ঢাকায় ছিনতাইবাজদের খপ্পরে জনপ্রিয় অভিনেতা, চিনতে পেরে বলল ‘মোবাইল নেওয়ার দরকার নাই’

অভিনেতা হারুন রশিদ। ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাচল এক্সপ্রেসের ‘ম্যাডামের বাড়ি’ শুটিং হাউস থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন অভিনেতা হারুন রশিদ, যিনি ‘বান্টি’ নামে পরিচিত।
শনিবার (২ মার্চ) রাত ১১টার দিকে ৩০০ ফিট এলাকার কাঞ্চন ব্রিজ পার হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা তাঁর সঙ্গে থাকা সবকিছু নিয়ে নিলেও মোবাইল রেখে দিয়েছেন, কারণ তাঁরা তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন।
গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হারুন রশিদ জানান, রাত ১০টা ৫০ মিনিটে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কাঞ্চন ব্রিজ থেকে কমলাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পাঁচ মিনিট চলার পরই একটি অন্ধকার জায়গায় গাড়িটি বন্ধ হয়ে যায়।

হারুন বলেন, “গাড়িটা বন্ধ হওয়ার পর আমার সন্দেহ হয়। চালক এটি ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই পাশের রাস্তা থেকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন তরুণ এসে হাজির হয়। পেছনের দুজনের হাতে ছিল চাপাতি ও একটি লম্বা অস্ত্র। একজন কোপ দেওয়ার ভঙ্গি করলে আমি সঙ্গে সঙ্গে যা ছিল, সব দিয়ে দিই।”
ছিনতাইকারীরা তাঁর মানিব্যাগ ও টাকা নিয়ে নেয়। কার্ড আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, নেই। এরপর তাঁরা মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেন। ঠিক তখনই এক ছিনতাইকারী আরেকজনকে বলে, "উনি তো নাটক করে, তার ফোন নিলে ঝামেলায় পড়মু আমরা। মোবাইল নেওয়ার দরকার নাই, বাদ দে চল।”
হারুন রশিদ বলেন, “এমন ঘটনা মানুষের কাছে শুনেছি, কিন্তু এবার নিজেই এর শিকার হলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলাম। গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলেও কেউ থামাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত এক ভদ্রলোক আমাকে চিনতে পেরে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত নামিয়ে দেন।”

রাত প্রায় ১২টা বাজে, হাতে কোনো টাকা নেই। একটি দোকান থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা তুলে আরেকটি সিএনজিতে বাসায় ফেরেন। তবে ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
শুটিং শেষে সাধারণত দলবদ্ধভাবে শুটিং ইউনিটের গাড়িতে ফেরার নিয়ম থাকলেও সেদিন শুটিং আগে শেষ হওয়ায় তিনি একাই রওনা দেন। এখন বুঝতে পারছেন, এটি তাঁর ভুল ছিল। সহকর্মীদের প্রতি তাঁর পরামর্শ— “কখনো একা যাতায়াত করবেন না।”
এই রাস্তায় বাইক ও সিএনজিতে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে শোনা যায়। তাই তিনি পুলিশের প্রতি অনুরোধ করেছেন, "এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।"
