সন্তানদের নিয়ে অথৈ সাগরে সুচি

বরগুনার বেতাগীতে ঘরে তালা লাগিয়ে পেট্রল দিয়ে দুর্বৃত্তদের ধরিয়ে দেওয়া আগুনে পুড়ে ইউপি সদস্য খান ফারুক আহমেদ শামীম মারা যাওয়ায় পরিবারটি অসহায় অবস্থায় অথৈ সাগরে ভাসছে। একদিকে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম, অন্যদিকে শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
জানা যায়, গত ৯ আগস্ট বসতঘরে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে দগ্ধ হন বেতাগীর সরিষামুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খান ফারুক আহমেদ শামীম। ঘটনার পরপরই আশঙ্কাজনক অবস্থায় দগ্ধ শামীমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শামীমের মৃত্যুর একমাস হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের এখনো কোনো কূল-কিনারা পায়নি পুলিশ। তার এমন মৃত্যুতে যেন অথৈ সাগরে পড়েছে তার পরিবার।
আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ইউপি সদস্যের মৃত্যুর অভিযোগ
জানা যায়, ইউপি সদস্য খান ফারুক আহমেদ শামীমের পরিবারে মা আনোয়ারা বেগম (৬০), দুই বোন আখি ও নাছিমা, স্ত্রী ও দুই সন্তান একই সঙ্গে থাকেন। আগুনে শামীমের স্ত্রী সুচি আক্তার (২৫), দুই সন্তান মাইনুল খান (৫) ও সামিউল খানও (২) দগ্ধ হয়। এতদিন ধারদেনায় তাদের চিকিৎসা চললেও বর্তমানে শ্বশুরের পেনশনের টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। কীভাবে দুই শিশু সন্তানকে লালন-পালন করবেন এ নিয়েই দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
স্বজনরা জানান, গত ২৫ আগস্ট বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন শামীমের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনো তাদের হাতে সেই সহযোগিতা পৌঁছায়নি।
দগ্ধ স্ত্রী সুচি আক্তার বলেন, আমার স্বামী সংসারের খরচ জোগাতে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। দোকানের আয়ে সংসারও চলত, জনসেবাও করতেন। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসার জোগান দিতেন। জানি না এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও সংসার খরচ কীভাবে চলবে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় আগুনে পুড়িয়ে ইউপি সদস্যকে হত্যায় মামলা
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে সন্তানদের নিয়ে ভবিষ্যতে কোনোমতে চলতে একটি চাকরির দাবি করেছেন স্ত্রী সুচি আক্তার।
শামীমের মা আনোয়ারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে পুরো পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়। এখনো এ হত্যাকাণ্ডের কূল-কিনারা পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন জানান, আর্থিক কষ্ট যাতে না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হবে।
এসজি
