নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের অধিকার সুরক্ষিত করার সুপারিশ

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষুদ্র মৎস্য শ্রমিকদের (জেলেদের) অধিকার সুরক্ষিত করার সুপারিশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সরকারের নির্দেশনা সত্ত্বেও নানা কারণে জেলেরা খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সোমবার (২২ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, শহিদুল ইসলাম (বকুল), ছোট মনির, নাজমা আকতার ও শামীমা আক্তার খানম এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কমিটি সূত্র জানা গেছে, সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় কোনো কাজ করেন না বা করার মতো কোনো কাজও পান না। এছাড়া মৎস্য শ্রমিকরা বংশ পরস্পরায় মাছ ধরার কাজ করার কারণে তাদের মধ্যে অন্য কোনো কারিগরি দক্ষতা গড়ে ওঠেনি। এমতাবস্থায় অনেকে জাল বোনা বা মেরামত, কৃষিকাজ, লুকিয়ে মাছ ধরা, শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিকশা বা অটোরিকশা চালানো, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করলেও বাকীদের চরম সংকটে থাকতে হয়। আবার জেলে পরিচয়পত্র না থাকায় অনেকে সরকারের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে সকল জেলে পরিচয়পত্র নিশ্চিত করাসহ তাদের সুরক্ষার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে কমিটি।
কমিটির পক্ষ থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে অনিয়ম পরিহার করে দূর্নীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির নির্দেশনা দেওয়া হয়। এজন্য কমিটির পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা কামনা করা হয়। এছাড়া মিরপুর চিড়িয়াখানা ও সাভারস্থ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কাজের মান উন্নয়নসহ মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন অধিদপ্তরের ক্রয় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতি অধিক সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া বৈঠকে চিড়িয়াখানা বিল-২০২৩ নিয়ে আলোচনা হয়। আরও আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে পরবর্তী বৈঠকে বিলের সুপারিশ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনএইচবি/এএস
