শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শিক্ষার অহংকার ও আমাদের মানবিক বিপর্যয়!

২০৩০ সালে উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যে দিকগুলোর উন্নতি অপরিহার্য তার মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা অন্যতম। মানসম্মত শিক্ষা ব্যতীত একটি দেশের সামগ্রিক উন্নতি বাধাগ্রস্থ হয়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রযন্ত্রের উদ্যোগ ও আন্তরিকতা বিবেচ্য। আর এজন্যই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র বা সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলের ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো মানসম্মত শিক্ষা। এই সময়ের মধ্যে যদি সমগ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা না যায় তাহলে বাকি ইস্যু গুলোর উন্নতি টেকসই হবেনা।

শিক্ষাকে একমুখীকরণ, সংস্কার সাধন এবং সর্বজনীন করার মধ্য দিয়েই এই রাস্তা তৈরি হতে পারে। কিন্তু বিগত দুই দশক ধরে শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান নানা উদ্যোগ, পোষ্টমর্টেম, পরিবর্তন, পরিবর্ধন পরিমার্জন সংকোচন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে যা কাক্ষিত মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্যকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করেনি করেছে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ।

সবশেষ ২০২২ সালে এস,এস,সির ফলাফল প্রমাণ করে সরকার শিক্ষায় হাইব্রিড অর্জনের কোন রাস্তা আর বাকি রাখেনি। মান অর্জনের জায়গায় আমরা শুধু কিছু সংখ্যার উন্নতি দেখে অভ্যস্ত হয়েছি। আর এটাকে আমরা মনে করেছি শিক্ষার উন্নতি, প্রকৃত উন্নতি। তবে শিক্ষার উন্নতি সবসময় ধান গাছের মত দৃশ্যমান হয় না এটা কখনও কখনও ওল গাছের মতও হয়। আমাদের শিক্ষার উন্নতি ধান-গমের মত দৃশ্যমান কিন্তু সেটা কতটুকু টেকসই আমরা কি ভেবেছি কখনো? শিক্ষায় সংস্কৃতিতে, কাঙ্খিত সমাজ পরিবর্তনের প্রতিফলন আসে শিক্ষার মধ্য দিয়ে আর এটাই শিক্ষার চূড়ান্ত রূপ।

শিক্ষার এই সংখ্যা তাত্বিক বিশ্লেষণ প্রমাণ করে আমরা স্থায়ীভাবে কেরানি তৈরির জন্য কতটা উদগ্রীব। ব্রিটিশ পাকিস্থান এমনকি বাংলাদেশ পর্বে এসেও সরকারের অনুগত কর্মচারী শ্রেণি, কেরানি তৈরি করা ছাড়া শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তনের কোনো অনুসঙ্গ যোগ করতে পারিনি। ঔপনিবেশিক আমলের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে হাল আমলের শিক্ষাব্যবস্থার আসলে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

সনদ সর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সুশীল সমাজের চিৎকার বহুদিনের। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যে ছাত্র নকল করিল আর যে ছাত্র মুখস্থ করিয়া মগজে ভরিয়া খাতার উপর বমি করিল, সেই বা কম কি করিল! পড়া মুখস্থ কর, পরীক্ষা দাও, ভালো চাকরি পাও, বিলাসী জীবন কাটাও, এখন পর্যন্ত আমরা শিক্ষার এই সংকীর্ণ ধারণায় আটকে আছি। আত্মশক্তি অর্জনই যে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সেই চিন্তা থেকে আমরা আজ বহুদূরে। শিক্ষা যে প্রদীপ শিখা, পরশ পাথর এবং এই তত্বদিয়ে বৃহৎ পরিসরে পরিবর্তন, বিপ্লব আনা সম্ভব, রাষ্ট্র, সমাজ দেশ, জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে উঠিয়ে আনা সম্ভব সেই চিন্তা এখন সুদূর পরাহত। পৃথিবীর বহুদেশ শিক্ষা দিয়ে সেই পরিবর্তন এনছেন এখনো আনছেন। বলা হচ্ছে একুশ শতকে শিক্ষায় রাষ্ট্রের সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান অস্ত্র। রেনেঁসাস মানুষ তৈরির মূল হাতিয়ার শিক্ষা, এই চেতনা আজ নির্বাসিত। প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য থেকে আমাদের দূরত্ব যোজন যোজন। একজন শিক্ষিত মানুষ নিজের পাশাপশি জাতি, সমাজ নিজের বিশ্বাসকে এগিয়ে নেয়, মানবতার জন্য বেদনা অনুভব করবে এমন প্রবণতা এখানে অনুপস্থিত। শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষার অহংকার তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সমাজের মানবিক, নৈতিক, উন্নতি না হয়ে ঘটেছে উল্টো বিপর্যয়। শিক্ষায় বিনিয়োগের কোনো সুফল আসেনি।

আগের তুলনায় আমাদের দেশে এখন মেধাবীর সংখ্যা অনেক বেশি। ২০০১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে শুধু এ প্লাস পেয়েছে ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ জন। মেধাবী মানুষে ভরে গেছে দেশ, নেই আলোকিত মানুষ; অথচ শিক্ষা তৈরি করে আলোকিত মানুষ, রেনেঁসাস মানুষ।
অ্যারিষ্টটল, প্লেটো, কিংবা ইমানুয়েল কান্ট, হেগেল, জেরেমি বেস্থাম থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ কিংবা আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানীরা শিক্ষার এই দৃশ্যমান উন্নতির কথা বলেননি। আত্বিক উন্নতির পাশাপাশি প্রয়োজনের শিক্ষাও দরকার, কিন্তু প্রথম বিষয়টিকে উপেক্ষা করে নয়। একটু পরিসংখ্যান দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

২০০১ সালে প্রথম গ্রেডিং পদ্ধতির মধ্যদিয়ে দেশে পরীক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক পুনর্জাগরণের আভাস আমরা দেখতে পায় এবং সে বছর সারা দেশে যেভাবে জি,পি,এ’র উত্থান আমরা দেখি। সে ধারা এখনও অব্যহত আছে পুর্বের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে। ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে মেধাবী না বাড়লেও বেড়েছে এ প্লাস এর সংখ্যা। গ্রেডিং পদ্ধতির প্রারম্ভে ২০০১ সালে যেখানে সারাদেশে মোট ৭৬ জন এ প্লাস পায়, সেখানে ২০০২ সালে এসে জ্যামিতিক হারে এই সংখ্যা বেড়ে ৩২৭ এ দাঁড়ায়।

২০০৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৮৯, ২০০৪ সালে ৮৫৯৭, ২০০৫ সালে ১৫৬৩১, ২০০৬ সালে ২৪ ৩৮৪, ২০০৭ সালে ২৫৭৩২, ২০০৮ সালে ৪১৯১৭, ২০০৯ সালে ৪৫৯৩৪, ২০১০ সালে ৫২১৩৪, ২০১১ সালে ৬২২৮৮, ২০১২ সালে ৮২২১২, ২০১৩ সালে ৯১২২৬, ২০১৪ সালে ১৪২২৭৬, ২০১৫ সালে ১১১৯০১, ২০১৬ সালে ১০৯৭৬১, ২০১৭ সালে ১০৮৭৬১, ২০১৮ সালে ১১০৬২৯, ২০১৯ সালে ১০৫৫৯৪, ২০২০ সালে ১৩৫৮৯৮, ২০২১ সালে ১৮৩৩৪০ এবং এভাবে চলতে চলতে সর্বশেষ ২০২২ সালে এসে সেটা দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬০০২ জন। প্রায় ২০ লাখের অধিক ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে ১৮ লাখ ৮১ ৬০০ জন শিক্ষার্থী পাস করে, পক্ষান্তরে ফেলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ জন। দুই দশকের ব্যবধানে দেশে জ্যামিতিক হারে শুধু মেধাবীর সংখ্যা বাড়েনি; পাসের হার ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। সবমিলিয়ে ২২ বার দেশে অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষায় কথিত এ প্লাস ধারীর মোট সংখ্যা ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯ জন।

মেধাবী শিক্ষাথীতে ভরে গেছে দেশ, শূন্যতা রয়েছে ফলাফলে। শিক্ষার্থীদের শুধু শুধু নাম্বার দেওয়ার প্রবণতা, খাতামূল্যয়নে শৈথিল্য প্রদর্শন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীলতার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি এমন কা-ের মূল কারণ। উদ্দেশ্যহীনভাবে এভাবে সনদ দেওয়ার প্রবণতা শিক্ষা ব্যবস্থায় বহুমাত্রিক সমস্যা তৈরী করেছে এর মধ্যে বেকারত্ব অন্যতম। শুধু শুধু পাশ করিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধবংশের পায়তারা চলছে অনেকদিন ধরেই তা না হলে এই নাম্বার দেওয়ার কোন উদ্দেশ্য আছে কি না সেটা বোধগম্য নয়। দক্ষিন আফ্রিকায় পরিচালিত এক গবেষণা বলছে পুরো জাতিকে ধ্বংস করার জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ তৈরি অথবা অতিরিক্ত নাম্বার দেওয়ার প্রবণতা যথেষ্ট। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের প্রয়োজন হয় না। টি, আই,বি, এডুকেশন ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি দাতা গোষ্ঠীর গবেষণা বলছে দেশে অশিক্ষিত বেকারের চেয়ে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অধিক। আর এই সংখ্যা ২৬ লাখের অধিক। প্রতিবছর মোট এই সংখ্যার সঙ্গে আরও যোগ হচ্ছে নতুন শ্রমশক্তি। যারা শিক্ষিত হয়ে নতুন চাকরির শ্রম বাজারে ঢুকে সমস্যা তৈরি করছে। শুধু পাশ করালেই সমাধান আসে না নাগরিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধান প্রদত্ত নাগরিকের এই অধিকার নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো মাথাব্যথা আছে কি না সেটা ভাববার বিষয়। শুধু পাশ করালে সংকট আরও বাড়ে যা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। আমরা ৯০ দশকের কোেো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখি ১৯৯০ সালের ৪ বোর্ড মিলিয়ে সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৩১ দশমিক ৭৩ শতাংশ, মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৬৯ শতাংশ ফেল করে। বলা চলে চার লাখের মতো শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখই ফেল করে। শিক্ষার মান সে সময়ে ভালো না হলেও খারাপ ছিল না। থাকলেও এতটা বিতর্কিত ছিল না। আজকের বাস্তবতায় ২০২২ সালে প্রায় ২০ লাখের অধিক পরীক্ষা দিয়ে ১৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০০ অধিক পাস করাটা আশ্চর্য্যের বটে। ফেল করেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ । ৯০ দশকের তুলনায় পুরোপুরি উল্টো চিত্র দেখি আমরা। আর এখানেই আছে যত সমস্যা। ২০২২ সালে পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্কুল ফাইনাল দেয়নি, পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

উদ্দেশ্যহীনভাবে অবিবেচকের মতো পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, গণতন্ত্রের মতো মানের চেয়ে সংখ্যাকে সমাধান মনে করার অপচেষ্টাই এমন এ প্লাস জোয়ারের জন্য দায়ী। ৮৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক গণিত ও ইংরেজির শিক্ষক সংকট। আর এসব কারণ শিক্ষার জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এই পাশ করা তথ্য আর সংখ্যার উন্নতি ক্রমাগত আমাদের পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, ঘটেছে আমাদের মানবিক বিপর্যয়। সংখ্যাতত্বে শিক্ষার অহংকার বেড়েছে পাশাপাশি বেড়েছে অনিশ্চয়তা আর দুঃচিন্তা। রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা আর শিক্ষাকে পণ্য করার ফলে এই প্রবণতা এখন সর্বগ্রাসী। সামনের দিকে রাষ্ট্রের তথাকথিত এই শিক্ষা সামগ্রিক উন্নতি আরও বেশি বাধাগ্রস্ত করবে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না । নতুন প্রজন্মের বি,সি,এস মুখিতা বিশেষ করে প্রশাসক তৈরি, কেরানি তৈরির নীলনকশা ছাড়া এই শিক্ষাব্যবস্থায় অন্যকিছু আছে কি না সেটা প্রশ্নবিদ্ধ! শিক্ষার উন্নতির গ্রাফ এখন নিম্নগামী। এই রাষ্ট্র মেধাবী জন্ম দিয়েছে নাকি আমরা পরিকল্পিত ভাবে তাদের সংখ্যা বাড়িয়েছি। শিক্ষায় মানবিক উন্নতির যে স্বপ্ন আমরা দেখি সেটা অধরা। শিক্ষায় যেভাবে আমাদের অহংকার বেড়েছে সেভাবে মানসিকতার উন্নতি আসেনি। আসলে সত্যিকার অর্থেই এই দেশ একদিন সোনার দেশে পরিণত হত। কল্যাণকর, গণতান্ত্রিক, মানবিক রাষ্ট্র তৈরির সম্ভাবনা শিক্ষাব্যবস্থায় রাখার প্রয়োজন ছিল সেটা হয়নি। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে শিক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষায় জমে থাকা সকল সমস্যা সমাধানের কথা বলা হলেও সেটা হয়নি।

আগামীতে সেটার সম্ভাবনা কতটুকু সেটা বিবেচ্য বটে। অতি সাম্প্রতিক কালে সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ কয়েকজন শিক্ষাবিদ শিক্ষা সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশের কথা বলেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন শিক্ষাকে উন্নত যুগোপযোগী করতে সর্বপ্রথম শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, শিক্ষায় বাজেট বৃদ্ধি করে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া এই মুহূর্তে আসলে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। শিক্ষাকে পণ্য করা জন্য রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা লক্ষণীয়। রয়েছে সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খখলার অভাব।

পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আকাশটাকে যতটা কাছে মনে হয় আসলে আকাশটা ততটা কাছে নয়। তাই শিক্ষিত হয়ে অনেক সার্টিফিকেট জোগাড় করলেই জ্ঞানী হয়না, এর জন্য বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে নিজেকে জানতে হবে। পুঁথিগত বিদ্যা আমাদেরকে বাক্সে বন্দী করে, নিজেকে সমাজে মেলে ধরা, সমাজ সংস্কারক কাজে নিয়োজিত করা প্রকৃত জ্ঞানী ছাড়া কোনো দিন সম্ভবপর নয়। আর জ্ঞানী ব্যক্তি অবশ্যই শিক্ষিত, যেমন শিক্ষিত অন্যদিকে বাস্তববুদ্ধি সম্পর্কে অবগত।

জ্ঞানী ব্যক্তি পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আকাশটাকে সত্যি কাছে করে দিয়েছেন মানবকল্যাণে। সেই শিক্ষা নেই আমাদের তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থায়। শিক্ষিত হয়ে সমাজের কেরানি হওয়া, জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজ সংস্কার, বিজ্ঞানের সাধনায় নিয়োজিত রাখা এখন কল্পনাপ্রসূত। অন্যকে জানেন শিক্ষিত, নিজেকে জানেন জ্ঞানী। জ্ঞান ছাড়া শিক্ষা কাজে লাগে না এই মন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসের বিলোপ সাধন করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি পোড়ামাটির নীতির দিকে।

তথাকথিত বিনয়, অহংকার ইত্যাদি দিয়ে শিক্ষিত ও প্রজ্ঞাবানদের আলাদা করা খুবই ভ্রান্ত। এটাও কোন চিন্তা না করে প্রচলিত পপুলিস্ট ধারণা আউড়ে যাবার মত হয়। কারণ, যাকে বিনয় বলা হয়, যাকে অহংকার বলা হয় তা সামাজিক কনটেক্সটের উপর নির্ভর করে। এমন ঊষর পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কি?

এ প্রসঙ্গে চিন্তাবিদ আহমদ ছফা বেশ দামি একটা কথা বলেছেন শিক্ষা বিষয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন বড় বড় স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যার চেয়ে অহংকার শেখে বেশি। শিক্ষার আলো মানুষের মনুষ্যত্ব, মানব প্রেম, বিবেককে জাগ্রত করে । আর যারা শিক্ষিত হয়েও অহংকারী হই বুঝতে হবে তারা শিক্ষা অর্জন করেছে শুধু অবস্থার উন্নয়নের জন্য। আর্থিক দৈন্যতা ঘোঁচানোর জন্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ, আলোকায়নের জন্য নয় আর যদি তা না হয় তাহলে এই বঙ্গদেশে শিক্ষা ব্যর্থতার অপর নাম। শিক্ষা এখানে কোনোদিনই হয়ে উঠবে না অস্ত্র যা দিয়ে রাষ্ট্রের সকল পরিবর্তন আনয়ন করা সম্ভব। এই রাষ্ট্রে শিক্ষা হয়ে উঠছে পণ্য যা দিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা চলবে কিন্তু তা কখনই হয়ে উঠবে না। শিক্ষার অহংকার আর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে এখন সেটাই হচ্ছে।

লেখক: গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষা গবেষক, এ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার।
সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ঝঊউচ) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র বাংলামোটর, ঢাকা

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী