শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব: ৭

অঘ্রানের অন্ধকারে

শাবিনের দুহাত জোড়া কেকের প্যাকেট আর ফুল। সে ডোরবেল বাজাবে কীভাবে বুঝতে পারছে না। রিকশা থেকে নেমে অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে গিয়ে বৃষ্টিতে মাথা ভিজে গেছে। চোখের পাতায় বৃষ্টির পানি ঝুলে আছে। তাকাতেও অসুবিধা হচ্ছে। বেশ কসরত করে নাক দিয়ে লিফটের বাটন চেপে এখানে এসেছে।
আজ তুরির জন্মদিন। তুরি বলল, ‘নিকেতনে আসতে পারবেন?’
‘সেখানে কী?’
‘বান্ধবীর বাসা। সেখানে বার্থডে সেলিব্রেট করব। বান্ধবী আমাদের জন্য রান্না করবে বলেছে।’
তুরির জন্য শাবিন দুটো বই আর আড়ং থেকে নোটবুক কিনেছে। কালো কাপড় দিয়ে মোড়ানো। তারওপর সাদাসুতো দিয়ে নকশি সেলাই।
দরজা খুলে গেছে। তুরি দাঁড়িয়ে আছে সামনে। শাবিন অবাক হয়ে বলল, ‘বুঝলেন কীভাবে আমি এসেছি। বেল বাজাইনি।’
চোখের দুই পাতা নাচিয়ে তুরি বলল, ‘ম্যাজিক।’
শাবিন হেসে বলল, ‘নিজেকে অত বুদ্ধিমতী ভাবার কিছু নেই। সিসি ক্যামেরা আছে।’
তুরি হাসছে। তার পাশে একজন মেয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তুরি বলল, ‘আমার বন্ধু, সিলভিয়া।’
ব্যস্ত হয়ে সিলভিয়া বলল, ‘ভিজে গেছেন।’
শাবিন বলল, ‘ও কিছু না। একটু।’
বলে ডাইনিঙের টেবিলে কেক রাখল। ফুলের তোড়া আর নোটবুক তুরির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,‘ হ্যাপি বার্থডে।’
তুরির চোখ জলজল করছে। মনে হচ্ছে সেখানে পানি জমেছে। উপচে পড়বে এখুনি। আস্তে করে বলল, `থ্যাংকস।‘
সিলভিয়া বলল, `ঘরে এসে বসুন।’

শাবিন হাত দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসল। সাজানোগোছানো ছোটো বাসা। দক্ষিণ পাশে বারান্দা। ওদিকে রাস্তা। অনেকখানি খোলা জায়গা। আলোবাতাস আছে যথেষ্ট। রাস্তার ওপাশে অ্যাপার্টমেন্ট নেই। কন্সট্রাকশন হচ্ছে। তার ওদিকে মেইনরোড।
শাবিন বলল, `বাসায় আর কাউকে দেখছি না!’
সিলভিয়া বলল, `বসুন। চা নিয়ে আসছি। ভাই আর ভাবি থাকেন। তারা কক্সবাজার গেছেন। আমারও যাওয়ার কথা ছিল। আগামী পরশু পরীক্ষা আছে। যেতে পারলাম না।’
সিলভিয়া কিচেনে চলে গেল। তুরি চুপচাপ বসে আছে সামনে। শাবিন বলল, `আপনার অন্য বন্ধুরা আসবে?’
‘আর কেউ আসবে না। আপনি, আমি আর সিলভিয়া। সারাদিন এখানে থাকব। রান্না করব, খাব। নিজেদের মতো সময় কাটাব। আমি বলে এসেছি। আপনি বাসায় জানিয়ে দিন।’
শাবিন কিছুটা অবাক হয়ে বলল, `দিচ্ছি। কিন্তু...’
ভয় পাচ্ছেন? `ভয়ের কিছু নেই। আমরা দুজনই অতি ভালো মানুষ। আপনার কোনো ক্ষতি করব না।’
সিলভিয়া ঘরে ঢুকল লাফাতে লাফাতে। হাত নেড়ে বলল, `তুরি ভদকা খাবি? ডোন্ট মাইন্ড, শাবিন ভাই। আজ থেকে আমরা বন্ধু।’
শাবিন খানিকটা হাসিহাসি মুখ করে বলল, ‘না না ঠিক আছে। লেটস এনজয়। তুরির জন্মদিন আজ।’
তুরি কেমন যেন স্থির হয়ে বসে আছে। তাকে কিছুটা বিব্রত দেখাচ্ছে। শাবিনের মনে হলো বিব্রত হওয়ার তো কিছু নেই।
সিলভিয়া বলল, ‘ভাই-ভাবি যাওয়ার পর আমার বয়ফ্রেন্ড এক বোতল ভদকা দিয়ে গেছে। তার খানিকটা আছে এখনো। অবশ্য তাতে ডাবের পানি মিশিয়েছি। ডাবের পানি দিয়ে ভদকা খেতে অসাম লাগে।’
তুরি বলল, ‘এখন চা খাওয়া। আসছি আমি।’
সিলভিয়ার সঙ্গে তুরি চলে গেল। শাবিন ঘরে একা বসে আছে। ঘরের এককোনায় বুকসেলফ। সব ইংরেজি বই। শাবিন বাংলায় লেখা বই খুঁজল। সেখানে বাংলা কোনো বই নেই। দেয়ালে ওয়াল পেইন্ট। অনেকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থেকে শাবিন তার কিছু বুঝতে পারল না। ঘরের একপাশে হারমোনিয়াম আর ডুগি-তবলা সাজানো। শাফিন বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। বৃষ্টি নেই। আকাশে কালো মেঘ আছে।

চায়ের সঙ্গে ফ্রেন্সফ্রাই আর স্যান্ডউইচ নিয়ে এসেছে। সিলভিয়া বলল, ‘হুপ করে খেয়ে নিন তো। ঠান্ডা হয়ে যাবে। স্যান্ডউইচ বানিয়েছে তুরি।’
শাবিনের খেতে ইচ্ছে করছে না। সে ভেবেছিল কয়েকটা ফ্রেন্সফ্রাই খাবে শুধু। সিদ্ধান্ত বদলে স্যান্ডউইচ খেয়ে নিল।
চা থেকে সুন্দর গন্ধ আসছে। কী চা কে জানে। দুধ চিনি দিয়ে বানানো। চায়ের রং হয়েছে অসাধারণ।
চায়ে চুমুক দিয়ে সিলভিয়া বলল, ‘মেয়েদের সিগারেট খেতে দেখলে অনেকের চোখ খুলে মাটিতে পড়ে যায়। আশা করি আপনার সেরকম কিছু হবে না।’
সিগারেটের প্যাকেট বের করে সিলভিয়া এগিয়ে দিলো শাবিনের দিকে। শাবিন বলল, ‘আমি অ্যামেচার। রেগুলার না।’
‘আমিও আপনার মতো। ভাই-ভাবি বাসায় নেই। তাই মাস্তি করে নিচ্ছি। তা নাহলে বাসায় সিগারেট, মদ—অসম্ভব।’
শাবিন প্যাকেট থেকে সিগারেট টেনে নিল। সিলভিয়া হাত বাড়িয়ে তুরিকে সিগারেট অফার করল। তুরি নেয়নি। বলল, `নারে খাব না। সিগারেট খাওয়ার পর অনেকক্ষণ মাথার ভেতর কেমন যেন ভোঁতাভাব হয়ে থাকে।’
কেক কাটা হয়েছে হইহই করে। তিনজন একসাথে গলা ছেড়ে জন্মদিনের গান গাইল। প্রত্যেকে প্রত্যেককে কেকের টুকরো মুখে তুলে খাইয়ে দিয়েছে। সিলভিয়া দুহাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল তুরিকে। অনেকক্ষণ ধরে রাখল।  

দুপুরে খাওয়া হলো দুর্দান্ত। তিনজন মানুষের জন্য রান্না, মনে হচ্ছে বারোজন খেতে পারবে। সাদা ভাত, কয়েকরকমের শাক-সবজি, ভর্তা, মাছভাজা, মাছের ঝোল তরকারি, চিকেন, বিফ, সালাদ, ডাল। শাবিন ধীরেসুস্থে আরাম করে খেয়েছে। খেতে খেতে জানতে চাইল, `গান গায় কে?’
সিলভিয়া বলল, `বড়ো আপা। রেগুলার রেওয়াজ করার সময় পায় না। তার বারোভাজা কাজ।’
তুরি বলল, `সিলভিয়াও ভালো গায়।’
সিলভিয়া বলল, ‘ঘরে হারমোনিয়াম থাকলে সবাই গাইতে পারে। ভালো গাই না। তবে গাই। মানে চেষ্টা করি।’
শাবিন বলল, ‘তাতেই হবে। আজ আপনার গান শুনব।’
‘তুরিও গান গায়, ভালো।’
‘তার গানও শুনব।’
তুরি বলল, ‘আজ না, আরেকদিন।’

তুরি খাচ্ছে না। সে হাত গুটিয়ে বসে আছে। ওদের কথা শুনছে। তারা এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছে না যে ভাত না খেয়ে হাত গুটিয়ে কথা শুনতে হবে।
শাবিন বলল, `খাচ্ছেন না যে!’
সিলভিয়া হাসছে। মিটমিটি হাসি। কিছুটা দুষ্টুমি খেলা করছে হাসিতে। ঠোঁটে হাসি ঝুঁলিয়ে রেখে বলল, `আমাদের এখানে কাউকে খাবার তুলে দেওয়ার ট্রেডিশন নেই। কেন জানি মনে হচ্ছে তুরির খুব ইচ্ছে করছে আপনাকে খাবার তুলে খাওয়াতে।’
লজ্জা পেয়ে তুরি বলল, `যাহ্।’
শাবিন বলল, ‘নিজের খাবারটুকু নিজে নিয়ে খেতে পছন্দ করি। তবে আপনি চাইতে তুলে দিতে পারি।’
সিলভিয়া মুখের খাবার চিবিয়ে গিলে নিয়ে বলল, ‘গান আমি শোনাব, আমার একটা শর্ত আছে।’
‘কী শর্ত? পে করতে হবে? আপনার গান তবে অমূল্য নয়!’
`উহু তা নয়। আমরা বয়সে আপনার এক বা দুবছরের ছোটো হলেও ছোটো। আপনি আমাদের ‘তুমি’ করে বলবেন। বলুন, তুরি, তোমাকে কি আরেকটু রাইস দেব?’
শাবিনের মুখে ভাত ছিল। হাসতে গিয়ে মুখের ভাত বের হয়ে আসছিল প্রায়। হাতের উলটোপিঠ দিয়ে আটকাল। হেসে বলল, `তুরি আমি কি তোমাকে আরেকটু রাইস দিতে পারি?’
তুরি অমনি লজ্জা পেয়েছে। প্লেট তুলে নিজের কোলের দিকে টেনে নিয়ে বলল, `না না, আমার খাওয়া শেষ।’

 দুপুরের পর খেপাটে বৃষ্টি শুরু হলো। খাওয়া শেষে ওরা ড্রয়িংরুমে ছড়িয়েছিটিয়ে বসল। স্টেরিওতে গান বাজছে। তারা তিনজন সিগারেট জ্বালালো।
শাবিন ভেবেছিল বৃষ্টি ছাড়লে চলে যাবে। বৃষ্টি ছাড়ল সন্ধ্যার আগ দিয়ে। মেঘ কাটল না। আকাশ ঘন কালো মেঘে ভারী হয়ে থাকল।
সিলভিয়া বলল, `সন্ধ্যার পর গান শোনাব। তারপর আমরা কার্ড খেলব। বাসায় বলে দিন বন্ধুর এখানে আছেন। আজ ফিরবেন না।’
শাবিন যে মাঝেমধ্যে বন্ধুর বাসায় রাতে থাকে না এমন নয়। তবে আজকের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। সে কখনো এমন পরিস্থিতিতে থাকেনি। শুরুতে খানিকটা অস্বস্তি লাগলেও এখন তেমনকিছু মনে হচ্ছে না। টেলিফোনে মাকে বলল, `মা, বৃষ্টি হচ্ছে খুব। রাতে ফিরব না। ফ্রেন্ডের বাসায় থেকে গেলাম।’

সন্ধ্যা মিলিয়েছে কিছুক্ষণ হলো। ওরা তিনজন ফ্লোরে বসে আছে। সিলভিয়া ভদকা নিয়ে এসেছে। তিন গ্লাসে ভদকা ঢালল। তিনজন হাতে নিয়ে গ্লাসে গ্লাসে লাগিয়ে বলল, ‘চিয়ার্স।’
শাবিন বলল, `তুরির জন্য শুভকামনা।’
সিলভিয়া বলল, `তার মনের সকল আশা পূরণ হোক।’
বোতলে একেবারে কম নেই ভদকা। সিলভিয়া বেশ দ্রুত খাচ্ছে। তার দেখাদেখি মনে হলো তুরিও বেশি খাচ্ছে। শাবিন তখনো প্রথম গ্লাস শেষ করতে পারেনি। সিলভিয়া আর তুরি দ্বিতীয় গ্লাস নিয়েছে।
শাবিন বলল, `গান!’
সিলভিয়া হারমোনিয়াম ছাড়া খালি গলায় গান গাইল। তার গানের গলা ভীষণ রকমের সুন্দর। সে গাইছে জলের গান ব্যান্ডের গান। রাহুর আনন্দ গায়।

“এমন যদি হতো
আমি পাখির মতো উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ
পালাই বহুদূরে... ক্লান্ত ভবঘুরে
ফিরব ঘরে, কোথায় এমন ঘর।”

তুমুল বৃষ্টি নেমেছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তার ভেতর মনে হচ্ছে সময় স্থির হয়ে আছে। সময় এগুচ্ছে না। ভদকা শেষ হয়ে গেছে। এখন ওরা শুধু সিগারেট খাচ্ছে।
গান শেষ করে সিলভিয়া কখন উঠে গেছে শাবিন খেয়াল করেনি। তুরির দিকে তাকিয়ে মনে হলো তার নেশা হয়েছে। সে অদ্ভুত ভঙ্গিতে দুলছে। দুলতে দুলতে বলল, `আমার কোথাও যাওয়ার নেই। আমার কোথাও থাকার নেই।’
`কী হয়েছে, তুরি?’
`আমার খুব খারাপ একটা ঘটনা আছে। আমি আর বড়ো আপা ছাড়া কেউ জানে না। মা জানত। এখন তো মা নেই। বাবাকে জানানো হয়নি। ইচ্ছে করছে আপনাকে জানাই। কিন্তু কেন জানাব!’
শাবিনের কী যেন হলো। সে উঠে এসে তুরির মাথায় হাত রাখল। আলতো গলায় বলল, `আমাকে সব বলা যায়, তুরি। আমাকে কিছু বলার জন্য কারণ দরকার হয় না।’
তুরি চুপ করে আছে। শাবিন সামনে বসল। হাতদুটো নিজ হাতের মুঠোর ভেতর নিয়ে বলল, ‘বলো।’
লম্বা শ্বাস টানল তুরি। বুকের ভেতর বাতাস ভরে নিল। চোখ তুলে শাবিনের দিকে তাকিয়েছে। এলোমেলো প্রবল বৃষ্টির শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। আশপাশে সিলভিয়াকে দেখা যাচ্ছে না।
তুরির লেখা নোটবুকে নিচের অংশটুকু পড়ে উপন্যাসে জন্মদিনের ব্যাপারটা সাজিয়েছি। তুরি নোটবুকে যা লিখেছে সেটুকু এখানে লিখলাম। তুরি জন্মদিনে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় শাবিনকে বলে গেল তার সেই অ্যাক্সিডেন্টের একান্ত ব্যক্তিগত কথা।
`ক্লাস নাইনে পড়ার সময় এক ছেলের সঙ্গে পালিয়েছিলাম। তখন আমার বয়স পনেরো বছর। নানানরকম ফ্যাশন করি। নিজেকে হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের মতো বানিয়ে রাখতে চাই। মিটুন নামে আমাদের পাড়ায় এক ছেলে ছিল। তার বাবা কন্ট্রাক্টরি করেন। সেই ছেলে সরকারি দলের ক্যাডার। বিশাল ক্ষমতা। মোটর সাইকেল চড়ে ঘুরে বেড়ায়। চোখে সবসময় সানগ্লাস দিয়ে রাখে। তাকে দেখতে হিন্দি সিনেমার নায়কের মতো দেখা যায়। মিটুনের প্রেমে পড়ে গেলাম।’
মিটুন বলল, `চলো বিয়ে করে ফেলি।’
আমি বললাম, `চলো।’
মিটুনের মোটর সাইকেলে চড়ে ওড়না আর মাথার চুল উড়িয়ে অনেকদূরে চলে যেতে চেয়েছিলাম। মিটুন আমাকে নিয়ে গেল মাইক্রোবাসে। আমি মিটুনের সঙ্গে পালালাম।
ফাঁকা একটা বাড়িতে সে আমাকে নিয়ে রাখল। কার বাড়ি জানি না। মিটুন সেই বাড়িতে আমার সঙ্গে থাকে। তিন দিন ছিল। আমরা খুব মজা করতাম। আমাদের দুজনের একান্ত সময়গুলো মিটুন ভিডিও করত। সেই বাড়িতে বড়ো স্ক্রিনের টেলিভিশন ছিল। প্রথম-প্রথম সেসব ছবি দেখতে লজ্জা লাগত। পরে ভালো লাগতে শুরু করল। কেমন যেন উত্তেজনা বোধ করতাম। নিষিদ্ধ উত্তেজনা। মিটুন আমাকে পর্ণো ছবি দেখিয়েছিল। আমি ছবিতে দেখা ওদের মতো করে নিজেকে বানাতে চেয়েছিলাম। নিজেকে একরাতে শরীর আর মনে পর্ণস্টার বানিয়ে ফেললাম। মিটুন তাতে দারুণ খুশি হলো। যত রকমভাবে শারীরিক সুখ নেওয়া যায়, নিতে চাইলাম।

তীব্র ব্যথায় আমার শরীর কেঁপে উঠত। প্রথমবার শক্ত করে মিটুনের পিঠ খামচে ধরে প্রচন্ড জোরে চিৎকার দিয়ে উঠেছিলাম। নিজেকে বোঝাতাম। মানিয়ে নিতে চাইতাম। একসময় শরীর অভ্যস্ত হয়ে এলো। আমার শরীর ব্যাপারটাতে যত অভ্যস্ত হয়ে উঠল মিটুন তত বেশি বুনো হয়ে পড়ল।
সেখানে শুধু আমি আর মিটুন। সেই সময়গুলো কী অদ্ভুত সুন্দর ছিল। নতুন এক জীবনের স্বাদ পেয়ে বিয়ের কথা ভুলে গেলাম।
তিন দিনের দিন আমার বিয়ের কথা মনে পড়ল। মিটুনকে বললাম, `কাজি কই? আমাদের বিয়ে!’
সে বলল, `গুছিয়ে নিতে সময় লাগবে। বিয়ের পর এখানে থাকা যাবে না। নিজের বাসায় যেতে হবে।’
`এটা কার বাসা?’
`বন্ধুর চাচাতো বোনের। তার বোন-দুলাভাই ছেলেমেয়ে নিয়ে নেপালে গেছে বেড়াতে। বাসার চাবি বন্ধুকে দিয়ে গেছে গাছে পানি দেওয়ার জন্য। তার কাছ থেকে আমি নিয়েছি।’
তারপরের দিন মিটুন এলো না। তার ফোন বন্ধ। অস্থির হয়ে পড়লাম। মিটুন এলো পরের দিন। চোখ লাল টকটকে। এলোমেলো চুল। রুক্ষ মেজাজ।
বললাম, `কী হয়েছে?’
সে বলল, `মার্ডার। শহরে খুন হয়েছে। সেই খুনের সঙ্গে আমার নাম চলে এসেছে।’
`তুমি খুন করেছ?’
`ধ্যাত। পুলিশের কাছে গিয়ে অপোজিশন আমার নাম বলেছে।’
`সরকার তোমাকে প্রটেকশন দেবে।’
`আলোচনা শুনছি জেলা কমিটি থেকে আমাকে বহিষ্কার করবে। তখন পুলিশ এসে অ্যারেস্ট করবে আমাকে।’
`এখন কী হবে?’
`নেগোসিয়েশন হয়ে গেছে। আপাতত শহর ছেড়ে চলে যাব। মামলা ঘুরে গেলে আসব।’
‘আমি কী করব?’
‘তুমি বাড়ি ফিরে যাও।’
‘আমাদের বিয়ে?’
‘পাগল হয়ে গেছ? এখন বিয়ের কথা বলছ! জেলে যাব নাকি বর্ডার পার হয়ে চলে যাব তার ঠিক নেই।’

গভীর চিন্তার ভেতর পড়ে গেলাম। মিটুন বলল, `এখন বিয়ে করা যাবে না। সবাই বলবে বাচ্চা মেয়েকে ভাগিয়ে এনে বিয়ে করেছি। আমার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে। তুমি নিশ্চয় চাও আমি আরও ওপরে উঠি। এমপি ইলেকশন করি।’
`বাড়ি গিয়ে কী বলব?’
`বলবে ইশকুলের পাশ থেকে চার-পাঁচজন লোক জোর করে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিল। কোথায় নিয়ে গেছে তা তুমি জানো না। তুমি কাউকে চিনতে পারোনি।’
আমার জেদ চেপে গেল। বুঝে ফেলেছি মিটুন আমাকে বিয়ে করবে না। তার যা চাওয়ার ছিল সে পেয়ে গেছে। এখন আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে।
বললাম, `তোমার কথা বলে দেব। আামার পেটে যদি তোমার সন্তান আসে।’
মিটুন ঠান্ডা গলায় বলল, ‘ভিডিয়োগুলো আমার কাছে। এডিট করব। সেখানে আমাকে দেখা যাবে না। দেখা যাবে তোমাকে। তুমি বেহেস্তি আনন্দে সেক্স করছ।’
থমকে গেলাম। মিটুনকে খুন করতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কিছুই করতে পারলাম না। ঝরঝর করে কাঁদতে থাকলাম।

মিটুন বলল, ‘তোমার খুব ভালো বিয়ে হবে। তুমি অসম্ভব সুন্দরী। বিয়ের পরও যদি এ কথা তোমার মুখ দিয়ে বের হয় তখনো ওই ভিডিয়ো নেটে ছেড়ে দেব। মনে রাখবে। বাড়ি যাও। গাড়ি তোমাকে ইশকুলের সামনে নামিয়ে দেবে। ওখান থেকে হেঁটে বাড়ি চলে যাবে।’
আমি বাড়ি চলে এলাম।
তারপর লিখলাম।
তুরি কাঁদছে। তার পিঠ ওঠানামা করছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তুরির কাহিনি। তুরির চোখে পানি। গড়িয়ে পড়বে বলে চোখের কোণায় জমে আছে।
শাবিন উঠে এসে তুরির পিঠে হাত রাখল। তুরির চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল গালে। তুরি ঝরঝর করে কেঁদে যাচ্ছে। শাবিনের ইচ্ছে করছে তুরিকে বুকের ভেতর জড়িয়ে ধরতে। তুরির মাথায় হাত দিয়ে আস্তে আস্তে চুলে বিলি কাটতে থাকল। তুরির কান্না থামল না।
শাবিন নিজেকে আটকাল না। তুরিকে বুকের ভেতর টেনে নিল। তুরি আচমকা জড়িয়ে ধরল শাবিনকে। যেন সে পরম নির্ভরতার আশ্রয় খুঁজছিল। শাবিনকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কাঁদতে থাকল। তুরিকে বুকের ভেতর শক্ত করে চেপে ধরে শাবিন ওর পিঠে হাত বোলাচ্ছিল।
তুরি দুহাত দিয়ে শাবিনের শার্ট আঁকড়ে ধরে কেঁদে গেল। তুরির চোখের পানিতে শাবিনের শার্ট ভিজে উঠল। তুরির কান্না থামাল না।

 
বাইরে মাতাল বৃষ্টি। চারপাশ ভাসিয়ে মুষলধারে ঝরে যাচ্ছে।
রাতের খাওয়া হলো সামান্য। দুপুরে যা ছিল তাই গরম করে ওরা খেয়ে নিল। তুরি বলল, আমি কিছু খাব না।
সিলভিয়া জোর করল। অল্পকিছু মুখে দিয়ে তুরি উঠে পড়ল। শাবিনও খেয়েছে সামান্য।
সে রাতে শাবিন আর তুরি একসাথে থাকল। সিলভিয়া ওদের নিজের ঘরে রেখে ভাই-ভাবির বেডরুমে চলে গেছে। যাওয়ার আগে বলল, `ভীষণ টায়ার্ড লাগছে। ঘুমুতে গেলাম। তোরা গল্প কর। আমাকে ডাকবি না। শোন, আমি কিন্তু দরজা লক করে ঘুমাব। কোনো দরকার হলে মোবাইলে কল দিবি।‘
সিলভিয়া চলে যাওয়ার পর ঘরে শাবিন আর তুরি একা হয়ে গেল। হাঁটু মুড়ে দলা পাকিয়ে বিছানার ওপর বসে আছে তুরি। তাকে দেখে মায়া লাগছে। মনে হচ্ছে সে এই পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষ।

শাবিন টানটান হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। তুরির পাশে এত সাবলীলভাবে সে শুয়ে পড়তে পারবে ভাবেনি। কিন্তু পারল। তুরি তার মাথায় হাত রাখল। ধীরে ধীরে চুলে বিলি কাটল। গালে থুতনিতে গলায় হাত বুলাল।
তুরির স্পর্শের ভেতর কিছু ছিল। শাবিন যেন বুঝতে পারল সেই কিছু ব্যাপারটা। উঠে গিয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে দিলো। ঘর হয়ে গেল পুরোপুরি অন্ধকার।
শাবিন আদরমাখা হাতে তুরির শরীর থেকে একটা একটা করে সমস্ত কাপড় খুলে নিল। তুরি বাধা দিলো না। শাবিন নিজের কাপড় খুলে ফেলল।
বৃষ্টি হয়তো কিছুক্ষণ থেমেছিল। এখন বাইরে আবার বৃষ্টির তোড় বেড়েছে। উত্তাল বৃষ্টি। দারুণ বৃষ্টিভেজা রাত একটু একটু করে তাদের দুজনকে উষ্ণ করে তুলল।
ততক্ষণে ঘরের আলো চোখে সয়ে এসেছে। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে রাস্তার আলো এসে ঘরের ভেতরটা আবছা আলোকিত করে রেখেছে। তারা দুজন বিছানায় পরস্পরকে নগ্ন অবস্থায় আবিষ্কার করল।

শাবিন শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে তুরিকে। তাকে কোনোভাবেই ছাড়তে চায় না। তুরি খামচে ধরে আছে। তুরির পুরো শরীরে শাবিন পাগলের মতো চুমু দিতে থাকল। চুমু দিতে দিতে উন্মত্তের মতো হয়ে গেল। খেপা, একরোখা।
তুরি গোঙাচ্ছে। শাবিন ডুব দিলো। ডুবে যেতে থাকল। তুরি তার পিঠ খামচে ধরে আছে। তুরির নখ বসে যাচ্ছে শাবিনের পিঠে। ভিজে যাচ্ছে তুরির শরীর। নিজেকে মেলে ধরেছে।
একসময় ওরা শান্ত হয়ে এলো। তুরির মুখের ওপর লেপটে থাকা চুল সরিয়ে শাবিন চুমু খেয়েছে। গালে গাল ঘষেছে। তুরি কাত হয়ে শুয়ে পড়ল। সে কাঁদছে। তার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে বালিশে। শাবিনের অস্বস্তি লাগছে। তুরি কেন কাঁদছে ধারণা করতে পারছে না।
বাইরে বৃষ্টি কমে এসেছে। হালকা ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে। শাবিন কী করবে বুঝতে পারল না। উঠে গিয়ে বারান্দার দিকের দরজা খুলে দিয়ে সিগারেট জ্বালালো  । ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল তুরি তখনো নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে।  

 (চলবে)

 

পর্ব ৬: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৫: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৪: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ৩: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ২: অঘ্রানের অন্ধকারে

পর্ব ১: অঘ্রানের অন্ধকারে

Header Ad
Header Ad

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রশাসনে মোট ৫১৬ জন ওএসডি রয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব। এটি প্রশাসনে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তা, যা পূর্বে কখনো হয়নি।

এছাড়া, শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে কখনো এত সংখ্যক শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এর ফলে, নিচের স্তরের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ওএসডিতে রাখা কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয়করণের প্রবণতা এবং নিয়মবহির্ভূত পদায়ন-পদোন্নতির প্রভাব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এজন্য তারা আশা করছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা কমে যাবে এবং কর্মীদের মধ্যে ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ৮৪টি সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদ রয়েছে, এর মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকেই অতীতে শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তারা দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে নিয়োগ পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে, যারা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, ছুটি কিংবা প্রেষণের কারণে ওএসডিতে রাখা হয়েছে। তবে অন্যদিকে, অনেক কর্মকর্তাকেই দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং সিস্টেমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ে এবং তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যাদের কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক নেই, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে এবং ওএসডি ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

এছাড়া, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি ব্যবস্থাকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা বলেছেন, 'পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮' অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি শেষে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল করা উচিত। তারা পরামর্শ দিয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি অবস্থায় রেখে বেতন-ভাতা না দিয়ে, তাদের একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে অন্য কাজে নিযুক্ত করা উচিত।

এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্টও রায় দিয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখা যাবে না। মন্ত্রিসভা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি কমিটি গঠন করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে।

এই বিশাল সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, যার মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিবদের একটি বিশাল দল রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, বাকিরা পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ বা ছুটির কারণে ওএসডিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতার চিহ্ন। তারা মনে করেন, এটি কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা ও দক্ষতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

Header Ad
Header Ad

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে, তা আমাদের জন্য আনন্দের।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ভূরাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই দুজনের বৈঠক আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, এ বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষকে উপকৃত করবে।

এর আগে ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুল হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে আবারও ডাকাতির শিকার হয়েছে যাত্রীবাহী একটি বাস। ‘ইতিহাস পরিবহন’ নামের বাসটি চলন্ত অবস্থায় ডাকাতি সংঘটিত হয়। যাত্রীবেশী ডাকাতদলের সদস্যরা বাসে থাকা যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বাসটির চালক রজব আলী (৩০) ও হেলপার এমদাদুল হক (৪০) আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সাভার মডেল থানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইতিহাস পরিবহনের বাসটি কর্ণপাড়া ব্রিজের কাছে আসলে যাত্রীবেশী ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। সুমন সরকার নামের এক যাত্রী জানান, তিনি চন্দ্রা থেকে বাসে উঠেছিলেন এবং সাভার আসার পর ডাকাতরা তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অন্য যাত্রীদের কাছ থেকেও স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

বাসের চালক রজব আলী জানান, ডাকাতরা যাত্রীদের জিম্মি করে মালামাল লুট করার পর যাত্রীরা বাসে ভাঙচুর চালায়। তিনি ও তার সহকারী এমদাদুল সড়কের পাশে লুকিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনার পূর্বে, গত ২৪ মার্চ এবং ২ মার্চেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ২৪ মার্চের ঘটনার পর যাত্রীরা মানিকগঞ্জগামী একটি বাসের চালক ও হেলপারকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ২ মার্চে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসেও ডাকাতি হয়েছিল, যেখানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ যাত্রীর মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড
ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত