আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা, রমজান মাসের শেষ শুক্রবার, যাকে মুসলিম বিশ্বে বিশেষ মর্যাদায় পালন করা হয়। এই দিনটি শুধু রমজান মাসের শেষ জুমা হিসেবে পালিত হয় না, বরং এটি মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ দিন। মুসলিমরা এই দিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত এবং মাগফিরাত কামনা করেন, পাশাপাশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে তুলতে চেষ্টা করেন।
ইসলামে জুমাতুল বিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন, কারণ এটি রমজান মাসের শেষ দিনের সাথে সম্পর্কিত। রমজান একটি পবিত্র মাস, যেখানে সারা বিশ্বের মুসলমানরা রোজা রাখেন, কোরআন তিলাওয়াত করেন, এবং বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিজেদের আত্মার শুদ্ধি সাধন করেন। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ শুক্রবারে জুমার নামাজের পর বিশেষ ইবাদত করতেন, এবং তার উম্মতরা এই দিনে নফল নামাজ ও মোনাজাত করে থাকেন। এই কারণে, মুসলমানরা জুমাতুল বিদা উপলক্ষে অতিরিক্ত ইবাদত-বন্দেগি পালন করেন।
এছাড়া, এই দিনটি আল-কুদস দিবস হিসেবে পালিত হয়, যেটি প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দেস (মসজিদুল আকসা) পুনরুদ্ধারের দাবিতে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত। ১৯৬৮ সালে ইসরায়েল এক আক্রমণে জেরুজালেম দখল করে এবং মসজিদুল আকসা সহ পুরো এলাকা নিজের দখলে নিয়ে নেয়। এর প্রতিবাদে প্রতিবছর আল-কুদস দিবস পালিত হয়, যাতে বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা মসজিদুল আকসার স্বাধীনতার দাবিতে আওয়াজ তোলে।
বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজান মাসে বিশেষ ইবাদত পালন করতেন, এবং তার উম্মতরা এই মাসের প্রতিটি শুক্রবারকে এক ধরনের বিশেষ দিন হিসেবে পালন করেন। বিশেষ করে জুমাতুল বিদা রমজানের শেষ শুক্রবার হওয়ায় এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজান মাস আসলে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, দোজখের দরজাগুলো বন্ধ হয়ে যায়, এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয় (বুখারী, মুসলিম)। এটি মুসলমানদের জন্য একটি বিরল সুযোগ, যাতে তারা আল্লাহর কাছ থেকে অসীম রহমত ও ক্ষমা লাভ করতে পারেন।
এবারের জুমাতুল বিদা উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন সবাই একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদে অধিক মুসল্লি উপস্থিতির কারণে, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সবাই সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায় করতে পারে।
জুমাতুল বিদা শুধু ধর্মীয় গুরুত্বেই নয়, এর সাথে একটি বিশেষ আবেগও জড়িয়ে থাকে। এটি রমজান মাসের শেষ দিন, যখন মুসলমানরা তাদের রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে একে অপরকে বিদায় জানায়। এই দিনটি মুসলিমদের জন্য একটি শেষ সুযোগ, যা দিয়ে তারা সারা মাসের ইবাদত, দোয়া ও তওবা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন।
আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত লাভের এই মাসের শেষে জুমাতুল বিদা মুসলমানদের জন্য একটি বড় আধ্যাত্মিক উপলক্ষ, যেখানে তারা আল্লাহর কাছে দোয়া ও মোনাজাত করেন এবং নিজেদের আত্মাকে আরও বেশি শুদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালান।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এই পবিত্র দিনটি সঠিকভাবে ইবাদত করার তাওফিক দিন।