শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৯

স্নানের শব্দ

মায়ের মৃত্যু শোক এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারেক। মাতৃবিয়োগের যে প্রচণ্ড শক আর শোক, এক জীবনে তার হয়ত কোনো সান্ত্বনাও হয় না। মা চলে যাবার পর থেকে একটা গভীর শূন্যতার হাহাকার যেন প্রচণ্ডভাবে ঘিরে ধরেছে তাকে। যেন এক ঘোর, এক মায়া, এক অদ্ভুত তমসায় সে অনবরত ঘুরপাক খাচ্ছে। মা ছিল, এখন নেই, মানে আর কখনোই তাকে পাওয়া যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, দেখা যাবে না, শোনা যাবে না। মা এখন শুধুই কিছু স্মৃতি আর ছবির সমাহার। আগে থেকেই বিশ্বাসী মানুষ তারেক, এখন নিয়মিতই নামাজ পড়ে, সময় মত মসজিদে গিয়ে যেন ভুলে থাকতে চায় মা হারানোর কষ্ট, সেই সঙ্গে দৈনন্দিন ইহলৌকিক কাজ কর্ম। তেমন বৈষয়িক সে আগেও ছিল না, এখন যেন আরও উদাসীন।

দাড়ি কামানোর মত প্রাত্যহিক কর্মটাও ইদানিং ছেড়ে দিয়েছে সে। ফলে এই পনের দিনেই সাদা পাকা অবিন্যস্ত দাড়ি আঙ্গুরলতার মত কয়েক ইঞ্চি বেড়ে নিচের দিকে নেমে এসেছে।
‘দাড়িটা রেখেই দেই, কি বলো?’
পাঁচ আঙ্গুলে বাড়ন্ত দাড়িতে বিলি কাটতে কাটতে শবনমকে উদ্দেশ করে বলে সে।
‘রাখতে চাইলে রাখো। তোমার ইচ্ছা-অনিচ্ছা নিয়ে আমি কোনো কথা বলেছি কখনো?’
‘না, তা বলোনি। তবু তোমার মতামতটা শুনি.. ’
তারেক ঘরের কোণায় রাখা ড্রেসিং টেবিলের লম্বাটে আয়নার কাছে গিয়ে ডানে বামে সামনে পেছনে ঘাড় নাড়িয়ে বিভিন্নভাবে নিজেকে দেখে।
‘দাড়িতে আমাকে কেমন লাগবে, মানাবে কিনা, আবার বেশি বুড়ো বুড়ো দেখাবে কি না .. ’

সাতান্ন বছর বয়সী তারেকের এই সৌন্দর্য সচেতনতায় শবনমের ঠোটের কোণায় মৃদু হাসি ফুটে উঠে মিলিয়ে যায়। অফিস থেকে ফিরে কাপড় বদলে সে বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে টিভি দেখছিল। এবার উঠে বসে বলে,
‘তা ওরকম সাদা দাড়ি রাখলে আগের চাইতে একটু বয়স্ক তো দেখাবেই, খানিকটা ভার ভারিক্কীও লাগবে অবশ্য.. আগে তো মানুষ চাচা ডাকতো এবার দাদাজানও ডাকতে পারে। ভেবে দেখো..’
এবার তারেকের ধর্ম বোধের কাছে সৌন্দর্য বোধ হার মানে। আয়নায় চোখ রেখেই সে বলে,
‘নবিজীর সুন্নত। রেখে ফেলছি যখন, তখন আর ফেলি না, থাকুক।’
শবনম আর কোনো মন্তব্য না করে আবার কাত হয়ে শুয়ে টিভি দেখায় মনযোগ দেয়।
‘ভাবছি, আগামী বছর হজে গেলে কেমন হয়?’
আয়নার সামনে থেকে সরে এসে খাটের উপর আধ শোয়া শবনমের পাশে এসে বসে তারেক। শবনম নিউজ দেখছিল বলে তারেকের কথাটা ভাল করে শুনতে পায়নি। তাই রিমোট টিপে টিভির সাউন্ড কমিয়ে আবার জানতে চায় সে।
‘হুম? কি বললা?’
এবার সরাসরি সিদ্ধান্তটাই জানায় তারেক।
‘ওইতো, বললাম, আগামী বছর হজে যাওয়ার নিয়ত করেছি আমি।’
তারপর লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, ‘কয় দিনের আর দুনিয়া বলো! আজ আছি কাল নাই! তুমি যদি যেতে চাও বলো, তাহলে দুজন মিলে হজটা করে আসতে পারি। ভাল প্যাকেজ আছে।’

শবনম এবার টিভিটা বন্ধ করে উঠে বসে তারেকের মুখোমুখি হয়। তার দাড়িশোভিত বুড়িয়ে যাওয়া মুখমণ্ডল আর সরল চোখ দুটিতে চোখ রাখে। একটু ইতস্তত করে বলে, ‘আসলে ওইরকম কিছু তো ভাবি নাই। হঠাৎ করে কী বলবো!.. অফিস.. ছুটি নেওয়া ..আপাতত না হয় তুমি একাই করে এসো, আমি দেখি, পরে..’
তারেক আর কথা বাড়ায় না। টুপি মাথায় মসজিদে চলে যায় এশার নামাজ আদায় করতে।
শ্রাবণের ঘরের দরজা লাগানো, ওর কয়েকজন বান্ধবী আজ রাতে থাকতে এসেছে, কি নাকি গ্রুপ স্টাডি করবে সবাই মিলে। ঘরের দরজা ভেদ করে মাঝে মাঝে ওদের হৈ হুল্লোড়ের চাপা অস্পষ্ট শব্দ ভেসে আসছে। কী সুন্দর, ঝলমলে চিন্তাহীন একটা সময় পার করছে ওরা!

বাসার বাধা কাজের লোক রান্নাঘরের পাশে তার নিজস্ব ছোট্ট রুমে ভারতীয় সিরিয়াল দেখায় ব্যস্ত। শবনম একটা হাই তোলে। এটা এমন একটা সময় যখন তার আসলে কিছুই করার থাকে না। এসময় মনের মধ্যে বৈরাগ্য চিন্তা ভর করে। মনে হয় জীবন এক টুকরা মায়া, একটা হঠাৎ দেখা স্বপ্ন, জলের উপর ফুটে ওঠা স্বল্পস্থায়ী বুদ বুদ, মিলিয়ে যাওয়ার মতো একটা করুণ হাল্কা ছায়া। মনে হয় এই জীবনে কিছুই চিরস্থায়ী নয়, কারো উপর রাগ করার কিছু নাই, ঝগড়া বিবাদের কিছু নাই। যেন তার জন্য কোথাও কেউ নাই, কিছু নাই। সমস্তই অনিত্য অস্থায়ী। রুটিন মেনে প্রতিদিন বেলা আসে বেলা যায়, ভাবনার গভীরে, ভেতরে বাইরে মানুষও ধীরে ধীরে নাই হয়ে যায়। একটা অচেনা ধু ধু প্রান্তরে একদম একা দাঁড়িয়ে থাকার মতো অনুভূতি হয় শবনমের। বিচ্ছিন্ন, একাকী, বিষণ্ন। এটা কি তবে মধ্য বয়সের সংকট? মিড লাইফ ক্রাইসিস? এখন যে বয়সে এসে সে দাঁড়িয়েছে সেটা বার্ধক্য নয়, আবার তারুণ্যও নয়। দুয়ের মাঝখানে একটা বয়ঃসন্ধিকাল। যেখান থেকে পালানোর কোনো সুযোগ নেই। নিজের কর্মোদ্যমে ভরা যৌবনকে পেছনে ফেলে এখন অবধারিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে বার্ধক্যের দিকে। চাই বা না চাই যৌবনকে বিদায় জানিয়ে এখন গ্রহণ করতে হবে প্রৌঢ়ত্ব কিংবা বার্ধক্যকে। সকলেই তাই করে। শবনমের মা, নানী, নানীর মা সবাই, পৃথিবীর সব মানবীই এই স্তর পেরিয়ে অনন্তে চলে গেছেন। সরল আর স্বাভাবিকভাবেই তো তারা গ্রহণ করেছেন পরিবর্তনকে! মেনে নিয়েছেন। না মেনে নিস্তার নেই বলে?

সেই যে স্নানঘরে, বার্ধক্যের প্রথম চিহ্ন দেখে চমকে উঠেছিল শবনম, সেটা কি ভয়ে, না বিস্ময়ে? নাকি পরিবর্তনের আভাসকে মানতে না পারার বেদনায়! সময় চক্ষুহীন নিষ্ঠুর, সময় ক্ষমাহীন, রুদ্র কঠিন। সময়ের হাত ধরে আমাদের ভেসে যেতে হয় জীবনের প্রতিটি ধাপে।

এই যে ইদানিং এক নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে মাঝরাতে হঠাৎ ভয়ানক গরম লাগা, গলা, বুক, পিঠ অচেনা ঘামে ভিজে যাওয়া, অকস্মাৎ ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড় করে ওঠা, ভীষণ অস্থির লাগা এও তো মধ্যবয়সের এক অস্বস্তিকর লক্ষণ, বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেওয়া। সুন্দর করে বললে, জীবনের আরেকটি অধ্যায়ে পা রাখার সূচনা হলো তোমার শবনম। ফুল্লকোমল বসন্ত শেষ আসছে হিম আচ্ছাদিত শীতকাল। জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের কাছে প্রত্যাশা এবার কমিয়ে আনো, নৈর্ব্যক্তিক হও, নয়তো অযথাই দুঃখ পাবে।

তারেক এরই মধ্যে মসজিদ থেকে ফিরে এসেছে। ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজানোর টুংটাং শব্দ হচ্ছে। একটু পরেই শ্রাবণ আর তার বন্ধুদের কলকল্লোলের আভাস পাওয়া গেল। হৈ হৈ করে রাতের খাবার খাচ্ছে ওরা। সামান্য কথায় হিল্লেলিত ঝর্ণার মতো হেসে ভেঙে পড়ছে। ওদের দেখলে কেন যেন তরতর করে বেড়ে ওঠা কচি সবুজ লাউ ডগার উপমাই মনে আসে শবনমের। ওরা যেন কলির মোড়ক সরিয়ে সদ্য মুখ বের করা এক দল আলোময় ফুল। যেন লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, বর্ষায় স্নাত সবুজ পাতা। শবনম হাসি হাসি মুখে ডাইনিং এ এসে দাঁড়ায়।
‘ভালভাবে খাও মেয়েরা .. সাদমা, তোমার প্লেট খালি কেনো? রুম্পা, তুমি আরেক পিস চিকেন নাও।’
‘জি, আন্টি..’
মেয়েগুলো বিনীত ভঙ্গীতে বলে। শবনমের উপস্থিতিতে তাদের স্বতঃস্ফূর্ততায় সম্ভবত বাঁধা তৈরি করে। এতক্ষণের কলরব থামিয়ে তারা প্লেটে ঝুঁকে খাওয়ায় মনোযোগী হয়।
‘আমরা আমাদের মতো নিয়ে খাচ্ছি মা, চিন্তা করো না।’
শ্রাবণ মুখ তুলে বলে। তবু দুয়েকটা ভদ্রতাসূচক বাক্য বলে শবনম নিজের ঘরে ফিরে আসে। করুক, এবার ওরা প্রাণ খুলে কোলাহল করুক। মেতে থাকুক নিজেদের আনন্দে। কয় দিনের আর এই নির্মল আনন্দ কোলাহল!

তারেক শুয়ে পড়েছিল আগেই। সংসারের খুটিনাটি তদারকি সেরে প্রায় আধঘণ্টা পর একটা ঢিলেঢালা সুতির ম্যাক্সি পড়ে শুতে এলো শবনম। ভেবেছিল তারেক বুঝি ঘুমিয়ে গেছে। আসলে যে ঘুমায়নি, শবনম সেটা বুঝলো তারেক যখন পেছন থেকে দুই হাত বাড়িয়ে তাকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। এই স্পর্শ ও আলিঙ্গন একটা গভীর সংকেত, একটা গূঢ় ইঙ্গিত, কয়েক বছর আগেও এই ইঙ্গিত শবনমের সমস্ত শরীরে একটা অন্যরকম শিহরণ ছড়িয়ে দিতো কিন্তু ইদানিং কি হয়েছে, সেই আবেশটা আর শরীরে জাগে না। বরং তারেক হাত বাড়ালেই কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনীহা, অস্বস্তি আর অবসাদের সঙ্গে একটা সূক্ষ্ম বিরক্তি ছড়িয়ে পড়ে তার সমস্ত শরীরে মনে। কপালটা অজান্তেই একটু কুঁচকে যায়। তারেক এবার আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে আসে। শবনমের ঘাড়ে তার ঘন উষ্ণ নিশ্বাসের আঁচ এসে লাগে। ঘরের মৃদু আলোতে শবনমের অনিচ্ছুক চেহারা চোখে পড়ে না তারেকের। তার ভালবাসার দীর্ঘ হাত বরাবরের মতো শবনমের দেহরেখা ধরে আরও বিবিধ পথে অগ্রসর হতে চায়। এবার আস্তে করে তারেকের হাতটা নামিয়ে রেখে সামান্য ধাক্কা দিয়ে ওকে সরিয়ে দেয় শবনম।
‘উহু! না.. আজকে থাক প্লিজ.. ’
‘কেনো?’
তারেক নিজেকে সামলে নিয়ে নরম গলায় জানতে চায়, ‘কোনো সমস্যা?’
‘না, কেমন যেন ড্রাই লাগে, বুঝছো, মানে, ঠিক.. কি বলবো! জ্বালা পোড়া হয়! প্রিমেনোপজ সিনড্রম কিনা!’
তারেক এবার হাতটা গুটিয়ে নেয়। পাশ ফিরে চিৎ হয়ে শুয়ে একটা লম্বা হাই তুলে বলে,
‘এখন অনেক রকম লুব্রিকেন্ট পাওয়া যায়। নেটে দেখে নিও। আমরা কিন্তু ট্রাই করতে পারি।’
‘হুম.. একটা আর্টিকেলে ন্যচারাল অয়েলের কথা পড়েছিলাম..’
‘উন্নত দেশে অনেকে পঞ্চাশের পর বিয়ে করে জানো তো! মানসিক প্রস্তুতিটাই আসল। মনের দুয়ারটা আগে খুলে দাও, বন্ধ করে রেখো না.. ’

তারেক সাইকোলোজিস্টের সাইকো থেরাপি দেওয়ার মতো ভঙ্গী করে বলে। বহুদিন পর তারেকের পক্ষ থেকে আসা আহ্বান অগ্রাহ্য করে শবনমের একটু খারাপই লাগে। এবার সেই পাশ ফিরে তারেককে জড়িয়ে ধরলে তারেক অন্য হাতে তাকে বুকে টেনে নেয়। ঘোর লাগা গলায় বলে,
‘শোনো, তুমি তো বুড়ি হয়ে যাও নাই। এখনো অনেক ফিট আছো। মনের বাধাটা সরিয়ে দেও, তারপর দেখো কি হয়, সব বরফ গলে যাবে, ষাট বছরের পর মধ্য বয়সের শুরু বুঝলে?’
শবনম উত্তরে কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু তারেকের ভেজা মোটা ঠোঁট দুটো, তার দাড়িবহুল মুখখানি শবনমের ঠোটের উপর চেপে বসলে সে আর কথা বলতে পারে না। কথা বলার দরকারও পড়ে না। জমাট বাধা হিম বরফ কোনো শব্দ না করেই গলতে থাকে।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব-৮

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী