চলছে কোটি টিকাদানের কর্মসূচি

একদিনে দেশের এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আজ শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। এর মধ্য দিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার টার্গেট পূরণের প্রত্যাশা করছে সরকার।
রাজধানীর বেশির ভাগ কেন্দ্রে বেড়েছে টিকাগ্রহীতার সংখ্যা। সকাল থেকেই ভিড় করছেন টিকাগ্রহীতারা। আজকের পর থেকে করোনার প্রথম ডোজপ্রত্যাশীরা টিকা পেতে কম গুরুত্ব পাবেন, এ ঘোষণার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে। এত দিন যারা নানা অজুহাতে টিকা নেননি, বাড়ির কাছে পেয়ে ছুটে যাচ্ছেন করোনার সুরক্ষাবর্ম নিতে।
সারা দেশে ২৮ হাজার বুথে শনিবার সকাল ৯টা থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয়। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকসহ মোট ১ লাখ ৪২ হাজার জন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের বাইরেও পাঁচটি করে ভ্রাম্যমাণ দল (তারাও টিকা দেবেন) রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। লোকজনকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে গত কয়েক দিন মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তিসহ বিশেষ প্রচার চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয় গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ১০ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ। আর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন ৮ কোটি ১৭ লাখের বেশি মানুষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গণটিকাদান কর্মসূচিতে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়া যাবে। এজন্য সারাদেশের টিকাদান কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন বুলেটিনে অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক মো. শামসুল হক জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি বা এর আগে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেয়া যাবে, তখন কোনো ধরনের নিবন্ধন বা কাগজপত্র লাগবে না।
তিনি বলেন, গণটিকাদানের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যরা এসব স্থান নির্ধারণ করবেন এবং সেগুলো স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে পারে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে দল থাকবে। সেদিন নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরেও প্রতি উপজেলায় পাঁচটি, প্রতি জেলায় ২০টি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি জোনে ৩০টি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি জোনে ৪০টি, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে প্রতিটি জোনে ৬০টি করে এবং খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের প্রতিটি জোনে অতিরিক্ত ২৫টি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলার দলগুলো ৩০০ জন এবং সিটি কর্পোরেশনের দলগুলো ৫০০ জন করে টিকা দেবে।
শামসুল হক বলেন, ‘২৬ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ চলবে। যাদের জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট নেই, তারা ২৬ ফেব্রুয়ারির আগে সরাসরি হাসপাতাল ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে তাদের তথ্য নথিভুক্ত করে টিকা দেয়া হবে। এমন ব্যক্তিদের একটি কার্ড দেয়া হবে। এই কার্ডই টিকার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’
এসএ/
