বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক ভ্রমণ, পর্ব : ১

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা

পর্ব: ১

কায়রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের মধ্যবয়েসী ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ঢুলু ঢুলু চোখে পাসপোর্টের পাতা উল্টিয়ে একটিও শব্দ উচ্চারণ না করে ভিসার উপরেই একটা সিল দিয়ে ছেড়ে দিলেন। মাস্ক খুলতে বলা তো দূরের কথা আমার চেহারার দিকে একবার তাকিয়েও দেখলেন না। আমার আগে একই কাউন্টার দিয়ে বেরিয়ে গেছেন অগ্রজ সহযাত্রী আনিসুর রহমান রানা ভাই এবং আমার স্ত্রী মাহবুবা বেগম হেনা। আমিই ছিলাম কাউন্টারের শেষ যাত্রী, আমার দিকে পাসপোর্টটা ঠেলে দিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসার সম্ভবত আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। আসলে তো ঘুমাবার কথা আমাদের। রাত এগারোটায় ঢাকা থেকে উড়ে দোহায় ঘণ্টা দেড়েকের যাত্রা বিরতি দিয়ে স্থানীয় সময় সকাল আটটায় নেমেছি কায়রো। দোহার বিরতিটাও আসলে ছিল বিরতিহীন। সিকিউরিটি চেকিংয়ের পরে ছুটতে ছুটতে ভিন্ন টার্মিনালের গেট পর্যন্ত পৌঁছাবার আগেই বোর্ডিং শুরু হয়ে গেছে। চলতি পথে কখনোই ঘুমাতে পারি না, বিমানে তো একেবারেই নয়।

এক মিনিটে ইমিগ্রেশন পার হয়ে যাবার ফলে ভেবেছিলাম যাত্রাটা খুব সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু দেশ থেকে দেশান্তরে যাবার পথে কোভিড-১৯ টেস্ট নামে নতুন যে যন্ত্রণা যাত্রীদের জীবনে যুক্ত হয়েছে ঢাকা এয়ারপোর্টর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তা ভুলে গেলেও কায়রোর কর্তৃপক্ষ মনে হলো মক্কেল ধরার একটা ফাঁদ পেতে রেখেছে। ফলে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হলো। গুটি গুটি পায়ে সামনে এগোবার পরে দেখা গেল ইজিপশিয়ানরা হাতে হাতে পাসপোর্ট ফেরৎ নিয়ে ডানদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আর বাঁ দিকে জমে উঠছে পাসপোর্টের স্তূপ! হিজাবধারী মহিলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাকি পুলিশের লোক বুঝলাম না, আমাদের পাসপোর্ট রেখে দিয়ে একপাশে দাঁড়াতে বললেন। এক এক করে সকল ভিনদেশির পাসপোর্ট জমা নেবার পরে কর্মকর্তা গোছের একজন সেই পাসপোর্টের পাহাড় দুই হাতে তুলে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কোথায় চলে গেলেন কেউ জানে না।

একদল পোলিশ তরুণ তরুণী হৈ চৈ করতে করতে সামনে এগিয়ে একটা বসার জায়গা আবিষ্কার করার পরে আমরাও তাদের অনুসরণ করে ছোট একটা হল রুমের মতো ঘরে এসে ঠাঁই নিলাম। একটা বাংলাদেশি পরিবারসহ আরো দুচারজন যাত্রী কোভিড টেস্ট শেষ করে বেরিয়ে গেছেন। দীর্ঘক্ষণ বসে আছি তো আছিই। পোলিশদের কোনো চিন্তা ভাবনা নেই। দল ধরে ঘুরতে বেরিয়েছে, সঙ্গে একজন ট্যুর লিডার বা ট্রাভ্রেল এজেন্ট তাদের হয়ে ছোটাছুটি করছে। আমাদের হয়ে ছোটাছুটি করার কোনো ট্যুর অপারেটর নেই। অগত্যা রানা ভাই নিজেই খোঁজ নিতে গেলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কোভিড টেস্টের ব্যবস্থা করে ফিরে এলেন।


জনপ্রতি এক হাজার ইজিপশিয়ান পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ছয় হাজার টাকা হাতে নিয়ে একে একে সবার নাকে লম্বা কাঠি দিয়ে জোরেসোরে একটা করে গুতা দিয়ে স্প্যাম্পল কালেকশন শেষ হবার পরে আবার অপেক্ষার পালা। এবারে দুটি ভিন্ন চিন্তা এসে মাথায় ভর করল। প্রথমত: যদি আমাদের তিনজনের মধ্যে কোনো কারণে পরীক্ষায় কারও করোনা পজিটিভ চলে আসে তাহলে কী হবে! দ্বিতীয়ত: আমাদের ফলাফল আমাদের অনুকূলে থাকলেও তা পেতে কতো দেরি হবে এবং সেক্ষেত্রে এয়ারপোর্টের বাইরে আমাদের স্থানীয় অভিভাবক রানা ভাইয়ের পুত্র সৌরভ আমাদের জন্য কতোক্ষণ কোথায় অপেক্ষা করবে! সৌরভ জাতিসংঘের একটি সংস্থায় কাজ করে, আফিস থেকে হয়তো আধাবেলা ছুটি নিয়ে আমাদের নিতে এসেছে। কিন্তু ওর সাথে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। আমাদের ভাগ্য ভালো নাকি কায়রো এয়ারপোর্টে কোভিড পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত স্বাস্থা কর্মকর্তাদের বাণিজ্য বুদ্ধি ভালো, বলা মুশকিল! আমাদের অবাক করে দিয়ে মিনিট পনের পরে রানাভাই হাসতে হাসতে তিনটি পাসপোর্ট হাতে এসে বললেন, ‘রিপোর্ট নিগেটিভ! এবারে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া যায়।’
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘রিপোর্টের কাগজ কই?’
‘কাজপত্র কিছুই দেয়নি, পাসপোর্ট হাতে দিয়ে বলল, তোমরা এবার যেতে পারো। আর কাগজ বলতে আরবি লেখা কিছু একটা দিয়েছে, সেখানে কারও নাম বা টাকার অংক এমনকি পজিটিভ নিগেটিভ কিছুই লেখা নেই।’

সারা দুনিয়াজুড়ে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ফলে যে কোভিড টেস্ট বাণিজ্য শুরু হয়েছে, বুঝতে পারলাম, এটিও তারই একটি অংশ। ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যাবরোটারি টেস্টের রিপোর্ট দেখে সিল মেরে দেয়া ছাড়া আর কোথাও কেউ কিছু দেখতে চায়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ঘোষণাপত্র এবং এয়ারলাইন্সের ডিক্লারেশন ফর্ম নামের যে দুটি দীর্ঘ ছককাটা কাগজ যথেষ্ট সময় নিয়ে পুরণ করতে হয়েছিল, তার কোনো দরকার হয়নি। কাগজ দুটো আমার ফাইলেই পড়ে আছে। আমাদের লাগেজ একেবারেই সামান্য, তারপরেও চাকা গড়িয়ে টেনে নেয়ার চেয়ে ট্রলি নিঃসন্দেহে ভালো। ঢাকা বিমান বন্দরের মতো দুর্লভ ট্রলির জন্য অপেক্ষা করতে বা ট্রলি খুঁজে বের করতে হলো না। একটা আধুনিক এয়ারপোর্টে হাত বাড়ালেই ট্রলি। আমরা দুটি ট্রলি নিয়ে সবুজ দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাবার সময় আমার ট্রলিটা বারবারই ঘুরে এয়াপোর্টের ভেতরে ঢুকে যেতে চায়। এই ঘাড় বাঁকা ট্রলি কোনো রকমে ধাক্কা দিয়ে এয়ারপোর্টের বাইরে বেরোতেই দেখা হয়ে গেল সৌরভের সাথে। এক গাল হেসে কুশল জিজ্ঞাসার সাথে সাথেইআমার হাত থেকে ট্রলি নিজের হাতে নিয়ে নিল সৌরভ। পার্কিং জোনে ওর গাড়িটা যেখানে আছে সে পর্যন্ত ট্রলি ঠেলে হেঁটে যেতে হবে। রাস্তা পেরিয়ে অনেকটা নিচের দিকে পার্কিং লটে পৌঁছাতে ওর যে যথেষ্ট কষ্ট হবে তা বুঝতে পারছিলাম। তারপরেও সেই ট্রলি ঠেলে পিতা-পুত্র এসে পৗঁছালে আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। রানা ভাই পার্কিংয়ের কোনায় একটা কিয়স্ক থেকে কফির গ্লাস হাতে নিয়ে সিগারেট ধরালেন। আসলে কফি পানের চেয়ে ধূমপানটা তার জন্যে জরুরি হয়ে পড়েছিল, বুঝতে পারি। আমাদের যেহেতু ধূমপানের ঝামেলা নেই, তাই কফি পানেরও তাগিদ অনুভব করি না।

রানা ভাইয়ের সিগারেট শেষ হলে সৌরভ উঠে বসে ড্রাইভিং সিটে। এয়ারপোর্ট থেকে কায়রোর অভিজাত মাআদি এলাকায় সৌরভের বাসার পঁয়ত্রিশ কিলোমিটারের মতো দূরত্ব পঞ্চাশ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যায়। রাস্তায় দুই এক জায়গায় গাড়ির গতি শ্লথ হলেও তেমন কোনো যানজট নেই। পথে পথে উড়াল সেতু, বিভাজিত সড়ক দ্বীপে এবং দু পাশের ফুটপাথের ওপারে কিছু গাছপালা, বিশেষ করে মৃতপ্রায় খেজুর গাছের সারি চোখে পড়ে। যে কোনো আধুনিক শহরের মতোই দেয়াল দিয়ে ঘেরাবিশাল এলাকা জুড়ে সরকারি বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, বহুতল বাণিজ্যিক ভবন এবং বিস্তৃত আবাসিক এ্যাপার্টমেন্ট দেখতে দেখতে আমরা এগোতে থাকি। পথের পাশে নির্মাণ কাজের দক্ষযজ্ঞ এবং আবর্জনার স্তূপও দেখা যায়। সবকিছু মিলিয়ে প্রথম দর্শনে কেন যেন এই শহরকে বড় বেশি পুরোনো, ভীষণ ধূলি মলিন, ভাঙাচোরা আর অগোছালো মনে হয়।

আমরা প্রায় কুড়ি পঁচিশ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের মতো গাড়ি চলে ডান দিকের লেন ধরে। প্রথম দিকে অনভ্যস্ত চোখে মনে হতো রং সাইড দিয়ে যাচ্ছি, যে কোনো মুহূর্তে উল্টো দিক থেকে গাড়ি এসে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধবে। আজকাল আর সে ভয় নেই, তাছাড়া সৌরভ ড্রাইভ করে চমৎকার। মাঝে মাঝে পথের ডাইনে বাঁয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা বা দর্শনীয় কোনো কিছুর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল। আল নাসের সড়কের ডান দিকে সিটাডেল, কায়রো শহরের মধ্যযুগীয় প্রতিরক্ষা দুর্গ। সৌরভ বলল, ‘আমরা এখন সিটি অফ দ্য ডেড এর পাশে দিয়ে যাচ্ছি। ডান দিকের পুরো এলাকাটাই সমাধিক্ষেত্র।’

মুসলিম বিশ্বে যার পরিচিতি গাজী সালাহউদ্দিন নামে সেই সালা-আলদিন-আল-আইয়ুবীর দুর্গের উত্তরে দক্ষিণে বিস্তৃত কায়রোর কবরস্থান। ইসলামি শাসনামলে মোকাদ্দাম পাহাড়ের পায়ে ঐতিহাসিক নগর দেয়ালের বাইরে মৃতদেহ সমাহিত করার এই কবরস্থান এখন সিটাডেলের উত্তরে দক্ষিণে প্রায় চার কিলোমিটার বিস্তৃত! শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কায়রোর শাসক সম্প্রদায় এবং অভিজাত নাগরিকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৃতদেহ কবরস্থ করার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গড়ে উঠেছিল যে সমাধিক্ষেত্র, সেটির পরিচিতি কেন মৃত মানুষের নগরী!সমাধিক্ষেত্র বা সিমেস্ট্রি বলতে যেমন শান্ত সমাহিত, নীরব নির্জন একটি এলাকা বোঝায়, সিটি অফ ডেড তেমন কোনো গোরস্তান নয়। এখানে কেউ যদি নিজেকে ‘কবরবাসী’ বলে পরিচয় দেয়, তাহলে তাকে মৃত ভাবার কোনো কারণ নেই। কায়রো শহরের দুই কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস এই মৃতপুরীতে।



কোনো একটি শহর নগর বা জনপদ সম্পর্কে বই পড়ে, ছবি দেখে অথবা অন্য কারও অভিজ্ঞতার আলোকে আসলে কিছুই যে জানা হয় না, আমার আরও একবার সে কথা মনে হলো। কায়রোর একেবারে নগর কেন্দ্রে বিস্তৃত এলাকায় একটি অস্বাভাবিক বসতির অস্তিত্বের কথা এই শহরে না এলে হয়তো কখনো জানাই হতো না। ষোড়শ শতক থেকেই কবরস্থানের ভেতরে মৃতদের সঙ্গে জীবিতদের বসবাস শুরু হলেও সে সময় এখানে গোরখোদক, ফলক লিপিকার এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে যুক্তরাই কেবল বসতবাড়ি গড়ে তুলেছিলেন।

ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে কায়রোর আবাসন সংকট বাড়তে থাকলে সমাধিক্ষেত্রেও জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের কাছে ‘আল আরাফা’ নামের এই গোরস্তানে কবরের ফাঁকে ফাঁকে শুরু হয় ছোট ছোট ঘর তুলে বসবাস। কোথাও বিশিষ্টজনদের সমাধিই হয়ে যায় রূপান্তরিত ভবন। সড়কের পাশে দিয়ে চলতে চলতেই দেখা যায় গোরস্তানের সীমানা দেয়ালের ভেতরে দিব্যি সংসার পেতে বসেছে অসংখ্য মানুষ। এখানে দুটি কবরের দেয়ালের সাথে উঠে গেছে ঘরের দেয়াল, কবরের সাথে চুলা জ্বালিয়ে চলছে রান্না বান্না, কবরের সিমেন্টর খুঁটিতে দড়ি টানিয়ে শুকানো হচ্ছে নিত্যদিনের জামা কাপড়। কবরে হেলান দিয়ে তাস পিটানো কিংবা দুই কবরকে দুটি গোলপোস্ট বানিয়ে ছোটদের ফুটবল খেলার দৃশ্যও বিরল নয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে বর্তমানে নতুন করে এখানে বসবাসের উদ্যোগ নেয়া নিষিদ্ধ হলেও থেমে নেই কবরবাসীদের গৃহ নির্মাণ প্রকল্প। সুফি দরবেশ বুজর্গ ব্যক্তির কবর ঘিরে গড়ে ওঠা সমাধি ক্ষেত্র বসবাস উপযোগী করে নিয়ে আজও চলছে জীবিত ও মৃতের শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান।

আমরা একটি অভাবনীয় জনপদ অতিক্রম করে এগিয়ে যাই শহরের আরও দক্ষিণে। নীল নদের পূর্ব তীরে অভিজাত আবাসিক এলাকা মাআদিতে প্রবেশের পরপরই দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। সবুজ গাছপালায় ঢাকা, পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, সুদৃশ্য আবাসিক ভবন ও ঝকঝকে শপিংমল এবং দোকানপাট দেখে একই শহরের ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং তার স্পষ্ট প্রতিফলন দৃষ্টি এড়ায় না। এখানে রেস্টুরেন্ট, বার এবং পথের মোড়ে কিয়স্ক বা কফিশপ এবং প্রায় প্রতিটি বাড়ির সামনে থেমে থাকা ঝকঝকে গাড়ি দেখেও এখানকার লোকজনের অবস্থা ও অবস্থান অনুমান করা যায়। সৌরভের বাসা একটা এ্যাপার্টমেন্ট ভবন। একটু পুরোনো আদলে তৈরি হলেও ঠিক আমাদের বহুতল ভবনের এ্যাপার্টমেন্টের মতো মনে হয় না। একটা একক বাড়ি, চারিদিক খোলামেলা। কয়েক ধাপ সিঁড়ি এবং দীর্ঘ করিডোর পেরিয়ে কোলাপসিবল গেট লাগানো ছোট একটা লিফটে চারতলায় উঠে গেলাম। আমাদের দিন কয়েকের জন্য নির্ধারিত ঘরে এসে বারন্দার দরজা খুলতেই চোখে পড়লো একটা মসজিদের মিনার। আসার পথে রাস্তায় চোখে পড়েছে অসংখ্য মসজিদ এবং বেশ কয়েকটা গির্জা। মাআদি এলাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। অভিজাত এলাকায় মসজিদের সংখ্যা একটু বেশিই হবে এবং সেটাই স্বাভাবিক।

সকাল আটটায় এয়ারপোর্টে নেমে প্রায় ঘণ্টা চারেক পরেক ঘরে এসে ভীষণ ঘুম পাচ্ছিল। সৌরভের অফিসে যাবার তাড়া ছিল। দিনে দুপুরে খাবার অভ্যাস ও অনেক দিন আগেই বাদ দিয়েছে। তবে নিজে লাঞ্চ না করলেও আমাদের জন্যে রান্না করে টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখে গেছে। বাঙালি ঘরানার খাবার দিয়ে কায়রোর প্রথম লাঞ্চ শেষ করে বিছানায় পড়ার সাথে সাথে ঘুমের অতলে তলিয়ে গিয়েছিলাম। যখন ঘুম ভাঙল তখন পাশের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আজান।

(চলবে)

Header Ad
Header Ad

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এর আগে, সকাল ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকা ত্যাগ করেন।

ইতোমধ্যে বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অংশ নিয়েছেন। আলোচনার অংশ হিসেবে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে, যেখানে সাত সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ব্যাংকক স্থানীয় সময় বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখবেন ড. ইউনূস। এছাড়া, আগামীকাল (৪ এপ্রিল) তিনি মূল বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককের বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইনে বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাণিজ্য ও সমুদ্র নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তৃতীয় দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হবে।

এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

Header Ad
Header Ad

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা ভারতজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূসের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর এক আলোচনায় এস জয়শঙ্কর ভারতের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "ভারতের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধুমাত্র পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে না, বরং তাদের অনেককে সংযুক্তও করে। ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।”

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও কৌশলগত সংযোগকে আরও মজবুত করেছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এই বৃহত্তর ভৌগোলিক অঞ্চলে পণ্য, পরিষেবা ও মানুষের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভারত সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত এক দশকে ভারত বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে।"

তিনি আরও দাবি করেন, "সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়, পক্ষপাতমূলক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের বক্তব্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে এনেছে। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। বিশেষ করে, ভারত যে বাংলাদেশকে ভৌগোলিক প্রবেশাধিকার ছাড়াই নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে চায়, তা আরও স্পষ্ট হলো।

এই বিতর্ক বিমসটেকের কৌশলগত পরিকল্পনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বর্ণের দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেল ৪টার দিকে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করা সব দেশের ওপর নতুন রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশভেদে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮.৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১২৯.৪৬ ডলারে, যা আগের চেয়ে ০.৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ দাম প্রায় ৩,৭৬,৮৯৯.৩৩ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে বলেন, “নতুন এই শুল্ক পরিকল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কঠোর। এর ফলে স্বর্ণের বিক্রি আরও বাড়বে এবং ডলারের মান কমতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্বর্ণের বাজার এখনো চাঙা, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে। খুব শিগগিরই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,২০০ ডলার (প্রায় ৩,৮৫,৩৯৪.৮৮ টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। করোনা মহামারির পর থেকেই ডলারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের অন্যতম বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া, বিনিয়োগকারীরাও ডলারকে পুঁজি রাখার পরিবর্তে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন শুল্ক নীতি বাস্তবায়ন করে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা এর মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