শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২১

স্নানের শব্দ

ঋতু বদলের মতোই মানুষ বদলায়, সময় বিশেষে পরিবর্তিত হয়, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু মনিরুজ্জামানের এই হঠাৎ বদলে যাওয়া আচরণ, কেনো যেন শবনম মন থেকে মানতেই পারছে না। সেই ভীরু লাজুক বিনয়ী ছেলেটার জায়গায় এই রাগী হিংস্র উদ্ধত যুবককে সে যেন ঠিক চিনতে পারছে না। মানুষকে হয়তো কখনোই পুরোপুরি চেনা যায় না। শুধুমাত্র চাকরি হারানোর ভয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে মনিরুজ্জামান এই রূপ ধারণ করেছে কি না বুঝতে পারছে না শবনম। হতে পারে শবনমের চোখে এটা মাত্র চল্লিশ হাজার টাকা বেতনের একটা চাকরি কিন্তু মনিরুজ্জামানের কাছে তো এটাই সব। তারপরও এমন একটা ব্ল্যাকমেইলিং পর্যায়ে বিষয়টা নিয়ে গেছে সে, শবনম যার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিল না। আবার অবস্থাটা এমন যে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল একশনও সে নিতে পারছে না। এ যেন বাধ্য হয়ে নিজের আর্তনাদ নিজের গিলে ফেলার মত অবস্থা। কাউকে নালিশও করা যায় না আবার সহ্য করাও সম্ভব হচ্ছে না।

মন বিক্ষিপ্ত থাকলেও পরের দিনের বোর্ড মিটিং-এ আটঘাট বেঁধেই যোগ দিল শবনম। মিটিংএর শুরুতেই ফাইজুল চৌধুরী তার ভারী গম্ভীর গলায় শবনমের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুরে বলল, ‘কালই বিদায় করে দেন এই চার জনকে। দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভালো।’ ‘কিন্তু সরাসরি বিদায়, একটাতো কারণ দর্শানো নোটিস বা ওয়ার্ণিং দেয়া লাগে ..’
শবনম অফিশিয়াল সিস্টেমের মধ্যে ফেলে ব্যাপারটা একটু ধীর করতে চায়।
‘না, না, ওসব শুধু সময় নষ্ট, যা করার তাড়াতাড়ি করেন। টেক একশন প্লিজ ..’ ফাইজুল চৌধুরী বলে।
শবনম এবার অন্য পথ ধরে।’
‘সে তো অবশ্যই, একশন তো নেওয়াই যায়। কিন্তু যে তথ্যটা ওরা ফাঁস করেছে, মানে, যদি করেই থাকে, তবে সেটাতো মিথ্যা নয়। ওসমান গণির দোষ প্রমাণিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে এই ছেলেগুলো তো হুইসেল ব্লোয়ারের কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দুর্নীতির খবর আগে ভাগে জানিয়েছে। এখন হুট করে চাকরি খেয়ে দেওয়া অনেকটা লঘু পাপে গুরুদন্ড হয়ে যাচ্ছে না !’
‘না, না, দেখেন এসব অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজ, আপনিতো সব বোঝেনই, এসব কিছুতেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। পরে দেখবেন, আপনার পেছনে লোক লেগে গেছে। অথবা আপনার প্রতিপক্ষ কাউকে টাকা পয়সা দিয়ে আপনার পেছনে গোয়েন্দা হিসেবে লাগিয়ে দিয়েছে। ভারি একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হবে।’ ফাইজুল চৌধুরীর গলায় বিরক্তি।

শবনম তবু প্রায় মরিয়া হয়ে ওদের চাকরি যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করে। বলে, ‘স্যার, বিষয়টা আরেকটু বিবেচনা করার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয়। ওদের মেমো দিয়ে সতর্ক করা যেতে পারে। তা ছাড়া, অফিশিযাল প্রসেস না মেনে ওদের সাসপেন্ড করলে আবার বাইরে কথা উঠবে। স্যার ওরা কিন্তু আদালতেও যেতে পারে, তখন প্রতিষ্ঠানের ইমেজ সংকট হতে পারে। সব দিকগুলোই আমাদের ভেবে দেখা দরকার।’ এবার কনফারেন্স টেবিলের কোণার দিক থেকে সাত্তার জাহেদি সাহেবের চিকণ গলা শোনা যায়।
‘শোনেন ম্যাডাম, ওদের বাঁচাতে আপনার এই তৎপরতা কিন্তু অন্য মেসেজ দিচ্ছে !’

জাহেদি যে ওসমান গণি ব্লকের মানুষ সবাই জানে সেটা। তার বলা প্রতিটি শব্দ যে ওসমান গণির পক্ষেই যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শবনম পিঠ সোজা করে সতর্ক হয়ে বসে। বিশাল বোর্ড রুমে হঠাৎ তার নিজেকে খুব একা আর অসহায় মনে হয়। এতগুলো বয়স্ক কোট টাই পরা, গোঁফ দাড়িঅলা পুরুষের মধ্যে মিটিং-এর টেবিলে সেই একমাত্র নারী। যদিও এই দৃশ্য এবারই প্রথম নয়, তবু চারিদিকে তাকিয়ে আজ তার মনটা হঠাৎ কেমন শুন্য লাগল। মনে হলো, আহা এই অকূল পাথারে কেউ যদি অজান্তে অদৃশ্যভাবে আজ তার হাতটা ধরে রাখতো! যদি তাকে সমর্থন করার মতো কেউ একজন থাকত!
সাত্তার জাহেদি নাঁকি সুরে বলে চলেন, ‘দেখেন, গণি সাহেব দুর্নীতি করেছেন কি করেন নাই, তা নিয়ে আমার কোনো কথা নাই। কিন্তু গণি সাহেবের চলে যাওয়ায় খালি চোখেই বোঝা যায় সবচে বেশি বেনিফিশিয়ারি হয়েছেন আমাদের বর্তমান সিইও ম্যাডাম। সে কারণেই কারা, কী উদ্দেশে, কার ইঙ্গিতে, ঠিক প্রমোশনের আগের মুহূর্ত এইসব তথ্য ফাঁস করল তা খতিয়ে দেখা দরকার। ঠিক কি না? তবে হে হে হে, লোকে কিন্তু আপনার দিকেই আঙুল তুলছে ম্যাডাম। হে হে হে মানে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাচ্ছে আর কি!’

শবনমের দুই কান গরম হয়ে ওঠে, ভেতরে ভেতরে খুবই বিক্ষুব্ধ বোধ করে সে। বুঝতে পারে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এইসব অপমানসূচক কথাবার্তা বলা হচ্ছে তাকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই ফাঁদে পা দিয়ে ওদের জিতিয়ে দিতে রাজি নয় সে। তাই রাগে মুখ চোখ লাল হয়ে উঠলেও জোর করে মুখে একটা হাসি হাসি ভাব ধরে রাখে শবনম। তারপর কাঁধ ঝাকিয়ে বলে, ‘দেখেন, লোকে বললে তো আমার কিছু করার নাই। কান নিয়েছে চিলে, শুনেই তো আমি চিলের পেছনে দৌড়াব না। কিন্তু আপনারা যদি সেরকম করে অঙ্ক মেলাতে চান, তাহলে সেটারও তদন্ত হতে পারে, আমি তো বার বার বলেছি যে সেটা হোক।’

মিটিং তারপর আর বেশিদূর আগায় না। সিদ্ধান্ত হয় প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেই মনিরুজ্জামানসহ চারজনের অব্যাহতির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ, পরে সাসপেন্ড আর সবশেষে বিদায়। এই সিদ্ধান্ত শবনমের কাঙ্ক্ষিত ছিল না। সে মনে প্রাণে চেয়েছিল ওই চারজনের চাকরি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হোক। কিন্তু পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিল না, নিয়ন্ত্রণাধীনও ছিল না। সবাই যখন বিপক্ষে মত দিচ্ছে তখন হাওয়ার বিপরীতে একলা উড়তে গেলে ডানা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এই পৃথিবীর অনেক কিছুর উপরই আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না সেটা মেনে নিতে হবে। শবনম নিজেকে বোঝায়। যদিও একটা তীব্র ব্যর্থতা বোধ একটা পরাজিত মনোভাব একটা হতাশার চাদর তাকে আলতোভাবে জড়িয়ে ধরে। মনের কোণায় কোথায় যেন একটা বিষণ্ন সুর অনবরত বাজতে থাকে।

মনের উপর সিন্দাবাদের বুড়োর মতো চেপে বসা সেই হতাশা অবসাদ আর বিষণ্নতা সঙ্গী করেই অফিস ছেড়ে তার নিজের ফ্ল্যাটের দরজায় পা রাখে শবনম। ঘরে বেশ একটা উৎসবের ভাব। শ্রাবণ দৌড়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে। আমেরিকার একটা ভাল বিশ্ববিবদ্যালয় থেকে ইমেইল এসেছে। ওরা শ্রাবণকে ওর পছন্দের বিষয়ে পড়ার জন্য ভর্তি হবার উপযোগী মনে করে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে। টিউশন ফী একটু বেশি কিন্তু ভাল সাবজেক্ট পাচ্ছে। তা ছাড়া ওয়ার্ল্ড র‌্যাঙ্কিংয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টার অবস্থান বেশ উপরের দিকে।

‘তুমি খুশি হয়েছ মা?’ শ্রাবণ আহ্লাদের সুরে জানতে চায়।
লিভিং রুমের নরম সোফায় গা ছেড়ে দিয়ে শবনম ম্লান হাসে, ‘খুব খুশি হয়েছি। আর আমি তো সবসময় তুই খুশি হলেই খুশি হয়ে যাই।’
শ্রাবণ মায়ের পাশে এসে দুই পা তুলে বসে, ‘ওহ মা, তুমি নিজের খুশি অন্যের খুশির সঙ্গে মিলায়ো না তো। এই যে বলো না, তুই খুশি তো আমি খুশি, সেটা না। তুমি সেলফ খুশি হও। একদম নিজের জন্য নিজে খুশি। অন্যের সঙ্গে মিলানো খুশি না!’

শবনম এবার আরও হাসে, ‘ অন্যের সঙ্গে মিলালাম কই? তোর মতো একটা দারুণ মেয়ের মা আমি, সেটাই তো খুশির কারণ। ভাল জায়গায় চান্স পেলি, খুশি হব না! আর জানিস তো মানুষের প্রায় সব আবেগের সঙ্গেই অন্যের সম্পর্ক থাকে, কেউ দুঃখ দেয়, কেউ ভালবাসা দেয়, কেউ আনন্দ দেয় ..’
শ্রাবণ এবার একটু সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে, ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে সেটা, বাট ইউ হ্যাভ মেনি মোর রিজনস টু বি হ্যাপী, মা। প্লিজ, ফাইন্ড দেম! ক্যারিয়ারে তোমার কত সাক্সেস, সেটা একদমই তোমার একার অর্জন! সেটা সেলিব্রেট করো, সেই জন্য আনন্দিত হও। আনন্দের বাকি জায়গাগুলো খুঁজে বের করো! মেইক ইওরসেলফ হ্যাপি! অন্তত নিজের সুখ আর আনন্দের জন্য অন্যের উপর ডিপেন্ড করো না!‘

শবনম মুখে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে মেয়ের সরল নিস্পাপ আনন্দিত মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। সব মায়ের মতোই তার মনে হতে থাকে, এই মেয়ে তার পেটে ছিল, বিশ্বাস হয় না! বাউলরা কি যে গান লিখেছেন, ‘ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম’ ! হয়তো এর অন্য কোনো গুঢ় অর্থ আছে, কিন্তু শবনমের মনে হয় শ্রাবণের মধ্য দিয়ে তার পুনর্জন্ম হচ্ছে। নতুন করে যেন ওর চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখছে সে।

চলবে...

আরও পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব-২০

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৯

স্নানের শব্দ: পর্ব-১৮

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী