যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে বেইজিং। চীনের পাল্টা শুল্কারোপের ঘোষণার পরদিনই ভয়াবহ ধস নেমেছে মার্কিন শেয়ারবাজারে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মার্কিন সময় বিকেলে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও শিল্পখাতভিত্তিক কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার দিনটিকে বলা হচ্ছে চলতি বছরের অন্যতম ভয়াবহ দিন মার্কিন স্টক মার্কেটের জন্য।
এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক কমেছে ৬ শতাংশ
নাসডাক সূচক কমেছে ৫.৮ শতাংশ
ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ হারিয়েছে ২,২০০ পয়েন্ট, যা প্রায় ৫.৫ শতাংশ পতন।
টানা দ্বিতীয় দিন বড় ধরনের পতন দেখলো মার্কিন বাজার। আগের দিন বৃহস্পতিবারও বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করেছিল, যা ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির শুরুর সময়ের পর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে চীনের ওপর পূর্বে আরোপিত শুল্কের পাশাপাশি নতুন করে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় পাল্টা ঘোষণা দিয়ে জানায়, তারা ১০ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সব পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। সেইসঙ্গে কিছু বিশেষ পণ্যের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণও জারি করা হবে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় এবং বৈধ স্বার্থ সংরক্ষণে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা এখন আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, চীনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লিখেছেন, “চীন ভুল খেলেছে। তারা আতঙ্কে আছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তাদের এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নেই।”
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এই তালিকা থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।