শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ প্রবাদটির ইংরেজি ‘After meat comes mustard’, অর্থাৎ ‘মাংস খাওয়ার পর সরিষার তেল আসে’। কোথায় নুন-পান্তা আর কোথায় তেল-মাংস! যারা এর রূপান্তরকর্তা তারাই ভালো জানেন এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ রূপান্তরিত বাক্যের মাহাত্ম্য কী? তবে আমরা ভাগ্যবান এই কারণে যে, ওই রূপান্তরিত প্রতীকী উপাদানে আমাদের আবহমান গ্রাম বাংলার বহুল ব্যবহৃত তেল ‘সরিষা’ ঠাঁই পেয়েছে। আজকের নিবন্ধনটির মূল বিষয় সেটিকে নিয়েই।

আমরা জানি, ভোজ্যতেল হিসেবে সরিষা খুব জনপ্রিয়। এ দেশে রান্নাবান্না, গা-গোসলে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। দেশের ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন তেল যেমন— সয়াবিন, তিল, সূর্যমুখী, তিসি, রেড়ি ইত্যাদির মধ্যে সরিষার ব্যবহার সর্বাগ্রে। কষ্টের কথা হলো আমাদের ভোজ্যতেলের শতকরা নব্বই ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই দেশে অধিক পরিমাণ সরিষা উৎপাদন করেই আমরা ভোজ্যতেলের চাহিদা কমপক্ষে ৫০ শতাংশ পূরণ করতে পারি। এ দেশের পোলিযুক্ত দোআঁশ মাটি সরিষা চাষের খুব উপযোগী।

বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, জয়পুরহাট, বগুড়া, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর এবং নিলফামারী জেলা সরিষা চাষের জন্য খুব উপযোগী। মাটির রকমভেদে ৪/৫টি চাষ করে সরিষা বুনতে হয়। আবার কখনো কাদার উপর সরিষার বীজ ছিটিয়েও চাষ করা হয়। সরিষার দানা ছোট, তাই উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম বীজ বপন করতে হয়। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে সরিষার বীজ বোনা হয়। সরিষা চাষের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়। সাধারণত দুই মাসে সরিষার ফসল ঘরে তোলা হয়।

আমাদের দেশে তিন ধরনের সরিষার চাষ করা হয়, যথা- টরি, শ্বেত ও রাই। এ ছাড়া বারি-১৪ ও বারি-১৫ হলো উন্নত জাতের দুইটি সরিষা। এ দেশে প্রতি বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ মণ সরিষা উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশের প্রায় ৩ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয় এবং এতে প্রায় আড়াই লাখ টন সরিষা পাওয়া যায়।

সরিষার তেলে 'গ্লুকোসাইনোলেট' নামক রাসায়নিক উপাদান আছে যা মাইক্রোব ও ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করে। এতে ৬-১০ শতাংশ ফ্যাটি এসিড থাকে। এ ছাড়াও সরিষার তেলে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস ও সালফার থাকে। সরিষাতে বিদ্যমান ভিটামিন, মিনারেল ও পুষ্টি উপাদান চুলের অকালপক্বতা দূর করে এবং তা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সরিষার তেল ৭০% কাজ করে। সর্দি, কাশি বা যে কোনো শারীরিক ব্যথা থেকে রেহাই পেতে সরিষার তেলের মালিশ খুব সাহায্য করে। এ তেল নিয়মিত গায়ে মাখলে এবং নাকে দিলে শরীর ঝরঝরে হয়, শ্বাসনালী পরিষ্কার থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি এতোই সক্রিয় যে, খাঁটি সরিষার তেল ফ্রিজে রাখলে কখনো জমবে না। সরিষার বীজে ৪০-৪৪ শতাংশ তেল থাকে। এবং প্রতি তিন কেজি সরিষা থেকে এক কেজি তেল উৎপন্ন হয়। সেই হিসেবে এক মণ বা ৪০ কেজি সরিষা থেকে ১৩/১৪ কেজি তেল পাওয়া যায়। তেল পেষার যন্ত্রকে ঘানি বা ঘানিকল বলে। যারা তেল পিষে তাদের ‘কলু’ বলে।

আগেকার দিনে কলুরা ঘানি টানার জন্য চোখ বাঁধানো বলদ গরু ব্যবহার করত। অর্থাৎ মনে হয় শুধু ঘানি টানার জন্যই কলুর বলদ। এক সময় সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের দিয়ে ঘানি ঘুরানো হতো। কোনো ব্যক্তি জেলে গেলে শাস্তি স্বরুপ তাকে ঘানি ঘুরাতে হতো। এজন্য ‘জেলের ঘানি’ বলেও বাংলায় একটি কথা আছে।

সরিষা ফুল আমাদের খুব প্রিয়। শীতের বিকালে সোনা ভরা রোদে হলুদাভ সরিষা ফুলের সমারোহে মন জুড়াতে কার না ভালো লাগে! স্নিগ্ধ বাতাস সরিষার গন্ধ ভাসা বিকালে মনকে ভরে তুলে। অনেক দূর থেকে সরিষা ফুলের গন্ধ নাকে বিঁধে। তখন ফুলপ্রেমিরা হলুদ বরণ বিস্তৃত সরিষার মাঠে মৌমাছির গুঞ্জন শুনে ক্ষণিকের জন্য এক স্বপ্নিল রাজ্যে হারিয়ে যায়। কারো চুলের বেনীতে আস্ত একটা সরিষা ফুলের কাণ্ড শোভা পায়। এ সময় ফুলে ফুলে মধু আহরণে মৌমাছি, প্রজাপতিরা গুঞ্জন ধরে। সরিষা ফুল থেকে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে মধু সংগ্রহ করা হয়। শীতকালে সরিষা ফুলের মধু খুব জনপ্রিয়। সরিষার জমি অত্যন্ত উর্বরতাসম্পন্ন বলে সেখানে ধানের ফসল খুব ভালো হয়। সয়াবিন, পাম ওয়েল এর বিকল্প হিসেবে সরিষার তেল অতুলনীয়। খাঁটি সরিষার তেল থেরাপি; একটি মহৌষধ। তাই মনে বলে–
‘মাঠে করলে সরিষা চাষ
মনের শান্তি বারো মাস’।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের একটি শস্য সরিষা। যথাযথ সরিষা চাষে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি, পরনির্ভরশীলতা কমাতে পারি এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে পারি।

এম এ রাজ্জাক: সহকারী অধ্যাপক, কেশরহাট মহিলা কলেজ, মোহনপুর, রাজশাহী

আরএ/

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো