বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-১১

যারা যুদ্ধ করেছিল

সন্ধ্যা থেকে সবাই প্রস্তুত। আজ বড় অপারেশন করতে যাচ্ছে তারা। একটি হাইস্কুলে তারা আক্রমণ করবে। সেখানে শ’খানেক মিলিটারি, জনা পঞ্চাশেক রাজাকার আর পাঞ্জাবি পুলিশ আছে বিশ-পঁচিশ জন। তারা সুযোগ পেলেই গ্রামে এসে গরু-ছাগল এবং যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে যায়।

মোজাফফরের দল আর মমিনের দল আবার একসঙ্গে অপারেশন করতে একত্রিত হয়েছে। আজ তারা বজ্রকঠিন শপথ নিয়েছে। পরিকল্পনা করেছে পুঙ্খানুপুঙ্খ। স্কুলের পাশ দিয়ে উঁচু রাস্তা চলে গেছে। লোকজন বলে ওয়াপদার বাঁধ। ওই বাঁধের আড়ালে পজিশন নেবে মূল দল। দক্ষিণ পাশে থাকবে আরেকটি দল। স্কুলের উত্তরে আখের ক্ষেত। ওখানে কয়েকজন দুর্ধর্ষ গেরিলা থাকবে। তাদের হাতে থাকবে গ্রেনেড। তারা নির্দেশ পাওয়া মাত্র ক্রোলিং করে গিয়ে পাকিস্তানিদের বাংকারে গ্রেনেড ছুড়বে।

রাত তিনটে। চারদিকে নিঝুম নিস্তব্ধতা। দূরে একটি রাতজাগা পাখি ডেকে উঠলে সে আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যায়। নির্দেশ মতো সবাই নিঃশব্দে যার যার মতো পজিশন নেয়। তারপর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ফায়ার। আকস্মিক আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী হকচকিয়ে গেলেও একটু পর তারা বাংকার থেকে ফায়ার শুরু করে। রাতের নিস্তব্ধতা খান খান করে মেশিনগানের বিকট শব্দে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর চেয়ে পাকিস্তানি বাহিনী গুলি ছুড়ছে বৃষ্টির মতো। টানা ফায়ার চলে আধা ঘণ্টা। তারপর দু’পক্ষই চুপ। এটাও যুদ্ধের কৌশল। শত্রুপক্ষের অবস্থান বোঝার জন্য ফায়ার বন্ধ করে অবস্থা বুঝতে হয়। টানা গোলাগুলির পর এতটাই নীরবতা নেমে আসল যে দূরের ফিসফাস কথাও স্পষ্ট শোনা যায়। এই সময় পাকিস্তানি মিলিটারিরা ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলে ধ্বনি দিয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি।

জয়বাংলা ধ্বনির পর পরই পাকিস্তানি মিলিটারি গালাগালি করতে থাকে। পাল্টা মুক্তিবাহিনীও গালাগাল করতে থাকে। যুদ্ধের এই ব্যাপারটা মজনুর ভীষণ মজা লাগে। সে সিনেমায় দেখেছে তলোয়ার দিয়ে যখন যুদ্ধ হতো তখন দুজন সৈন্য থাকত কাছাকাছি। তারা নানা রকম গরম গরম কথা বলে একে অন্যকে আক্রমণ করত। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে যুদ্ধেও পরস্পরের কথা বিনিময় হয়- এটাই মজনুর বিস্ময়ের কারণ।

পাকিস্তানিরা মা-বাপ তুলে বেশি গালাগাল দেয়। ‘মাদারচোদ’, ‘বার্স্টাড’, ‘মালাউন কা বাচ্চা’। এই শব্দগুলোর মানে আগে জানত না মজনু। মমিনের কাছ থেকে জেনেছে এসব খুব খারাপ-খারাপ গাল। মুক্তিবাহিনী গাল দেয় বাংলায়। সেটাও খুব খারাপ। ‘কুত্তার বাচ্চা’, ‘তোর মারেরে......’ যুদ্ধে যে কত কী হয় যুদ্ধ যারা করেনি তারা বুঝবে না।

মজনু ফিস ফিস করে বলে, ‘মালাউন কা বাচ্চার’ জবাবে কী কমু ওস্তাদ?’ মমিন খানিক ভাবে। তারপর বলে, ‘বলো, জাহেল কা বাচ্চা’। ‘মানে কী?’ মজনু জিজ্ঞেস করে। মমিন বলে, ‘জাহেল একজন খারাপ মানুষের নাম।’ নবীজী তার নাম দিয়েছিল ‘আবু জেহেল’।

পাকিস্তানি মিলিটারি যখন ‘মালাউন কা বাচ্চা’ বলছিল মজনু তখন গলা ফাটিয়ে ‘জাহেল কা বাচ্চা’ বলতে থাকে। এরই মধ্যে কমান্ডারের নির্দেষ এলো মমিনের কাছে। কমান্ডার মোজাফফর খবর পাঠিয়েছেন, আর কালবিলম্ব না করে গেরিলা বাহিনী পাঠাতে বলেছেন।

কিছুক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে গালাগাল বিনিময় হয়। তারপর আবার শুরু হয় গোলাগুলি। এইবার গোলাগুলির মধ্যে মুক্তিবাহিনীর কয়েকজন দুর্ধর্ষ গেরিলা যোদ্ধা ক্রোলিং করে পাকিস্তানি সেনাদের বাংকারের কাছে গিয়ে গ্রেনেড ছুড়বে। ভয়ংকর বিপজ্জনক কাজ। প্রাণ হাতে নিয়ে যেতে হবে। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিশেষ করে ক্রোলিং করার সময় পাকিস্তারিা যদি টের পায় তাহলে হাতে নাতে ধরা পড়ার ভয় আছে। এবার আর গুলি থামানো যাবে না। গোলাগুলির আওয়াজের মধ্যে গেরিলারা ক্রোলিং করে যাবে। তাতে বাইরে থেকে শব্দ বুঝতে পারবে না পাকিস্তানি মিলিটারিরা।

স্কুলের পেছনে আখক্ষেত। সেই আখক্ষেতের ভেতর দিয়ে সাপের মতো এঁকে-বেঁকে গেরিলারা এগিয়ে যাচ্ছে। বাঁধের আড়ালে যারা পজিশন নিয়েছে তারা ক্রমাগত ফায়ার করে যাবে। তবে এলোমেলোভাবে গুলি ছোড়া যাবে না। মুক্তিবাহিনীর হিসেব করা গুলি। তারা পাকিস্তানি মিলিটারির ন্যায় বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে পারে না। এতো গুলি তাদের নেই।

অনেকক্ষণ হয়ে গেল। গ্রেনেড ফাটার আওয়াজ আসছে না। মমিন চিন্তিত হয়ে পড়ে। এতক্ষণ তো লাগার কথা না। তাহলে কি কোনো বিপদ হলো? মমিন ফায়ার না দিয়ে ভাবতে থাকে। গোলাগুলি বেড়ে চলেছে। মমিন খেয়াল করে মজনু কাত হয়ে পড়ে আছে। মমিনের আত্মা ধক করে ওঠে। তবে কি গুলি খেয়ে মজনু শহীদ হয়ে গেল? মমিন
ক্রোলিং করে মজনুর কাছে যায়। গায়ে হাত দিয়ে মৃদু স্বরে ডাকে, মজনু। মজনু ধুচমুচ করে পাশ ফিরে তাকায়। বলে, ‘কী অইছে ওস্তাদ?’
‘কিছু হয় নাই। তুমি ঠিক আছো তো?’
‘জ্বি ঠিক আছি।’
‘তুমি কাত হয়ে পড়ে আছো তাই ভাবলাম গুলি টুলি লাগল কি না?’
মজনু বলে, ‘হয়রান হয়ে গেছি ওস্তাদ। রাইফেল কোনো ভালো অস্ত্র না। এটা দিয়ে দুই মিনিট যুদ্ধ করলে শরীলে আর বল পাওয়া যায় না। শরীল আইপসা আসে।’
‘ঠিকই বলেছ। রাইফেল কোনো আধুনিক অস্ত্র না। কী আর করা। আমাদের তো এর চেয়ে ভালো অস্ত্র নাই।’

মমিন কথা বলতে বলতে এসএলআর এ আরও একটি ম্যাগাজিন লোড করে। তারপর খেয়াল করে টার্গেট করে। খুব বেশি দূরে নেই পাকিস্তানি মিলিটারিরা। তাদের অস্ত্রের নল থেকে যে আগুনের ফুলকি বেরুচ্ছে তাতে বোঝা যায় শত্রুপক্ষ নিকটেই আছে। মমিন টার্গেট ঠিক করছে। এই সময় পরপর কয়েকটি গ্রেনেড ব্রাস্ট হওয়ার শব্দ চারপাশ কাঁপিয়ে তুলল। সঙ্গে সঙ্গে মমিনরা জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে গেরিলাদের স্বাগত জানাল।

পরেরবার গ্রেনেড ব্রাস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি মিলিটারিদের আর্তনাদ ভেসে আসতে লাগল। তারা ভীষণ শব্দ করে ‘হে আল্লাহ রহম করেগা’, ‘হে আল্লাহ রহম করেগা’ বলে চিৎকার করছে। আর জোরে জোরে দোয়া দরুদ পড়ছে। একজনের কণ্ঠে কোরআনের আয়াত শোনা গেল। সে শব্দ করে সুরা ইয়াসিন পাঠ করছে। আবার গ্রেনেড ফাটার শব্দ। পাকিস্তানি মিলিটারিদের আর্তনাদের পাল্লা আরও ভারী হয়ে ওঠে। আর মমিনদের আনন্দ উল্লাস এবং জয়বাংলা ধ্বনি আকাশ বাতাস কাঁপাতে থাকে।

পাকিস্তানিদের গোলাগুলি থেমে গেছে। তারা আত্মরক্ষার জন্য পালাবার পথ খুঁজছে। কিন্তু সে পথ আপাতত বন্ধ। চারদিক থেকে ছুটছে গুলি। আর বাংকারে পড়ছে গ্রেনেড। উপায় নেই। আজ তাদের খতম তারাবি পড়ানো হবে। এটা তারা বুঝে গেছে। আকাশ ক্রমশ ফর্সা হচ্ছে। দূরের গ্রামের মসজিদে হয়তো আজান হয়েছে। গোলাগুলির শব্দে আজানের ধ্বনি শোনা যায়নি। ভয়ে মোয়াজ্জিন সাহেব পালিয়ে গেছে কি না তাই বা কে জানে। ভোরের সূর্য উঠছে ডগমগ হয়ে। মমিন দেখতে পেল কমান্ডার মোজাফফর তার দলবল নিয়ে ঘিরে ফেলেছে পাকিস্তানিদের ক্যাম্প এবং সে চিৎকার করে বলছে ‘সারেন্ডার কর। নইলে সবাইকে খতম করা হবে।’

এই দৃশ্য দেখে মমিন তার বাহিনী নিয়ে ক্যাম্পের দিকে এগুতে থাকে। পাকিস্তানি মিলিটারি অস্ত্র ফেলে হাত উপরে তুলে সামনে এসে দাঁড়াতে থাকে। অধিকাংশ পাকসেনা আহত এবং রক্তাক্ত। একই লাইনে এসে রাজাকাররা এসে দাঁড়ালে তাদের আলাদাভাবে দাঁড় করায় কমান্ডার মোজাফফর। রাজাকারদের কাঁপাকাঁপি দেখে মুক্তিযোদ্ধারা হাসতে থাকে। ভয়ে দু’একজন কাপড় নষ্ট করে ফেলে।

চলবে...

আগের পর্বগুলো পড়ুন-

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-১০ 

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৯

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৮

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৭

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৬

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৫

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৪

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৩

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-২

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-১

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী