বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘বাংলা বানানকে নতুন যুগের উপযোগী করে সংস্কার করার সময় এসেছে’

একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই বাংলা ভাষা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। অথচ বছরজুড়ে এ নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য নেই। ফলে সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন কতটা হয়েছে? বিকৃত বা ভুল বাংলা শব্দ ব্যবহার করা থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করতে কী করছে বাংলা একাডেমি? অনলাইনে কেন পুরো বাংলা অভিধান এখনও দেওয়া যায়নি? এসব বিষয় নিয়ে জার্মানির সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নূরুল হুদা।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন কতটা হয়েছে?

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: কতটা হয়েছে তার কোন সমীক্ষা বাংলাদেশে হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, আমাদের সরকারি অফিস আদালতের নথিতে শতভাগ হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে, যেখানে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় সেখানে বাংলার বাইরে সম্পূরক একটা ভাষা আছে, যেটাকে আমরা বলি কর্মের ভাষা ইংরেজি সেটাও ব্যবহার হচ্ছে এটাও ঠিক। আবার বিভিন্ন সাইবোর্ডে দেখা যাবে বাংলা আছে, কোথাও কোথাও ইংরেজি আছে। কিন্তু এটা খুব বেশি নয়। গত ৫০ বছরে ইংরেজি ব্যবহারের বিষয়টি খুবই কমে এসেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেটা এই-পরিভাষার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না, বাংলা চালু করতে হবে৷ আমরা কিছু বানানে ভুল করব, লেখায় ভুল করব, এই ভুল করতে করতে আমাদের প্রমিত বাংলায় আসতে হবে। এই যাত্রায় আমরা বহুদুর এগিয়েছি।

একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই নানা ধরনের তৎপরতা দেখা যায়৷ এটা বছরব্যাপী করা যায় না?

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: এখন তো বছরব্যাপী হচ্ছে বলা যায়। আগে বরং শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রিক ছিল। এখন সারা বছরে হচ্ছে, তারপরও একুশে ফেব্রুয়ারি আসলে যে আলোচনাটা হয়, তার রেশ সারা বছরই থাকে। মঙ্গলবার মেলার উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি সম্ভব হয় সবগুলো জেলাতেই সহিত্য সম্মেলন করতে হবে। এর সঙ্গে আমরা বইমেলা জুড়ে দেব। এতে সৃষ্টিশীলতার বিষয়টা সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে৷ শুষ্ক মৌসুমের ছয় মাস যদি জেলাগুলোতে এটা করা যায় তাহলে মানুষের মনে বাংলা প্রচলনের বিষয়টি স্থায়ী রূপ পাবে।

বাংলা বিকৃত করা দুই ধরনের। একটি জেনে বিকৃত করা, আরেকটি না জেনে বিকৃত করা। আপনি তো শুধু নাটক-সিনেমার কথা বলছেন, কিন্তু রেডিওর যে জকি আছে তারা দ্রুততার সঙ্গে যে বাংলা বলে তাতে বিকৃত হচ্ছে। এটা বন্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সব মানুষের মনোযোগ যদি শুদ্ধ বাংলার দিকে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বাংলা একাডেমি যে বইগুলো প্রকাশ করে, সেখানে কি অভিধান অনুযায়ী সব শব্দ ব্যবহার হয়?

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: অবশ্যই অভিধান অনুযায়ী সব শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷ তবে ডিকশনারির বাইরে কখনও কখনও নতুন শব্দ তৈরি হয়। এই শব্দ তৈরি করে কবি, ভাষাবিদ এবং পণ্ডিতেরা। তাদের কাছ থেকে কোন শব্দ পাওয়া গেলে সেগুলো ডিকশনারিতে আনা হয়। যেমন ধরা যাক, ঘেরাও। এই শব্দটি আগে বাংলাতে খুব একটা প্রচলিত ছিল না। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ঘেরাও যখন শুরু হল, মাওলানা ভাসানীর মুখ থেকে আমরা অনেকবার এই শব্দটি শুনেছি। পরে এটা ডিকশনারিতে চলে এসেছে। ফলে অভিধানের বাইরের কোন শব্দ সাধারণত মানুষ ব্যবহার করে না।

অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ডিকশনারির অনলাইন সংস্করণ আছে। বাংলা একাডেমির নেই কেন?

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: আমার মনে হয়, বাংলা অভিধানের সব শব্দ নিয়ে অনলাইনে ডিকশনারি করার মতো কোন সফটওয়্যার এখনও দেশে নেই। এর মূল কারণ হল, বাংলায় যে ৪৯টি অক্ষর আছে, এর সঙ্গে আকার-একার সব মিলিয়ে বিষয়টা একটু জটিল। তবে প্রচেষ্টা চলছে৷ আমাদের ডিকশনারিটা অনলাইনে আছে, তবে মুদ্রিত ডিকশনারির মত ততটা বিস্তৃত নয়। শব্দার্থ হিসেবে আছে। ফলে জটিলতাটা কাটেনি। আমার মনে হয়, দু'এক বছরের মধ্যে এই জটিলতাও কেটে যাবে।

বাংলা একাডেমির বিক্রয়, বিপণন ও পুনর্মুদ্রন বিভাগের পরিচালক ড. জালাল আহমেদ জানান, অমর একুশে বইমেলার স্টল বন্টনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে লটারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে অনিয়মের যে অভিযোগ ছিল, সেটি সম্পূর্ণ দূর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি। সেখানে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় কেন ডিজিটাইজেশনের বাইরে থেকে গেল?

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: এর অনেকগুলো কারণ আছে। ডিজিটাইজেশন বলতে আমরা বুঝি টেলিফোনে কথা বলা, বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ করা, ফেসবুকে লেখা এসব। পৃথিবীর বাইরের সঙ্গে যে যোগাযোগ সেটা তো ইংরেজিতে করলেই হয়। বাংলাদেশে এটা করতে হলে যে মনোযোগটা দরকার সেটা আমাদের সব মহলেই একটু কম আছে বলে আমার মনে হয়। এটা বাড়াতে হবে৷ পাশাপাশি অনুশীলনটাও বাড়াতে হবে। তার সঙ্গে বাংলা বানানকে নতুন যুগের উপযোগী করে আবার সংস্কার করার দিন আসছে। এর আগেও বারবার সংস্কার হয়েছে। এখন ডিজিটাল যুগে সহজে যাতে এটাকে ধারণ করা যায় সেই কাজটি করার সময় এসেছে।

মাঝে মধ্যেই ডিকশনারিতে পরিবর্তন আসে, কিন্তু দেশের বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এটা জানতে পারেন না। তাদের পক্ষে সব সময় এটা কেনাও সম্ভব হয় না। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিকৃত শব্দ চলে যাচ্ছে না?

আমি মনে করি, শব্দ কখনই বিকৃত হয় না, ভুল শব্দ হয়। বিকৃত হলেই এটা ভুল হয়ে যাবে? শব্দ বানান যদি আমি ‘স’ দিয়ে লিখি এটা ভুল হবে। এই ভুলটা ব্যক্তি চেতনার উপর নির্ভর করে। কে কতটা মনোযোগী সেটার উপর নির্ভর করে৷ আরেকটা বিষয় আমি দেখেছি, ফেসবুক যারা ব্যবহার করেন তারা মুখের ভাষা ব্যবহার করেন। অথবা ব্যকরণ অনুযায়ী একটা গ্রামার যেভাবে লিখতে হয়, তারা সেভাবে লেখেন না। তারা একটু মনোযোগী হলেই শুদ্ধ করে লিখতে পারেন। দেশের বাইরে যারা আছেন তারা কিন্তু অনলাইনে বাংলা একাডেমির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এখন অনলাইনে যে ডিকশনারিটা আছে সেটা ফলো করলেও ভুল হওয়ার কথা না। যেমন ধরেন এখন ‘বাড়ি’ বানান এটা, কিন্তু কেউ যদি ‘বাড়ী’ বানান এটা লেখে সেটাও ভুল না। এটা হল আগের প্রচলন, পরের প্রচলন। এটা বলা যেতে পারে প্রমিত বাংলা বানান না। ফলে শুদ্ধ একটা ব্যাপার, প্রমিত একটা ব্যাপার আর না জেনে লেখা আরেকটা ব্যাপার৷ আমি মনে করি, আমাদের যে বিশাল ডিকশনারি এটা অনলাইনে দিলে জটিলতা বাড়বে। বরং মুদ্রিত ডিকশনারি সঙ্গে রাখা দরকার। লন্ডন, জার্মানি, নিউইয়র্ক যেখানেই বলেন সেখানে বাংলা ডিকশনারি পাওয়া যায়৷ ফলে এটা সংগ্রহ করা খুব কঠিন কাজ না। হয়ত অনলাইনে আরো বিশুদ্ধভাবে করা যায়। সেটা এখন সময়ের ব্যাপার।

সবাইকে বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী বাংলা শব্দ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে কি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে না?

মুহাম্মদ নূরুল হুদা: সেটা তো আমরা বলেছি, অভিধান অনুযায়ী ভাষা ব্যবহার করতে গেলে দু'টি কাজ করতে হবে, একটা অর্থ জানা এবং আরেকটা হল বানানটা ঠিক রাখা। বানান ঠিক রাখা আর বানান প্রমিত রাখা কিন্তু এক কথা নয়। প্রথম যে ডিকশনারিটা ছিল এখন কিন্তু সেটার বানান অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। সর্বশেষ যে অভিধানটা এসেছে এটা কিন্তু সব বানানই আগের বানান থেকে আলাদা। আমাদের উচিত হবে বাংলা একাডেমির অভিধান ফলো করা। কেউ যদি প্রমিত বানান না লিখে আগের কোন বানান লেখে এটাকে ভুল বলা যাবে না। এটা গ্রহণ করতেও কোন অসুবিধা নেই। সর্বশেষ বানান গ্রহণ করতে একটু সময়ের দরকার হয়।

 

 

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ক্ষুদে শিশুদের পুতুল নাচে মুগ্ধ দর্শক

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

পুতুল নাচ গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নাচ। গানের তালে তালে ও বাদ্যযন্ত্রে সুরের মূর্ছনায় পুতুলের নৃত্য হয়। এটি গ্রামীণ জনপদে শিশু-কিশোর ও সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের মাধ্যম এবং পুতুল নাচ শিশুদের কাছে এক অন্যরকম উৎসবের মতো। এই পুতুল নাচ কালের আবর্তে আর আধুনিক সাংস্কৃতির আগ্রাসনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। মাঝে মধ্যে পহেলা বৈশাখ আর হাতেগোনা দু-একটি উৎসব ছাড়া পুতুল নাচ প্রদর্শিত হয় না।

সম্প্রতি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুর সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় শিক্ষা পদক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ক্ষুদে শিশুরা পুতুলের আদলে অসাধারণ নৃত্য প্রদর্শন করে। এতে পৌর শহরের সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিশুরা পায়ের আঙুলের সঙ্গে হাতে সুতো বেঁধে, মাথায় ঘুমটা দিয়ে ও গায়ে বাঙালিয়ানা পোশাক পরিধান করে গানের তালে তালে নাচ প্রদর্শন করে।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

এই মনোমুগ্ধকর পুতুলের আদলে নাচ উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে এবং তাদের মন জয় করে এই মানব পুতুল নাচ। সেই নাচের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে সুধীজনরা প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন পুতুলের আদলে শিশুদের এই নাচ নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুতুল নাচের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। নাচের ভিডিওটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।

নৃত্য অংশ নেয়া তোহা, সূচী, হাবিবা, মীম, আরাধ্যা ও জীম বলেন- এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক আগে থেকে প্র্যাক্টিস শুরু করি। আমাদের স্কুলের সাবিনা ম্যাডামের সহযোগিতায় এই পুতুল নাচটি আমরা সুন্দরভাবে পুতুলের আদলে নাচতে পেরেছি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তুহিন হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান, সহকারী ইন্সট্রাক্টর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা আক্তার কলি বলেন- পুতুল নাচটা আমাদের গ্রাম-বাংলার এক প্রাচীন ঐতিহ্য। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এই পুতুল নাচ আমাদের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল। আমরা যখন মেলায় যেতাম তখন এই পুতুল নাচ না দেখলে আমাদের মেলা দেখা সার্থক হতো না। এই ঐতিহ্যগুলো এখন আর গ্রাম-বাংলায় নেই। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এই পুতুল নাচ উপস্থাপন করি।

তিনি আরও বলেন- পুতুল নাচটি বাংলার বুকে আবার ফিরিয়ে দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুর রহমান জিন্নাহ স্যারের নির্দেশে আমাদের বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পুতুল নাচের উদ্যোগ নেই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহযোগিতা করে। এতে আমরা ফিরে পাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতি সম্পদকে। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যে পিছিয়ে নেই তা এই শিশু শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিল।

Header Ad
Header Ad

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ছাত্র সংগঠনটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন আনার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের আবু বাকের মজুমদার, সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরসহ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী।

তারা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনের এই অংশ যখন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দিলেন, তখন আরেকটি অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে মিলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন।

আগামী শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

নতুন দলটিতে যোগ দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক রক্ষা করা সম্ভব নয়: গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংক খাতের সমস্যা সবারই জানা। সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যাংকগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংককে বাঁচানো সম্ভব হবে না। কারণ, কিছু ব্যাংক থেকে একটি মাত্র পরিবার বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে, যার ৮৭ শতাংশই ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ টাস্কফোর্স’ সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ বিষয়ক টাস্কফোর্স।

গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সুশাসনের অভাব ছিল, সেগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউসিবি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে, তাদের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। আকার বিবেচনায় এ দুটি ব্যাংকের উত্তরণ মানে দেশের সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান।

তিনি আরও বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে, তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমানত বীমা স্কিমের আওতায় প্রতিটি আমানতকারীর জন্য অর্থ ফেরতের পরিমাণ ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানান গভর্নর। এর ফলে ঋণখেলাপি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা পাবে ব্যাংকগুলো, যা ঋণগ্রহীতাদের সতর্ক করবে। এছাড়া অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো এবং রিট কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপ্রয়োজনীয় কিছু বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আপাতত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারাও মতামত দেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “গভর্নর যখনই বলেন যে কিছু ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে বা দুর্বল অবস্থায় আছে, তখনই আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এটি বন্ধ করতে হবে।”

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি’র চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, “যেকোনো নীতি প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।”

অধ্যাপক আবু আহমেদ দাবি করেন, “আইএমএফের শর্ত মেনে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের জন্য এত কঠোর শর্ত মানার প্রয়োজন ছিল না, কারণ এটি মাত্র দুই মাসের রেমিট্যান্সের সমান।”

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ব্যাংক খাতের সংকট ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয়েছে। তার মতে, সরকার ঘোষিত খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ বলা হলেও বাস্তবে তা ৫০ শতাংশেরও বেশি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছয় গুণ বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইন শিথিল করার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে ব্যাংক খাতের সংকট আরও বাড়বে।”

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন বলেন, “অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি, তবে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্নীতির কারণে সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে না।”

ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে তুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাব কমানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাংক খাতে আরও বড় বিপর্যয় আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে ক্ষুদে শিশুদের পুতুল নাচে মুগ্ধ দর্শক
নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’
চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক রক্ষা করা সম্ভব নয়: গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর
বিরামপুরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রমজানে ঢাবির ক্যান্টিনে খাবারের মান বৃদ্ধিতে মনিটরিং সেল গঠনে ছাত্রদলের আবেদন
৬০ কোটি টাকায় মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রি করবেন ট্রাম্প
পরকীয়ার জেরে ভাঙতে যাচ্ছে ৩৭ বছরের সংসার, যা বললেন গোবিন্দ
ছাত্রদের নতুন দল থেকে সরে দাঁড়ালেন নাগরিক কমিটির জুনায়েদ ও রিফাত
‘শুধু রণাঙ্গণের যোদ্ধারাই হবেন মুক্তিযোদ্ধা, বাকিরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আয়োজনে আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্মেলন
৬ মাসে যেভাবে অর্থনীতি কামব্যাক করেছে সেটা মিরাকল: প্রেস সচিব
নতুন তথ্য উপদেষ্টা হচ্ছেন মাহফুজ আলম
টাঙ্গাইলে শিক্ষা সফরের ৪ বাসে ডাকাতি, বাঁধা দেওয়ায় শিক্ষকসহ দুইজনকে মারধর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তিতে সম্মত ইউক্রেন  
ছোট অপরাধ বাড়লেও কমেছে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ  
নায়িকার মামলায় জাজের আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা  
মধুর ক্যান্টিনে বিকেলে যাত্রা শুরু করবে সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠন
১৩ মার্চ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব  
গোল উৎসবে নিষ্প্রাণ বার্সার রক্ষণ, সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ড্র