সাকিব-লিটনের প্রতিরোধের পরও বাংলাদেশের ১০ উইকেটে হার

দিনটি শুরু হয়েছিল ভয়ে। চোখের সামনে হারের শঙ্কা। সেটা হতে পারে আবার ইনিংস ব্যবধানেও। তা থেকে রক্ষা পাওয়া খুবই কঠিন। দিতে হবে ২২ গজে উত্তাল সাগর পাড়ি। থাকতে হবে টিকে। পার করতে হবে সময়। নিতে হবে লিড। সে ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে আবারো ব্যাট করতে নামতে হবে। সময় থাকলে তখন তারা জয়ের চেষ্টা করবে। কিন্তু সরল অংকের যোগফল মেলানোর মতোই কঠিন এই সমীকরন। কিন্তু যোগফল মেলাতে হলে ধাপে ধাপে এগুতে হবে। বাংলাদেশও এই প্রক্রিয়া অনুসরন করে এগুচ্ছিল কক্ষপথেই। কান্ডারি হয়ে উঠেছিলেন লিটন ও সাকিব। ষষ্ট উইকেট জুটিতে তাদের ১০৩ রান ভয় আর আতঙ্কের প্রথম শেসন পার করে দেয় শুধুই মুশফিকের উইকেট হারিয়ে। কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। দ্বিতীয় শেসনে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। ৭.৪ ওভারে মাত্র ১৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় ১৬৯ রানে। লিড পায় মাত্র ২৮ রানের। সেই রান লঙ্কানরা আবার অতিক্রম করে উল্লাকার গতিতে তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে। সেই সঙ্গে জিতে নেয় সিরিজও। চট্টগ্রামে দুই দলের প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছিল।
তিন কাঠির খেলা অনিশ্চয়তার। যে কোনো সময় বাক বদল হতে পারে। পাল্টে দিতে পারে ম্যাচের চিত্রনাট্য। চতুর্থ দিন শেষেই এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের হার। কারণ তখন বাংলাদেশের রান ছিল চার উইকেটে ৩৪। তখনো প্রথম ইনিংস এগাতে হলে দরকার ১০৭ রানের। ক্রিজে মুশফিক লিটন এবং ড্রেসিং রুমে সাকিব-মোসাদ্দেক-তাইজুলরা থাকাতে নিভু নিভু করে আশার প্রদীপ জ্বলার সম্ভাবনা ছিল। সেই সম্ভাবনাই জাগিয়ে তুরেছিলেন লিটন ও সাকিব দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। কিন্তু তাদের বিচ্ছেদের পর বাংলাদেশের শিবিরেও নেমে আসে বিষাদের সূর। যে সুরে আর কেউ মূর্চ্ছনা তৈরি করতে পারেননি। কারণ ১৩ রানে পড়ে পাঁচ উইকেট।
বাংলাদেশের জন্য ভয়ের কারণ ছিল দিনের প্রথম সেশন। কারণ অতীতে এ রকম অনেক বাজে অভিজ্ঞতা আছে। আবার দিনের শুরুতে পেসাররাও বেশ ফায়দা পেয়ে থাকেন। আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে সাকিবও এই রকম আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। সেই আতঙ্ক আর ভয় বাংলাদেশ প্রথম সেশনে টিকই কাটিয়ে দিয়েছিল শুধু মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারিয়ে। মুশফিক আগের দিনের ১৪ রানের সঙ্গে ৯ রান যোগ করে ২৩ রানে ফিরে যাওয়ার পর লিটনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সাকিব ৮ রানের লিড নিয়ে পার করে দেন প্রথম সেশনের বাকি সময়। দুই জনে মিলে ২৫.৩ ওভার খেলে যোগ করেছেন ৯৬ রান। বাংলাদেশের রান পাঁচ উইকেটে ১৪৯। সাকিব ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফ সেঞ্চুরি করে ৫২ ও ১৩তম হাফ সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা লিটন ৪৮ রানে অপরাজিত। আড়াই ঘন্টার প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ৩৩ ওভার খেলে যোগ করেছে এক উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান।
এ রকম প্রথম সেশন পার করার পর আশা প্রদীপ আবার ধীরে ধীরে জ্বলে উঠতে থাকে। দুই জনে যেভাবে খেলছিলেন তাতে করে ম্যাচ বাঁচানোর একটা সম্ভাবনা জেগে উঠে। লিড যত বাড়বে লঙ্কানদের জয়ের সম্ভবানা ততই কমে আসতে থাকবে। চা বিরতি পার করে দিতে পারলে লিড বেড়ে তিন অংকের ঘরে চলে যাবে। এ রকম কল্পনা তখন প্রায় সবার অন্তরেই। আবার অনেকেই এ রকম বদ্ধমূল ধারনা নিয়ে জুম্মার নামাজও পড়তে যান। কিন্তু তিন কাঠির খেলা ক্রিকেট বলে মুহুর্তেই তার রূপ বদলে ফেলে। চা বিরতির পর খেলা শুরু হতে না হতেই বাংলাদেশের ইনিংসে মড়ক লাগে। এমনই মড়ক যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠা সাকিব-লিটনসহ পরে আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। জুম্মার নামাজ পড়ে এসে অনেকেই দেখেন বাংলাদেশের ইনিংস ১৬৯ রানে শেষ। লঙ্কানদের সামনে জয়ের টার্গেট মাত্র ২৯ রানের।
বাংলাদেশকে এমন নাভিশ্বাস্য করে তুলেন পেসার আশিথা ফার্নান্ডো। লাঞ্চ বিরতির পর প্রথম ওভারেই লিটন দাস ১৩০বলে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। এই শেসনে এটিই ছিল একমাত্র সাম্ভাবনা। এরপর শুরু হয় আশিথা ফার্নান্ডোর গোলা। যে গোলা ছিল প্রথম শেসনে কাসুন রাজিথার। প্রথম শেসনে তিনি মাত্র এক উইকেট পেলেও ব্যাটসম্যানদের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এর এই শেসনে উইকেট পাওয়ার নেয়াশ মেতে উঠেন আশিথা। প্রথম ওভারেই ৫২ রানে ফিরিয়ে দেন লিটনকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ধরে। সাত রান পরে ৫৮ রানে সাকিবকে শিকার করেন উইকেটের পেছনে ডিকভেলা ক্যাচ ধরলে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ২২ বলে ৯ রানে রমেশ মেন্ডিসের শিকার হয়ে হতাশা বাড়ান। এরপর দলীয় একই রানে পরপর দুই বলে আশিথা প্রথমে তাইজুল ও পরে খালেদকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেন ৫১ রানে ছয় উইকেট নিয়ে।
এমপি/এএজেড
