শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, সুবিধাজনক অবস্থায় বিএনপি

হবিগঞ্জে চায়ের কাপে ঝড় উঠতে শুরু করছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। বিএনপি নিবার্চনে অংশ নিবে কি-না, কি হবে নিবার্চনকালীন, নাকি আবারো হরতাল অবরোধে পড়বে দেশ-এসব নিয়ে চলছে চায়ের টেবিলে আলোচনা আর সমালোচনা। এরই মাঝে ৪টি আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। পোস্টার, লিফলেট ছাপানো ছাড়াও অনেকে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার সুযোগ বুঝে গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি আসনেই বড় রাজনৈতিক দুটি দলের রয়েছেন একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে রয়েছে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। তাদের তুলনায় অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। তবে জোটের গ্যাড়াকলে পড়তে পারেন সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা বিএনপি প্রার্থীরা। এ জেলায় মোট ভোটার ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লক্ষ ৬ হাজার ১৮৭ ও মহিলা ভোটার ৭ লক্ষ ৮১ হাজার ৭২৩ জন।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর তনয় দেওয়ান মিলাত গাজী। আগামী নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। তিনি ছাড়াও এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন হাফ ডজনের মতো। তারা হচ্ছেন -সাবেক এমপি কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর কন্যা (হবিগঞ্জ-সিলেট) আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। এ ছাড়াও বাহুবল উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল মুকিত চৌধুরীর নাম শুনা যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে বেশীরভাগ সময় আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আওয়ামী লীগও মনে করে এখানে তাদের রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। কারণ এখানে রয়েছে চা বাগানসহ বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার। কিন্তু ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি উপনিবার্চনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে আওয়ামী দূর্গে আঘাত আনেন বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত। যদিও উপ-নিবার্চন নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক তৃণমুল নেতা-কর্মীর দাবি, আওয়ামী লীগ ভুল প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় শেখ সুজাত নিবার্চনে জয়ী হতে পেরেছে। আগামী নিবার্চনে বিএনপি শেখ সুজাতকে দিয়েই আবারও আওয়ামী দূর্গে আঘাত আনতে চাইবে।
বিএনপি নিবার্চনে অংশগ্রহণ করলে তার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে তার সমর্থকরা মনে করলেও জোটের গ্যাড়াকলে পরে অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া হবে জোটের প্রার্থী। জোট না হলে উভয় দলের জন্য ড. রেজা কিবরিয়াই সবচেয়ে ফ্যাক্টর। এ ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মাওলানা আব্দুল্লাহ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল হান্নান নাম শুনা যাচ্ছে।

এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৫ হাজার ৫২জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৮৭১ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৮০ জন।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ দলীয় অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছাড়াও আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হুসেন মাস্টার, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ. সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও দেশ টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিকুর রহমান চৌধুরী পরাগ, ইংল্যান্ড প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার এনামুল হক, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল, ঢাকা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজা বেগম সাঈদা। আর বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আহমদ আলী মুকিব। এদিকে এই আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের মনোয়ন অনেকটাই নিশ্চিত মনে করেন তার অনুসারীরা।

এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক শংকর পাল। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি বাদে এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মৌলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও ডা. মাওলানা বশির আহমদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা লুৎফুর রহমান চৌধুরী আজাদ।

তা ছাড়াও একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আফছর আহমেদ রুপক। তিনি দৈনিক আমাদের সময়ের স্বাস্থ্য বিটের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুবাদে চিকিৎসকদের সঙ্গে রয়েছে সুসর্ম্পক। তাদের সঙ্গে সুসর্ম্পক থাকায় এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষের কম খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে একটি শক্ত ভিত গড়ে তুলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠা করছেন রুপক হেল্প ক্লাব। ক্লাবের সদস্যরা বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আগামী নিবার্চনে তিনি বড় দুই দলের জন্যই মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত। এখন পর্যন্ত এই আসনে ১ বার বিএনপি, ২ বার জাতীয় পার্টি এবং বাকি ৮ বারই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে নিবাচনী প্রচারণায় এই আসনে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ৮২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০৫ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৮ জন।

হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী নিবার্চনেও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন। দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় রয়েছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান, চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাট্রিজের প্রেসিডেন্ট মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি) আবুল হাশেম মোল্লা মাসুম, ইংল্যান্ড প্রবাসী সুশান্ত দাশ গুপ্ত, লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আহমেদ। আর বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাবেক মেয়র জি কে গউছ। তিনি ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম। ২০১৪ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সময় জেলার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তিনি সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকায় তৃণমুল নেতা-কর্মীদের মাঝে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এখানে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি শিল্পপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির জেলা সভাপতি মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল। তবে এটিও আওয়ামী লীগের আসন হিসেবেই পরিচিত। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে এই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫৬০ ও ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৯৫ জন।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বেসামরিক ও বিমান পযর্টন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। তিনি সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী। সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আসাদ আলীর ছেলে। তিনি ছাড়াও আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন- ঢাকা মহানগর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মতিউল হক মতি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. আকবর হোসেন জিতু, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রয়াত এনামুল হক মোস্তফা শহীদের ছেলে নিজামুল হক রানা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল হাই’র ছেলে আরিফুল হাই রাজিব, মাধবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ মুসলিম।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন-উপজেলা চেয়ারম্যানও বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার।
এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি শিল্পপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক। তিনি ছাড়াও মনোনয়ন চাইতে পারেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মাওলানা ফারুক আহমদ নোমানী ও ডা. আহমদ আব্দুল কাদের এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা কামাল উদ্দিন।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ২৫১ ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৫ জন।

এসআইএইচ


Header Ad
Header Ad

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রশাসনে মোট ৫১৬ জন ওএসডি রয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব। এটি প্রশাসনে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তা, যা পূর্বে কখনো হয়নি।

এছাড়া, শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে কখনো এত সংখ্যক শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এর ফলে, নিচের স্তরের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ওএসডিতে রাখা কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয়করণের প্রবণতা এবং নিয়মবহির্ভূত পদায়ন-পদোন্নতির প্রভাব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এজন্য তারা আশা করছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা কমে যাবে এবং কর্মীদের মধ্যে ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ৮৪টি সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদ রয়েছে, এর মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকেই অতীতে শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তারা দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে নিয়োগ পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে, যারা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, ছুটি কিংবা প্রেষণের কারণে ওএসডিতে রাখা হয়েছে। তবে অন্যদিকে, অনেক কর্মকর্তাকেই দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং সিস্টেমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ে এবং তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যাদের কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক নেই, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে এবং ওএসডি ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

এছাড়া, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি ব্যবস্থাকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা বলেছেন, 'পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮' অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি শেষে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল করা উচিত। তারা পরামর্শ দিয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি অবস্থায় রেখে বেতন-ভাতা না দিয়ে, তাদের একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে অন্য কাজে নিযুক্ত করা উচিত।

এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্টও রায় দিয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখা যাবে না। মন্ত্রিসভা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি কমিটি গঠন করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে।

এই বিশাল সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, যার মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিবদের একটি বিশাল দল রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, বাকিরা পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ বা ছুটির কারণে ওএসডিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতার চিহ্ন। তারা মনে করেন, এটি কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা ও দক্ষতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

Header Ad
Header Ad

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে, তা আমাদের জন্য আনন্দের।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ভূরাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই দুজনের বৈঠক আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, এ বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষকে উপকৃত করবে।

এর আগে ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুল হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে আবারও ডাকাতির শিকার হয়েছে যাত্রীবাহী একটি বাস। ‘ইতিহাস পরিবহন’ নামের বাসটি চলন্ত অবস্থায় ডাকাতি সংঘটিত হয়। যাত্রীবেশী ডাকাতদলের সদস্যরা বাসে থাকা যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বাসটির চালক রজব আলী (৩০) ও হেলপার এমদাদুল হক (৪০) আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সাভার মডেল থানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইতিহাস পরিবহনের বাসটি কর্ণপাড়া ব্রিজের কাছে আসলে যাত্রীবেশী ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। সুমন সরকার নামের এক যাত্রী জানান, তিনি চন্দ্রা থেকে বাসে উঠেছিলেন এবং সাভার আসার পর ডাকাতরা তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অন্য যাত্রীদের কাছ থেকেও স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

বাসের চালক রজব আলী জানান, ডাকাতরা যাত্রীদের জিম্মি করে মালামাল লুট করার পর যাত্রীরা বাসে ভাঙচুর চালায়। তিনি ও তার সহকারী এমদাদুল সড়কের পাশে লুকিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনার পূর্বে, গত ২৪ মার্চ এবং ২ মার্চেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ২৪ মার্চের ঘটনার পর যাত্রীরা মানিকগঞ্জগামী একটি বাসের চালক ও হেলপারকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ২ মার্চে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসেও ডাকাতি হয়েছিল, যেখানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ যাত্রীর মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড
ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত