উত্তাল সাগর, বৈরী আবহাওয়ায় স্থবির জনজীবন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বরগুনায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বরগুনায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা পর্যন্ত বরগুনায় বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। মেঘের দাপটে দেখা মেলেনি সূর্যের আলোর। একই সঙ্গে পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে বিষখালী ও পায়রা নদীতে পানি বেড়ে গিয়ে তা বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে বরগুনা পৌরসভার পাশে আটকা পড়েন ইলিয়াস। তিনি বলেন, সকালে বৃষ্টির কারণে অফিসে যেতে পারিনি। রাতে বাড়ি যেতে পারব কিনা সেটাও জানি না।
রিকশাচালক মো. রুবেল বলেন, বৃষ্টির কারণে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। গত দুদিন ধরে রাস্তায় বের হতে না পারায় একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েছি আমরা।
বালিয়াতলী এলাকার আহসান হাবিব বলেন, এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে আছে। বৃষ্টি ও উঁচু জোয়ারে মানুষ আতঙ্কে আছে।
ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, আবহাওয়ার সতর্ক বার্তা পেয়েই জেলেদের জানানো হয়েছে। তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসছে এবং ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে সাগর উত্তাল রয়েছে।
কোস্টগার্ডের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) বিএন লে. মোহাম্মদ হাসান মেহেদী জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। এ ছাড়া পূর্ণিমা ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলাগুলো ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এসজি
