শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৪

স্নানের শব্দ

এক বাড়িতে থেকেও শ্রাবণের সঙ্গে শবনমের দেখা হলো চারদিন পর। বাড়ির ভেতরেই লালনের আরশিনগর তৈরি হয়ে গেছে যেন, মেয়ে পড়শির মতোই বলল, ‘হাই, মা, তুমি এখনো বাসায়? অফিসে যাও নাই? আজকে তোমার কোনো জরুরি মিটিং নাই বুঝি?’
শবনম মেয়ের প্রশ্নের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পারলেও গলায় একটু স্নেহ মিশিয়ে হাসিমুখে বলে,
‘মিটিং বিকালে, তাই একটু দেরিতে যাচ্ছি, ফিরতে দেরি হবে, তুই?’
‘আমি একটা ফ্রেন্ডের বাসায় যাব, পল্টনে..’
‘চল, তোকে নামিয়ে দিয়ে যাই।’
‘উহু, দরকার নাই, আমি ঠিকই রিকশা নিয়ে চলে যেতে পারব।’
শ্রাবণ তার এক রাশ লম্বা কালো চুল রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে নিয়ে বলে।
‘সে তো পারবিই, তোর সঙ্গে একটু গল্প করতে করতে গেলাম না হয়, তুইও যা ব্যস্ত হয়ে গেছিস, আজকাল দেখাই হয় না তোর সঙ্গে..’

অনিচ্ছাতেও নাক কুঁচকে মায়ের সঙ্গে যেতে রাজি হয় শ্রাবণ। ছোটবেলায় পুতুলের মতো তুলতুলে যে মেয়েটা মার গলা জড়িয়ে ধরে জানতে চাইত সব বন্ধুদের মায়েরা স্কুলের সামনে বসে থাকে, ওর মা কেনো থাকে না? যে মিষ্টি নরম মেয়েটা ঠোঁট ফুলিয়ে ছলছল চোখে প্রায় সকালেই মায়ের শাড়ির আঁচল ধরে আবদার করত, ‘আজ অফিসে যেওনা মা’। সেই কোমল চঞ্চল শিশুটিকে আজকের শ্রাবণের মধ্যে খুঁজতে থাকে শবনম। ঠোঁটের কাছের সেই আহ্লাদি ভাবটা, চোখের তারার সেই বাদামী ঝিলিক, ছোট্ট লক্ষীমন্ত কপাল সব একই আছে শুধু সেই শ্রাবণ বেবী আর শিশু নেই, বড় এক তরুণী হয়ে গেছে। আমার সন্তান আর আমার নেই, তার এখন নিজস্ব ভাবনা আছে, তার আছে ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যাওয়ার তাড়া, সে স্বাধীনচেতা, নিজস্ব তার মন ও মনন, তার একান্ত স্বপ্নে নেই অন্যের এমনকি তার বাবা মায়েরও প্রবেশের অধিকার।

গাড়িতে চড়েই কানের মধ্যে হেডফোন গুজে দেয় শ্রাবণ, চোখ বন্ধ করে মাথা দুলিয়ে কি যেন শোনে। শবনম মেয়ের কাধে হাত দিয়ে ডাকে, ‘কি শুনিস?’
‘কি আবার? গান। শুনবা? দাঁড়াও ..’ শ্রাবণ হেডফোনের একটা প্রান্ত শবনমের কানে গুজে দেয়। পিংক ফ্লয়েডের ‘সো ইউ থিংক ইউ ক্যান টেল, হেভেন ফরম হেল’ বাজতে থাকে।
শবনমের অনভ্যস্ত কানে কন্যার পছন্দের হাইবিটের ইংরেজি সংগীত পীড়নের মতোই শোনায়। তবু মেয়ের মন রাখতে ঘাড় কাৎ করে কানের মধ্যে হেডফোনের বাটন লাগিয়ে শ্রাবণের পছন্দের কয়েকটা গান চোখ বুজে শোনে সে। শেষমেষ আর না পেরে বলে,
‘পরে আবার শুনব নে রে মা, আমার কানে তোদের এই সব গানের চেয়ে এখনো রবীন্দ্র সংগীত বা হারানো দিনের গান ভাল লাগে।’
‘জেনারেশন গ্যাপ, মা’
শ্রাবণ একটু হেসে বলে। ‘তবে ওদের গানের লিরিকসগুলো খুব সুন্দর, ফিলোসফিক্যাল, একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলে বুঝবা..’

শ্রাবণ আবার নিজের কানে হেডফোন গুজে নেয়। শবনম মেয়ের সঙ্গে গল্প করার জন্য বিষয় হাতড়ায়। কোনো প্রসঙ্গে কথা বললে শ্রাবণ ঝর্ণার মতো কলকল করে কথা বলবে ভেবে পায় না সে। কিছুদিন আগেও তাদের প্রসঙ্গের অভাব ছিল না, স্কুলের কোনো টিচার কিভাবে কথা বলে, কোন সাবজেক্ট পড়তে অসহ্য লাগে, কোনটা পানির মতো সোজা, কোন বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড হুমকি দিয়েছে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার, কোন বান্ধবী বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে এমন হাজার বিষয়ে অবিরাম কথা বলতো শ্রাবণ, বরং শবনমই সেসব কথার অর্ধেক শুনতো, অর্ধেক শুনতো না। এখন হয়েছে উল্টোটা, শবনমের মনে হয় তার কোনো কথাই হয়ত ঠিকমতো শোনে না শ্রাবণ। বেশি কিছু বললে বিরক্ত হয় বা চুপ করে থাকে।

কি নিয়ে কথা শুরু করা যায়, ফেমিনিজম? ক্যারিয়ার? ওয়ার্ল্ড পলিটিকস? মার্কসবাদ? কোনটা এই মুহূর্তে ওর পছন্দের বিষয়? আমার মা কি আমার সঙ্গে কথা বলার সময় এই সমস্যায় পড়ত, ভাবতে চেষ্টা করে শবনম। নিজের মায়ের সঙ্গে অনেক বিষয়েই মতের অমিল ছিল তার, মায়ের সরল গ্রামীণ বিচার বুদ্ধি আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে শবনমের চিন্তাভাবনার বিরোধ লেগেই থাকত কিন্তু সেই কারণে স্বাভাবিক কথাবার্তা চালাতে কখনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি। শ্রাবণ হয়েছে কিছুটা গম্ভীর আর চাপা স্বভাবের, ওর মনের তল খুঁজে পেতে তাই প্রায়ই হাবুডুবু খায় শবনম।
‘আচ্ছা, মা, আজকে সারাদিন তুমি অফিসে কি কাজ করবা?’

শ্রাবণ হঠাৎ কান থেকে হেডফোন খুলে একটু ঘুরে বসে মায়ের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞেস করে।
‘প্রতিদিন যা করি, মিটিং, ফাইল দেখা, সিদ্ধান্ত দেওয়া, জুনিয়রদের কাজের তদারকি করা এসব। তুই কি করবি?’ পাল্টা জানতে চায় শবনম।
‘এই তো মিরাকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হব, ও খুব আপসেট, জানো, আংকেল আন্টি ওকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, কিন্তু ও এখন বিয়ে করতে চায় না।’
‘কেনরে, ওর পছন্দের কেউ আছে?’
‘মা, সেই জন্য না। মিরা আসলে এখনই বিয়ে করার জন্য রেডি না। অন্তত পড়াশোনাটা তো কমপ্লিট করবে। থ্যাংকস গড, তোমরা এখনো এতো আমার বিয়ে টিয়ে নিয়ে ভাবো না। শুধু দাদিই মাঝে মাঝে বিয়ের কথা বলে।’
দাদির গলা নকল করে শ্রাবণ বলে, ‘নাতিন জামাই দেখতাম চাই, কয়দিন বাঁচি জানি না। মইরা গেলে আফসুস থাকবো। তুই তাড়াতাড়ি ভাল দেইখ্যা একটা বিয়া বস।’
‘তোর পছন্দের কেউ আছে নাকি? ছেলেবন্ধু?’ শবনম মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করেই ফেলে।
‘ছেলে বন্ধু আছে, কিন্তু স্পেশাল কেউ নাই মা। কাউকে পছন্দ হয় না, মনে হয় হবেও না, চিন্তা ভাবনা রুচি বিশ্বাস আদর্শ কিছুতে মেলে না। কেমন সব বলদ বলদ লাগে সব গুলোকে, আর ওরা এমন সব বিষয় নিয়ে তর্ক করে, যা নিয়ে আমার কথা বলতেও ইচ্ছে করে না। উফ, খুব ইমম্যাচিওর মনে হয়! আমি বাপু বিয়ে টিয়ে করব না, ঠিক করে ফেলেছি, নিজের মত স্বাধীন জীবন যাপন করব, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াব, বুড়ো হলে একটা ওল্ড হোমে চলে যাব। কেমন হবে বল!’

শ্রাবণ তার স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য ভেঙে এক টানা নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলে। শবনম মেয়ের কথায় সায় দিয়ে সামনের রাস্তায় চোখ রেখে বলে, ‘ভালই তো! বেশ রোমান্টিক প্রথা বিরোধী জীবন। মনমানসিকতায় মিল না হলে কোনো সম্পর্কে না জড়ানোই ভাল। বিয়ে করতেই হবে, কে বলেছে..’
শ্রাবণ হেসে বলে, ‘অরুন্ধতি রায়ের মা নাকি তার মেয়েকে বলেছিলেন, আর যাই করো না কেন, কখনো বিয়ে করো না। হা হা হা, তুমিও সেই পথ ধরলা নাকি?’
শবনমও মেয়ের সঙ্গে হাসে, বলে, ‘আমি অতটা শক্ত করে কিছু বলছি না, যে বিয়ে করোই না, আমি বলতে চাচ্ছি মন-পছন্দ মানুষ না পেলে খামোকা বিয়ের দরকার কি? একটা অসুস্থ সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর মানে নেই। তবে পরে যদি এমন কাউকে খুঁজে পাস যাকে খুব ভাল লেগে গেল, তাহলে বিয়ে করতেও তো পারিস। আমি সেটাই বলছি।’
‘ও’।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ। শ্রাবণ একটু ভেবে বলে, ‘আচ্ছা, মা, বিয়ে না করলে তো বাংলাদেশে আবার বাচ্চা নেওয়া যায় না কিন্তু আমার আবার বাচ্চা খুব ভাল লাগে মা। আচ্ছা, দত্তক নিয়ে বাচ্চা পালা যাবে না? বাংলাদেশে তো অনেক বাচ্চারই বাবা মা থাকে না, সেরকম কাউকে দত্তক নিয়ে নেব..’
সামনের গাড়িটা হঠাৎ ব্রেক কষলে শবনমের গাড়িটাও একটা ঝাঁকুনি খায়, শ্রাবণের কথা শুনে মনে মনে সেরকম একটা ঝাঁকুনি অনুভব করে শবনম। বাংলাদেশের বাস্তবতায় অবিবাহিত একজন নারীর দত্তক সন্তান পালন সমাজ কিভাবে দেখবে, তা ভাবার চেষ্টা করে সে। মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
‘তুই সিরিয়াসলি এরকম ভাবছিস নাকি?’
‘হ্যাঁ, ইন্ডিয়ান একট্রেস সুস্মিতা সেনের মতো সিঙ্গেল মাদার হব।’

শ্রাবণ মিষ্টি করে হাসে। ‘বায়োলজিক্যাল মা হওয়া অনেক ঝক্কি। কিভাবে যে তুমি আমাকে জন্ম দিছ কে জানে? আমি তো আমার ইউটেরাসটাই ফেলে দিতে চাই, খামোকা শরীরে একটা বাড়তি অঙ্গ রাখার কি দরকার? মাসে মাসে ঝামেলা, ব্যাথা, অস্বস্তি আর কষ্ট সহ্য করা। আর আমি যখন বাচ্চা জন্ম দেব না বলেই ঠিক করেছি..আর এই বাজে নষ্ট পৃথিবীতে একটা বাচ্চাকে কেন আনব আমি? কি দরকার?’

শবনম বুঝতে পারে না, শ্রাবণ কি ওকে ঘাবড়ে দিতে চাইছে? মাকে অদ্ভুত সব কথা শুনিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়ে মজা পাচ্ছে ? ও তো আর এখন বাচ্চা মেয়ে নয়, একুশ বছরের একটা তরুণীর মুখে এসব কি ধরনের কথা? শবনম যেন নিজের একমাত্র সন্তানকে পুরোপুরি চিনতে পারছে না। কেমন একটা অস্বস্তি হয়।
‘মা, ভয় পাচ্ছ নাকি?’ শ্রাবণের মুখে দুষ্ট হাসি। রাস্তায় এখন আর জ্যাম নেই। গাড়ি প্রায় পৌঁছে গেছে পল্টনের কাছাকাছি। শবনম মুখে শুকনো হাসি ধরে রেখে বলে, ‘নাহ, তুই ভয় দেখাতে চাইলেই আমি ভয় পাব নাকি?’
শ্রাবণ বলে, ‘তাইলে সার্জারির পারমিশন দিয়ে দিয়েছ? যে কোনোদিন করিয়ে ফেলব কিন্তু..’
‘কিন্তু‘ শ্রাবণ, আরও পরে, কখনো তো তোর বায়োলজিক্যলি মা হওয়ার ইচ্ছা জাগতে পারে। মনে হতে পারে পৃথিবীর কোটি কোটি নারী যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে সেই অভিজ্ঞতাটা নিজেও নেই। ইউটেরাস ফেলে দিলে তো সেই অপশানটা থাকে না।’
গাড়ি মিরাদের বাড়ির গলির সামনে পৌঁছে গেছে। গাড়ি থেকে নামতে নামতে শ্রাবণ দৃঢ় গলায় বলে,
‘ইচ্ছা হবে না।’
‘যদি তোর বরের ইচ্ছা হয়?’
‘বিয়েই তো করব না..আগেই বলেছি। আর আমার শরীর সিদ্ধান্ত আমার..’ শ্রাবণ চিৎকার করে বলে।

তারপর শবনমের উদ্দেশে ডান হাত নাড়িয়ে গলির ভেতর হনহন করে হাঁটতে থাকে, একবারও পেছনে ফিরে তাকায় না।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>
স্নানের শব্দ: পর্ব-৩

স্নানের শব্দ: পর্ব-২

স্নানের শব্দ: পর্ব-১ 

আরএ/

Header Ad
Header Ad

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ২৮ জনের ৩ কোটি আত্মসাৎ, ফেরত দেওয়ার দাবি

সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে টাঙ্গাইলে ২৮ জনের কাছ থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ছয় দলালের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত ৬ দালাল হলেন, রহিজ উদ্দিন কাপালী, ছাবাস উদ্দিন কাপালী, সালমা বেগম, শাহ আলম, বাবুল কাপালী এবং সিয়াম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম মুকুল বলেন, প্রায় ২ বছর আগে ওই ছয় দালাল চক্র একত্র হয়ে আমাদের প্রলোভন ও বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে। পরে আমাদের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ও আমাদের পাসপোর্টও নেয় তারা। কিন্ত এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট ও আমাদের টাকা ফেরত দেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্ত পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযোগটি আমলে নেয়া হয়নি। চালাল চক্রের মূল হোতা রহিজ উদ্দিন কাপালী স্বপরিবারে পলাতক রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা মানবতার জীবনপন করছি। তারমধ্যে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে যাতে আমরা মামলা না করি।

ভুক্তভোগী এই ব্যক্তি আরও বলেন- দালাল চক্র যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে নজর রাখার জন্য জেলা প্রশাসন, র‌্যাব-পুলিশসহ সকলের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় ভুক্তভোগী এসএম মহিউদ্দিন বাদল, এসএম আশরাফুল হক কনক, অপূর্ব হোসেন, সেলিম রেজা, মাছুম, আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে চালাল চক্রের মূল হোতা রহিজ উদ্দিন কাপালীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শান্ত দেব বলেন, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ডকুমেন্ট দেয়ার কথা ছিলো, পরবর্তীতে তা আর দেননি। তবুও অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রশাসনে মোট ৫১৬ জন ওএসডি রয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব। এটি প্রশাসনে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তা, যা পূর্বে কখনো হয়নি।

এছাড়া, শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে কখনো এত সংখ্যক শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এর ফলে, নিচের স্তরের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ওএসডিতে রাখা কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয়করণের প্রবণতা এবং নিয়মবহির্ভূত পদায়ন-পদোন্নতির প্রভাব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এজন্য তারা আশা করছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা কমে যাবে এবং কর্মীদের মধ্যে ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ৮৪টি সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদ রয়েছে, এর মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকেই অতীতে শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তারা দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে নিয়োগ পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে, যারা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, ছুটি কিংবা প্রেষণের কারণে ওএসডিতে রাখা হয়েছে। তবে অন্যদিকে, অনেক কর্মকর্তাকেই দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং সিস্টেমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ে এবং তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যাদের কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক নেই, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে এবং ওএসডি ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

এছাড়া, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি ব্যবস্থাকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা বলেছেন, 'পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮' অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি শেষে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল করা উচিত। তারা পরামর্শ দিয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি অবস্থায় রেখে বেতন-ভাতা না দিয়ে, তাদের একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে অন্য কাজে নিযুক্ত করা উচিত।

এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্টও রায় দিয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখা যাবে না। মন্ত্রিসভা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি কমিটি গঠন করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে।

এই বিশাল সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, যার মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিবদের একটি বিশাল দল রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, বাকিরা পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ বা ছুটির কারণে ওএসডিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতার চিহ্ন। তারা মনে করেন, এটি কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা ও দক্ষতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

Header Ad
Header Ad

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে, তা আমাদের জন্য আনন্দের।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ভূরাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই দুজনের বৈঠক আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, এ বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষকে উপকৃত করবে।

এর আগে ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুল হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ২৮ জনের ৩ কোটি আত্মসাৎ, ফেরত দেওয়ার দাবি
প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড
ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!