গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে

ছবি সংগৃহিত
হামাসের সাথে যুদ্ধে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির সংখ্যা ৩ হাজারে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাঁজায় উপত্যকায় ইসরাইলের বিমান হামলায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের এক তৃতীয়াংশই শিশু। গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জন। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজায় বিমান হামলা আরও তীব্র করেছে ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় এখন কার্যত বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকা। এরই মধ্যে সীমান্তে স্থল অভিযানের পায়তারা করছে ইসরাইলি সেনারা। ইসরাইলের সর্বাত্মক অবরোধে উপত্যকায় সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
এদিকে গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ জনে। এর মধ্যে ৩০২ জন সেনা বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।
গাজায় খাদ্য ও পানি দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই ত্রাণ সহায়তা না পেলে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও ‘গাজার লাইফলাইন’ খ্যাত রাফা ক্রসিং খুলে দিতে টালবাহানা করছে ক্রসিংটির নিয়ন্ত্রক দেশ মিশর।
গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র শিফা হাসপাতালের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া বলেছেন, ‘চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন তারা মানুষের আর্তনাদ শুনছেন, কিন্তু কিছু করতে পারছেন না। ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ ও টানা বিমান হামলার কারণে গাজায় ভয়াবহ চিকিৎসা সংকট তৈরি হয়েছে। গাজার একটি হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা প্রত্যেক রোগীর জন্য দৈনিক ৩০০ মিলিমিটার পানি সরবরাহ করছেন।
গাজায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা না গেলে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মঙ্গলবার সংস্থাটি ত্রাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চালান জরুরি ভিত্তিতে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রবেশাধিকার চেয়েছে।
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি সীমান্তের অপর প্রান্তে তথা গাজার অভ্যন্তরে ত্রাণ সহায়তার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছে। আর অপর প্রান্ত তথা মিশরের অংশে ত্রাণ সহায়তা বহনকারী শত শত লরি-ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পেলেই তারা গাজায় প্রবেশ করবে।
কিন্তু ক্রসিং খোলার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। সোমবার (১৬ অক্টোবর) মিশর কর্তৃপক্ষ জানায়, রাফা ক্রসিং খোলার ব্যাপারে ইসরাইল কোনো সহযোগিতা করছে না। আরও জানায়, ‘রাফা ক্রসিং বন্ধ নয়। তবে ক্রসিংয়ের গাজা অংশে ইসরাইলের বিমান হামলার কারণে এটা অচল হয়ে আছে।’
এদিকে ইসরাইলি বাহিনী আবারও জানিয়েছে, গাজায় বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে তারা। এরই মধ্যে ৩ লাখ ৬০ হাজার সেনার পাশাপাশি সীমান্তে হাজার হাজার ট্যাঙ্ক ও সাজোঁয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে।
