বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ
ক্যারি অন বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

হাতে প্ল্যকার্ড অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য দাবি ছিল ‘সিজিপিএ বাতিল করে ক্যারি অন বহাল চাই’। তবে অধ্যক্ষের আশ্বাসে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। অবশ্য দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন তারা।
এ প্রসঙ্গে রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনাগ্রহী এক শিক্ষার্থী জানান, এই আন্দোলন ছিল প্রথম পদক্ষেপ। দাবি না মানলে পরবর্তীতে আরো কঠোর অবস্থানে যাবে শিক্ষার্থীরা। ক্যারি অন পদ্ধতি বাতিল করার কারণে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় সিজিপিএ প্রথায় শিক্ষার্থীরা এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই সিজিপিএ’র কারণে চিকিৎসকদের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আজকের দাবি না মেনে নিলে পরবর্তীতে আরো কঠোর ভাবে আন্দোলন করার কথা জানান এই শিক্ষার্থী।
এদিকে দাবি আদায়ে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এমবিবিএস ৫৩ ও বিডিএস ১১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করে।
শিক্ষার্থী আবু মাসুম বলেন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেডিকেল শিক্ষা পদ্ধতিতে নতুন কারিকুলামে যুক্ত করা হয়েছে। এই কারিকুলামে সিজিপিএ (গ্রেডিং পয়েন্ট পদ্ধতি) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। অপরদিকে ক্যারি অন পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। ক্যারি অন পদ্ধতি চালু থাকলে পেশাগত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও নিজের ব্যাচের সঙ্গে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যাবে। এ অবস্থায় ক্যারি অন পদ্ধতি বহাল এবং সিজিপিএ প্রথা বাতিলের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যতক্ষ ডা. জিএম নাজিমুল হক জানান, ক্যারি অন নয়, সিজিপিএই শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো। এর ফলে নতুন পদ্ধতি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করবে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি উপর মহলে জানানো হবে।
জানা গেছে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৮০ জন। এর মধ্যে বিডিএস (ডেন্টাল) শিক্ষার্থী ৫০ জন। আন্দোলনরতরা সবাই ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
এসআইএইচ
