কৌতুকে আজীবন সম্মাননা পেলেন অ্যাডাম স্যান্ডলার

অ্যাডাম স্যান্ডলার ২০২৩ সালের ‘দ্য মার্ক টোয়েন প্রাইজ ফর আমেরিকান হিউমার’ জিতেছেন রবিবার (১৯ মার্চ) রাতে। ওয়াশিংটন ডিসির দ্য কেনেডি সেন্টার কনসার্ট হলে তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
স্যান্ডলারের বিখ্যাত কয়েকজন বন্ধু, তাদের মধ্যে আছেন জেনিফার অ্যানিস্টন, জাড অ্যাপাটো, ড্রিউ ব্যারিমোর, স্টিভ বুশেমি, কোনান ও’ব্রায়েন, ক্রিস রক, ডানা কাভি ও লুইস গুজম্যান। তারা প্রত্যেকেই পুরস্কারের দিনে স্ট্যান্ডলারের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন।
মার্ক টোয়েন পদকটি ব্রোঞ্জের তৈরি, তার প্রতিকৃতি সেখানে খোদিত আছে। তারকাদের সবাই স্যান্ডলারের সৃজনশীল দীর্ঘায়ু ও পরমায়ু লাভের জন্য আর্শীবাদ করেছেন। এ ছাড়া স্যান্ডলারের সিনেমাগুলোতে তার সব বন্ধুদের অভিনয় করতে নেওয়ার প্রবণতাটির বিষয়ে বলেছেন। স্যান্ডলারের দীর্ঘকালের লেখা ও প্রোডাকশনের অংশীদার টিম হারলিহি মজা করেছেন।
বুশেমি নাটকীয় ও প্রায়ই সহিংস চরিত্রগুলোর জন্য পরিচিত। তিনি স্যান্ডলারের সিনেমাগুলোতে কৌতুকধর্মী চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সে কৌতুককে খুবই সিরিয়াসলি নেয়। তার সঙ্গে আমি যা কিছু করি সেগুলোর জন্য খুব কষ্ট করে আমাকে হাসি থামাতে হয়।’
তিনি স্যান্ডলারের গানের কৌতুকধর্মী সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সেগুলোর মধ্যে আছে ‘দ্য হার্নিকা সং’, গানটি অনেক বেশি জনপ্রিয়। বুশেমি বলেছেন, ‘স্যান্ডলারের কৌতুকধর্মী গানগুলোই কেবল এমন স্বীকৃতি দাবি করে।’
জাড অ্যাপাটো তাদের শুরুর দিনগুলোতে লস অ্যাঞ্জেলসে স্যান্ডলারের সঙ্গে একই ঘর ভাগাভাগি করে থাকতেন। মনে করেছেন, তরুণ স্যান্ডলার অসীম আত্মবিশ্বাস ও অসাধারণ প্রতিভা ছিল। আরও বলেছেন, ‘তখন যে কেউ তাকে চিনেছে, তারা মনে করেছেন, সে একজন বড় তারকা হতে চলেছে এবং তাই করেছে অ্যাডাম।’
তিনি তার কৌতুক করার অসীম শক্তির কথাও ভালোভাবে বলেছেন ও তাদের যৌবনের একটি ভিডিও দেখিয়েছেন, যেটি তিনি ধারণ করেছিলেন। সেখানে নানা ধরনের কণ্ঠে কৌতুক করার চেষ্টা করেছেন স্যান্ডলার। এই রাতের শেষে অ্যাডাম স্যান্ডলার তার বাবা-মা ও ভাই-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন।
এখন স্যান্ডলারের বয়স ৫৬। তিনি প্রথম জাতীয়ভাবে আকর্ষণ তৈরি করেন সেটারডে নাইট লাইভের একজন নিয়মিত শিল্পী হয়ে। ৫ বছর কাজ করার পর তাকে বের করে দেওয়া হলো এবং তারপর টিভি ছেড়ে স্যান্ডলার চলে যান সিনেমায়। তিনি বিপুলভাবে সফল ক্যারিয়ার গড়েছেন হলিউডে। ৩০টির বেশি সিনেমা তার, বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ৩ বিলিয়নের বেশি।
তার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে ‘হ্যাপি গিলমোর’, ‘দ্য ওয়েডিং সিঙ্গার’ ও ‘ইউ ডোন্ট মেস উইথ দ্য জোহান’। তিনি নানা ধরনের চরিত্র করতে পারদর্শী। তার বিভিন্নমুখী অভিনয়ের স্বাক্ষী ‘পাঞ্চ ড্রাঙ্ক লাভ’ ও ‘আনকাট জেমস’।
আজীবন এই মার্ক টোয়েন প্রাইজে ভূষিত অন্যদের মধ্যে আছেন রিচাড প্রেয়র, হুপি গোল্ডবার্গ, বব নিউহার্ট, ক্যারল বার্নেট ও ডেভ চ্যাপেলি। ২০০৯ সালে বিল কসবিকে এই পদকে ভূষিত করা হলেও ২০১৯ সালে অনেকগুলো যৌন নির্যাতনের মামলায় কসবির পুরস্কার বাতিল করা হয়।
ওএফএস/
