শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৫ | ১৮ পৌষ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-১০

যারা যুদ্ধ করেছিল

‘নবীজীতো কাফের নারীদের দাসী বানাতেন। ওরা কি কাফের? করিম মিয়া আপনার দুসম্পর্কের আত্মীয়। তারা শত্রু হয় কীভাবে? লোকে শুনলে কী বলবে?’
‘লোকের কথা বাদ দেও। রাজাকাররা সাথীকে মিলিটারির হাতে তুইলা দিলে তখন কি হইতো একবার ভাইবা দেখছো? মেয়েটার জীবন ছেড়াব্যাড়া হয়া যাইতো। শোন, ধর্মের কাছে আত্মীয়তা বলে কিছু নাই। অবশ্যই তারা কাফের, মুশরিক। আওয়ামী লীগের লোকজন, মুক্তিবাহিনী এবং হিন্দুরা সব পাকিস্তানের শত্রু। তাদের বাড়িঘর লুট করা মুসলমানদের দায়িত্ব। তাদের সব নারীরা যুদ্ধ বন্দিনী এবং দাসী। তা না হলে ইন্ডিয়ার হিন্দুদের সাথে হাত মিলায়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে?’

আয়েশা বেগম খানিক দম নিয়ে তারপর বললেন, ‘মমিন যদি যুদ্ধ থাইকা ফিরা আইসা আপনার ছেলেকে মাইরা ফেলে? এই ব্যাপারটা কি আপনি ভাবছেন কখনো?’
ফজলুর রহমান উচ্চস্বরে হেসে ওঠে। ‘তুমি কি পাগল হইছো? মমিন কেমনে ফিরা আসবো? সে সুযোগ কি তার আছে? যারা যারা দেশ থাইকা ভাইগা ইন্ডিয়া গেছে তাদের জন্মের মতো দেশে আসার কপালে ঝাটার বাড়ি। তারা পাকিস্তানি মিলিটারিদের চোখে গাদ্দার। বেঈমান। তারা আর কোনোদিন পাকিস্তানে ফিরা আসতে পারবে না। আসলেই গুলি।’

‘আপনি নবী যুগের কথা বাদ দেন। মানুষ শুনলে কি বলবে। আপনি হয় মেয়েটারে ওর বাড়িতে পাঠায়া দেন। না হলে সাকিবের সাথে কবুল পড়ায়া দেন। না হলে ওর হাতের কিছু আমি ছুঁইয়া দেখবো না। ওর হাতের পানিও আমি খামু না।’

ফজলুর রহমান রাগ মুখে উঠে পড়লেন। তারও মন মেজাজ ভালো নেই। আজ মেজর সাহেব সবাইকে খুব উল্টাপাল্টা গালাগাল করেছে। মুক্তিবাহিনী ঘুপছি গাপছিতে প্রায়ই আক্রমণ করছে। শান্তিবাহিনী তাদের কোনো খবর দিতে পারছে না। রাজাকাররাও তাদের ধরতে পারছে না। এই নিয়ে মেজর সাহেব খিস্তি খেউড় করেছে। শালার মাওড়ারা কিছু হলেই বলে, মাদারচোদ। এই গালটা ফজলুর রহমানের সহ্য হয় না।

সেখান থেকে ফিরে বউয়ের এমন ফালতু নসিহত কাহাতক সহ্য হয়? ফজলুর রহমান মাথায় তেল ঘষে পুকুরঘাটে গিয়ে অনেকক্ষণ গোসল করে মাথা ঠাণ্ডা করলেন। তারপর খেতে বসে কাজের মেয়েকে বললেন, ‘রান্নাবান্না কে করেরে?’

কাজের মেয়ে রহিমা বললো, ‘আমি করি খালুজান। সাথীর হাতের রান্না খালাম্মা খাইতে চায় না।’

রাত সন্ধ্যার পরপরই সাকিব সাথীকে নিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এই দৃশ্য ফজলুর রহমানের ভালো লাগে না। তারও সাথীর সঙ্গে গল্প করতে ইচ্ছা হয়। মেয়েটির হাসি বড় সুন্দর। চোখ দু’টো টানা টানা। এমন চোখে মেয়েটি হাসলে বুকের মধ্যে কেমন উথাল পাথাল করে। এই গণিমতের মাল তারও ভোগ করার অধিকার আছে। সেও ভোগ করতে চায়। কিন্তু সে কথা ছেলেকে কীভাবে বলবে?
আয়েশা বেগম অসুস্থ হওয়ার পর থেকে শরীরটায় আগুনের মতো সবসময় উঞ্চ থাকে। সাথী মেয়েটিকে দেখলে সেই আগুন আরও উথলে ওঠে।

সাকিব ইদানীং সাথীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। সারাক্ষণ সাথী মন মরা হয়ে থাকে। হাসে না। ঠিকমতো কথার জবাব দেয় না। এমন জড় পদার্থের সঙ্গে রোমাঞ্চ কি ভালো লাগে?

‘তুমি সারাক্ষণ মুখ গোমড়া করে রাখো কেন?’ বিরক্ত মুখে সাকিব জিজ্ঞেস করে। সাথী কোনো জবাব দেয় না। সাকিব আরও বলে, ‘তোমাকে মিলিটারির হাতে তুলে দিলেই ভালো হতো। সেখানে ওরা তোমাকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেত সেটাই হতো তোমার জন্য মঙ্গল।’
সাথী বলে, ‘আপনি আমার ভাইয়ের বন্ধু। মমিনভাই ফিরে এলে কী জবাব দেবেন আপনি?’
‘ও সব ভুলে যাও। এ জীবনে আর ভাইয়ের মুখ দেখতে হবে না। তুমি কী ভেবেছ মিলিটারিরা হেরে যাবে আর তোমার ভাইয়েরা লাফাতে লাফাতে জয়বাংলা বলে পতাকা নিয়ে ছুটে আসবে? এ সব আজগুবি খোয়াব দেখে লাভ নাই। বাংলাদেশ কোনোদিন স্বাধীন হবে না। যারা যুদ্ধে গেছে, জীবনে তারা আর দেশে আসতে পারবে না। তুমিও তোমার ভাইয়ের আশা ছাইড়া দেও। বাঁচতে চাইলে তুমি তোমার মতো হাসো, আনন্দ করো। না হলে তোমাকে আমি মিলিটারির হাতে তুলে দেব।’

তবু সাথী স্বাভাবিক ভাবে হাসিখুশি থাকতে পারে না। সুযোগ পেলে সাথী বাড়ি আসে। রমিছা বিবি মেয়েকে দেখে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। বলে, ‘মা-রে মেয়ে হয়ে জন্মেছিস। মস্ত বড় পাপ করেছিস। আমরা তোকে ধরে রাখতে পারলাম না। সাথী বাড়ি এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে খাতা কলম নিয়ে কি যেন লেখে। রমিছা বিবি জিজ্ঞেস করে, ‘কি লিখিস ছাইপাস? ওসব লিখে কি হবে?’
‘কিছু হবে না মা। ডায়েরি লিখে রাখছি।
‘কি লিখছিস?’
‘ডায়েরি লিখছি। প্রতিদিন কি কি ঘটছে তাই টুকে রাখছি। আমার লেখা পড়ে মানুষ একদিন মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে পারবে।’

রমিছা বিবি নিজের হাতে সাথীকে খাইয়ে দেয়। কিছু বলতে পারে না। শুধু কাঁদে। মা হয়ে মেয়ের এই নোংরা জীবন কীভাবে মেনে নেবে। শুধু আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে বিচার চায়।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৯

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৮

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৭

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৬

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৫

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৪

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-৩

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-২

যারা যুদ্ধ করেছিল: পর্ব-১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

বাড়তে পারে ৬৫ পণ্যের দাম, ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ৬৫টি পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করছে। এর ফলে বাজেটের আগেই এসব পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে।

এ তালিকায় রয়েছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, জুস, ফলমূল, সাবান, সিগারেট, টিস্যু পেপার, মিষ্টি, এলপি গ্যাস, বিমান টিকিট এবং হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের খরচসহ আরও অনেক পণ্য। বিশ্লেষকরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ উদ্যোগ সাধারণ জনগণের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াবে এবং মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মকর্তা জানান, বাজেটের সময় ভ্যাট পরিবর্তন করা হয়, তবে এবারের পরিস্থিতি আলাদা। অর্থ মন্ত্রণালয় আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে কর-জিডিপি অনুপাত ০.২ শতাংশ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করতে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে এ পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। চলমান পরিস্থিতিতে চাল, চিনি, ভোজ্য তেলসহ সাতটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্কছাড় দিলেও মাঝপথে ভ্যাট বৃদ্ধির এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়কে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক দুশ্চিন্তা বাড়াবে এবং জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Header Ad
Header Ad

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের তথ্য সংরক্ষণের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ, ডকুমেন্টারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণে একটি বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল। এসব তথ্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনসাধারণের কাছে থাকা এসব তথ্য গুগল ড্রাইভে (muspecialcell36@gmail.com) আপলোড করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, একই সময়ের মধ্যে এসব তথ্য পেনড্রাইভে ধারণ করে সরাসরি গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের কার্যালয়ে (২য় তলা, ভবন নং-২, বিএসএল অফিস কমপ্লেক্স, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ১ মিন্টু রোড, ঢাকা-১০০০) হস্তান্তর করারও সুযোগ রয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংরক্ষণ করা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান হবে।

Header Ad
Header Ad

স্ত্রীসহ খালেদা জিয়ার বাসভবনে সেনাপ্রধান

স্ত্রীসহ খালেদা জিয়ার বাসভবনে সেনাপ্রধান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে গিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৩০ মিনিটে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবনে প্রবেশ করেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন সেই দোয়া করেছেন সেনাপ্রধান। এ সময় সেনাপ্রধানের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী। খালেদা জিয়ার বাসভবনে সেনাপ্রধান ও তার স্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিটের মতো ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বাড়তে পারে ৬৫ পণ্যের দাম, ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের তথ্য সংরক্ষণের আহ্বান
স্ত্রীসহ খালেদা জিয়ার বাসভবনে সেনাপ্রধান
রংপুরের টানা তৃতীয় জয়, বরিশালের বিপক্ষে সহজ জয়
ভারতে সিগারেট খাওয়া নিষিদ্ধ চান বলিউড কিং
ইসরায়েলি হামলায় গাজার পুলিশ প্রধানসহ নিহত ১১
নওগাঁয় একবছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫
অবশেষে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
বাংলাদেশ আমাদের হারানো ভাই: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৪৩তম বিসিএস: বাদ পড়া ২২৭ প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনার সুযোগ
জানুয়ারিতে বোতলজাত এলপিজি’র দাম অপরিবর্তিত, অটো গ্যাসের দাম সামান্য কম
বছরের শুরুতেই বিয়ে করলেন গায়ক আরমান মালিক
টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেল ঢাকা, রাজশাহীর প্রথম জয়
গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশে ৪৩তম বিসিএসে ২২৭ জন বাদ
ভারতে তুলনামূলক হারে কমেছে বাংলাদেশী পর্যটক
ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নিত্যপণ্যে প্রভাব পড়বে না: অর্থ উপদেষ্টা
কেন খাবেন সারা রাত ভেজানো কিশমিশ-পানি
বছরের শুরুতেই উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারীসহ আহত ১৫!
বিপিএলে এক ম্যাচেই ৭ উইকেট নিয়ে তাসকিনের রেকর্ড
সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করবে দুদক