শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-১৯

নেই দেশের নাগরিক

“বন্ধ কর তো, তোর ওই বাউল বাউল কথা। এখন ওসব শোনার সময়? জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ, আর এর এখন মনের সংসারে ঘুড়ি ওড়ানোর শখ হয়েছে! পাছায় যখন গুলি খাবি, তখন বুঝবি, ঘুড়ি উড়বে না নিজেই উড়বি!” চোখ থেকে আগুনের শীষ বের হয়ে আসছে মতির। নৌকার পাটাতনের ওপর রাগ আর বিরক্তি মেশা পায়ের ধাপ হড়াম করে ফেলে বলল, “বকবকানি অনেক হয়েছে। এবার ওপরে উঠে আয়। চাল ফুটোনোর ব্যবস্থা করতে হবে। পেটে কিছু না পড়লে বাউল মউল সব ফুড়ুৎ হয়ে যাবে। তখন মনের আকাশে ঘুড়ি উড়বে না, খিদে উড়বে, খিদে।“ পা দিয়ে আবার হড়াম করে একটা শব্দ করল মতি।
নুহু আঁচ করল, বড়ভাই রেগে বোম হয়ে গেছে। আর বেশি কিছু না ঘাটানোই ভালো। নৌকোর কানা ধরে নিচ থেকে উপরে সোজা একবার শক্তিভরে ঠেলা দিয়ে ভুষ করে নৌকোর পাটাতনে গড়িয়ে পড়ল। গায়ের লবণজল ঝরে পড়ল বাঁশের বাতার পাটাতনে। গামছাটা কোমর থেকে খুলে, দু-তিনবার ঝাড়া দিয়ে দড়ির মতো পাক মেরে আচ্ছা করে চিপল। গলগল করে চুঁইয়ে পড়ল জল। তারপর ভাঁজ খুলে আবারও ‘ঝ্যাৎ’ করে একবার ঝাড়া দিল। আলগা পাতলা করে গা মুছলে, আরিফা বলল, “অ কী করে গা মুছছো দেওরজি, সব পানি তো গায়েই থেকে যাচ্ছে!“
“কই, না তো” বলে চিপে চিপে গা মুছল নুহু। কণা কণা লবণে ভেজা লাল রঙের গামছাটা ছোপ ছোপ সাদাটে হয়ে গেল। গা মুছে নৌকোর খোলের মাথায় গিয়ে বসল। পাটাতনে লেটা মেরে বসে দু-পা নৌকোর দিকে ছড়িয়ে দিল। আগন্তুক নৌকোর আবুলকে উদ্দেশ করে বলল, “একটা বিড়ি দেন, ভেতরে একটু হাওয়া দিই।“ গোসল করে বোঝাই যাচ্ছে, তার মনটা কিছুটা ফুরফুরে হয়েছে। আবুল মনে মনে বিরক্ত হলো, আমি কি বিড়ির ফ্যাক্টরি খুলেছি, যে চাইলেই পাওয়া যাবে? একটা প্যাকেট কোনোরকমে লুঙ্গির গিঁটে গোঁজা ছিল, ওগুলোই এতক্ষণ চলল। আর গোটা তিনেক পড়ে আছে। আমি কি খাব না? না, সব লোককে খাইয়ে দিয়ে আমি শালা হাওয়া খেয়ে বেড়াব! লুকোছুপা ভাব করে আবুল বলল, “আর নেই গ। ফুরিয়ে গেল।“
“কেন দেখলাম যে, এখনও আধবান্ডিল ছিল।“ গোয়েন্দার মতো বলল নুহু। আহা রে, এটা কি ওর বাপের বিড়ি না ওর বাপের পয়সায় কেনা, যে দেখলেই খেতে দিতে হবে? মনকে দাঁত দিয়ে চিবল আবুল। অন্য পানে মুখ ঘুরিয়ে এলেবেলে বলল, “একটা দুটো আছে, ভেঙে গেছে, অ টানা যাবে না।“
অইই দেন, একবার দুবার টানা হলেই হবে, বলত নুহু, কিন্তু আবুলের মনোভাব বুঝে সে কথায় শিকল পরাল। মনে মনে বলল, হায়রে মানুষ, একটা বিড়িও দিতে চায়ছে না। বিড়ি কি আর দেশ ফিরিয়ে দিতে পারবে? না, নতুন কোনো দেশ দিতে পারবে? বিড়ি বড়জোর জানে দুদণ্ড শান্তি দিতে পারে, তা ছাড়া আর কি? নুহু আলগোছে বলল, “ওহঃ তাহলে তো আর কিছু করার নেই। ভাঙা বিড়ি ফুঁকলে ভাগ্যও ভাঙা হয়।“ তারপর মনে মনে বলল, সবই তো চলে গেছে, এবার না হয় বিড়িটাই গেল! এবার শরীরের খোল থেকে রুহুটা গেলেই বাঁচি!
নৌকোর খোলের ওপরে জ্বলে উঠল উনুন। তিন কেজির ছোট্ট গ্যাস সিলিন্ডারটার মুখ দিয়ে দপদপ করে জ্বলছে আগুনের শীষ। লেলিহান শিখা হলকাচ্ছে। যেন নৌকো জ্বলছে। নদী জ্বলছে। মাঝদুপুরের তপ্ত নদীর পেট খিদেয় জ্বলছে। ক্ষুধার্ত নদীর পেট থেকে বেরিয়ে আসছে ক্ষুধার আগুন। যন্ত্রণার জিভ লকলকাচ্ছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে, খরতপ্ত নদী গরমে তেতে আগুন ফোটা ফুটছে। ভাত ফুটছে। ছোট্ট হাঁড়িটার মুখের ঢাকনাটা হলবল করে দুলছে। ভেতরের ভাপ ঠেলা দিচ্ছে। ভাতফোটা বাষ্প উতলে কানা দিয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। আরিফা হাঁ করে এসব দেখছে। তার খেয়ালি মন এই হাঁড়ি, ঢাকনা, বাষ্প, ভাপে ফুঁড়ে ঢুকে গেছে। দপদপ করে জ্বলছে খিদের আগুন। আরিফা ভাবছে, কখন যে দপ করে নিভে যাবে এ আগুন, তার কোনো ভরসা নেই। আগুন কি আর শুধু আখাতেই জ্বলছে? আগুন পেটেও জ্বলছে। ভাত ফোটা বাষ্প যেভাবে উগলে উঠছে, কষ্টের দলাও আরিফার পেট থেকে উগলে উঠছে। তার ভাপ চুঁইয়ে পড়ছে চোখের অশ্রু হয়ে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছল আরিফা। হাঁড়ির কানাটা ন্যাকড়া দিয়ে কাত করে ভাত পাসাতে লাগল। নৌকোর একধারের পাটাতনে রান্নার সিলিন্ডারটা একটা কাঠের তক্তার ওপর বসানো আছে। যেদিক থেকে ঝিরঝির করে বাতাস আসছে, সেদিকটা আড়াল করে পলিথিনের একটা চাদর ঝুলিয়ে দিয়েছে মতি। হাওয়া লেগে পলিথিনটা ল্যালপ্যাল করে নড়ছে। যেন ফেসে যাওয়া ঢোল। আধো জল মেশা সেদ্ধ ভাতের জাউভাত “একটু নুন হলে ভালো হতো।“ খেতে খেতে বলল মতি। “নুনের কৌটোটা তো আনা হয়নি গ।” বলল আরিফা।
“নদীর পানি মিশিয়ে নাও, ঠিক নুনঠা হয়ে যাবে।“ ঠেস মারল নুহু। সে মনে মনে বলল, কপাল জোরে এইই পেটে জুটছে সেটাই ভাগ্য, তারপর আবার নুন দাও, লংকা দাও, পেঁয়াজ দাও, ভড়ঙের শেষ নেই! আর কটা দিন যাক, চালকটা ফুরোলেই, এটুকুও কপালে জুটবে না। তখন শুধু নদীর নুন খেয়েই থাকতে হবে। না হলে পেটে খিল দিয়ে এই নৌকোর খোলেই চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে হবে। মতি কিচ্ছু বলল না। একবার চোখ বাঁকা করে কটমট করে নুহুর দিকে তাকাল। ভাতের থালাটা হাতের চেটোয় নিয়ে দ হয়ে বসে খাচ্ছে। হাওয়ার ঝাপটায় হালেমার ঘোমটাটা খুলে গেল। ফোকলা দাঁতে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছেন জাউভাত। তার দাঁতহীন মাড়িদুটো জাঁতার মতো পিষছে। সেখান থেকে পাক খেয়ে এল খোনা কথা, নুহুকে ধমকালেন, “তোর কথার আবার এ কেমন ছিরি! বড়ভাইয়ের সঙ্গে এমন ঠেস দিয়ে কথা বলতে হয়?”
“তো কী বলবে? যেখানে জান বাঁচানোই দায় হয়ে পড়েছে, সেখানে আবার নুন-লঙ্কা কেন?” লংকার মতো ঝেঝিয়ে উঠল নুহু।
“কথাটা না হয় মুখ ফুটে বেরিয়েই পড়েছে, তা বলে অত টিটকেনি কেন?” মতিও তড়পাল।
“তোমরা থামবে?” বিরক্ত হলো আরিফা। সে কোলে সাকিবকে বসিয়ে নিয়ে নাড়ু নাড়ু করে জাউভাত খাওয়াচ্ছে।
“ঠিক আছে ঠিক আছে, চুপ কর। খাওয়ার সময় কথা বলতে হয় না। শয়তানে খেয়ে নেয়।“ ঘোমটাটা কপালে টানলেন হালেমা। এঁটো ভাত তার কলসায় চেপ্টে আছে। একবার জিভ দিয়ে চেটে নিলেন। হালেমা জানেন, একসঙ্গে থাকলে এট্টুআট্টু ঠুক্মুক হয়। ওসবে অত গা করলে হবে না। জিনিস যতই মধুর হোক, একসঙ্গে টানা থাকলে তেতো হতে বাধ্য। দুই ভাই এমনিতেই দুই পাণ্ডব। কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে থাকে। রণে-বনে-জঙ্গলে একসাথে। কী মাঠে কী ঘাটে, একজন আরেকজনের তোখিদ নেবেই নেবে। এক-আধ দিন নদী থেকে মাছ ধরে মতির বাড়ি ফিরতে দেরি হলে, নুহুর আর মাটিতে পাছা ঠেকে না। একবার উঠোন, একবার ঘর, একবার দাওয়ায় পায়চারি করে। আরও কিছুটা দেরি হলেই, টর্চলাইটটা হাতে নিয়ে নদীর পানে হনহন করে বেরিয়ে যায়। মতিও যোগ্য যুধিষ্ঠির। সহদরভাইয়ের জন্যে সবসময় মন পড়ে থাকে তার। উপরে উপরে নুহুকে বকাবকি করলেও, মনে কিন্তু উপচে থাকে ভালোবাসা। দরদ। একটু বকেই, পরে নিজেই কষ্ট পায়।
“আপনাদের খাওয়া দাওয়া হলো?” হাঁক পাড়লেন ইয়াসিন মাস্টার।
“হ্যাঁ, হলো, আপনাদের?” পাল্টা খোঁজ নিল মতি।
“হ্যাঁ, আমাদেরও হয়ে গেছে।“ একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন ইয়াসিন মাস্টার। তারপর যোহরের নামাজে দাঁড়ালেন। ওজু করে মতিও নামাজ আদায় করতে লাগল। হালেমা ছইয়ের ভেতরে হাঁটু মুড়ে নামাজের নিয়ত ধরলেন। যোহর পেরিয়ে আসরও পেরিয়ে গেল। পশ্চিমের আকাশ সূর্যকে গেলার জন্যে তোড়জোড় করছে। দিগন্ত রাঙিয়ে উঠছে লালাভ আভায়। তুলির আছড়ে রঙের কোলাজ আঁকছেন সন্ধ্যার পিকাসো। যিনি এতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলেন দিগন্তের ক্যানভাসে। ঝাঁক ঝাঁক পাখি দিগন্তের রঙ মেখে, পায়ে ডানায় রঙ নিয়ে ফিরছে বাসায়। তাদের পায়ের নখে করেও চলে যাচ্ছে বিন্দু বিন্দু রাত। আকাশ ফুঁড়ে খাড়া উঠে গেছে রেখার মতো গুচ্চের ফ্যাকাশে দাগ। যেন আকাশের মুখ ভার। তার সেই কষ্ট-রেখা ছড়িয়ে পড়ছে আসমান থেকে আসমানে। যেন আকাশ কোনোমতেই চায়ছে না, সূর্যকে ঘুম দিয়ে দিতে, সূর্যকে তুলে দিতে রাতের হাতে। তাই তার যন্ত্রণার রঙ দিগন্ত ফুঁড়ে আঁচড় কাটছে। পশ্চিম আকাশ থেকে তুষারের কণার মতো নেমে আসছে গুঁড়িগুঁড়ি অন্ধকার। নদীর জলে মিশে হয়ে উঠছে দলা। একটু একটু করে গিলে নিচ্ছে নৌকোর ছই, পাটাতন, খোল। ঘাটবাড়ি কৌশা নৌকোটা হয়ে উঠছে রাতবাড়ি। লাল টিপের মতো সূর্যটা খাপি খেতে খেতে দিগন্তের কোলে ঘুমিয়ে পড়তেই হুড়মুড় করে হেঁটে আসতে লাগল অন্ধকার। তার পায়ের দাপাদাপি টের পেল নদী। নীল নদী লালাভ থেকে আচানক কাজলকালো হয়ে গেল। নয়াপাড়া থেকে ভেসে আসা মাগরিবের আজান শেষ হতেই, ছইয়ের মটকা ধরে নেমে এল রাত। নদীতে বিছিয়ে দিল রাতের বিছানা। ঘুম সর্বপ্রথম কাঠি ছোঁয়াল সাকিবের চোখে। আরিফা মুখে ছড়া কেটে, আঁচলের হাওয়া দিয়ে তার চোখে লাগিয়ে দিল ঘুম। হালেমা নামাজ আদায় করে জাফর আলির পাশে কাত হয়ে বসলেন। মানুষটা সারাদিন কিচ্ছুটি মুখে তোলেননি! শুধু পড়ে পড়ে ঘুমিয়েছেন। দু-একবার চ্যাংদোলা করে ধরে প্রস্রাব করিয়েছে দু বেটা। তাও চোখ বুঝে ছিলেন। চোখের পাতা তুলতেই পারেননি।
“এক গাল জাউভাত খেয়ে নাও।“ কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ডাকলেন হালেমা। জাফর কোনো সাড়া দিলেন না। হালেমা গলার স্বর একটু চড়ালেন, “ওগো, শুনতে পাচ্ছ?” কথাটা জোরে কানের কাছে বাজতেই, জাফর ঠোঁট নড়ালেন, “হু”। মুদে থাকা চোখের পাতাগুলোও মিহি করে নড়ল। হালেমা কথায় জোর রেখেই বললেন, “এক গাল খেয়ে নাও, আরিফা জাউভাত করেছে। গায়ে বল পাবে।“
“না, খা ব না।“ জড়ানো স্বর আরও জড়িয়ে বেরোল। মিহি করে খুলে গেছে চোখের পাতা। ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখছেন, হালেমা মুখের কাছে বসে আছেন। কুপির হলুদ আলোতে কাঁচা সোনার মতো লাগছে হালেমার জড়ানো মুখ। হীরের মতো জ্বলছে ঘোলাটে চোখ। সন্ধ্যার দক্ষিণি হাওয়ায় পাকাঝুন ভ্রূগুলো হাঁসের সাদা পালকের মতো ফিনফিন করে নড়ছে। থুত্থুরে মুখটা বড় মায়াবি লাগছে আজ। চোখ পিটপিট করা জাফর কি এই সৌন্দর্য এই রূপ এই মায়ায় ঢলে পড়ছে? এসবের ভেতরে যে শক্ত বাঁধন আছে, যে বাঁধন কখনও খণ্ডাবে না, না ইহকাল না পরকালে হবে আলাদা, যে বাঁধন কালেমার পবিত্র উচ্চারণে জনম জনমের জন্যে বাঁধা, সে বাঁধন কি রুহুকে তার শরীরের সঙ্গে আরও এঁটে ধরছে? ঘাড়ে থড়বড়ে হাতটা দিয়ে হালেমা তুলতে গেলে, জাফর মিনমিন করে বললেন, “খিদে নেই, খাব না।“
“খিদে নেই বললেই হলো, সেই কোন সাত-সকালে একগাল মুড়ি খেয়েছেন, সারাদিন পেটে কিচ্ছুটি পড়েনি! পেটে দানাপানি না পড়লে কী করে শ্বাস নেবেন?” পাশ থেকে বলল আরিফা। সে একটা ছোট্ট থালাতে দুমুঠো জাউভাত নিয়ে কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

চলবে...

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৮

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৭

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৬

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৫

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১৪

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব ১৩

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১২

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১১

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৯

 

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৬

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৫

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৪

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-৩

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-২

নেই দেশের নাগরিক: পর্ব-১

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী