রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

দুই ফোঁটা জল

ওর নাম জলফড়িং দেওয়ার পেছনে কোনো শক্ত যুক্তি নেই। মুখ থেকে হঠাৎ করেই বেরিয়ে গেল। বেরিয়ে যাওয়ার পর জলফড়িং নাম আর ফেরত নেইনি। জলফড়িংই নামটা সঙ্গে নিয়ে গেছে। জলফড়িংয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সময়। আমার পরীক্ষা না, জলফড়িংয়ের পরীক্ষা ছিল। আমি আর্টস ফ্যাকাল্টিতে পড়ি। আমার সাবজেক্ট ছিল সমাজবিজ্ঞান। অবশ্য এসএসসি ও এইচএসসিতে আমি কমার্সের ছাত্র ছিলাম। কি মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমার্স পড়তে ইচ্ছা হলো না। অংক নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালো লাগছিল না। মা-বাবাকে না জানিয়েই ফরম তুললাম কেবল আটর্সের সাবজেক্টে। বাবার শখে কমার্স নিয়েছিলাম। বাবা কষ্ট পাবেন বলেই বাড়িতে কিছুই বললাম না। বাবা ভাবলেন আমি কমার্সে ভর্তি হচ্ছি। শেষে যখন দেখলেন আটর্সের সাবজেক্টে চান্স পেয়েছি বাবা শুধু শুকনো মুখে বললেন, কমার্সটা তোর আর পড়া হলো না। একটু ভালো করে প্রিপারেশন নিতি? আমি আর সত্যি কথাটা জানালাম না। সেখান থেকেই আমার কমার্স জীবনের ইতি ঘটল। তাতে সুবিধা হলো আমার। পড়াশোনার বাইরে ঘুরে বেড়ানোর সময় পাই। টেনেটুনে সেকেন্ড ক্লাস পেলেই চলবে। বেশি পড়তাম না। লতায় পাতায় সম্পর্কের এক ভাইয়ের হাত ধরে ঢুকে গেলাম রাজনীতিতে। চোখে তখন অনেক স্বপ্ন। নেতা হতে ইচ্ছে করত। চাকরি না হলেও ক্ষতি নেই। রাজনীতি করব- এ রকম একটা ইচ্ছা মনের ভেতর ততদিনে ঢুকে গেছে। অনেকে বড় ভাই বলে সালাম দেয়। ভালোই লাগে। সকালে পেছন পকেটে একটা বই খাতা নিয়ে বের হই। আড্ডাতেই সময় যায় বেশি। আমার ততদিনে একটা সার্কেল গড়ে উঠেছে। কোনো মেয়ে নতুন এলো-গেল তীক্ষ্ণ নজর রাখি। এটাই যেন কাজ! এই নজর রাখতে গিয়েই একদিন জলফড়িং আমার ফুড়ৎ করে ঢুকে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। গেটের সামনে দাড়িয়ে আছি। আমি ও আরও কয়েকজন আছি। কেউ কেউ আমাদের কাছে আসছে, জানতে চাইছে নিজের আসনের খবর। আমরা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এর মধ্যে লক্ষ্য করলাম একটি ফর্সা, হালকা গড়নের মেয়ে ভিড় ঠেলে গেটের দিকে যাচ্ছে। বেশি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কারো হাতের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওর প্রবেশপত্রটি পরে গেল। মেয়েটি এটা লক্ষ না করেই গেট দিয়ে ঢুকে গেল। আমি পেছন থেকে ডেকে উঠলাম এই জলফড়িং, অ্যাই?

জলফড়িং নামটির সূচনা এখান থেকেই।

আমি চ্যাঁচিয়ে বললাম, ’আপনার অ্যাডমিট কার্ড'?

অত ভিড়ে কেউ কারও কথা শোনার কথা না। জলফড়িংও শুনল না। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকে আমিও বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। এতক্ষণে যুতসই একটা কাজ পেলাম। আমি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলাম প্রবেশপত্র উদ্ধার করার জন্য। যতটা সহজ ভেবেছিলাম কাজটি তত সহজ ছিল না। মিছিলের ভেতর দাঁড়িয়ে মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করছি। সবাই পরীক্ষার হলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমি সাগরের মধ্যে থেকে মুক্তা তুলে আনলাম। প্রবেশপত্র হাতে নিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে একটু এগুতেই দেখি জলফড়িং দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় কান্নাকাটি করেছে। চোখ দুটো ফোলা। আমি প্রবেশপত্র এগিয়ে দিলাম। জলফড়িং প্রবেশপত্রটি হাতে নিয়ে পেছনে ঘুরে হাঁটতে লাগল। একবার ধন্যবাদও দেওয়ার প্রয়োজন মনে করল না। আশ্চর্য! আমি পেছন থেকে আবার ডাকলাম, অ্যাই জলফড়িং? মেয়েটা আমার কথায় থমকে দাড়াল।

আমাকে কিছু বললেন? এগিয়ে এসে জানতে চাইল।

’ভালোভাবে পরীক্ষা দেবেন।’

’ঠিক আছে। আর হ্যাঁ আমার নাম জলফড়িং না মৌমিতা। মৌমিতা সেন। বলার সময় ঠোঁটের কোণে একটু হাসি ফুটে উঠল।’

’ও আচ্ছা।’ আমার নাম বলার সময়ই পেলাম না।

জলফড়িং পরীক্ষার্থীদের ভিড়ে হারিয়ে গেল। ভর্তি না হলে জলফড়িংয়ের সঙ্গে আমার দেখা হওয়ার কোনো চান্স ছিল না। আমি চাইছিলাম জলফড়িং এখানে ভর্তি হোক। উপকারের পরিবর্তে প্রাপ্য ধন্যবাদটা নিতে হবে জলফড়িংয়ের কাছ থেকে। জলফড়িং ভর্তি হলো কমার্স ডিপার্টমেন্টে। তখন আমার মনে হলো কমার্সে ভর্তি হলেই বেশ হতো। জলফড়িংকে দেখলাম নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। নতুনদের ফুল দিয়ে বরণ করার সময়। জলফড়িংয়ের হাতে আমি ফুল দিতে পারলাম না। এরপর আমি বাড়িতে একটু সমস্যা হলে সেখানে মাসখানেক ক্যাম্পাস থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। জলফড়িংয়ের সঙ্গে দেখা হলো না। ক্যাম্পাসে ফিরে এসে একদিন সকালে দেখা হলো জলফড়িংয়ের সঙ্গে। মহুয়া তলায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। জলফড়িং ক্লাস থেকে ফিরছিল। আমি লাফ দিয়ে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

’কেমন আছেন?’

আমাকে হঠাৎ ওভাবে দেখে হকচকিয়ে গেল জলফড়িং।

আমাকে বলছেন?

আমাকে চিনতে পারছেন?

’না।’ জলফড়িংয়ের সোজা উত্তর। আমাকে একটু নির্লজ্জ হতে হলো। আমাকেই গায়ে পরে পরিচয় দিতে হলো। সেদিনের প্রবেশপত্রের ঘটনাটা তাকে বললাম। শুনে মনে পরে যাওয়ায় মনে হয় একটু লজ্জিত হলো। লজ্জা পাওয়ার সময় জলফড়িংয়ের চোখ মুখ লাল হয়ে গেল।

’আমি আপনাকে ধন্যবাদ দিতে পারিনি। দুঃখিত। টেনশনে ছিলাম তো তাই। এখানে ভর্তি হতে না পারলে গ্রামের কলেজে ভর্তি হতে হতো। আর কোথাও তো চান্স পাইনি।’

’ভাগ্যিস ভর্তি হয়েছেন!’

’মানে?’

’মানে কিছু না। আপনি বুঝবেন না।’

আমি বুঝতে চাচ্ছি না।

আমি ফিরোজ। সমাজবিজ্ঞান থার্ড ইয়ারে পড়ি।

’ও আচ্ছা। আপনি আমাকে একটু সাহায্য করতে পারেন?’

জলফড়িংয়ের মুখ থেকে সাহায্যের কথা শুনে আমি আকাশের চাঁদ হাতে পেলাম। এ যেন রাজকন্যার মুখ থেকে আদেশের অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকা।

’কি সাহায্য?’

’মানে এখানে হোস্টেলে একটা সিট নেওয়া আর একটু নোট-টোট জোগাড় করে দেওয়া। আমার তো এখানে কেউ পরিচিত নেই। ও হ্যাঁ আমি লক্ষ্য করেছি আপনি আজও আমাকে জলফড়িং ডাকছেন। আমার ও ডাকে আপত্তি নেই। তবে সবার সামনে আমাকে মৌমিতা বলেই ডাকবেন।’

জলফড়িংয়ের সঙ্গে কথা হলো বেশ অনেকক্ষণ। জানলাম বাবা-মার একমাত্র সন্তান সে। ওর আর একটা বড় বোন ছিল। মারা গেছে। আমার সম্পর্কেও বললাম। ইনিয়ে বিনিয়ে ক্যাম্পাসে আমার প্রভাবের কথা বললাম। জলফড়িংয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একটু স্বাভাবিক হলো এদিন।

এরপর থেকে প্রতিদিনই জলফড়িংয়ের সঙ্গে দেখা হতো। কথা হতো। প্রতিদিনই সমীর দা’র দোকানের চা খাওয়া হতো। ক্লাস শেষেই আমাকে ফোন দিত। আমি ছুটে যেতাম। আমি তো খুব বেশি ক্লাস-টাস করতাম না। জলফড়িংয়ের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার তিন বছর পর ক্যাম্পাসকে আমার অন্যরকম লাগতে লাগল। লেখাপড়া আর রাজনীতির জীবনের বাইরেও একটা জীবন আছে সেটা এই প্রথম টের পেলাম। সেটা হলো জলফড়িং। জলফড়িংয়ের জীবন। কীভাবে যেন মেয়েটা আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেল। লক্ষ করলাম জলফড়িংও ক্যাম্পাসে আমি নির্ভর। ফটোকপি থেকে শুরু করে ফুচকা খাওয়া আমাকে ছাড়া চলছে না। আরও বেশ কিছু বন্ধু আছে ওর, তবে আমার গুরুত্বটা বুঝতাম একটু আলাদা। ভাবলাম এবার জলফড়িংকে আমার অনুভূতির কথাটা সরাসরি বলতে হবে। সম্পর্কটা এগিয়ে নিতে হবে। সকালে বই খাতা পকেটে গুঁজে ক্যাম্পাসে এলাম। জলফড়িং এর মধ্যেই দুইবার ফোন দিয়েছে। সমীর দা’র চায়ের দোকানে। কি না কি দরকার আছে। সারপ্রাইজ আছে। আজ তো সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা আমার। পৌঁছে দেখি জলফড়িং আগেই এসেছে। আমাকে দেখেই হাসিমুখে এগিয়ে এলো।

’ফিরোজ ভাই, ওর নাম স্বপ্নীল।’ ওর সাথেই বসেছিল ছেলেটি। পরিচয় দিতেই উঠে হাত এগিয়ে দিল।

এই সারপ্রাইজের কথাই বলেছিলাম।

’ও চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। ইংরেজি, থার্ড ইয়ার। আমাদের একই গ্রামে বাড়ি। পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। আপনার কথা বলাতে খুব দেখা করতে চাইছিল।’

জানো, আমার নাম ফিরোজ ভাই কি রেখেছে?

’কি?’

’জলফড়িং। সুন্দর না নামটা?’

’হু।’

স্বপ্নীলের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হলো। যাওয়ার সময় বলে গেল, ভাই মৌমিতাকে একটু দেখবেন। আপনাকে খুব বিশ্বাস করে।
ওদের বিদায় দিয়ে চলে আসি। স্বপ্নীলের সাথে মৌমিতাকে বেশ মানিয়েছে। আমার সারপ্রাইজটা তোলা থাক। মৌমিতার কথা ভাবতে ভাবতে দেখি দু’চোখ থেকে দুই ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়েছে। আমি তাড়াতাড়ি মুছে ফেলি।

 টিটি/

Header Ad

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল

ছবি: সংগৃহীত

একইসঙ্গে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী। স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুই স্বামীর কাউকেই। গোপনে মন জয় করে চলছিলেন দুই স্বামীর। প্রায় দুই বছর দুই স্বামীর সংসার করার পর অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। সংসার জীবন ভালোই চলছিল এ দম্পতির। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

এদিকে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্বামী সাগরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল।

স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেয়ায় তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন স্বামী-স্ত্রী। চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন বলেও দাবি করেন সাগর।

তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। তবে হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মাথায় আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই।

কাজ থেকে এসে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি। ওই ছেলের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকবো। আমার আম্মু দেশে আসলে আমি তোমার কাছে চলে আসবো।’

সাগর বলেন, ‘আমি জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে বিভিন্ন সময় আমরা রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। ওর কলেজে আনা-নেয়াসহ সবকিছু আমিই করতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বরও আমরা আমার বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি।

তবে বিবাহ বার্ষিকী পালনের দুদিন পরে আমি জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছেন। অথচ তার মেয়ের সঙ্গে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন।

এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।’

সাগর আরও বলেন, ‘আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে আমার স্ত্রী অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে।

এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ। এছাড়া আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা বলেন, ‘কোন এক সূত্রে আমার শ্বশুর জান্নাতুলদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাকে পছন্দ করে। পরে আমি গিয়ে তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ধার্য হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে বলে জান্নাতুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে।

সে জান্নাতুলের সঙ্গে নিজের একটি ছবিও আমার ছেলেকে পাঠায়। এরপর আমি ওই এলাকায় আমার আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের কোন সম্পর্ক ছিল না। এছাড়া জান্নাতুলকেও আমি সরাসরি প্রশ্ন করলে সেও সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে।

পরে ঘরোয়া আয়োজনে জান্নাতুলের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়। এখন সাগর নামে ছেলেটি জান্নাতুলকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছে। আমি যতদূর জেনেছি সাগরের স্ত্রী ও সন্তান আছে। এখন বিষয়টি আইনগতভাবেই সমাধান হবে।

আর জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে তার বাবার বাড়িতে গেলে ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি।’

বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তার মা হাচিনা বেগম বলেন, ‘সাগরের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল৷ তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট বুঝে নাই, যে কারণে সেসময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪/৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।’

আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদে আসার কথা। এরকম কোন কপি কখনো পাননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা খেয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি।’

আবু বক্কার বলেন, ‘সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি জান্নাতুলের বাবাকে নোটিশের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকি। তবে নোটিশ পেয়ে তিনি তার ছোটভাই ও তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমি যেন পরিষদে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেই। তবে এর ১/২ দিন পরে তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা বসতে চান না।

আইনগতভাবে তারা বিষয়টি সমাধান করতে চান। পরে আবার তারা বসতে সম্মত হলে জান্নাতুল ও তার বাবা এবং তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ পরিষদের অন্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বসেছিলাম। সাগরও সেখানে ছিল। তবে সেখানে জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে কোনভাবেই সাগরের সঙ্গে ঘর সংসার করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা নির্যাতিত হয়। কিন্তু ছেলেরা যে কতোটুকু নির্যাতিত হয় তা এই সম্পর্কের জের দেখলে বোঝা যায়। আমাদের সমাজে ছেলেরা আরও বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। সেটা নীরবে নিভৃতে ছেলেরা সহ্য করে যাচ্ছে। আমি আশা করবো আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা বিষয়টি তুলে ধরবেন।

আপনাদের সংবাদের মাধ্যমে মানুষ যাতে সচেতন হতে পারে। আজকে আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর কোন ইউনিয়নে যেন এমন ঘটনা কোনদিন না ঘটে।’

Header Ad

শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

২৪ এর গনঅভূ্থানে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী, শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন।

এ সময় মোবাইল ফোনে লাউডস্পিকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেন, আব্দুল্লাহ দেশের জন্য মানুষের জন্য মানবতার কল্যাণের জন্য জীবনকে উৎস্বর্গ করে আল্লাহর দরবারে চলে গেছেন, আল্লাহ তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। শহীদরা মরে না। তারা আল্লাহর জীম্মায় জীবন্ত থাকে। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ খবর নেন,কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এর আগে তিনি নাভারণ দারুল আমান ট্রাষ্টে ওলামা সম্মেলনে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালে গুম হওয়া ইসলামি ছাত্র শিবিরে নেতা রেজোয়ানের বাড়িতে যান এবং খোঁজ খবর ও সমবেদনা জানান।

এসময় তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু বরনকারী সকলে ন্যায় বিচার পাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন। এবং গনঅভূ্থানে নিহত সকল পরিবারের সাথে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আছে থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোরের জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম রসূল, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আবু জাফর, মাওঃ শিহাব উদ্দিন শার্শা থানা আমীর রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা ইউসুফ আলী ও ঝিকরগাছা থানা আমীর মাওলানা আসাদুল আলম প্রমূখ।

Header Ad

বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

দিনাজপুরের বিরামপুরে বিশনি পাহান (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের ময়না মোড় এলাকার ধানক্ষেত থেকে ওই নারীর হাতবাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিশনি পাহান উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের বেণুপুর গ্রামের সাধন পাহানের মেয়ে।

নিহতের ভাই চরকা পাহান বলেন, আমার ছোট বোনের স্বামী বিশনি পাহানকে ছেড়ে চলে গেছেন। সে প্রতিরাতেই নেশা করতো। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার বাড়িতে থাকতো আমার বোন। আমার বোন এলাকায় মানুষের জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। শুক্রবার বিকেলে এলাকার এক ব্যক্তির জমিতে ধান কাটার কাজ শেষ করে আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে ধানক্ষেতে হাতবাঁধা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে আদিবাসী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে তাকে কে বা কাহারা হত্যা করেছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল
শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন
বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার
বিএনপির কাঁধে অনেক দ্বায়িত্ব: তারেক রহমান
'জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত'- তোফায়েল আহমেদ
৩ মাসে জ্বালানি খাতে সাশ্রয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা : জ্বালানি উপদেষ্টা
জুটি বাধলেন মিঠুন চক্রবর্তী-আফসানা মিমি
দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই : তারেক রহমান
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা
অক্টোবরে সড়কে প্রাণ গেছে ৪৭৫ জনের
গায়ানায় দলের সঙ্গে যোগ দিলেন সাকিব
আইপিএল নিলামের আগেই নিষিদ্ধ হলেন ভারতের ২ ক্রিকেটার
গাজীপুরে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কবে বিয়ে করবেন জানালেন তামান্না ভাটিয়া
পঞ্চগড়ে ৫০০ টাকায় সন্তান বিক্রি, অতঃপর যা ঘটল...
অ্যান্টিগায় প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে টাইগাররা
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পরীমণির প্রথম স্বামী
বিচারের আগে আ.লীগের মাঠে থাকার সুযোগ নেই: উপদেষ্টা নাহিদ
মাকে হত্যার পর থানায় হাজির ছেলে
৮ ক্রিকেটারসহ ৯ জনকে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি