বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

যে গল্পে ভালোবাসা নেই

যে গল্পে ভালোবাসা নেই, সে-ই গল্প হয়তো হৃদয়কে নাড়া দেয় না কিন্তু মানবতাকে ছুঁয়ে যায়। ভালাবাসাহীন গল্প পড়ে রয় ব্যস্ত সড়কের পাশে পড়ে থাকা কোনো ডাষ্টবিনে কিংবা ঘরের কোণে কোনো এক জীর্ণ কার্টুনে। যে গল্পে ভালোবাসা নেই, সে-ই গল্পের নায়কেরা জীবন উৎসর্গ করে দেয় নরক যন্ত্রনার বিষাক্ত বিষ হজম করে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে কেউ এগিয়ে আসে না কারণ ভালোবাসাহীন এই গল্পের নায়কদের ব্যথা বেদনা কেউ দেখতে চায় না, কারো হৃদয়কে স্পর্শ করে না তাইতো তারা নীলকন্ঠি হয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে নিরবে নিভৃতে। এমনই এক নীলকন্ঠির গল্প শোনাতে চাই,যে গল্পে ভালোবাসা নেই।

শিশুরা ফুলের মত পবিত্র, আকাশের মত উদার, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা কিংবা স্বজন হারা কান্নার মত স্বচ্ছ। শিশুদের অন্তর মসজিদ, মন্দির, গির্জার চেয়েও পবিত্র। তাদের চিত্তে নেই অহংকারবোধ, চাতুরতা, মিথ্যুকতা, নেই অশ্লীলতা। একটি সুস্থ, সুন্দর শিশু ভবিষ্যতের একজন প্রকৌশলী, সমাজসেবক, একজন বুদ্ধিজীবী কিংবা স্ব-পদে সম্মানজনক কেউ কিন্তু ছোটন নামের ছেলেটি, তার ভবিষ্যৎ কি? সম্ভবত একজন ভিক্ষুক! যে ছেলেটি অল্প বয়সেই পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করল, তার আবার ভবিষ্যৎ! গ্রামের কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া এক হতদরিদ্র পরিবারে যার জন্ম, যাকে পিতা-মাতার অশিক্ষা বানিয়ে দিল প্রতিবন্ধী, সেই শিশুকে ঘিরে পিতা-মাতার স্বপ্ন কেমন হতে পারে?

ছোটনের কি স্বপ্ন ছিল না, বড় হয়ে কিছু একটা হবে? অন্য ছেলে মেয়েরা যখন কানামাছি, গোল্লাদৌড়, ডাংগুলি খেলায় মেতে উঠতো তখন তাকে হতাশ হৃদয়ে চাতক পাখির মত চেয়ে থাকতে দেখেছি, মাঝে মাঝে মজার কোন দৃশ্য পেলে অট্টহাসিতে হাততালি দিতে দেখেছি কিন্তু তার এই শৈশবের দুরন্তপণাকে দায়বদ্ধ করে দিয়েছে পোলিও রোগ। ছেলেরা যখন খেলাধুলায় সমস্ত আনন্দ লুটে নিতো, তখন সে অশ্রুসিক্ত নয়নে বেঁকিয়ে পড়া শুকনো অসমতল পায়ের দিকে চেয়ে থাকতো, হয়তো অপারগতা তাকে কুরে কুরে খেতো। যখন সে পা দু'খানায় পরম ভক্তিতে হাত বুলাতো আর হঠাৎই ঠোঁটের কোণে ফিনকি হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলত, বুঝতাম তার দৃষ্টিতে বিধাতার এই অনিয়ম, অবজ্ঞা আর সৃষ্টির সিদ্ধান্তকে সে মেনে নিতে পারেনি। বুঝি বলছে,-"হে প্রভু!আমার মত অবুঝের প্রতি তোমার কেনো এই বিতৃষ্ণা, কেনো এই নিষ্ঠুর প্রহসন? আমাকে আর কষ্ট দিও না, আমায় পরিত্রাণ করো, আমায় ক্ষমা করো! আর দয়া করো!"

