শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৮

স্নানের শব্দ 

‘আহা কি ফাঁসাই না ফাঁসল এন সি, একেই বলে পচা শামুকে পা কাটা, ফাটা বাঁশের চিপায় আটকে যাওয়া । লোকাল ভাষায় এক্কেবারে মাইনকা চিপা যাকে বলে।’ কিছুক্ষণ আগে দরজায় নক করে ওসমান গণি তার কোট টাই সমেত ঢুকে পড়েছে শবনমের ঘরে। এখন তার সামনের চেয়ারে বসে জিহ্বায় চুক চুক শব্দ তুলে দুঃখ প্রকাশ করে এই মন্তব্য তার।  

‘খুবই দুঃখজনক।’ শবনম সতর্ক ভঙ্গিতে পাল্টা মন্তব্য করে ওসমান গণিকে পর্যবেক্ষণ করে। এদের কাছে মন খুলে কিছু বলাও বিপদ, জানে সে। তবুও এই মুহূর্তে সত্যিকারভাবে তার নিজের অনুভূতিটাই বলে শবনম, ‘উনার ফ্যামিলি.. মানে, এসব শুনে তার স্ত্রী সন্তানের প্রতিক্রিয়া কি হচ্ছে ভেবে খারাপ লাগছে আমার। কিছুই তো আর অজানা থাকে না এই জমানায় ..’‘উনি তো বলেছেন এসবই সম্পূর্ণ মিথ্যা। ষড়যন্ত্র, সাজানো নাটক। কোনো স্বার্থন্বেষী মহল তাকে বিপদে ফেলতে চাইছে। আর একটা কথা বলি ম্যাডাম, ওই নাফিসা আর পল্লবি দুইজনেরই পোষাক আশাক, চাল-চলন, স্বভাব চরিত্রে কিন্তু খেয়াল করছেন কিনা- বেশ সমস্যা ছিল! আমাদের কালচারে এসব যায়, বলেন! ’ওসমান গণি একটু সামনে ঝুঁকে চোখ ছোট করে বলে। 

‘এইসব কি বলছেন গণি? কিছু হইলেই মেয়েদের চলায় বলায় জামা কাপড়ে দোষ খোঁজা বন্ধ করেন তো। সমস্যাটা পোষাকে না, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে, আমাদের সামাজিক পারিবারিক শিক্ষায়। এই দেশে তিন বছরের মেয়েও রেপ হয়, হিজাব পরা মেয়েও খুন হয়! জানেন না আপনি? অপরাধীর দোষ দেখেন না, শুধু মেয়েদের চলন বলনের দোষ ধরেন! আপনার সঙ্গে আর একজন অশিক্ষিত মানুষের তাহলে কি পার্থক্য রইল! আমার সামনে এই ধরনের কথা একদম বলবেন না। ’ শবনম বেশ রাগত স্বরেই বলে।  

‘না না, ঠিক আছে। আসলে অনেকেই ওদের চলা ফেরা, তারপর, চরিত্র টরিত্র নিয়ে আলোচনা করছিল তাই বললাম আরকি! তবে কিছু মনে কইরেন না, আরেকটা কথা বলি, এনসি এবং ম্যানেজমেন্টের অনেকের ধারণা এসবের পেছনে আপনার হাত আছে।’ ওসমান গণি আচমকা গলা নামিয়ে বলে। এবার একটু চমকে যায় শবনম। ‘মানে? .. এই উদ্ভট ধারণার কারণ কি?’‘ওই তো আপনাদের সিস্টার হুড, উইমেনহুড আরও কি কি উইমেন ফর উইমেন ইত্যাদি কি সব আছে না? তা ছাড়া কারো তাল না পেলে ওইটুকু মেয়ের এত সাহস হয় কীভাবে, একটা প্রতিষ্ঠানের সিইওর বিরুদ্ধে বাজে কথা বলে!’

‘গণি, শোনেন,’ এইবারো রাগত সুরে কিন্তু দৃঢ় গলায় বলে শবনম। ‘আপনি এইসব উল্টা পাল্টা কথা একদম ছড়াবেন না। কোথায় শুনেছেন আপনি এইসব? কে বলেছে? আনেন তাকে আমার সামনে। আমি কোনোভাবেই এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। এইসব আজগুবি কথা কারা ছড়ায়, বলেন তো? কি উদ্দেশ্য তাদের?’‘না, মানে রাগ কইরেন না। পল্লবি তো আপনার আন্ডারে অনেকদিন কাজ করেছে। ওর সঙ্গে আপনার সম্পর্কও ভাল ছিল।’ ‘হ্যাঁ, ছিল। কিন্তু ও কখনো আমার কাছে এ সব বলেনি। আমি কিছুই জানতাম না। হয়ত ভেবেছে নালিশ করে লাভ হবে না। তাই বলেনি। তবে আমি মনে করি এই অভিযোগগুলির তদন্ত অবশ্যই হওয়া উচিত এবং দোষীদের শাস্তিও হওয়া দরকার।’ 

‘না না, তাতো অবশ্যই।’ ওসমান গণি সুর পাল্টায়। ‘তবে কিনা ঘটনা তো অনেক দিন আগের। একটা প্রশ্ন উঠতে পারে যে সেই সময় অভিযোগ করে নাই কেনো? এতদিন পরে কি উদ্দেশে এইসব বিষয় সামনে আসল? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না?’  ‘উফ! সবকিছুতে ষড়যন্ত্র খোঁজা আপনাদের বদভ্যাস হয়ে গেছে ভাই।’ শবনম বিরক্ত হয়। ‘আমাদের এমন প্রশ্ন তোলাই উচিত না যে আগে কেন বলোনি, এত দিন কেনো চুপ করে ছিল? আরে ভাই, একটা মেয়ে নানা কারণে এধরনের ঘটনাগুলো চেপে রাখে, আসলে চেপে রাখতে বাধ্য হয় সামাজিক বাস্তবতার কারণে। মেয়ে না হলে এ সব আপনি বুঝবেন না। এ দেশে তো সব কিছুতেই মেয়েদের দোষ!’ শবনম তার নিজের ভাষায় যতটা পারে ওসমান গণিকে বুঝিয়ে বলে। সোশাল মিডিয়া যে মেয়েদের মুখ খোলার ব্যাপারে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, মন খুলে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে অনেককে- সেটাও বলে সে।

ওসমান গণি অবস্থা বুঝে আর কথা না বাড়িয়ে কেটে পড়ে।  শবনম ভাল করেই জানে, ওর দুয়েকটা কথায় ওসমান গণির চিন্তা-চেতনা, দৃষ্টিভঙ্গি ম্যাজিকের মত নিমিষে পাল্টাবে না। বহু যুগ ধরে মনের বিপুল গভীরে শেকড় গেড়ে বসে থাকা ধারণা কয়েক মিনিটের একটা বক্তৃতায় বদলে যায় না। তবে ওসমান গণি গংদের উদ্দেশ্য ভাল না। তারা এই ঘটনার সঙ্গে শবনমকে জড়িয়ে ফেলে ফায়দা লুটবার চেষ্টা করছে। চোখ কান খোলা রেখে ওদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয় শবনম। টেবিলে রাখা স্বচ্ছ কাঁচের গোল পেপার ওয়েটটা পাঁচ আঙ্গুলের মাথা দিয়ে ধরে ঘুরায় সে। কোনো কিছু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে থাকলে এই কাজটা করে শবনম।

এই মুহূর্তে সব কিছু বাদ দিয়ে মি-টু আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিপীড়িত মেয়েগুলোর যন্ত্রণাটা বোঝার চেষ্টা করছে শবনম। দীর্ঘ সময় ধরে সবার অগোচরে নাফিসা তানজিনা নামের ওই অল্পবয়সি মেয়েটি বা ডানপিটে পল্লবি বুকের মধ্যে কিভাবে এই বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছিল ভেবে তার মন আর্দ্র ও কাতর হয়ে ওঠে। ওই ঘটনা নিশ্চয়ই ওদের হৃদয়ে একটা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে। সেই দুঃসহ ক্ষত কি সহজে সারবে? কয়েকদিন আগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছে একজন মডেল। স্পষ্ট করে হয়রানিকারীর নাম বলেছে সে। এই যে সাহস করে নিপীড়কের নাম পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়া তার একটা প্রভাব তো সমাজে অবশ্যই পড়বে। এতদিন যারা ভাল মানুষ সেজে সুন্দর মুখে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এই মেয়েরা একটানে তাদের সেই মুখোশ ছিঁড়ে ফেলেছে। যারা ভেবেছিল অন্যায় করে পার পেয়ে গেছি, কেউ কিছু জানবে না, যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াতে পারবে, তারা এখন ভয় পাচ্ছে। নারীকে অসম্মান করতে গিয়ে একটু হলেও তারা থমকে যাচ্ছে- এটাই বা কম কিসে? হয়ত তাদের পথ ধরে আরও অনেক নারী এগিয়ে আসবে, এধরনের ঘটনার শিকার হলে হয়ত তারা নির্ভয়ে মুখ খুলবে। যদিও এসব অভিযোগের বিচার হবে কিনা- তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারপরও থেমে যাওয়া চলবে না। প্রচলিত আদালতে না হোক সামাজিক বিচার বলেও তো একটা কথা আছে। শবনম ভাবে, এই যে মহা প্রতাপশালী এনসি, নাফিসা আর পল্লবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অফিস থেকে আপাত বিদায় নিতে বাধ্য হলো- সেটার কি কোনো মূল্য নেই? দ্বিতীয়বার এরকম ঘটনা ঘটানোর আগে অভিযুক্তরা কি দু’বার ভাববে না? একটুও শঙ্কিত হবে না? মৌসুমী একবার বলেছিল, আমাদের সমাজে নারী নিপীড়নের বিষয়টি অনেকটা সমুদ্রে ভেসে থাকা বিশাল হিমবাহের মতোই। এর উপরটা দেখা যায় সামান্যই, নিচে গোপনে জমাট বেঁধে থাকে বেশির ভাগ অংশ, যা আমরা দেখতে পাই না। সব ঘটনা প্রকাশ পেলে এর ভয়াবহতা বোঝা যেত। তখন ওই সব কুৎসিত ঘটনার ধাক্কা খেয়ে আমাদের সভ্য ভব্য টাইটানিক সমাজ ডুবন্ত জাহাজের মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ত। 

শুধু কি শারীরিকভাবেই মেয়েরা হেনস্থার শিকার হয়? শারীরিক মৌখিক মানসিক কত রকম ভাবেই না নিগৃহীত হচ্ছে নারী— বিশেষ করে কর্মজীবী নারী। যদি নিজের দীর্ঘ কর্মজীবন আতশ কাঁচের নিচে ফেলে দেখে তবে শবনমের জীবনেও কি ওরকম দু/চারটি হেনস্তার গল্প খুঁজে পাওয়া যাবে না? ঊর্ধ্বতন বস, পুরুষ সহকর্মী কিভাবে তাকাচ্ছেন, কি আচরণ করছেন, কি ধরনের কথা বলছেন সেসবও লক্ষ্য করার বিষয়। যদিও অনেক নারী বিষয়টি নিয়ে তেমন সচেতন থাকেন না। বোঝেন না কোনটি হয়রানি, আর কোনটি হয়রানি নয়! আবার কেউ কেউ হয়ত এমনই উপায়হীন অবস্থায় পড়েন যে তিনি সব জেনে বুঝেও মুখ বুজে থাকেন, চ্যালেঞ্জ করতে ভয় পান, পাছে তার চাকরিটা চলে যায়! খারাপ মানুষগুলো এই সুযোগটাই নেয়।  

তবে শবনম বেশ আশাবাদী। সামনে হয়ত নারীরা তাদের হয়রানির শিকার হবার ঘটনা ভয়ে লজ্জ্বায় আর চেপে রাখবে না বরং আরও বেশি করে সামনে আনবে। দোষীদের বিচার চাইবে। সময় আসলে একটু একটু করে বদলাচ্ছে। এতদিন স্থির হয়ে থাকা ঘড়ির কাঁটা অচলায়তন ভেঙে ঘুরতে শুরু করেছে। শুধু লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা যেন আবার থেমে না যায়। 

চলবে….

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

স্নানের শব্দ: পর্ব-৭

স্নানের শব্দ: পর্ব-৬

স্নানের শব্দ: পর্ব-৫

স্নানের শব্দ: পর্ব-৪

স্নানের শব্দ: পর্ব-৩

স্নানের শব্দ: পর্ব-২

স্নানের শব্দ: পর্ব-১ 

আরএ/

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী