ঢাকাপ্রকাশ-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন

ফাইল ছবি
ঢাকাপ্রকাশ-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন

ফাইল ছবি
ঢাকাপ্রকাশ-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন
গাড়িচাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহতের ঘটনায় বাসে আগুন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর রামপুরায় বেপরোয়া রমজান পরিবহনের বাসের চাপায় আলী হোসেন তালুকদার (৩৩) নামে একজন মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বাসটি ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি খিলগাঁও তালতলা মাটির মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অ্যাকাউন্ট অফিসার। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর থানার কুমিরমারা গ্রামে।
হাসপাতালে নিয়ে আসা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় রমজান পরিবহন ওই ব্যক্তিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছি। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারাও এসেছেন।
নিহতের বড় ভাই আলম তালুকদার বলেন, আমার ছোট ভাই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী অ্যাকাউন্ট অফিসার হিসেবে চাকরি করেন। খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসে দেখি আমার ভাই আর বেঁচে নেই। জানতে পারলাম মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রমজান পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়।
তিনি আরও জানান, এক বছর আগে আমার ভাইয়ের বিয়ে করেছে। এখনো তার স্ত্রীকে তুলে আনা হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রামপুরা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে নিহত হন আলী হোসেন তালুকদার। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। রমজান পরিবহনের চালক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে ৫৩ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৯ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩৩ জন পুলিশ সুপার এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রয়েছেন।
এর আগে, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ১০৪ জন সহকারী পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়, যার মধ্যে দুইজন ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তালিকা দেখতে ক্লিক করুন:
তালিকা-১ | তালিকা-২
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের বড়াইগ্রামে চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধর্ষণের সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি বলেছেন, তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে কেউ কথা বলেননি, অথচ তার নামে ভিত্তিহীন খবর ছড়ানো হয়েছে। এই গুজব তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে এবং মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।
গতকাল বুধবার ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমার টাকা-পয়সা–গয়না কেড়ে নেওয়াতে দুঃখ পাইনি, কিন্তু ধর্ষণের মিথ্যা খবর প্রচারে আমি ভেঙে পড়েছি। আমার সমাজের কাছে মুখ দেখানো কঠিন হয়ে গেছে। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে সন্দেহের চোখে দেখছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি কীভাবে সমাজে টিকে থাকব?’
ওই নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে শয্যাশায়ী, অথচ মিডিয়ায় বলা হয়েছে, বাস ডাকাতির সময় তাঁর স্বামী সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবে আমার স্বামী এক বছর ধরে বিছানায় পড়ে আছে। অথচ মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এটা কি ন্যায়সঙ্গত?’
নিজের জীবনসংগ্রামের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বামী অসুস্থ থাকায় সংসারের খরচ চালাতে গান করেন ও কীর্তন করেন। বড় বোনের স্বামীও লিভার ক্যানসারে মারা গেছেন, তাই পরিবার চালানোর জন্য তাঁর গানই একমাত্র সম্বল। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব হতে পারি, কিন্তু আমাদের সম্মানটাই সবচেয়ে বড়। এখন যদি সেটাই না থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার আর কী মানে থাকে?’
১৭ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের বড়াইগ্রামে চলন্ত বাসে ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী জানান, ডাকাতেরা বাসে উঠে সকল যাত্রীর টাকা-পয়সা ও গয়না ছিনিয়ে নেয়। তাঁর হাতে থাকা সিটি গোল্ডের চুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি চিৎকার করেন ও কান্নাকাটি করেন। কিন্তু গণমাধ্যম এই ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার জানা মতে, কেউ ধর্ষণের শিকার হয়নি। মেয়েদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, তল্লাশি করা হয়েছে, কিন্তু ধর্ষণ হয়নি। অথচ মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবাই বলছে, মিডিয়ায় এসেছে মানে কিছু তো ঘটেছে! কিন্তু আমার কথার কি কোনো মূল্য নেই? যারা আমার সঙ্গে বাসে ছিল, তারা তো জানে আসল ঘটনা। তবুও সবাই মিডিয়ার মিথ্যা খবরকেই সত্য বলে ধরে নিচ্ছে!’
সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করবেন না। আগে সত্যিটা জেনে নিন। মিডিয়ার উচিত নারীর সম্মানহানিকর ভুল তথ্য প্রচার না করা।’
এই বিভ্রান্তিকর সংবাদের কারণে ওই নারী চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তিনি চান, সমাজ তাঁকে ভুল না বোঝে এবং সবাই তাঁর পাশে দাঁড়ায়।