ছোটনের বাবা ছিল গরুর দালাল। গরু কেনার জন্য কিংবা কারো গরু ক্রয় বিক্রয় করে দেওয়ার পর যে লভ্যাংশটুকু পেতো তাই দিয়ে কোনরকম সংসার চালাত। সংসার জীবনটা হয়তোবা সুখবর ছিলনা তাই প্রায়শই ছোটনের বাবা-মা ছোটখাটো বিবাদে জড়াতো। তাদের এমন ঝগড়া আর দূরত্ব দেখে ছোটনের মন অজানা আশঙ্কায় দূর দূর কাঁপতো। যাই হোক, ছোটনের বাবা কাজের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অনেক দুরে যেতো। এমনকি দু-একদিন বাইরে রাত্রি যাপন করতে হতো। তার অনুপস্থিতিতে ছোটনের মা অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। হঠাৎই একদিন স্বামী আর অসহায় সন্তানের কথা ভুলে সেই প্রেমিক লোকটির হাত ধরে হৃদয়ের টানে বাসনা পূরনান্তে লোক চক্ষুর অগোচরে পালিয়ে যায়। পৃথিবীতে এমন মা খুব কমই দেখেছি যে, সন্তানের বুকে পদাঘাত করে চলে যায়। হৃদয়ের টানেই যদি সে চলে যাবে তবে হৃদয় দিয়ে আরেকটু অনুভব করলো না কেনো এক জোড়া চোখকে, যে চোখ দুটো সর্বদায় তাকে খুঁজে ফিরে, মাতৃত্বের জয়গান করে! চলে যখন যাচ্ছেই তখন সন্তানকে সঙ্গে নিলো না কেন? নাকি ভেবেছিল লেতিয়ে পড়া পা টাকে সারা জীবন টানতে হবে। হোক সে প্রতিবন্ধী কিন্তু তারও তো মন আছে, প্রাণ আছে, অনুভূতি আছে, মায়ের জন্য সেওতো ব্যাকুল হয়ে কাঁদে, মায়ের আঁচল খুঁজে বেড়ায়!

দুর্ভাগা ছোটন! কোনো কিছুই কপালে জুটলো না! বাবাটাও তেমন, কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া আলাদা ব্যাপার কিন্তু অপ্রয়োজনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে যাওয়া, নেশার প্রকোপে পড়া, ইচ্ছে করেই ছেলের কাছে না আসা, এগুলো ছোটনের জন্য খুবই হতাশাজনক ছিলো। পিতা-মাতার এমন বৈষম্যমূলক আচরণ তাকে বেঁচে থাকার প্রতি ঘেন্না জন্মিয়ে দিয়েছিল। আমাদের নিকট যে মানবজীবন এত সুন্দর ও আকর্ষণীয় এবং দীর্ঘায়ু লাভে ঈশ্বরের নিকট আধ্যাত্মিক প্রার্থনায় ব্যতিব্যস্ত, সেখানে সে নিশ্চুপ, চাঁদ মামাকে ডাকার মতো যমদূতকে তার গৃহে আসার নেমন্তন্ন জানায়। কি অদ্ভুত তার আপন জীবন! বাবা-মায়ের স্বেচ্ছাচারিতা আর খেয়ালিপনা দেখে কত চোখের জল বিসর্জন দিয়েছে, তার হৃদয় খাঁচায় বন্দী পাখির মতো ছটফট করেছে, কত হৃদয় নিংড়ানো মধুর সুরে একবার 'মা' , আরেকবার 'বাবা' বলে ডেকেছে কিন্তু তাদের কেউতো মনের মহার্ত দিয়ে তা শোনেনি, উপলব্ধি করেনি। যখন হাঁটু ফুলে পুঁজ জমা হতো, তখন কি হৃদয়বিদারক আত্মচিৎকার করতো যন্ত্রণা প্রকোপে, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। যখন যন্ত্রণাটা উঠতো তখন ছটফট করতে করতে চোখের জল ফেলে করজোড়ে আকাশের পানে হাত তুলে বলতো- "আমার আর সহ্য হচ্ছে না, আর কষ্ট দিও না!"
তার এমন করুণ দশা দেখে সবাই কেঁদেছে, আমিও কেঁদেছি; মনের অজান্তে চোখের জল ফেলেছি!

ছোটনের এমন অবস্থা দেখে তার দাদা-দাদী আর চুপ থাকতে পারেনি। নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দেখাশোনা করতে লাগলো। চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীতে ছোটাছুটি করতে লাগলো। জমানো টাকা-পয়সা,এমনকি জমি পর্যন্ত বিক্রি করলো তার চিকিৎসার জন্য, কিন্তু কোনো ফল পেল না! ওষুধ খেয়ে কমে বটে কিন্তু সুস্থ হয় না, হবেও না কোনদিন! উন্নত চিকিৎসা করালে হয়তো আংশিক সুস্থ হবে, যন্ত্রণার প্রকোপ কমে হয়তো একটু আরাম পাবে কিন্তু সে চিকিৎসা করানোর মতো কোনো মোটা অংকের অর্থ তাদের নেই। ওর দাদি মাঝে মাঝে ওকে কোলে করে অথবা ভ্যানে করে বিশিষ্ট লোকদের শরণাপন্ন হতো। কোথাও কিছু পেতো, কোথাও টাকাবিহীন উপদেশ নিয়ে বাড়ি ফিরতো। সেগুলো দিয়ে কোনরকম চিকিৎসা চলতো। ঢাকার বড় ডাক্তার নাকি বলেছে, ওর পা কেটে ফেলতে হবে! এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই! যদি তাতে সংশয় থাকে তবে অন্যত্র বা দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারে।

চিকিৎসা যেটাই করুক না কেনো তার জন্য প্রয়োজন অর্থের, যেটা বর্তমানে তাদের নেই। ছোটনের দাদা-দাদি চিকিৎসার অর্থ জোগাতে বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই বাকি রাখেনি। যদি সেটুকু বিক্রি করে দেয়,তবে দেশের ভূমিহীন যাযাবর জাতির সংখ্যাটা একটু বেড়ে দাঁড়াবে। এর জন্য প্রয়োজন কিছু সংখ্যক হৃদয়বান লোকের উপস্থিতি ও আগমন, যাদের ভেতরে দয়া-মায়া, মমতা, স্নেহ,সহানুভূতি, উদারতা মহানুভবতা এবং অন্যের উপকারের প্রতি আত্ম গভীরতার অন্তরদৃষ্টি আছে,যারা এমন দুস্থ পরিবারের বিপদে এগিয়ে আসবে। এত বড় দেশের এত বড় জনগোষ্ঠীর ভেতরে এমন লোকের উপস্থিতি কি সত্যিই দুর্লভ?

মাঝে মাঝে ছোটনের দাদি ওকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে গল্প করতে আসতো। জীবন খাতার খেদের কথাগুলো তুলে ধরতো।মনটা ভীষণ খারাপ লাগতো। একদিন শুনলাম, ছোটনের মা নাকি বিষ খেয়ে মারা গেছে! পরকীয়া প্রেমের জগতে বিজয়ী হলেও সংসার জগতে পরাজয়ের স্বাদ হয়তো মেনে নিতে পারেনি, তাই বুঝি জীবনের গ্লানি মুছে ফেলে আত্মহনের পথ বেছে নিলো। হয়তো সন্তানের জন্য কিংবা জগতের অনাচার সহ্য হয়নি,তবে ওই সময় মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের মাতৃত্ব অবশ্যই জেগে উঠেছিল। সে নিশ্চয়ই ভীষণভাবে অনুভব করেছিল ছোটনের অসহায়ত্বকে, তার একাকীত্বকে! আমরা কি কখনো পারব ওই মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের হৃদয়ের বেদনা উপলব্ধি করতে? পারব না! ওই মা কেনো পালিয়ে যাবার সময় সন্তানকে এমন ভাবে অনুভব করল না, তাহলে তারও এমন একটা অপমৃত্যু ঘটতো না, ছোটনের পৃথিবীটাও অন্যরকম হতে পারতো। বেচারা! অভিমানে পৃথিবীটাকেই অতীত করে ফেললো।

যাক সে কথা, ছোটন একটু আধটু গান জানে, মাঝে মাঝে আমাকে গেয়ে শোনাতো। আমার খুব ভালো লাগতো। জানিনা ওর জন্য কিছু করতে পারব কিনা? মাঝে মধ্যে ও আমাকে বলতো- আমার অসুখ ভালো হবে তো কাকা? আমি খেলতে পারবো তো? আমি কি আবার স্কুলে যাবো?
মিথ্যা সান্ত্বনা ছাড়া আমার মত নগণ্য ব্যক্তির পক্ষে আর কিবা দেওয়া সম্ভব! তবুও বলতাম- তুমি অবশ্যই ভালো হবে, তুমি আবার আগের মত স্কুলে যাবে!
ও বলতো- জানেন কাকা, আমার হাঁটুতে যখন পুঁজ জমে, তখন ভীষণ কষ্ট হয়, খুব যন্ত্রণা করে!
শুনে আমার মনটা খুব ব্যথিত হতো।

ওর দাদী আমার হাত ধরে কাঁদতো আর বলতো- বাবা আমার ছেলের জন্য কিছু একটা করো ?জানোতো ওর মা নাই, বাবা থেকেও নাই! এখন সব দায়িত্ব ঝামেলা আমার। ওর চিকিৎসা করাতে করাতে বাড়িটুকু ছাড়া আর কিছুই নাই! এখন আমি কি করবো বলো - বলেই চোখের জল ফেলে কাঁদতে লাগতো।
আমি মনে মনে বলতাম,এভাবে না কেঁদে ওই উপরওয়ালাকে সাকার রুপে পৃথিবীতে আসতে বলো আর আসলেই ওর পা ধরে কাঁদতে কাঁদতে তোমার মিনতি নিবেদন করো! যতক্ষণ হ্যাঁ বলবে না, ততক্ষণ পা ছাড়বে না! ও না দিয়ে যাবে কোথায়!
বিধির লিখন, না যায় খন্ডন! তিনি যদি পৃথিবীতে এসে ছোটনদের দুঃখ ঘুচাবেন, তবে এত সুন্দর মানুষগুলোকে বুদ্ধি বিবেক দিয়ে পৃথিবীতে পাঠালেন কেনো? জানিনা তিনি ছোটনের কপালে কি লিখে রেখেছেন! হয়তো যে গল্পে ভালোবাসা নেই,সেই গল্পের নায়কদের মাধ্যমে স্রষ্টা আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন,নেবেন। হয়তো স্রষ্টা দেখতে চান তারই দেওয়া ইচ্ছাশক্তিকে আমরা কতটা মনুষ্যত্ববোধ তথা মানবিক কাজে ব্যবহার করছি।

আমি ছোটনকে একটি প্রতিবন্ধী সংগঠনে ভর্তি করে দিয়েছিলাম যাতে ভবিষ্যতে যদি তার কল্যাণ নিহিত হয়। কিছু অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলাম, তার সাথে কিছু বিবেকবান সত্যপূর্ণ সত্তার খোঁজে প্রচারণা চালিয়েছিলাম। জানিনা কেন সফল হলাম না? তবে সামর্থ্যের সবটুকু চেষ্টা করেছিলাম। আমরা মানুষ, আমাদের বোধশক্তি আছে, অনুভূতি আছে; সেই অনুভূতির চোখটা একবার খুলে দেখি, ছোটনের মতো যারা আছে তাদের জন্য কিছু করার আছে কিনা! পৃথিবীতে তো একবারই জন্ম নেবো তবে এমন মানব জীবনকে কেনো অসার্থক করবো? সংকীর্ণতা আর কৃপণতা করে কেনো আপন চিত্তকে অসার্থক করবো, সংকুচিত করবো? মানুষ যখন কোনো মহৎ কাজ করে তখন মানুষ মানুষ থাকে না, তার ভেতর ঈশ্বরীয় ভাব চলে আসে।নূরের আলোয় আলোকিত হয় তার মন প্রাণ, চিন্তা চেতনা, অনুভূতি।

আমরা হয়তো ছোটনকে সুস্থ করতে পারবো না কিন্তু কিছুটা হলেও তো মানসিক শান্তি দিতে পারবো, সাহস আর উৎসাহ দিয়ে চলার পথে অগ্রগামী করতে পারবো, জীবন সম্পর্কে নতুন ধারণা সৃষ্টি করাতে পারবো,ভবিষ্যতের দিনগুলোতে সংগ্রাম করে বাঁচার প্রেরণা জোগাতে পারবো। সিদ্ধান্তটা আমাদের, ভাবনাটাও আমাদের! আমরা কোনটা চাইবো- ছোটন আস্তে আস্তে ক্ষয়জাত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাক অথবা কোনো হুইল চেয়ারে বসে কিংবা হামাগুলি দিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে কাঁধে ঝুলানো ব্যাগটা দেখিয়ে বলবে- "মা দুটি ভিক্ষা দেন, দু'দিন ধরে কিছু খাইনি, একটু দয়া করুন" নাকি ভবিষ্যতের একজন তরুণ প্রতিবন্ধী, যে হস্তশিল্পে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে অথবা ছোট কোনো দোকানে বসে সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহ করছে?আমরা কোনটা চাইবো, তার ভিক্ষাবৃত্তি নাকি সমাজের স্বাভাবিক মানুষের স্বীকৃতি ‌?

আমরা যদি চেষ্টা করি,মনের উপর যদি একটু জোর লাগায়, তবে অল্প কিছু ছাড় দিয়ে কিংবা ছোট ছোট স্বপ্ন বা শখের ঋতুকালীন মৃত্যু ঘটিয়ে অথবা বাজে খরচের দীর্ঘায়ুকে স্বল্প আয়ের উৎস করে সাশ্রিত অর্থগুলো ছোটনদের মতো অসহায় যারা, তাদের কল্যাণে ব্যয় করতে পারি। তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের 'অ'কে ছেঁটে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পারি । আমরা চাইলেই ছোট ছোট ভালবাসার গল্প তৈরি করতে পারি। যে গল্পে ভালোবাসা নেই, সেই গল্প ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে পারি।

যদি মানুষের দুঃখ দেখে প্রাণ না কাঁদে,ভেতরের আমিত্ব না জাগে, হৃদয়ের টানে ছুটে না আসে তবে কোথায় থাকবে মানুষের মনুষ্যত্ববোধ, আত্মবোধ ? কাজেই আত্মবোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে, হৃদয়ের ভেতর সৃষ্টি করতে হবে সাদা মনের মানুষ! আমরা তো সবাই নিজ নিজ চিন্তায় ব্যস্ত, একবার চোখ বন্ধ করে একটু ভাবি, ছোটনের মতো কারো স্থানে নিজের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলি, নিজের প্রতিবন্ধী জীবন কতটুকু অসহায় তা উপলব্ধি করি! তাহলে বোধহয় ছোটনের মতো কাউকে দেখলে হৃদয়ে মায়া জাগবে,ভালোবাসা জাগবে!

বর্তমানে যারা তরুণ,তারা ভবিষ্যতের প্রবীণ। আমরা যারা তরুণ, আমাদের স্থানে একদিন প্রতিনিধিত্ব করেছিল আজকের প্রবীণরা। জানিনা তারা কতটুকু সার্থক হয়েছিল কিন্তু আমরা তাদের ছাড়িয়ে যেতে চাই। আমাদের অনাগত প্রজন্মকে সুন্দর একটা পৃথিবী উপহার দিতে চাই, যেখানে ছোটনদের মতো কেউ পোলিও বা পঙ্গুত্বের রোগে ভুগবে না। অনিশ্চিত হবে না তাদের ভবিষ্যত, যেখানে থাকবেনা কোনো ভালোবাসাহীন গল্প। এসো তরুণ, আমরা আমাদের তারুণ্য দিয়ে পৃথিবী জয় করি, এ পৃথিবীকে আমাদের নিকট ঋণী করে রাখি। এসো নবীন-নবীনা, কবির মত আমরাও হাতে রেখে হাত, গেয়ে উঠি আজ-

এসেছে নতুন শিশু,
তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান,
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাবো তবু,
যতক্ষণ আজি দেহে আছে প্রাণ,
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি,
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

 

ডিএসএস/ 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী