একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা

একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা ভাষা শহিদদের। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ভাষা শহিদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তাদের সামরিক সচিবরা। রাষ্ট্রপতির পক্ষে ফুল দেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম। আর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তাদের সামরিক সচিবরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে তারা প্রথমে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। করোনার কারণে অন্যান্যবারের মতো এবার একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সশরীরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে চলছে এই রীতি। তবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও কিছুটা ছেদ পড়ছে এ নিয়মে। এবার শ্রদ্ধা নিবেদন সীমিত পরিসরে হলেও প্রস্তুতিতে ছিল না কোনো ঘাটতি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবার মাস্ক পরা ছাড়া কাউকে শহিদ মিনারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রে মানতে হচ্ছে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধ।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সামরিক সচিবরা। পরে আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক খান এমপি শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধান, আইজিপিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এর পরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহিদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ডা. দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক আবু সায়েম খান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী কে এম খালিদ।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর, জব্বাররা। তাঁদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল বাংলার দুঃখিনী বর্ণমালাযথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শোকবিহ্বল জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে আজ। একই সঙ্গে সারা বিশ্বে গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।
যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শোকবিহ্বল জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে আজ। একই সঙ্গে সারা বিশ্বে গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
এসএম/এএস
