লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ইবাদতে মশগুল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা

ফাইল ছবি
পবিত্র রমজান মাসের এক বিশেষ রাত, লাইলাতুল কদর, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মহিমান্বিত। এই রাতটি হাজার মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ, এবং মুসলমানরা এই রাতের ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের প্রত্যাশায় মশগুল থাকেন।
লাইলাতুল কদর সেই রাত, যখন পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। এই রাতের মর্যাদা এতটাই মহান যে, এক মুহূর্তের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। মুসল্লিরা এই রাতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের আত্মা বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
এ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন মসজিদে, বিশেষ করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে, রাতভর ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মুসল্লিরা এই রাতটিকে আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভের সুযোগ হিসেবে দেখেন।
লাইলাতুল কদরের তাৎপর্য:
লাইলাতুল কদর আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমতের রাত। সুরা কদর-এর ৩-৫ আয়াতে বলা হয়েছে, এই রাতে ফেরেশতারা এবং আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ জিবরাঈল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং মানবতার কল্যাণের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসেন। আল্লাহ তাআলা এই রাতকে ‘শান্তিময় রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সুবহে সাদিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি রমজান মাসে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে পূর্ণ বিশ্বাস ও সওয়াব লাভের আশায় ইবাদত করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহও মাফ করে দেওয়া হবে।" (সহিহ বুখারি ২০১৪)
এই রাতের ইবাদত অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং যেকোনো মুসলমানের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ—এটি আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত এবং বরকত লাভের একটি বিশেষ মাধ্যম। মুসল্লিরা এই রাতের প্রত্যেক মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেন, যেন তাদের প্রার্থনা ও ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং তারা পরিশুদ্ধ হতে পারেন।
