বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতু
২ ঘণ্টায় যাওয়া যাবে বরিশাল থেকে খুলনায়

দক্ষিণজনপদ মানুষের পায়রা সেতুর পর আরও একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে বরিশাল-খুলনা যাতায়াত সহজ হয়েছে। কচা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ফেরিবিহীন ২ ঘন্টায় বরিশাল থেকে খুলানায় পৌঁছানো যাবে।
রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের চামেলী হল প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সেতুটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পর আজই রাত ১২টা ১ মিনিটে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি।
সেতুটি চালুর ফলে বরিশাল-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে যাতায়াতে সময় অনেক কমে আসবে। এমনকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের বরিশাল, কুয়াকাটা পর্যন্ত ফেরিবিহীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্নের দুয়ার খুলে যাবে বলে মনে করেন উপকারভোগীরা।
এদিকে বরিশাল থেকে ভারতগামী যাত্রীদের আগে ২৫৫ কিলোমিটার সড়ক পথ পারি দিতে হতো। সেতুটি খুলে দিলে বরিশাল রুপাতলি বাসস্ট্যান্ড থেকে ২০১ কিলোমিটার পারি দিয়ে বেনাপোলে পৌঁছাতে পারবে ভারতগামী যাত্রীরা। এতে ৫৫ কিলোমিটারের সড়ক কম পারি দিতে হবে তাদের।
জানা গেছে, ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৩ দশমিক ৪০ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এই সেতুতে ৯টি স্প্যান ও ১০টি পিলার বসানো হয়েছে। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি টাকা গ্রান্ড অনুদান দিয়েছে চীন সরকার। বাকি ২৪৪ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ৪২৯ মিটার ভায়াডাক্টসহ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪২৭ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার (ডবল লেন)।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প এবং বরিশাল সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা গেছে, জিটুজি পদ্ধতিতে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় চীনের ‘চায়না রেলওয়ে সেভেনটিন ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানী লিমিটেড’। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এসআইএইচ
