বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

দাবি দুদক সচিবের

শরীফের অপসারণ কারও চাপে হয়নি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, প্রভাবশালীদের চাপে অন্যায়ভাবে তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে তিনি (শরীফ) যে দাবি করেছেন, মিডিয়ায় তাই প্রচার করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনা নয়। তিনি বলেন, শরীফ উদ্দিনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বহু অভিযোগ কমিশনে থাকায় তাকে অপসারণ করতে হয়েছে। চাকরি বিধিমালার ৫৪ (২) বিধিতে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণের বিধান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি অনুযায়ী দুদক ছাড়া দেশের অন্যান্য অনেক দপ্তরেও এ রকম আইন ও বিধি আছে। কমিশনের শৃংখলা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়েছে।

উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ বিষয়ে রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব তাদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কেন চাকরিচ্যুত করা হলো সে বিষয়ে কোন সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি দুদক সচিব। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণমাধ্যমে একপেশে সংবাদ পরিবেশন হয়েছে।

দুদক সচিব বলেন, অপসারণের আদেশ জারির পর থেকে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারিত হচ্ছে। মূলত একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে এসব সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, যা প্রকৃত ঘটনার বিপরীত বলে দাবি তাঁর।

মাহবুব হোসেন বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কিছু মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্নীতি উদঘাটনের কারণে তাদের প্রভাবে শরীফকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে- এটা মোটেও সত্য নয়। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুদক কোনো প্রভাব আমলে নেয় না এবং প্রভাবিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না।

দুদক সচিব শরীফের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগুলো তুলে ধরেন বলেন, শরীফ কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের দাবি পাওয়া মাত্র দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের নির্দেশিকা অনুসরণ না করে নিজের খেয়াল-খুশি মতো কাজ করতেন।
অনুসন্ধান বা তদন্ত করার সময় শরীফ উদ্দিন অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, এ রকম বহু ব্যক্তিকে নোটিশ বা টেলিফোনের মাধ্যমে ডেকে এনে হয়রানি করতেন।

অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে কোন ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা নো ডেবিট করার প্রয়োজন হলে আইন ও বিধিতে তার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। শরীফ ওই নিয়মের তোয়াক্কা করতেন না এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতেন না।

তিনি দুদক বিধিমালা ২০০৭ এর বিধি ১৮ লঙ্ঘন করে লিখিতভাবে ১৫টি ব্যাংক হিসাব ও মৌখিকভাবে আটটিসহ মোট ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করেছেন।

কক্সবাজারে একজন সার্ভেয়ারের বাসায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ঘুষের ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা জব্দ করে। জব্দকৃত টাকা বুঝে পেলেও শরীফ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে দীর্ঘ এক বছর চার মাস ওই অর্থ নিজের হেফাজতে রেখেছেন। বিষয়টি হাইকোর্ট ডিভিশনের দৃষ্টিগোচরে এলে সুয়োমোটো রুল জারি করা হয়। এ বিষয়ে শরীফের ব্যাখ্যা আদালত গ্রহণ করেননি।

শরীফ উদ্দিন একটি মামলায় ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে প্রহার করেছেন, যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আর এ ধরনের বহু অভিযোগ রয়েছে।

তাঁর কর্মকাল তিন বছরের অধিক হওয়ায় অন্য আরও ২০ জন কর্মচারীর সঙ্গে তাকে বদলি করা হয়। এ বদলি আদেশ সবাই যথাসময়ে কার্যকর করেন। কিন্তু বদলির এ আদেশের বিরুদ্ধে শহিদুল ইসলাম লিটন নামের একজন মানবাধিকারকর্মীর ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দায়ের করেন। বদলির আদেশ স্থগিত করার অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনো আদেশ হাইকোর্ট দেননি।

২০২১ সালের ১৬ জুন তাকে পটুয়াখালীতে বদলি করার দীর্ঘ একমাস পর (১৭ জুলাই) তিনি ই-মেইলে পটুয়াখালীতে যোগদানপত্র প্রেরণ করেন। আর ১০ আগস্ট তারিখে সশরীরে দুদকের পটুয়াখালী অফিসে উপস্থিত হন। বিলম্বে যোগদান করে তিনি কমিশনের আদেশ অবজ্ঞা করেছেন।

শরীফ উদ্দিনকে পটুয়াখালীতে বদলির পর কর্মস্থল ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সব রেকর্ডপত্রসহ নথিপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। নথি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কখনই পৃথক আদেশ জারি করা হয় না। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর তাকে পটুয়াখালি থেকে ডেকে নিয়ে আসা হয়।

তাকে হুমকি দেওয়ার কথিত অভিযোগে গত ৩০ জানুয়ারি থানায় জিডি করেন শরীফ। বিষয়টি তিনি কাউকে অবহিত করেননি। গণমাধ্যম সূত্রে জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলে তিনি কোনো সহযোগিতা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট প্রদান বিষয়ে অভিযোগ তদন্তে পরিচালকের নেতৃত্বে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছয় সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। শরীফ উদ্দিন টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিভ্রান্ত করে চলেছেন যে, তিনি সব উদঘাটন করেছেন।

কক্সবাজার জেলার জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ এর বিধি-১০(বি) এর নির্দেশনা অনুসৃত হয়নি।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বদলি, নিয়োগ বাণিজ্য, ক্লিনিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে শরীফের দাখিলকৃত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সাথে তদারককারী কর্মকর্তাই দ্বিমত পোষণ করেছেন। ।

শরীফ উদ্দিন ২০১৭ সালে কর্ণফুলী গ্যাসের বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর কেডিসিএল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে সেখানে তার আপন ছোট ভাই শিহাব উদ্দিন সবুজকে কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চাকরি দেন। বর্তমানে তিনি আইটি ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন।

এছাড়া তিনি সেখানে তার আত্মীয় মুহাম্মদ শাহাব উদ্দিনকে জাল সনদের মাধ্যমে ড্রাইভার পদেও চাকরি দিয়েছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। নিজের ভাই ছাড়াও নিকটাত্মীয়কে প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে মো. শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৫৪ (২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে অপসারণ করার কথা বলা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিশনের প্রধান কার্যালয়সহ ২১ জেলায় দুদকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওই বিধি বাতিল ও শরীপ উদ্দিনের অপসারণের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেন।

 

এনএইচবি/

 

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ক্ষুদে শিশুদের পুতুল নাচে মুগ্ধ দর্শক

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

পুতুল নাচ গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য নাচ। গানের তালে তালে ও বাদ্যযন্ত্রে সুরের মূর্ছনায় পুতুলের নৃত্য হয়। এটি গ্রামীণ জনপদে শিশু-কিশোর ও সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের মাধ্যম এবং পুতুল নাচ শিশুদের কাছে এক অন্যরকম উৎসবের মতো। এই পুতুল নাচ কালের আবর্তে আর আধুনিক সাংস্কৃতির আগ্রাসনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। মাঝে মধ্যে পহেলা বৈশাখ আর হাতেগোনা দু-একটি উৎসব ছাড়া পুতুল নাচ প্রদর্শিত হয় না।

সম্প্রতি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুর সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় শিক্ষা পদক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে ক্ষুদে শিশুরা পুতুলের আদলে অসাধারণ নৃত্য প্রদর্শন করে। এতে পৌর শহরের সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিশুরা পায়ের আঙুলের সঙ্গে হাতে সুতো বেঁধে, মাথায় ঘুমটা দিয়ে ও গায়ে বাঙালিয়ানা পোশাক পরিধান করে গানের তালে তালে নাচ প্রদর্শন করে।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

এই মনোমুগ্ধকর পুতুলের আদলে নাচ উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে এবং তাদের মন জয় করে এই মানব পুতুল নাচ। সেই নাচের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে সুধীজনরা প্রশংসা করছেন। অনেকেই বলছেন পুতুলের আদলে শিশুদের এই নাচ নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুতুল নাচের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। নাচের ভিডিওটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা তার ফেসবুকে শেয়ার করেন।

নৃত্য অংশ নেয়া তোহা, সূচী, হাবিবা, মীম, আরাধ্যা ও জীম বলেন- এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক আগে থেকে প্র্যাক্টিস শুরু করি। আমাদের স্কুলের সাবিনা ম্যাডামের সহযোগিতায় এই পুতুল নাচটি আমরা সুন্দরভাবে পুতুলের আদলে নাচতে পেরেছি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তুহিন হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান, সহকারী ইন্সট্রাক্টর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূতি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা আক্তার কলি বলেন- পুতুল নাচটা আমাদের গ্রাম-বাংলার এক প্রাচীন ঐতিহ্য। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এই পুতুল নাচ আমাদের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল। আমরা যখন মেলায় যেতাম তখন এই পুতুল নাচ না দেখলে আমাদের মেলা দেখা সার্থক হতো না। এই ঐতিহ্যগুলো এখন আর গ্রাম-বাংলায় নেই। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এই পুতুল নাচ উপস্থাপন করি।

তিনি আরও বলেন- পুতুল নাচটি বাংলার বুকে আবার ফিরিয়ে দিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুর রহমান জিন্নাহ স্যারের নির্দেশে আমাদের বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পুতুল নাচের উদ্যোগ নেই। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহযোগিতা করে। এতে আমরা ফিরে পাই আমাদের হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতি সম্পদকে। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যে পিছিয়ে নেই তা এই শিশু শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিল।

Header Ad
Header Ad

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ছাত্র সংগঠনটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন আনার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের আবু বাকের মজুমদার, সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরসহ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী।

তারা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনের এই অংশ যখন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দিলেন, তখন আরেকটি অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে মিলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন।

আগামী শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

নতুন দলটিতে যোগ দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক রক্ষা করা সম্ভব নয়: গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংক খাতের সমস্যা সবারই জানা। সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং ব্যাংকগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংককে বাঁচানো সম্ভব হবে না। কারণ, কিছু ব্যাংক থেকে একটি মাত্র পরিবার বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে, যার ৮৭ শতাংশই ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ টাস্কফোর্স’ সম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ বিষয়ক টাস্কফোর্স।

গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সুশাসনের অভাব ছিল, সেগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউসিবি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে, তাদের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। আকার বিবেচনায় এ দুটি ব্যাংকের উত্তরণ মানে দেশের সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান।

তিনি আরও বলেন, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়া যাবে, তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমানত বীমা স্কিমের আওতায় প্রতিটি আমানতকারীর জন্য অর্থ ফেরতের পরিমাণ ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানান গভর্নর। এর ফলে ঋণখেলাপি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা পাবে ব্যাংকগুলো, যা ঋণগ্রহীতাদের সতর্ক করবে। এছাড়া অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো এবং রিট কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপ্রয়োজনীয় কিছু বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং আপাতত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

ব্যাংক খাতের সংকট নিয়ে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারাও মতামত দেন। ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “গভর্নর যখনই বলেন যে কিছু ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে বা দুর্বল অবস্থায় আছে, তখনই আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এটি বন্ধ করতে হবে।”

ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি’র চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, “যেকোনো নীতি প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।”

অধ্যাপক আবু আহমেদ দাবি করেন, “আইএমএফের শর্ত মেনে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের জন্য এত কঠোর শর্ত মানার প্রয়োজন ছিল না, কারণ এটি মাত্র দুই মাসের রেমিট্যান্সের সমান।”

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ব্যাংক খাতের সংকট ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকেই শুরু হয়েছে। তার মতে, সরকার ঘোষিত খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ বলা হলেও বাস্তবে তা ৫০ শতাংশেরও বেশি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছয় গুণ বেড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইন শিথিল করার সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে ব্যাংক খাতের সংকট আরও বাড়বে।”

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেন বলেন, “অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি, তবে এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্নীতির কারণে সামাজিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হচ্ছে না।”

ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে তুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রভাব কমানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাংক খাতে আরও বড় বিপর্যয় আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে ক্ষুদে শিশুদের পুতুল নাচে মুগ্ধ দর্শক
নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নাম ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’
চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক রক্ষা করা সম্ভব নয়: গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর
বিরামপুরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
রমজানে ঢাবির ক্যান্টিনে খাবারের মান বৃদ্ধিতে মনিটরিং সেল গঠনে ছাত্রদলের আবেদন
৬০ কোটি টাকায় মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রি করবেন ট্রাম্প
পরকীয়ার জেরে ভাঙতে যাচ্ছে ৩৭ বছরের সংসার, যা বললেন গোবিন্দ
ছাত্রদের নতুন দল থেকে সরে দাঁড়ালেন নাগরিক কমিটির জুনায়েদ ও রিফাত
‘শুধু রণাঙ্গণের যোদ্ধারাই হবেন মুক্তিযোদ্ধা, বাকিরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আয়োজনে আন্তর্জাতিক ছাত্র সম্মেলন
৬ মাসে যেভাবে অর্থনীতি কামব্যাক করেছে সেটা মিরাকল: প্রেস সচিব
নতুন তথ্য উপদেষ্টা হচ্ছেন মাহফুজ আলম
টাঙ্গাইলে শিক্ষা সফরের ৪ বাসে ডাকাতি, বাঁধা দেওয়ায় শিক্ষকসহ দুইজনকে মারধর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তিতে সম্মত ইউক্রেন  
ছোট অপরাধ বাড়লেও কমেছে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ  
নায়িকার মামলায় জাজের আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা  
মধুর ক্যান্টিনে বিকেলে যাত্রা শুরু করবে সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠন
১৩ মার্চ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব  
গোল উৎসবে নিষ্প্রাণ বার্সার রক্ষণ, সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ড্র