বিষয়টিও আছে। প্রাইভেটলি যে এ রকম বড় একটি টুর্নামেন্ট করা সম্ভব ফ্রেয়ারব্রেক সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি এক্সাইটেড। সবার কাছে দোয়া চাই, আমি যেন ভালো খেলতে পারি।’

এমপি/এসএ/

Header Ad
Header Ad

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তিতে সম্মত ইউক্রেন  

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র্রের সঙ্গে বড় খনিজ চুক্তির শর্তাবলিতে সম্মত হয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন।

“আমরা বেশ কয়েকটি ভালো সংশোধনীতে একমত হয়েছি এবং এটিকে একটি ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে দেখছি,” আর কোনো বিবরণ না দিয়ে বলেন ওই কর্মকর্তা ।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার থেকে সম্ভাব্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের অধিকারের প্রাথমিক দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে দৃঢ় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়নি, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউক্রেনীয় দাবি।

দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্য বিনিময়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি আশা করছেন, এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তার ইউক্রেনীয় প্রতিপক্ষ ভলোদিমির জেলেনস্কি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত না করেই, ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, চুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন ‘লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার’ পাবে।

“তারা খুব সাহসী,” তিনি সাংবাদিকদের বলেন।

“কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ এবং সামরিক সরঞ্জাম ছাড়া এই যুদ্ধ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত।” যোগ করেন ট্রাম্প।

ইউক্রেনে মার্কিন সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হয়তো রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত... আমাদের একটি চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় এটি চলতেই থাকবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “যেকোনো শান্তি চুক্তির পর ইউক্রেনে “শান্তিরক্ষা’ প্রয়োজন হবে। তবে তা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।”

গত সপ্তাহেই ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘একনায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং যুদ্ধ শুরু করার জন্য রাশিয়াকে নয় বরং ইউক্রেনকে দোষারোপ করেছেন বলে মনে হচ্ছে, যখন ইউক্রেনের নেতা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদের জন্য মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি রাশিয়ার তৈরি ‘ভুল তথ্যের জায়গায়’ বাস করছেন।

তিন বছর আগে মস্কো পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প ইউক্রেনের পূর্ববর্তী সামরিক ও অন্যান্য সাহায্যের বিনিময়ে দেশটির খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকারের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

জেলেনস্কি যুক্তি দেন যে এত বেশি আমেরিকান সাহায্য এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমি আমাদের রাষ্ট্র বিক্রি করতে পারি না।”

মঙ্গলবার, ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৩০০ থেকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। আমরা সেই টাকা ফেরত পেতে চাই। আমরা দেশকে একটি খুব বড় সমস্যার মধ্য দিয়ে সাহায্য করছি... কিন্তু আমেরিকান করদাতারা এখন তাদের টাকা ফেরত পাবেন।”

ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশিনা মঙ্গলবার খনিজ চুক্তির বিষয়ে প্রথম রিপোর্ট করা ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, চুক্তিটি ‘ছবির একটি অংশ মাত্র’।

“আমরা মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে একাধিকবার শুনেছি যে এটি একটি বৃহত্তর ছবির অংশ,” আলোচনার নেতৃত্বদানকারী স্টেফানিশিনা বলেন।

ইউক্রেনীয় সূত্রের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার আরও কিছু কঠিন দাবি থেকে সরে আসতে হয়েছে এবং এই চুক্তির অনেক বিবরণের জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন হবে।

ইউক্রেনের নিউজ ওয়েবসাইট ইউক্রেনস্কা প্রাভদা জানিয়েছে যে খনিজ চুক্তিটি ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষর করবেন।

নিউজ সাইটের অর্থনীতি ইউনিট ইপি জানিয়েছে যে দুটি দেশ একটি পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিল গঠনেও সম্মত হয়েছে।

ইউক্রেনে লিথিয়াম এবং টাইটানিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং খনিজ পদার্থের বিশাল মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে কয়লা, গ্যাস, তেল এবং ইউরেনিয়াম রয়েছে।

গত বছর জেলেনস্কি ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা অংশীদারদের কাছে একটি ‘বিজয় পরিকল্পনা’ উপস্থাপন করেছিলেন যাতে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে যুদ্ধের শেষে বিদেশী সংস্থাগুলি দেশগুলির কিছু খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন যে তিনি ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত অঞ্চলগুলিসহ বিরল খনিজ পদার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত।

Header Ad
Header Ad

ছোট অপরাধ বাড়লেও কমেছে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ  

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবে ছোটখাটো অপরাধ কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে বিজয় সরণিতে ঢাকা মহানগরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও পুরোপুরি আগের অবস্থানে ফিরে আসেনি। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে বাহিনীকে পুনর্গঠনের জন্য নতুন নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সাম্প্রতিক অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আওতায় চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ছিনতাই ও ছোট অপরাধ বেড়েছে স্বীকার করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইসহ ছোটখাটো অপরাধ কিছুটা বেড়েছে। তবে এরই মধ্যে বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

'আমরা বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর সহায়তায় ব্লক রেইড ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে' বলেন উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, যে কোনও দেশেই অপরাধ থাকে, তবে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। বড় ধরনের অপরাধ যেমন, খুন, ডাকাতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই কিছুটা বেড়েছে। আশা করছি, এটিও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন অপরাধের ভিডিও নিয়ে তিনি বলেন, একটি ঘটনা ভাইরাল হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়, যা বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে বেশি মনে হতে পারে। অপরাধের প্রকৃত চিত্র বুঝতে পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত।

চাঁদাবাজি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেখা গেছে, আগের চাঁদাবাজদের জায়গায় নতুনরা এসেছে। তাদের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনও রয়েছে। আমরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের আহ্বান জানাই, যেন তারা এসব অপরাধকে প্রশ্রয় না দেন।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে চাঁদাবাজির ঘোষণা দিচ্ছে। এটি দুঃখজনক। সরকার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জামিনে মুক্ত হয়ে আসা অপরাধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখনও তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নজরদারিতে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আবারও গ্রেফতার করা হবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী ও ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

Header Ad
Header Ad

নায়িকার মামলায় জাজের আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা  

জাকিয়া জামাল মুন ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢালিউডের নবাগত নায়িকা জাকিয়া কামাল মুনের দায়েরকৃত প্রতারণার মামলায় প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ‘পাপ’ সিনেমা নির্মাণে সহযোগিতার জন্য প্রযোজক আবদুল আজিজকে এককালীন ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন নায়িকা জাকিয়া কামাল মুন। একই বছরের মার্চের মধ্যেই সিনেমার কাজ শেষ করার কথা ছিল।

চুক্তিনামার শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত দেননি আবদুল আজিজ। এ ব্যাপারে বারবার আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ করা হলেও তা উপেক্ষা করেছেন তিনি। বিপরীতে গত বছরের মে মাসে ‘পাপ’ সিনেমাটি একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ।

আরও জানা গেছে, আবদুল আজিজ টাকা ফেরত প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি হুমকি দিয়েছেন যে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাদীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেবেন।

এদিকে এ ব্যাপারে অভিনেত্রী মুন বলেছেন, আমি বারবার টাকা ফেরত চেয়েছি। কিন্তু তিনি দেননি। এমনকি আমার ফোনও ধরছেন না তিনি। বরং আমাকে আরও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। এ কারণে বাধ্য হয়েই মামলা করেছি আমি।

অন্যদিকে মামলার ব্যাপারে জানার জন্য সংবাদমাধ্যম থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি আবদুল আজিজের।

২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রথম সিনেমা ‘ভালোবাসার রঙ’ মুক্তি পায়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যানারে একাধিক সুপারহিট সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। যা দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসিতও।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তিতে সম্মত ইউক্রেন  
ছোট অপরাধ বাড়লেও কমেছে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ  
নায়িকার মামলায় জাজের আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা  
মধুর ক্যান্টিনে বিকেলে যাত্রা শুরু করবে সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠন
১৩ মার্চ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব  
গোল উৎসবে নিষ্প্রাণ বার্সার রক্ষণ, সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ড্র
ইসরায়েলি কারাগারে কমপক্ষে ৫৯ ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু  
পল্টনের জামান টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে  
ভোরে হঠাৎ পুলিশের টহল কার্যক্রম পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা  
কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নারী নিহত
নওগাঁয় যৌথ বাহিনীর টহল সন্দেহ হলেই করা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ
সরকারের কারও কারও বক্তব্যে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে: তারেক রহমান
বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আটক ৪
জুলাইয়ে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসবে পাকিস্তান
টাঙ্গাইল পৌরসভায় দুদকের অভিযান
ডিআইজি-এসপিসহ পুলিশের ৮২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ওএসডি
অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়েট বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ
পদোন্নতি পেয়ে সচিব হলেন ৭ জন অতিরিক্ত সচিব
দেশজুড়ে ডেভিল হান্টে আরও ৬৩৯ জন গ্রেপ্তার
এআই প্ল্যাটফর্ম সালামা: ২০ সেকেন্ডে মিলবে দুবাইয়ের ভিসা