শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সুনামগঞ্জে পলিথিনের কারণে হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের চারপাশ। পলিথিন নিষিদ্ধের পরও দিন দিন বেড়েই চলছে । পলিথিনের ভয়ঙ্কর দূষণ জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতি-পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আইনি দুর্বলতার সুযোগে পরিবেশ বিপর্যয়ের এই পলিথিন সুনামগঞ্জে এখন সহজলভ্য। মাটির নিচে যে পলিথিন ৫০০ বছরেও পঁচে না, তারই দাপট বাড়ছে জলাশয় আর স্থলভাগে। অপচনশীল পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহারের ফলে ভরাট হচ্ছে সুনামগঞ্জের নদী-নালা, খাল-বিল। দূষিত হচ্ছে পানি। বিষ ছড়াচ্ছে বাতাসে। ভেঙে পড়ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শুধু তাই নয় পলিথিন বর্জ্যের কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে মাটি। খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা মানুষের দেহে ঢুকে ক্যান্সারসহ জটিল রোগ তৈরির কারণ হয়ে উঠছে।

এক সময়ের অপার সৌন্দর্যের সুরমা নদীর রূপ হারিয়েছে নিষিদ্ধ পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্যের কারণে। বাতাসের সঙ্গে নদীর পানি থেকে ভেসে আসছে ভয়বহ দুর্গন্ধ। চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নোঙরা পলিথিন। নদীর তীরে পা রাখা মাত্রই গা ঘিন ঘিন করে উঠে-এমন সব দৃশ্য।

সারাদিন ভ্যান গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত শরীরে সুরমা নদীতে গোসল করতে এসছিলেন পৌর শহরের ভ্যান গাড়ি চালক আব্দুল মজিদ। কিন্তু নদীর দুর্গন্ধ যুক্ত পানি আর নোঙরা অবস্থা দেখে কেবল হাত-পা ধুয়ে চলে যেত হয় তাকে। এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই সুনামগঞ্জের ( শহর ) বুকে একটা মাত্র নদী। এই নদীর মাঝে ময়লা-আবর্জনা ফালাইন, গন্ধ করে তাও হাত পা ধুই-গোসল করি। এই নদী ছাড়া আর তো পানি নেই । এখন একমাত্র সরকার প্রশাসনের লোক পাটাইয়া দিলে তো এটা আটকিবো। নইলে পাবলিকে কইয়া এটা আটাইতে পারতো না।’

ভ্যানচালকের মতো বিপাকে পড়েছেন হাওর পারের শত শত মানুষ। আব্দুল জলিলও অভিযোগ করে বলেন, ‘পলিথিনের ব্যাগে করে নদীতে যে ময়লা ফেলায়, এটা পচেও না গলেও না, বরং নদীর পানির ক্ষতি করে। এই নদীর ময়লা পানি খেলে বা থালা বাসন ধোলে অনেক ক্ষতি হয়। এ ছাড়াও নদীতে মাছ মারতে আসলে পলিথিলের কারণে গন্ধ লাগে। কিন্তু আমরা আর কি করব আমাদের নদীতে থাকতে থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে।’

সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর এলাকার স্থানীয় বালু পাথর ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমাদের শহরে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে পলিথিন, যে কারণে নদী-নালা খাল-বিল, রাস্তাঘাটে অতিরিক্ত পলিথিনের আবর্জনা। দুর্গন্ধের কারণে আমরা নদীর পাড়ে এসে মুক্ত বাতাস খেতে পারি না। নদীর পারে এসে অনেক কষ্ট হচ্ছে। নদীর পাড়ে শুধু পলথিন আর পলিথিন। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পৌর মেয়রসহ যারা দায়িত্বে আছেন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নিষিদ্ধ হওয়ার পরও প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিনের রমরমা ব্যবসা। সরেজমিনে সুনামগঞ্জের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহার বেড়েছে। ক্ষুদ্র একটি জিনিস থেকে শুরু করে প্রতিটি পন্যই এখন পলিথিনের ব্যাগে করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন দোকানিরা। আর এটা দেখার যেন কেউ নেই।

পলিথিন ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সব প্রয়োজনে পলিথিন ব্যবহার করছেন কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সুনামগঞ্জ সবজি বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, আমরা বিকল্প কোনো ব্যাগ না পাওয়াতে এই পলিথিনের ব্যাগ ক্রেতাকে দিতে হয়। আমরা পলিথিনের বিকল্প কিছু পেলে এটা আর ব্যবহার করব না।

আইনজীবীরা মনে করেন,পলিথিন বন্ধে কঠোরভাবে আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলেই হবে না। অবৈধ এই পলিথিন বিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

সুনামগঞ্জ জজকোর্টের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নজরুর ইসলাম শেফু ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমরা জানি পরিবেশকে দূষণের কারণে পলিথিনকে সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু ইদানিং আমরা পলিথিন বন্ধের ব্যাপারে সরকার বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে দেখছি না। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা একান্তভাবে জরুরি। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে মনে করি যেকোনো আইন হলে এই আইনকে প্রয়োগ করতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে হয় না।

তিনি আরও বলেন, পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন করা হয়েছে। তার শাস্তিও আছে কিন্তু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করে যদি আইন বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে দেখা যাবে আমাদের দেশের পলি মাটির উর্বরতা শক্তি দিন দিন কমে যাবে এবং ফসল উৎপাদন কম হবে। এতে আমাদের দেশ উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছাতে এই পলিথিন বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

শহর নগর ছাড়িয়ে এখন হাওরের ফসলি জমি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে নিষিদ্ধ পলিথিন। এখন হাওর পারের ফসল ফলানো কৃষকদের কাছে আতঙ্কের নাম পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য।

হাওরপারের কৃষক সালাম মিয়া ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘এই যে পলিথিন আমাদের বহু ক্ষতি করে। এই পলিথিন আমাদের জমিনের নিচে পড়লে ধানের গুছাটা লাল হইয়া যায়। ধানে পানি পাইলেও জেতা হয় না। এ ছাড়া আমরা যে গাছ লাগাই এইগুলোও লাল হইয়া টেন্ডাইয়া থাকে। যদি এইগুলো এদেশে বন্ধ করিলাইন তাইলে আমদের কৃষকের জমি করতে অনেক সুবিধা হইবো।’

এ প্রসঙ্গে হাওর বিশেষজ্ঞ শামস শামীম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, হাওর এলাকা একটি বৈচিত্র্যময় এলাকা। বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ জল এবং মাছসহ জীব-বৈচিত্র্যের আধার বলা হয় এই হাওরকে। এখন এই হাওরের অস্তিত্ব নানা কারণে প্রতিনিয়ত হুকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে গত বন্যায় সুনামগঞ্জে যে বন্যা দেখা দিয়েছিল সেই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন পলিথিনে মোড়ানো ত্রাণ নিয়ে আসছিল এই হাওর অঞ্চলে এবং লাখ লাখ ত্রাণের পলিথিনের প্যাকেট হাওরে ও নদীতে ফেলা হয়েছিল। সেই বন্যার সময় নদী-নালা ও হাওরে ফেলানো লাখ লাখ পলিথিন স্তুপ আকারে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনে হাওরবাসী যে পলিথিন ব্যবহার করেন সেগুলোও অপরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া হয়। এটা জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি ভূ-প্রকৃতির জন্যও ক্ষতিকর। বিশেষ করে নাব্যতার কারণে যখন বন্যা হয় তখন পানি সহজেই লোকালয়ে এসে আঘাত করে এবং পানি ছাপিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পলিথিনও এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি বদলে দেওয়ায় বড় ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসকদের মতে, পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া পলিথিনে মাছ, মাংস মুড়িয়ে রাখলে এতে রেডিয়েশন তৈরি হয়ে খাবার বিষাক্ত হয়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়াও বর্তমানে ডেঙ্গু রোগের জন্যও পলিথিনকে দায়ি করলেন তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, পলিথিনে বর্জ্য আমরা যত্রতত্র ফেলাচ্ছি, এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। প্রথমত আমাদের নর্দমাগুলোতে পলিথিন আটকে থাকে। এতে পানি জমে থাকে। আর পানি জমে থাকায় মশার বংশ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে ডেঙ্গু একটা হুমকির মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বে শুধু ঢাকা শহরে দেখা মিললেও বর্তমানে গ্রামে-গঞ্জেও আমরা ডেঙ্গু পাচ্ছি। এই ডেঙ্গুর বংশ বৃদ্ধির জন্য এডিস মশা দায়ী, আর এই এডিস মশা বংশ বৃদ্ধি করে জমে থাকা পানিতে। আর এই পানিকে ধরে রাখছে পলিথিন। এ ছাড়া কিছু মানুষকে দেখা যায় বর্জ্য পদার্থ আগুনে পুড়াচ্ছে। পলিথিন পুড়ালে এর প্রভাব পরে মানবদেহ। এমনকি মানব শরীরে বাসা বাঁধতে পারে প্রাণঘাতী ক্যান্সারসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ। এ বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে বলে জানান তিনি।

বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পৌরবাসীর ভোগান্তির জন্য পলিথিন-প্লাস্টিককে দায়ী করলেন সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত। তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, আমাদের ড্রেনের মধ্যে প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনের ব্যাগ নিজেরাই ফেলে দেই। এটা ফেলার পরে ওই জায়গাটা (ড্রেনেজ ব্যবস্থা) ব্লক হয়ে যায়। তাতে আমাদের ছোট ছোট খালগুলোও বিলপ্তির পথে।

পৌর মেয়র আরও বলেন, ভারতের মেঘালয়ের পাশেই সুনামগঞ্জ জেলার অবস্থান। তাই প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় আমাদের ড্রেন ও খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হয় না। বিধায় দ্রুত জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে যায়। তাই শহরটাকে রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

অবৈধ পলিথিন ব্যবহার ঠেকাতে পলিথিন বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানালেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, পলিথিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুটি প্রচলিত আইন আছে। এই দুটি আইনের আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়েও করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ সব সময় সচেষ্ট আছে ও ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

Header Ad
Header Ad

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রশাসনে মোট ৫১৬ জন ওএসডি রয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব। এটি প্রশাসনে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তা, যা পূর্বে কখনো হয়নি।

এছাড়া, শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে কখনো এত সংখ্যক শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এর ফলে, নিচের স্তরের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ওএসডিতে রাখা কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয়করণের প্রবণতা এবং নিয়মবহির্ভূত পদায়ন-পদোন্নতির প্রভাব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এজন্য তারা আশা করছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা কমে যাবে এবং কর্মীদের মধ্যে ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ৮৪টি সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদ রয়েছে, এর মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকেই অতীতে শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তারা দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে নিয়োগ পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে, যারা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, ছুটি কিংবা প্রেষণের কারণে ওএসডিতে রাখা হয়েছে। তবে অন্যদিকে, অনেক কর্মকর্তাকেই দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং সিস্টেমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ে এবং তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যাদের কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক নেই, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে এবং ওএসডি ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

এছাড়া, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি ব্যবস্থাকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা বলেছেন, 'পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮' অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি শেষে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল করা উচিত। তারা পরামর্শ দিয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি অবস্থায় রেখে বেতন-ভাতা না দিয়ে, তাদের একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে অন্য কাজে নিযুক্ত করা উচিত।

এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্টও রায় দিয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখা যাবে না। মন্ত্রিসভা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি কমিটি গঠন করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে।

এই বিশাল সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, যার মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিবদের একটি বিশাল দল রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, বাকিরা পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ বা ছুটির কারণে ওএসডিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতার চিহ্ন। তারা মনে করেন, এটি কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা ও দক্ষতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

Header Ad
Header Ad

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে, তা আমাদের জন্য আনন্দের।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ভূরাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই দুজনের বৈঠক আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, এ বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষকে উপকৃত করবে।

এর আগে ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুল হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে আবারও ডাকাতির শিকার হয়েছে যাত্রীবাহী একটি বাস। ‘ইতিহাস পরিবহন’ নামের বাসটি চলন্ত অবস্থায় ডাকাতি সংঘটিত হয়। যাত্রীবেশী ডাকাতদলের সদস্যরা বাসে থাকা যাত্রীদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বাসটির চালক রজব আলী (৩০) ও হেলপার এমদাদুল হক (৪০) আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সাভার মডেল থানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইতিহাস পরিবহনের বাসটি কর্ণপাড়া ব্রিজের কাছে আসলে যাত্রীবেশী ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। সুমন সরকার নামের এক যাত্রী জানান, তিনি চন্দ্রা থেকে বাসে উঠেছিলেন এবং সাভার আসার পর ডাকাতরা তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অন্য যাত্রীদের কাছ থেকেও স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।

বাসের চালক রজব আলী জানান, ডাকাতরা যাত্রীদের জিম্মি করে মালামাল লুট করার পর যাত্রীরা বাসে ভাঙচুর চালায়। তিনি ও তার সহকারী এমদাদুল সড়কের পাশে লুকিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনার পূর্বে, গত ২৪ মার্চ এবং ২ মার্চেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ২৪ মার্চের ঘটনার পর যাত্রীরা মানিকগঞ্জগামী একটি বাসের চালক ও হেলপারকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ২ মার্চে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসেও ডাকাতি হয়েছিল, যেখানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ যাত্রীর মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড
ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত