আদমদীঘিতে ৯৮ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার আদমদীঘিতে র্যাব-৫ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৯৭ কেজি ৮শ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় মাদক বহনকারী একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের আদমদীঘি উপজেলার ইন্দইল আশা ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করা একটি ট্রাকে তল্লাশি করে উল্লেখিত পরিমাণ গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহি ক্যাম্পের সিনিয়র এএসপি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের ইন্দইল আশা ফিলিং স্টেশনে অবস্থানরত ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৬৫৫৬ নম্বর ট্রাকটিতে তল্লাশি চালান। ট্রাকের চালকের সিটের নিচে অভিনব কায়দায় লুকানো ৯৭ কেজি ৮শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলার আউখাব গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে সবুজ মিয়া (৩২) এবং অন্যজন কিশোরগঞ্জ জেলার লঘু নন্দনপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে কামাল হোসেন (৩০)।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য আইনে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক হিসেবে চিহ্নিত ৬ হাজার ৬৮১টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে গঠিত মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটি এখন পর্যন্ত ৯টি সভা করেছে, যেখানে এসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের জন্য জেলা এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত এই কমিটিগুলো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলাগুলো তদন্ত ও বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব (আইন ও শৃঙ্খলা), যুগ্মসচিব (আইন) এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি। এ কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আইন-১ শাখার উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব বা সহকারী সচিব।
অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকায় ডেপুটি কমিশনার) এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (মহানগর মামলার ক্ষেত্রে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর)। এ কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষকে আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বাসস।
অভিনেতা শাকিব খান, অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলী। ছবি: সংগৃহীত
ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা শাকিব খান আজ ৪৬ পেরিয়ে ৪৭-এ পা রাখলেন। ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই সুপারস্টার তার শৈশব কাটিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে। ক্যারিয়ারের দুই যুগের বেশি সময় পার করেও তিনি রুপালি পর্দার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।
শাকিব খানের জন্মদিনে তার ভক্ত-অনুরাগীরা যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনি ঢালিউড তারকারাও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে তার দুই প্রাক্তন স্ত্রী—অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর শুভেচ্ছা বার্তা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
গতকাল মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনীত একটি সিনেমার দৃশ্য শেয়ার করেন অপু বিশ্বাস। ক্যাপশনে তিনি লেখেন— “শুভ জন্মদিন জীবন্ত মেগাস্টার শাকিব খান।” পাশাপাশি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লেখেন, “আমার শাহরুখ খান।”
অন্যদিকে, শবনম বুবলীও একই সময়ে শাকিবের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন— “শুভ জন্মদিন শাকিব খান। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মহারাজা।”
এই দুই শুভেচ্ছা বার্তা সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ নানা ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ কেউ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে সমালোচনা করতেও ছাড়েননি।
ছবি: সংগৃহীত
১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় শাকিব খানের। যদিও প্রথম চুক্তিবদ্ধ হওয়া সিনেমা ছিল আফতাব খান পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’। শুরুটা সহজ না হলেও ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
তার সময়ের অনেক নায়ক রুপালি পর্দা থেকে হারিয়ে গেলেও শাকিব খান এখনো ঢালিউডের সবচেয়ে বড় তারকা। ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার মাধ্যমে ২০২৩ সালে আবারও প্রমাণ করেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। এরপর ‘রাজকুমার’ ও ‘তুফান’ মুক্তি পেয়ে বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে। এবারের ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘বরবাদ’, যেখানে দ্বিতীয়বারের মতো তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ওপার বাংলার ইধিকা পাল।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাকিব খান উপহার দিয়েছেন একের পর এক সুপারহিট সিনেমা। তার জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘মাই নেম ইজ সুলতান’, ‘স্বপ্নের বাসর’, ‘মুখোশধারী’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সাহসী মানুষ চাই’, ‘বস্তির রানী সুরিয়া’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘আমার স্বপ্ন তুমি’ ইত্যাদি।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। ২০১২ সালে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ২০১৪ সালে ‘খোদার পরে মা’, ২০১৬ সালে ‘আরও ভালোবাসব তোমায়’, ২০১৭ সালে ‘সত্তা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
বয়সের হিসেবে ৪৭-এ পা রাখলেও শাকিব খানের জনপ্রিয়তা আজও আকাশচুম্বী। তার অভিনয়শৈলী ও ক্যারিশমা দর্শকদের মুগ্ধ করে আসছে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। জন্মদিনে দুই প্রাক্তনের বার্তায় আলোচনা চললেও একথা বলাই যায়— শাকিব খান ঢালিউডের একচ্ছত্র রাজা হিসেবেই রাজত্ব করে যাবেন।
ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিন আজ। পরিবার ও পরিজন নিয়ে ছুটে মানুষ। ফলে এই ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে আরও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
এই মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট, ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত এর কোনটাই নেই। স্বাভাবিক গতির তুলনায় কিছুটা কম গতিতে পরিবহনগুলো চলাচল করছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মহাসড়কের যমুনা সেতু পূর্ব গোল চত্বর ও সেতু পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশন এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে ঘুরে আরও দেখা যায়, সকালের তুলনায় বিকালের পর থেকে আরও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারমধ্যে ব্যক্তিগত যানবাহন, প্রাইভেট ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি চলাচল করছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে। তিনি আশা করছেন ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে।
এদিকে একইচিত্র যমুনা সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা ২৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কটিতেও। মহাসড়কে যানজট না থাকায় বিকল্প এই সড়কটি ব্যবহার করতে হচ্ছে না উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে।
এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, এই আঞ্চলিক মহাসড়কেও স্থানীয় যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে এবং যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষকে স্বস্তি দিতে সাড়ে ৭’শ পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত এবং জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য তীব্র গরমকে উপেক্ষা করতে মহাসড়কে পরিশ্রম করছে।