পটুয়াখালীতে টানা বর্ষণে জনজীবন স্থবির

টানা বর্ষণে পটুয়াখালীর উপকূলের মানুষের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সাগর। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমন চাষিরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিস। নদ-নদীর পানির উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে গত এক সপ্তাহে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে জেলার কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও বাউফল উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার।
এদিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়নের মেহিন্দাবাদ এলাকার পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ৫ গ্রাম। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উনুন জ্বলেনি অনেকের ঘরে। ভেসে গেছে মাছের ঘের ও পুকুর।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপকূলে আজও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পায়রাসহ সব বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। সব মাছধরা ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। তবে মহিপুর ও আলীপুরের বেশির ভাগ ট্রলার তীরে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
মির্জাগঞ্জের রানীপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক জানান, গত রাতে হঠাৎ তাদের এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।
মেহিন্দাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছোবাহান মিয়া জানান, তার এলাকার পুকুর থেকে শুরু করে মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া ফেরদৌস জানান, যাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে বৃষ্টির ধারা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসজি
