বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব -১

যারা যুদ্ধ করেছিল

বড় গামলা ঘিরে গোল হয়ে বসে সবাই সরষের তেল-পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে মাখানো মুড়ি খাচ্ছে। মজনু বার কয়েক সাধাসাধি করেছে। মমিন রাজি হয়নি। মমিনের খাওয়া নিয়ে কোনো বাছাবাছি নেই। প্লেটে যা আসে তাই সে খেয়ে ওঠে। শুধু এই মুড়িটা তার সমস্যা। মুড়ি খেলে পেট ফাপে। আশ্চর্য কথা। অন্যদের মুড়ি খেলে পেটের গ্যাস দূর হয় আর মমিনের হয় উল্টো। মানব শরীর বড় রহস্যময়। একেক জনের শরীর একেক ভাবে গড়া। কারো দুধ খেলে বদহজম হয়। কারো ডাবের পানি খেলে সর্দি লাগে। অথচ দু’টোই মানব দেহের জন্য ভীষণ উপকারি।

মুড়ি খাওয়া নিয়ে হৈ হল্লা করছে সবাই। কয়েকটি হাত একসঙ্গে গামলায় ঢুকছে। তাতে কাড়াকাড়ির লাগার অবস্থা। এটাও মুড়ি খাওয়ার এক ধরনের মজা। মমিনের জন্য এক গ্লাস লেবুর শরবত দিয়ে গেল বাড়ির একজন বয়স্ক লোক। যিনি এই বাড়ির কর্তা। নাম জানা হয়নি। গভীর রাতে এই বাড়িতে ওরা এসে উঠেছে। বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলেছে, ‘আজকের রাতটা আপনারা কষ্ট করে অন্যত্র কাটান। আমরা আজ এইঘরে ঘুমাব।’

সবার কাঁধে অস্ত্র দেখে বাড়ির লোকজন আর কেউ কিছু বলেনি। বলার সাহস পায়নি। কারো কারো কপালের ভাঁজ দেখেছিল ওরা। সেসব ওরা পাত্তা দেয়নি। পাত্তা দেওয়ার সময় কি তখন ওদের আছে? ৫০ জনের দলটি কয়েকটি বাড়িতে ভাগ হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। রাতে আর খাওয়া হয়নি। বাড়ির লোকজন সাধাসাধি করছিল। মমিন বারণ করেছে। বলেছে, তারা খেয়ে এসেছে।
সকালে মুড়ি খেতে দিয়ে চুলোয় ভাত চড়িয়েছে। মুরগি ধরার আওয়াজ পাওয়া গেল। এই কথাটা ফিস ফিস করে বলে গেল মজনু। ভোজন রসিক মজনু বেশ গদগদ ভাবে বলল, ’মুরগি ধরতাছে ওস্তাদ। খাওয়া মনে হয় ফাটাফাটি হবে।’
মমিনকে ওস্তাদ ডাকে মজনু। মমিন যেহেতু দলের কমান্ডার। সবাই ডাকে কমান্ডার। মজনু ডাকে ওস্তাদ। ট্রেনিংয়ের সময় প্রশিক্ষককে সবাই ওস্তাদ বলে সম্বোধন করত। সেই অভ্যাস মজনু ছাড়তে পারেনি।

মজনুর বাড়ি রংপুর। থানার নাম বলতে পারে না। শুধু বলে বাড়ি অংপুর। গায়ের নাম সোনামুখি। গায়ের নামটি মমিনের বেশ পছন্দ। ১৭/১৮ বছরের ছেলেটি লেখাপড়া জানে না। রাজনীতির সঙ্গেও তেমন যোগসূত্র নেই। গায়ের কয়েকজনের সঙ্গে পালিয়ে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। ট্রেনিংয়ে যোগ দিতে গ্রামের অন্য বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ হয়ে গেছে। মজনুর সঙ্গে মমিনের তুরার পাহাড়ে প্রশিক্ষণের সময় দেখা ও পরিচয়। ওর অন্য সঙ্গীদের মজনু হারিয়ে ফেলেছে। এই জন্যে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের জন্য উদাস হয়ে ভাবে। বেটে খাটো ছেলেটি অতিমাত্রায় সরল। ওকে কেউ কেউ ঠাট্টা করে ‘অংপুরের ডাব’ বললেও মজনু মন খারাপ করে না। হে-হে করে হেসে উড়িয়ে দেয়। মমিনের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে থাকা সরল এই যোদ্ধা কখনো মন খারাপ করে না। সবাই বলে মজনু মিয়া কমান্ডারের বডিগার্ড। তাই শুনে মজনু মিয়া ভীষণ খুশি ও গর্বিত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে।
গামলার মুড়ি প্রায় শেষের দিকে। কাড়াকাড়িটা এই জন্যে বেশি বাড়ছে। হঠাৎ তাদের থমকে দিয়ে হৈচৈ চিৎকার চেঁচামেচি ভেসে আসছিল। একজন গ্রামের কৃষক দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘মিলিটারি আসতেছে।’
মুহূর্তে পরিবেশ বদলে গেল। কিসের মুড়ি খাওয়া। ছুটে গিয়ে সবাই যার যার অস্ত্র হাতে নিয়ে কোমরে বেঁধে নিল গুলির ঝোলা। মমিন নিজের স্টেনগানটা কাঁধে ঝুলিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘কোম্পানি রেডি? ফলো মি।’
সবার আগে মমিনকে ফলো করল মজনু। বাকি যারা অন্য বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরও খবর দেওয়া হলো দ্রুত।

গ্রামের পূর্বপাশ দিয়ে উচুঁ রাস্তা চলে গেছে শহরের দিকে। সেই রাস্তার আড়ালে গিয়ে সবাই পজিশন নিল। পাকআর্মি ওই পথ দিয়ে গ্রামে ঢুকবে। তার আগে তাদের গতিরোধ করতে হবে। খুবই শক্ত অ্যামবুশ করল তারা। সংখ্যায় তারা বেশি না হলেও পজিশনের কারণে তারা সুবিধেজনক অবস্থায় আছে।
চরা জুড়ে মানুষের ঢল। অনেকক্ষণ পজিশন নিয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর দল। কয়েকজন ব্যক্তি ছুটতে ছুটতে আসছে। মমিন তাদের ডেকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘শুনলাম মিলিটারি আসছে। কোথায় তারা?’
তারা ছুটতে ছুটতে বলতে লাগল, ’মিলিটারির ট্রাক গেছেগা। কয়েকজন রাজাকার এইদিকে আসতাছে।’ বলতে বলতে লোকগুলো ছুটে চলে গেল। মমিন সবার কাছে খবর পাঠালো কেউ যেন ফায়ার না করে। রাজাকারদের আমরা ঘিরে ফেলব। ওদের আমরা অস্ত্রসহ ধরব।’ সবার কানে কানে খবর দিয়ে এল মজনু। সবাই রেডি হয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল কয়েকজন রাজাকার কাঁধে রাইফেল উঁচিয়ে খোশ মেজাজে এইদিকে আসছে। কাছাকাছি আসতে আকস্মিকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে সবাই ছুটে এসে ‘হ্যান্ডসআপ’ বলে রাজাকারদের ঘিরে ফেলে। আকস্মিক মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে রাজাকাররা দিশেহারা হয়ে হাত উঁচিয়ে কাঁপতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে রাজাকারদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাদের হাত পিঠমোড়া করে বেঁধে ফেলে। সঙ্গে চোখও। তারপর তাদের নিয়ে আসে আগের আস্তানায়।
বন্দি রাজাকারদের দেখতে গ্রামের মানুষ হামলে পড়ে। তারা যেন অদ্ভুত জন্তু দেখছে। কেউ কেউ লাঠি দিয়ে আঘাতও করছে। মমিন আদেশ দিলেন সবাইকে চলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু লোকজন তাতে সরছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে মমিন অস্ত্র উঁচিয়ে গ্রামবাসীকে ভয় দেখায়। তাতেও কাজ হয় না।
একজন দাড়িওলা রাজাকারের উপর সবারই ভীষণ ক্ষোভ। সে নাকি গ্রামের তিনজন হিন্দু মেয়েকে মিলিটারির হাতে তুলে দিয়েছে এবং দলবল নিয়ে সেই বাড়িগুলো লুট করেছে। লোকজন সেই দাড়িওলা রাজাকারকে মারতে মরিয়া।
বাড়ির মালিক মমিনের কাছে এসে বলল, ‘আপনারা রাজাকারদের কী করতে চান?’
মমিন বলল, ‘দলের সবার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাড়ির কর্তা এবার বললেন, ‘ওই দাড়িওলা রাজাকারকে আপনারা কঠিন শাস্তি দিবেন।’
‘কেন?’ মমিন বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করে।
‘ওই বেটা অনেক অত্যাচার করছে আমাদের গাঁয়ে। তিনটি হিন্দু পরিবারকে নিঃস্ব করে দিছে। তাদের যুবতী মেয়েদের ধইরা মিলিটারি ক্যাম্পে নিয়া গেছে।’
এই কথায় মমিনের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। অনেকক্ষণ সে কোনো কথা বলতে পারল না। বাড়ির কর্তা আবার জিজ্ঞেস করলে মমিন বলল, ‘আপনি বলুন কী শাস্তি দেওয়া যায়?’
বাড়ির কর্তা বললেন, ‘আমারে যদি কইতে কন তাইলে আমি কমু, ওরে জানে মাইরেন না। ওর চোখ দুইটা তুইলা দেন। সারাজীবন ভুইগা ভুইগা মরুক।’

খাওয়ার আয়োজন হয়ে গেছে। মিলিটারির আগমনের কথা শুনে পালিয়ে যাওয়া লোকজন আবার ফিরে এসেছে। খুব দ্রুততার সঙ্গে খাওয়া শেষ করল তারা। কারণ তাদের এখানে বেশিক্ষণ থাকা নিরাপদ না। বন্দি রাজাকারদের দেখতে মানুষের ঢল নামছে। ভয় দেখিয়েও তাদের সরানো যাচ্ছে না।

রাতে এক গ্রামে আশ্রয় নেওয়ার আগে রাজাকারদের ফয়সালা করা দরকার ভেবে সেকশন কমান্ডারদের নিয়ে শলাপরামর্শে বসল মমিন। বাড়ির কর্তার সেই ভয়ংকর কথাটা সে জুনিয়র কমান্ডারদের সামনে তুলে ধরল। সবাই ভয়ংকর উত্তেজিত হয়ে পড়ল দাড়িওলা রাজাকারের কর্মকাণ্ডে। তারা এক বাক্যে বাড়ির কর্তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা ঘোষণা করল।
একজন বাধা দিয়ে বলল, ‘ও যেহেতু আমাদের মা-বোনদের মিলিটারির হাতে তুলে দিয়েছে তাই শাস্তি আরও কঠিন হওয়া উচিৎ।’
‘কেমন সে শাস্তি? ঝটপট বল।’
‘ওকে খোঁজা করা হোক। সঙ্গে দুহাত কেটে নুলা করা হোক।’
তাই করা হলো। বাকিদের লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে তারা নদীর পানিতে হাতমুখ ধুয়ে সাফসুতের হয়ে বাড়তি অস্ত্রগুলো নিয়ে দূরের এক গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিল।

চলবে...

এসএন

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী