শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: শেষ পর্ব

স্নানের শব্দ 

সকালে প্রতিদিনের মধ্যেই অফিসে এসেছে শবনম, মন ভালো করার জন্য সাদা পাড়ের হাল্কা গোলাপী একটা মণিপুরী শাড়ি পরেছে সে। সেই মতো হাল্কা প্রসাধনও করেছে। তবে বুঝতে পারছে হৃদয়তন্ত্রীতে সুক্ষভাবে সানাইয়ের মতো একটা বিষণ্ন করুণ সুর আপন মনে বেজেই চলেছে। দেহ মন বাইরে থেকে বেশ স্বাভাবিক মনে হলেও অদ্ভুত এক অদৃশ্য অবসাদে ডুবে থাকার অনুভূতি হচ্ছে তার। মাসিক কর্মী মিটিং ছিল আজ। হল ঘরে বসে থাকা তরুণ উন্মুখ উজ্জ্বল চঞ্চল বিমর্ষ মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজের চাকরি জীবনের শুরুর দিকের কথা মনে পড়ায় খুব জ্বালাময়ী একটা বক্তৃতা দিয়ে ফেলল শবনম। কথাগুলো জোরালোভাবে বলতে পেরে খানিকটা ভাল লাগা শুরু হলো তার। 

বলল-‘এই যে আমাকে এখানে দেখছেন, তা কিন্তু হঠাৎ করে নয়, অনেক পথ পেরিয়ে, অনেক অভিজ্ঞতার জোরে আমি এ পর্যায়ে এসেছি। আমার ২৩ বছরের কর্মজীবনে আমি একটা জিনিসই বুঝেছি, সেটা হচ্ছে একজন পেশাজীবী বা কর্মী যতটা তার কর্মস্থলে দেয়, সেটা আসলে দান নয় বরং তার নিজেরই প্রাপ্তি। কীভাবে? কর্মী যা করেন তাতে অফিস হয়তো উপকৃত হয়, কিন্তু কাজের সবটুকুই তার নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা হয়। কাজ তার দক্ষতাকে শাণিত করে, যোগ্যতাকে বাড়িয়ে দেয়। ‘জীবনের ধন কিছুই যায় না ফেলা’-বলে একটা কথা আছে না! কাজ হলো আপনার জীবনের অর্জিত সেই ধন। যা ভাঙিয়ে আপনি সারাজীবন চলতে পারবেন। আর যারা ফাঁকিবাজি করেন, দলবাজি করেন, ষঢ়যন্ত্র করেন, তারা আসলে নিজেকেই ফাঁকি দেন। দিন শেষে তার ঝোলা শুন্যই থাকে। খালি ঝোলা নিয়ে আপনি কতদূর যাবেন? আমার কাছে তো কাজ না করে বসে থাকাটাই সবচে পরিশ্রমের কাজ বলে মনে হয়। আপনাদের মনে হয় না?’ শবনমের কার্যতালিকায় পরের কর্মসূচি ছিল অফিসের আইন বিভাগের সঙ্গে বৈঠক। একজন অ্যাডভোকেট এসেছিলেন ওসমান গণির কাগজ পত্র নিয়ে। শবনম বলল, ‘আমরা একদম নো কম্প্রোমাইজ নীতিতে এই মামলাটা করব। কোথাও যেন ফাঁক-ফোকড় না থাকে।’

অ্যাডভোকেট সাহেব মাঝবয়সি, ঝানু উকিল। অনেকদিন ধরে কোম্পানিতে আছেন। তিনি কাগজপত্র মেলে ধরে চোখ সরু করে বললেন,‘ আমাদের তো ব্রিটিশ আইন ম্যাডাম। এই আইনে চুরির শাস্তির চাইতে অপরাধীর অর্থাৎ চোরের অপরাধ প্রতিষ্ঠা করার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।’ ‘সে যাই হোক, আমি চাই আপনারা এমনভাবে মামলা করবেন যাতে অন্যরা এটা দেখে শিক্ষা পায়। এধরনের কাজ করার সাহস না করে। যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। ’

সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তার অফিসে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে কী কী বলবে তা মনে মনে গুছিয়ে রেখেছিল শবনম। তবে রাশভারী বয়স্ক ভদ্রলোকের সামনে বসে হঠাৎ কথাগুলো এলামেলো হয়ে গেল তার। চেয়ারম্যান সাহেবের মাথায় খুলি কামড়ে ধরা পাটের আঁশের মতো সাদা চুল, চওড়া কপালের নিচে তার তীক্ষ্ণ চোখ ধারালো নাক যেন গভীরভাবে নিরীক্ষণ করছিল শবনমকে। ডান হাত দিয়ে মুখের পাইপটা সরিয়ে তিনি বললেন, ‘নারী সিইওর ব্যাপারে আমার প্রথমে একটু আপত্তি ছিল, কারণ কি জানেন?’শবনম হাসি হাসি মুখে মাথা নাড়ল। 
‘প্রথম কারণ বেটা মানুষরা সহজে মেয়ে লোকের কর্তৃত্ব মানতে পারে না। অনেক দিনের অভ্যাস তো, হা হা হা, তাদের পৌরুষে লাগে। দ্বিতীয় কারণ, এই যে আপনে আসছেন পুরুষ লোক হইলে আমি দরজা বন্ধ কইরা দিতে পারতাম, কেউ কিছু মনে করত না। কিন্তু আপনেকে নিয়া যত কনফিডেনশিয়াল বিষয় হোক একা ঘরে দরজা বন্ধ কইরা আলাপ করা হা হা হা, কিছু না হইলেও লোকে কথা বলবে, আপনেও স্বস্তি পাবেন না, ঠিক কি না? ’শবনম কিছু বলার জন্য মুখ খুলেছিল, কিন্তু তার আগেই চেয়ারম্যান সাহেব বললেন, ‘আবার ধরেন লেট নাইট পার্টি অ্যাটেন্ড করা, প্রয়োজনে মদের পার্টি দেওয়া, মদ খাওয়া এসবেও অনেকের অবজেকশন থাকে।’ ‘স্যার! আমি মনে করি, এগুলো খুব বড় সমস্যা না, আমাদের ওয়ার্কিং কালচার আর মাইন্ড সেট সামান্য পরিবর্তন করলেই এসব সমাধান করে ফেলা সম্ভব।’

চেয়ারম্যান সাহেব মাথা দোলান। ভদ্রলোক খুব ছোট্ট অবস্থা থেকে বুদ্ধি, পরিশ্রম আর নেতৃত্বের গুণে এই কোম্পানিকে মহিরুহে পরিণত করেছেন। তার বিপুল অভিজ্ঞতা আর প্রজ্ঞাকে সম্মান করে শবনম। ‘সেটা হয়তো ঠিকই বলছেন। পরিবর্তন দরকার। আপনে পরিবর্তন আনেন। আমি দেখতে চাই।’ চেয়ারম্যান সাহেব আবার তার পাইপে টান দেন। শবনম বিনীত ভঙ্গিতে বলে, ‘আজকে আমি একটা আর্জি নিয়া আসছি। যদি অনুমতি দেন তো বলি...’চেয়ারম্যান সাহেব হাত তুলে থামিয়ে দেন তাকে, ‘বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের সিদ্ধান্তের বাইরে আমি সাধারণত যাই না মিসেস শবনম। আমি জানি আপনি চারজনের চাকরি বহাল করার সুপারিশ করতে এসেছেন, তাই না? ’শবনম এবার একটু থতমত খেয়ে যায়। আসলে চার জন নয়, মনিরুজ্জামান বাদে বাকি তিন জনের চাকরি বহাল রাখার সুপারিশ করতে এসেছিল সে। বদমাশ মনিরুজ্জামান ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য নয়, তার জন্য কোনো সুপারিশও করবে না সে। কিন্তু বাকি তিনজনকে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি হিসেবে ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রেখে, পদোন্নতি স্থগিত করে চাকরিতে বহাল রাখা সম্ভব। চেয়ারম্যান সাহেব ডানে বামে মাথা নাড়লেন। ‘এটা কইরেন না মিসেস শবনম, ওদের চাকরি রাখলে আপনাকে সবাই দুর্বল এবং ভঙ্গুর ভাববে। সেটা আপনার অবস্থানকে নড়বড়ে করে দেবে। টাফ যান। কঠোর হন। চোখ বন্ধ করে চাকরি খেয়ে দেন। তাহলে আপনাকে ভয় পাবে সবাই। উল্টাপাল্টা করার সাহস পাবে না। পাওয়ার পাইছেন যখন, পাওয়ার দেখান। পাওয়ার শোকেসে সাজিয়ে রাখার দরকার নাই।’

‘কিন্তু স্যার, আমার হাত দিয়ে কারও চাকরি যাক সেটা আমি চাচ্ছিলাম না। হাজার হোক রিজিকের ব্যাপার...’‘উহু মিসেস শবনম, এইভাবে একদম ভাববেন না। রিজিকের মালিক আল্লাহ! আমরা উছিলা মাত্র!’ ‘কিন্তু তবু স্যার...মানে খারাপ লাগছে..! সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে থাকে... এই বাজারে চাকরি গেলে...’ ‘হা হা হা, আপনের জায়গায় একজন পুরুষ হলে কিন্তু এত ভাবত না, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য ঘ্যাশ ঘ্যাশ করে চাকরি খেয়ে দিত। শুরুতে বলছিলাম না, নারী সিইওর ব্যাপারে আপত্তি করছিলাম...শোনেন মিসেস শবনম অফিসে দয়া মায়া মমতা কোমলতা এসব দেখাবেন তো আপনি ধরা খাবেন। মনে রাখবেন অফিসের প্রয়োজনে অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকে। নিষ্ঠুর হলেও সেসব সিদ্ধান্ত নিবেন এবং ইমপ্লিমেন্ট করবেন। উইশ ইউ অল দ্যা বেস্ট!’ 
চেয়ারম্যান সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডশেকের জন্য শবনমের দিকে তার হাত বাড়িয়ে দিলেন। তার শক্ত কঠোর ঈষদুষ্ণ হাতের সঙ্গে হাত মেলাল শবনম। ‘আমি একজন যোগ্য সিইওকে নিয়োগ দিয়েছি, কোনো নারীকে নয়। আপনার সাফল্য কামনা করি, মিসেস শবনম।’ 

খুবই ফর্মাল ভঙ্গিতে কিন্তু আস্থার সঙ্গে নরম গলায় বললেন চেয়ারম্যান সাহেব। শবনমের দুই চোখ কেন যেন হঠৎ পানিতে ভরে উঠল। সে কোনোরকমে চেয়ারম্যানের রুম থেকে বেরিয়ে এসে ডান হাত দিয়ে দুই চোখের কোণা মুছে নিল। চোখে এমন পানি আসা কি দুর্বলতার লক্ষণ, নাকি বয়স বাড়ার? ছেলেগুলোর চাকরি রক্ষা করবে বলে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারায় কি দুঃখ হচ্ছে তার? নাকি চেয়ারম্যান সাহেব ভরসা রেখেছেন বলে আনন্দ হচ্ছে? চোখের এই অশ্রু কি যুগপৎ বেদনা এবং আনন্দের? সে যাই হোক, চেয়ারম্যান সাহেবের বক্তব্য তো পরিষ্কার। ওই চারজন আর থাকছে না কোম্পািনতে। আগে মনিরুজ্জামান একা গালাগালি করত এখন চারজনের সম্মিলিত গালি শোনার মানসিক প্রস্তুতি নেয় শবনম। সকালের বিষাদ বাতাস আবার যেন ফিরে আসে।  

এইচ আরে ফোন করে ওই চারজনের সাসপেন্ড লেটার রেডি করতে বলে সে। রাত হয়ে গিয়েছিল বলে অফিসে না যেয়ে ড্রাইভারকে বাড়ির দিকে গাড়ি ঘোরাতে বলল শবনম। আজ বাসা সম্পূর্ণ খালি। শ্রাবণ তার বন্ধুর বাড়িতে রাতে থাকবে। তারেক গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরেনি। গৃহকর্ম সহকারী রাহেলার মাও ছুটি নিয়ে তার মেয়ের বাড়ি গেছে। 
একা ঘরেই ক্লান্ত পায়ে ঢুকল শবনম। গা জুড়ে অবসাদ নেমে এসেছে। হাতের ভ্যানিটি ব্যাগটা সোফায় ছুড়ে ফেলল সে। চোখ থেকে চশমা, কান থেকে গোলাপি পাথরের কানের দুল, এক হাত থেকে সরু সোনার বালা দুটি, অন্য হাত থেকে সোনালী বেল্টের স্টাইলিশ ঘড়িটি খুলে রাখল সে। রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেধে রাখা কাধ পর্যন্ত চুল ছেড়ে দিল। দুই হাতের আঙুল দিয়ে খুলল শাড়ির আঁচলে আটকানো সেফটিপিন। তারপর একটানে খুলে ফেলল শাড়িটা। পরিশ্রান্ত অবসন্ন শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গে রইল শুধু ব্রা ও ব্লাউজ, নিম্নাঙ্গে পেটিকোট। এই অবস্থাতেই হাত পা ছড়িয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সে। কোথা থেকে একটা নিঃসঙ্গ শুন্যতার বোধ তাকে নরম হাতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। আর মনের অতল গহ্বর থেকে কি এক অন্তর্গত বেদনায় নিমেষে উঠে এল হু হু কান্না। ফাঁকা বাড়িতে নিজের বিছানায় শুয়ে কোনো লুকোছাপা না করে শিশুদের মত গলা ছেড়ে কাঁদল শবনম। অনেকক্ষণ ধরে। যেন বুকের ভেতর জমে থাকা পাথর গলল তার। যেন সে এক অকূল নদী হয়ে গেল। কেঁপে কেঁপে ফুলে ফুলে প্রাণ খুলে কাঁদল সে। 

একসময় কান্না থেমে গেলে নিজেকে সামলে নিয়ে  ব্রা, ব্লাউজ, পেটিকোট সব খুলে নগ্ন হলো শবনম। সুইচ টিপে আলো জ্বালিয়ে তার প্রিয় স্নানঘরে ঢুকল। মানুষ সমান আয়নায় যাবতীয় মহিমা নিয়ে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল একজন নারীর পূর্ণাঙ্গ শরীর। সেই শরীরে রূপালী আভা ছড়িয়ে ধীর লয়ে যৌবন অস্ত যাচ্ছে, স্তরে স্তরে সেই বিদায়ের বিবর্ণ বেদনার করুণ রেখাচিত্র ফুটে উঠেছে। আয়নার কাছে মুখ নিয়ে নিজের প্রতিবিম্বের চোখে চোখ রাখে শবনম। দেখে একটা মলিন ও শ্রীহীন চেহারা। যার চোখের কোণে ক্লান্তি, নিরাসক্তি ও শীতলতা। গলার কাছে বয়সের ভাঁজ। বুকের ওপর ধবল শঙ্খের মতো উদ্ধত স্তন বিনীত শ্লথ ভঙ্গিতে নুয়ে পড়েছে, পেটে দৃশ্যমান মেদের উপস্থিতি, নাভির নিচে জননেন্দ্রিয় ঘিরে আরও কিছু কেশ শুভ্রতা ছড়াচ্ছে. সুগঠিত পায়ের পেশিরা শিথিল হয়ে ঝুলে পড়েছে। শবনমের বুক চিরে একটা লম্বা প্রাচীন দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।   

এই জীবনে যা আকাঙ্ক্ষা করেছিল তার সবই তো পেয়েছে সে, যতটা শীর্ষে উঠতে চেয়েছিল ততটা শীর্ষেই তো উঠেছে, যতটা ক্ষমতাবান হতে চেয়েছিল ততটা ক্ষমতাই তো পেয়েছে। তবু কোথায় কোনো অতল কুঠুরীতে এই গভীর শূন্যতার জন্ম হলো? শবনম কল ঘুরিয়ে মাথার উপর ঝর্ণা ছেড়ে দেয়। অনন্ত আশীর্বাদের মতো কলকল করে কুসুম গরম আরামের জল মাথা বেয়ে সারা শরীরে নেমে আসে। স্নানের বিচিত্র তরঙ্গময় শব্দ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। শবনমের মনে হয় এই বহুবর্ণের শব্দে মিশে আছে জল পড়ার কোমল আওয়াজ, সাবানের মিষ্টি সুগন্ধ, পরিচ্ছন্নতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর পবিত্রতার চিরায়ত বাসনা।

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব ২৩

স্নানের শব্দ: পর্ব ২২

স্নানের শব্দ: পর্ব-২১

স্নানের শব্দ: পর্ব-২০

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৯

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৮

 

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী