শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

নিভৃত মননে

সন্ধ্যার পর থেকে নিদারুণ অস্থিরতায় ভুগছি। কেন এমন লাগছে বুঝতে পারছি না। বারান্দায় বসে বসে মোবাইল সেটের বাটন টিপছিলাম আনমনা হয়ে। কারো সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলব ভেবে পাচ্ছি না। হঠাৎ আমার মোবাইল সেটে রিং বাজলো। অজানা নম্বর দেখে লাইন কেটে দিলাম। অচেনা কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। আবার রিং হলো। খুব অন্যমনস্কভাবেই এবার ধরলাম।  - হ্যালো, কে বলছেন?
- আমি... (একটু আমতা আমতা করছে) আবির। আপনি কি তামান্না?
- হ্যাঁ, আমি তামান্না। কিন্তু আপনি কে? 
- আমি আবির হাসান। আপনার দূর সম্পর্কের এক ফুফাতো ভাই। আপনাদের গ্রামের বাড়ি মুকুন্দপুর, ভোলা। আমি কি ঠিক বলেছি? 
- হ্যাঁ। ঠিকই তো বলেছেন কিন্তু আপনি...?
- আপনার বাবার নাম আহমেদ সুলতান কাদেরী।
- হ্যাঁ। আচ্ছা... আপনি দেখছি সবই চিনেন কিন্তু ...
- কিন্তু... আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না, এই তো?
-সত্য কথা বললে, হ্যাঁ, আমি আপনাকে চিনতে পারছি না। একটু বিস্তারিত বলুন। অনেক দিন হয়তো দেখা নেই, কথা নেই। 
- আমার বাবার নাম জায়েদ হাসান। আমার নাম আবির হাসান। আমি ছেলেবেলায় আপনাদের বাসায় অনেকবার গিয়েছি। 
আবির হাসান নামটি শোনার পর আমি কোনো কথা বলতে পারিনি। আবিরও না। মনে হলো সহস্রবছরের অনুসন্ধানের পর কাঙ্ক্ষিত ফসিল পেয়ে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। আবিরও কি তাই? এভাবে কিছুক্ষণ সময় কেটে গেল বিমূঢ় ঘোরের মধ্যে।  
- আমাকে চিনতে পারছেন না? 
- হ্যাঁ। পেরেছি। সেই যে কবে থেকে তোমাকে খুঁজছি আর তোমার দেখা পাইনি। এভাবে কোথায় কোন সাগরের ঝিনুকের পেটে লুকিয়েছিলে? আমি তুমি করে বলে ফেললাম কিছু মনে করো না আবির। 
- না, কিছু মনে করিনি। আমিও ভাবছিলাম তুমি যদি আমাকে আগের মতোই বলতে তাহলে ভালো লাগতো। খুব ভাল লাগতো। সত্যি... খুব ভাল লাগছে তামান্না। খু..উ..ব।  
- কী করছ? কোথায় আছ? কেমন আছ?
- কীভাবে তোমাকে বলব বুঝতে পারছি না। ঢাকায় থাকি। জনবহুল দমবদ্ধ বসবাস অযোগ্য এক শহরে। তুমি?
- কুষ্টিয়াতেই। ঢাকায় স্যাটেল করেছ?
- হ্যাঁ। 
কী বলব, কিছুই ভাবতে পারছি না। বুকের শব্দপাখিরা হঠাৎ কোথায় যেন উড়ে গেল। নিজেকে মনে হলো সহস্রবছরের ফসিল যার মধ্যে প্রাণের স্পন্দন নেই। এমন নির্জীবতা কেন, তা বোঝার জন্য যখন নিজের মধ্যে ডুবে বুঁদ হয়ে পড়ে রইলাম তখন আবিরের কথা শুনে সম্বিত ফিরে পেলাম। 
- কথা বলছ না কেন?    
- ও! হ্যাঁ। এতদিন কোথায় ছিলে? একটিবার খোঁজ-খবর না নিয়ে পারলে? 
- কীভাবে যোগাযোগ রাখি বলো? বড়রা সুযোগ না দিলে ছোটরা পারে না। বেহায়াপনা হয়। 
- তত্ত্বকথা। তোমার কথা সব সময় ঠিক নয়। বড়-ছোট কোনো কথা নয়, ছেলেদের যোগাযোগ রাখা যতটা সহজ মেয়েদের পক্ষে ততটা সহজ নয়। বলো সত্যি বলিনি? 
- হয়তো সত্যি, নয়তো না। তখন দুজনের দুটি ধারা ছিল। হয়তো অবিমৃষ্যকারী ধারা। তেল আর জলের ধারা।  
- তুমি আগের মতোই আছ। পুরনো ছাঁচেই কথা বলো। 
- অনেকটা সময় আমরা দুজনের কেউ কোনো কথা বলতে পারিনি। আমার বুকের ভেতরটা বরফের মতো জমে গেছে। জানি না আবিরেরও সে রকম কিছু হয়েছে কি না। হাজারো কথার ভেতর কথা হারিয়ে ফেললাম। কোনটা বলব? এতদিন পর তার কথা শুনেই এলোমেলো। জীবনের একেক সময় হয়তো একেক কথা জরুরি হয়ে পড়ে। 
- কী করছ আবির? 
- একটা আর্ট ফার্ম দিয়েছি। ছবি আঁকি। আগামী মাসের ১০ তারিখ আমার একটা এক্সজিবিশন আছে। তুমি আসবে... এজন্যই তোমাকে ফোন করা। 
- আমার ফোন নম্বর কোথায় পেলে?
- রুহি খালার কাছ থেকে। 
- তুমি অনেক বড় হয়ে গেছ। আমি ছোটবেলায় ভাবতাম তুমি জীবনে অনেক বড় হবে। তোমার বুদ্ধিদীপ্ত চোখেই আমি দেখতে পেতাম তুমি অনেক বড় মাপের মানুষ। হয়তো আমার স্বপ্নেই তুমি বড় হয়েছ। 
- এভাবে বলো না তামান্না। তবে তোমাদের মতো বড় হওয়ার এক স্বপ্নে তাড়িত হতাম আমি। সে অর্থে হয়ত তোমার স্বপ্নেই আমি এতটা পথ এসেছি। 
- মনে হচ্ছে তুমি ঝিনুকের গর্ভে লুকিয়ে গিয়ে মুক্তোই হয়েছ। খুবই ভালো লাগছে ভাবতে। কিন্তু এই ভালো লাগাটা কোনোভাবেই প্রকাশ করতে পারছি না আবির। জীবন কি আশ্চর্য, তাই না?
- হ্যাঁ... তাই...। জানো তামান্না, তোমার কথা আমার প্রায়ই মনে হতো। বলা যায় প্রতিদিনই নিভৃতক্ষণে। কিন্তু আমি সাহস পেতাম না তোমার সঙ্গে দেখা করতে। পাছে তুমি কী ভাবো? তোমার আব্বু, আম্মু তারাই বা কী ভাবেন? তোমরা এত বড়লোক ছিলে যে তোমাদের বাড়ির দিকে তাকালে আমার চোখ ঝলসে যেত। তখন মনে মনে ভাবতাম তোমাদের মতো যদি কোনোদিন হতে পারতাম! 
- তুমি তো আমাদের চেয়ে অনেক বড় হয়ে গেছ। জানো আবির, আমিও তোমাকে মনে মনে খুঁজতাম। যখন স্কুলে যেতাম তখন মনে মনে ভাবতাম তোমাকে যদি কোথাও দেখতে পেতাম। ছোট্ট শহর কুষ্টিয়া। সেই শহরে গাড়ি দিয়ে যেতাম। সামান্য পথ, পাঁচ মিনিটেই পথ শেষ। পথ কিংবা সময় দীর্ঘ হলে হয়তো কোনোদিন পেয়েও যেতাম। নানান কাজে নিশ্চয়ই তুমি কুষ্টিয়ায় আসতে, তাই না?
- হ্যাঁ। অনেক সময় কাজ ছাড়াও যেতাম। তোমাকে পথে পথে খোঁজতাম। কোনোদিন তোমাকে দেখিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর তোমাদের বাড়িতে যেতে সাহস হতো না। কী উছিলায় যাব? বছরান্তে হিসেব করেছি তুমি এই ক্লাসে উঠেছ, আগামী বছর এই ক্লাসে উঠবে। যখন কলেজে পা রেখেছ, একদিন মনে মনে ভাবলাম কলেজে তো আর বাধা নেই। তোমার সঙ্গে একবার দেখা করি। কিন্তু পরে জানলাম তুমি মেয়েদের কলেজে পড়। সেখানে গিয়ে কীভাবে তোমার সাথে দেখা করি বলো? 
- তুমি আসতে পারতে। জানো, আমি ছেলে হলে ঠিকই তোমাকে খঁজে বের করতাম। 
- সবচেয়ে বড় কথা কি ছিল জানো? 
- কী করে জানব?
- বড় কথা ছিল তোমার সঙ্গে দেখা করে আমি কী বলব? সে রকম কোনো কথা বলার ভাষা ও উছিলা পাইনি বলেও যাওয়া হয়নি। তারপর সত্য কথাটা যদি কেউ শুনত যে, এক হতদরিদ্র পিতার এক ছেলের মনের ভেতরে তোমাকে দেখার এমন বাসনা তাহলে মানুষে কি ভাবতো, বলো? তোমার আব্বা-আম্মুই বা কী ভাবতেন? অকৃতজ্ঞ মানুষের দলে আমাকে ভিড়াতেন। তাই না?
- তা নিরেট সত্য। তোমাকে কেউ হয়তো সহ্যই করত না। তবে আমার মনে হতো তোমার ভেতরে তেজের নেভা আগুন আছে। তুমি একদিন অনেক বড় হবে। তুমি যখন বাগানে বসে ছবি আঁকতে তখন আমি তোমাকে দেখতে পেতাম তুমি বড় মানুষের দলে। এইসব উছনে যাওয়া তথাকথিত ধনী মানুষের চেয়ে তুমি অনেক উপরের এক মানুষ।  আবির কোনো কথা বলছে না। টেলিফোনে ভারি বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ হচ্ছে।  আমিও কথা বলতে পারছি না। মন ও মননে এমন অসাড়তা আমি আর কোনোদিন অনুভব করিনি। দম বন্ধ হয়ে আসা এক গুমোট বদ্ধঘরে যেন আটকা পড়লাম। চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। জানালালাগোয়া বকুল গাছ থেকে টোপ টোপ করে পাতা ঝরছে। শুধু ভাবছি দিনে দিনে আমি কেমন করে তার কাছে হেরে গিয়েছিলাম। একি পরাজয় নাকি ঈর্ষা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না আজ। নাকি ধনি-দরিদ্রের মধ্যকার বিভেদের হিংস্রতা, নাকি আমার বাবা-মা কর্তৃক আরোপিত হতদরিদ্রদের থেকে দূরে থাকার অনুপনেয় নির্দেশ নাকি, বস্তুর দ্বান্দ্বিকতা, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে আবিরের কথা শুনে আমার পুঁজিবাদ আর্শীবাদপুষ্ট ঠুনকো আভিজাত্যকে এই মুহূর্তে ঘৃণা হচ্ছে। একজন মানুষের জীবনে বড় হওয়া কোনো বিষয় না যদি তার মধ্যে তেজ থাকে, আকাঙ্ক্ষা থাকে। মৌলিকতা আর তেজহীন মানুষের প্রাচুর্য থাকলেই কি...সে আর জড়বস্তুর মধ্যে পার্থক্য কী?  
- হঠাৎ নীরব হয়ে গেলে কেন? কথা বলো তামান্না। নাকি বিরক্ত হচ্ছো?
- না... না... বিরক্ত হব কেন? এত বছরের জমানো কথা... কোনটা রেখে কোনটা বলি বলো... তাই একটু এলোমেলো লাগছে। 
- তোমার দেওয়া পেন্সিল ও রবারটা এখনও আমি যত্ন করে রেখেছি। 
- সত্যি বলছ? 
- হ্যাঁ। আমার টেবিলে সব সময় থাকে। এই তো আমার সামনেই চক চক করছে। সেদিন আমার মেয়েটা কামড়িয়ে একটু সামান্য ভেঙ্গে ফেলেছে। ও চকলেট ভেবে খেয়ে ফেলতে চেয়েছিল।  
- এগুলো এখনও রেখেছ?
- হ্যাঁ। এগুলোই তো আমার আশীর্বাদ। তোমার পেন্সিল দিয়েই আমি ছবি আঁকতে শুরু করেছিলাম। হঠাৎ মনে হলো এত সুন্দর পেন্সিলটা শেষ করে ফেলা ঠিক হবে না। সুন্দর জিনিস দিয়ে সুন্দর কিছু সৃষ্টি করতে হবে। তাই রেখে দিয়েছিলাম। তখন কী দিয়ে ছবি আঁকব, তাই ভেবে পাচ্ছিলাম না। একটা পেন্সিল কেনার সামর্থ্য তো আমাদের ছিল না, তুমি ভালো করেই জানো। তারপর কাঠ কয়লা দিয়ে মাটিতে ছবি আঁকা শুরু করলাম। মাটির বেড়ায়, স্কুলের দেওয়ালে, কলেজের দেওয়ালে অনেক ছবি এঁকেছি। অনেক পোর্টেট। আর তোমার দেওয়া পেন্সিল ও রবার... আমি এখনও রেখে দিয়েছি একটা সুন্দর ছবি আঁকব বলে। এত সুন্দর পেন্সিল দিয়ে কি আলতু-ফালতু ছবি আঁকা যায় বলো? 
- আমিও রেখেছি... বাবুই পাখির বাসাটি। আমার বিয়ের পর মাঝে মাঝে বদলির কারণে এখানে-সেখানে গেলেও আমি বাবুই পাখির বাসাটি সঙ্গেই নিয়ে যাই। আমার বাসা সাজানোর সময় এই বাবুইর বাসাটিও থাকে। কত মানুষ যে নিয়ে যেতে চেয়েছে... এটা কি কাউকে দেওয়া যায়, বলো? এত সুন্দর জিনিস একবার হাত ছাড়া হলে জীবনে আর ফিরে পাব, বলো?
অকস্মাৎ আবার নিরেট নীরবতা। আমার বুকের ভেতরটা এক প্রকার কান্নায় ভেসে যাচ্ছে। চোখ দুটি কেন ঝাপসা হয়ে গেল আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি বুঝতে পারছি না এখন আর কী বলব? বাবুই পাখির বাসাটি আমার ছোট ছেলেটা একটু নষ্ট করে ফেলেছে। আমি কেন তাকে বলব? সব কথা কি তাকে বলা উচিত? 
- তোমার সাথে আমার ক’বার দেখা হয়েছিল মনে আছে, তামান্না?
- আমার মনে নেই। তবে তোমাকে নিয়ে আমাদের বাগান বাড়িতে খেলতাম, তুমি গাছে চড়ে আমাকে জলপাই পেড়ে দিতে, অর্কিড পেড়ে দিতে... তা মনে আছে। তুমি খুবই সাহসী ছিলে। তোমার সাহস দেখে আমি তাজ্জব হয়ে যেতাম। 
- তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে আটবার। আব্বার সঙ্গে যেতাম তোমাদের বাসায়। মামি আমাকে তোমার বড় ভাইয়ের পুরান শার্ট দিতেন পরার জন্য। আব্বাকে টাকা দিতেন চলার জন্য। আব্বা খুব খুশি হতো, তোমার আম্মু-আব্বুকে আশীর্বাদ করত প্রাণ ভরে। 
- এসব কথা বলো না আবির। তুমি শুধু বলো, অর্কিডের কথা, জলপাইয়ের কথা...। আর বলো বাবুই পাখির বাসাটির কথা। সেদিন তোমার জামার নিচে লুকিয়ে এই বাবুই পাখির বাসাটি আমার জন্য এনেছিলে, তাই না? তারপর এক বিকেলে তুমি আমাকে আমাদের বারান্দায় নীরবে ডেকে নিয়ে এটা দিবে কি দিবে না এমন ইত¯তত করে এক সময় দিলে। আমি যে এতটা খুশি হবো তা তুমি ভাবতেই পারোনি। তারপর... খুশিতে তোমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। তাই না? তখন তুমি ফাইভে পড়তে আমি ফোরে... তাই না?  
আবির আর কোনো কথা বলেনি। মনে হলো দীর্ঘশ্বাস আছড়ে পড়ছে সেল ফোনের সেটে। আমার বুকেও অজস্র ঢেউ আছড়ে পড়ছে। একবার ভাবছিলাম আবিরকে বলি আমার বাসায় বেড়িয়ে যেতে। তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হয়। আমি বলতে পারলাম না। কারণ, ও ছোটবেলায় একদিন বলেছিল, ধনিরা গরিবদের বাড়িতে বেড়াতে যায় না। ওদের বাড়িতে কেউ বেড়াতে যায় না। ওরা শুধু অন্যদের বাড়িতে যায়। আজকে যদি আবির সেরকম কিছু ভেবে বসে তাহলে এই লজ্জা রাখব কোথায়? 
এক সময় লাইন কেটে গেল। আমি শত চেষ্টা করেও আর কানেকশন পাইনি। মানুষ জীবনে সব কিছু পায় না জানি। কিন্তু আমি অনেক কিছুই পেয়ে গেছি। আবির এখনও আমার দেওয়া পেন্সিল ও রবারটি রেখেছে একটি ভালো ছবি আঁকার প্রত্যাশায়... এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার জীবনে আর কী হতে পারে?  
হঠাৎ মনে হলো দক্ষিণ মেরুর শব্দহীন কোনো এক অজানা গহ্বরে আমি প্রবেশ করলাম। সেখানে কতক্ষণ ছিলাম আমার জানা নেই। আমার সমস্ত বিমূঢ়তা কাটিয়ে সম্বিৎ ফিরে পেলাম যখন অপু এসে বলল, ‘আম্মু  তোমার চোখে পানি কেন?’
টিটি/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত