শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ | ১৬ মাঘ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

আইভীর নির্বাচনী সভায় নেই শামীম ওসমান

কয়েকদিন পরই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচন। সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরেই দুটি গ্রুপে বিভক্ত, বিশেষ করে মেয়র আইভী এবং সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গ্রুপ।

আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। দলীয়ভাবে নির্বাচনে বিএনপি না থাকলেও তাদের প্রার্থী রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিভেদ রয়েছে চরম পর্যায়ে। দল থেকে বর্তমান মেয়র আইভীকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় মাঠে নেই শামীম ওসমান। সরাসরি বিরোধিতা না করলেও তিনি যে আইভীর প্রচারণায় থাকছেন না, সেটি স্পষ্ট।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে উপস্থিত হননি নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তবে জেলার অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঠিকই উপস্থিত ছিলেন। এমনকি সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপক্ষে যারা মনোনয়ন কিনেছিলেন তারাও ছিলেন। শুধু ছিলেন না শামীম ওসমান। তবে তার অনুসারী যারা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারেণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চন্দন শীল উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রেখেছেন। এরা তিনজনই মূলত সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নির্বাচন পরিচালনায় দলের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।

নারায়ানগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরিচালনা টিমের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নারায়নগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজী, এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওসার, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা মেয়র প্রার্থী আইভী।

সভায় উপস্থিত জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জে দলের বিভেদের চিত্র স্পষ্টত ফুটে ওঠে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুর্গ কিন্তু আমাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ থাকার কারণে বিএনপি-জামায়াত সুযোগ নেয়। এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শামীম ওসমানকে সরাসরি মাঠে চান তার। যদিও নির্বাচনী আচারণ বিধির কারণে তিনি মাঠে থাকতে পারবেন না। তবে তার সমর্থন মেয়র আইভীর জন্য প্রয়োজন বলে মনে করেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের এক ফাঁকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, 'নারায়ণগঞ্জ সব সময়ই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে আপনারা কেন নৌকার বিজয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ নৌকাকে হারাতে পারবে না।'

সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, 'আমি সব সময় জেলা আওয়ামী লীগের সকল সম্মেলনে উপস্থিত ছিলাম। আজকে যারা আমার সঙ্গে নৌকা চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে ‘খোকন কাকা, বাদল ভাই, চন্দন শীল দাদা আমরা প্রত্যেকে কিন্তু এক সঙ্গে মিলে কাজ করেছি, জেলা আওয়ামী লীগের জন্য এবং নগর আওয়ামী লীগের জন্য। আমাদের মধ্যে কোন বিভাজন, কোন কিছুই ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০০৯ সাল এর পর থেকে আমাদের মধ্যে একটু দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সেটা হতেই পারে, বিভিন্ন কারণে হয়েছে। কিন্তু কখনও আমি কোন দিন কারো বিপক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করিনি। আমি নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমার মতো করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় কাজ করেছি।'

তিনি আরও বলেন, '২০১১ সালে যখন সিটি কর্পোরেশন হল, তখন আমি প্রার্থী ছিলাম। তখন নেত্রীর দোয়া নিয়ে আমি প্রার্থী হয়েছি। নেত্রীর দোয়া ছিল বলে ফ্রি এবং ফেয়ার নির্বাচন হয়েছিল বলে আজকে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি। আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ, কৃতজ্ঞ আমার নেত্রীর প্রতি, যে উনি আমার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। আমি বিজয়ী হয়েছিলাম ২০১১ সালে। তখনও অনেকে গিয়েছিলেন পক্ষে-বিপক্ষে কিন্তু আমি জয়যুক্ত যখন হয়েছি সকলে আমাকে সহযোগিতা করেছিল। আমি কখনো কোনোদিনও দলের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড করিনি। কাউকে হতাশ করিনি। যে কোনো ব্যক্তি যখন আমার প্রতি বিমুখ হয়েছে, আমি নীরব থেকেছি, নিজেকে গুটিয়ে রেখেছি। আমার শেষ ঠিকানা এই দল।'

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা দীর্ঘ এক বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জে চলছে। মেয়র নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই চলছে এই বিভেদ। এখানে কথা বার্তায় বিভেদ না হলেও ছন্দ পতন হয়েছে। কিছুটা তিক্ততা হয়েছে। এই তিক্ততা দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ওই নেতা।

২০১১ সালে সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। সেই বছর সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান শামীম ওসমান। তখন থেকেই মূলত বিভেদের শুরু। কখনো প্রকাশ্যে কখনো টিভি টক শোতে বসে দুজন দুজনকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। এবার যখন নারায়াণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে তখন থেকেই আবার বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। নৌকার টিকিট পেতে শামীম ওসমানের অনুসারিদের মনোনয়ন ফরম তোলান।

সোমবারের সভায় দলীয় ফোরামে অধিকাংশ নেতাই বলেন, নারায়ণগঞ্জে চরম বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন আপনারা আজকে আমাদের ঐক্য করে দেন আমরা নৌকাকে বিজয়ী করব ইনশাআল্লাহ। পরে পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভিডিও কল এর মাধ্যমে যুক্ত করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের নেত্রীর নির্দেশ পৌছে দেন। ভিডিও কল এ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নেতা-কর্মী একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখানে কোনো ভেদাভেদ চাই না। সবাই এক হয়ে কাজ করতে হবে, নৌকাকে জেতাতে হবে। একটাই কথা, নৌকাকে জেতাতে হবে। হয়তো কারও পছন্দ আছে কারও পছন্দ নাই এরকম থাকতে পারে; কিন্তু একজনই তো নমিনেশন পাবেন। কাজেই আমরা একজনকে দিয়েছি, সবাইকে নৌকার পক্ষ কাজ করতে হবে। নৌকাকে জেতাতে হবে।’ নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখানে কোনো ভেদাভেদ চাই না। সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, নৌকাকে জেতাতে হবে। একটাই কথা, নৌকাকে জেতাতে হবে। হয়তো কারও পছন্দ আছে কারও পছন্দ নেই এরকম থাকতে পারে; কিন্তু একজনই তো নমিনেশন পাবেন। কাজেই আমরা একজনকে দিয়েছি, সবাই নৌকার পক্ষ কাজ করতে হবে। নৌকাকে জেতাতে হবে।’

পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা নেত্রীকে নৌকা নৌকা স্লোগান দিয়ে বিজয় উল্লাস করেন।

এবার নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ৬জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান। তিনি জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব রাশেদ ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাসুম বিল্লাহ্, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের এবিএম সিরাজুল মামুন। তা ছাড়া বিএনপি অংশ না নেওয়ায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যানারে ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন। এবার মেয়র পদে আটজন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কাউন্সিলরদের মনোনপত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

 

এসএম/এসএ/এমএমএ/

Header Ad
Header Ad

প্রথম আরব নেতা হিসেবে সিরিয়া সফরে কাতারের আমির

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো কোনো আরব নেতা সিরিয়া সফরে গেলেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় তিনি সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে পৌঁছান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর এই প্রথমবার কোনো সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দেশটি সফর করলেন। বর্তমানে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আহমেদ আল-শারা। সফরের সময় দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে কাতারের আমিরকে স্বাগত জানান তিনি।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, নতুন সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাতার মাঠপর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে সিরিয়ার জনগণের জন্য চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা করা, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব প্রতিহত করা এবং সিরিয়ার ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সহায়তা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের আমিরের এই সফর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

শহীদ ইয়ামিনকে হত্যা করল কে? পুলিশের তদন্তে নতুন বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তারা পুলিশের দায় এড়াতে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং ইয়ামিনকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সমালোচকরা বলছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশের নৈতিক অবক্ষয় এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে গণঅভ্যুত্থানের পরও তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেনি। বরং, কঠিন চাপে থেকেও পুলিশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড মাঝে মাঝেই প্রকাশ পাচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের দাবি, ইয়ামিন এপিসি (সাঁজোয়া যান) কারে উঠলে বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোঁড়ে, যা তাকে আহত করে। এরপর এএসআই মোহাম্মদ আলী তাকে নামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তার হাতে ব্যথা থাকায় ফসকে পড়ে যান ইয়ামিন। পুলিশ আরও জানায়, জনগণের কাছে হস্তান্তরের জন্য তাকে রোড ডিভাইডারে রাখা হয়, যাতে কেউ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারে।

তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের সদস্যরা নীল রঙের এপিসি কারের ওপর ইয়ামিনকে ফেলে রেখে টহল চালায় এবং ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর এপিসি কারটি সাভারের রানা প্লাজা ও ভ্যাট অফিসের মাঝামাঝি এলাকায় আসে। এরপর এপিসির ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্য দরজা খুলে দেয় এবং আরেকজন ইয়ামিনকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে দেয়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ ইয়ামিন তখনও জীবিত ছিলেন। প্রচণ্ড কষ্টে নিশ্বাস নিতে দেখা যায় তাকে। তার পরনে ছিল নেভি ব্লু ট্রাউজার ও খয়েরি রঙের জামা। এপিসি থেকে ফেলে দেওয়ার পর তার দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে যায় এবং একটি পা এপিসির বাঁ দিকের চাকার সঙ্গে আটকে থাকে। মৃত ভেবে পুলিশের সদস্যরা তার পায়ে আর গুলি না করে রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে টেনে রোড ডিভাইডারের পাশে ফেলে দেয়। এরপর আরও দুই পুলিশ সদস্য নেমে এসে তাকে সার্ভিস লেনে ফেলে রেখে চলে যায়।

পুলিশের এই প্রতিবেদনকে ‘চরম পক্ষপাতদুষ্ট’ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, তদন্ত কর্মকর্তারা শুধু পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য নিয়েছেন, অথচ কোনো প্রত্যক্ষদর্শী, সংবাদকর্মী বা সাধারণ মানুষের সাক্ষ্য নেননি। এ কারণে তদন্ত প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অবিশ্বাস্য বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এক প্রতিবেদনে পুলিশের আচরণকে ‘ভয়ংকর বর্বরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির তিন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে চরম অবহেলা করেছেন এবং অপেশাদারসুলভ আচরণ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখাকে সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ নীল এপিসি কার থেকে ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ দেহ রাস্তায় ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে সাভারের আশুলিয়া এলাকায়। কোনো ময়নাতদন্ত বা আনুষ্ঠানিক মৃত্যুসনদ না দিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইয়ামিনের লাশ হস্তান্তর করে।

ঢাকা ও সাভার রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা না করার জন্য পরিবারকে ভয়ভীতি দেখায়। পরে, পরিবার তাকে সাভারের তালবাগে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বাধা দেন। শেষ পর্যন্ত ব্যাংক টাউন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ দায় মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজের ভয়ংকর দৃশ্যগুলো ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের কোনো মিল নেই। তাহলে, শহীদ ইয়ামিনকে হত্যা করল কে? পুলিশের তদন্তে যদি সত্য প্রকাশ না পায়, তবে স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুনরায় এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি উঠেছে। নিহত ইয়ামিনের পরিবার এবং আন্দোলনকারীরা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

রংপুর থেকে গ্রেফতার সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান

ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও একাধিক হত্যা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টায় রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডের পোস্ট অফিসের গলির এক বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ শিবলী কায়সার।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান আত্মগোপনে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘদিনের নজরদারির পর অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম আরব নেতা হিসেবে সিরিয়া সফরে কাতারের আমির
শহীদ ইয়ামিনকে হত্যা করল কে? পুলিশের তদন্তে নতুন বিতর্ক
রংপুর থেকে গ্রেফতার সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান
কোটা পদ্ধতি পুনরায় পর্যালোচনার নতুন ৩ সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের
আমরা কারও কাছে চাঁদা চাইনি, চাইবোও না: জামায়াত আমির
নওগাঁ বারের নির্বাচনে সব পদে বিএনপি প্যানেলের জয়
আরব আমিরাতে চাঁদ দেখা গেছে, পবিত্র শবে বরাত ১৪ ফেব্রুয়ারি
ডিপসিকের চেয়েও কার্যকর নতুন এআই আনার দাবি আলিবাবার
প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও গুণগত পরিবর্তনই আমাদের মূল লক্ষ্য: গণশিক্ষা উপদেষ্টা
বাণিজ্য মেলায় সংঘর্ষ, আহত ১৬
শেখ হাসিনাসহ জড়িতদের বিচার দাবিতে আমরণ অনশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলে নিজেই জানিয়ে দিবো: তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম
সাত কলেজের জন্য হচ্ছে ‘জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়’
ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিতে বলেছে ইইউ: ইসি সচিব
রংপুরের টানা চতুর্থ হার, প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইলো খুলনা
চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জয় বাংলা' স্লোগান, আটক ৫
প্রধান উপদেষ্টার উদ্বোধনে শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা
সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানো সেই যুবককে গুলি করে হত্যা
বাংলাদেশ পুলিশে ১৬টি শূন্য পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ২ ফেব্রুয়ারি