শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

৯ ডিসেম্বর বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে নেত্রকোনা

আজ ৯ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এদিনে হানাদার মুক্ত হয় নেত্রকোনা। মুক্তির আনন্দে সেদিন বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা। নেত্রকোনা জেলা শহরে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্মূতিসৌধে সকালে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট অসিত সরকার সজল,মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নেত্রকোনা জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ তালুকদার, হাওর বন্ধু ইকবাল হোসেন, সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এর নেতৃবৃন্দ শহীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

তারপর একটি বণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন হলে আলোচনা সভায় মিলিত হন। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী বাঙালির উপর বর্বর নির্যাতন চালায়। হত্যা করে অসংখ্য নিরীহ মানুষ। লাশ পরে লাশ ফেলে স্তুপ করে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলার জারিয়া, কলমাকান্দার উব্দাখালি, রামপুর, আজগড়া, নাজিরপুর, দূর্গাপুরের বিরিশিরি ও বিজয়পুরে।

এসব জায়গা দেখলে এখনো গা শিউরে উঠে। যুদ্ধে পাক হানাদারদের অত্যাচার ছিল অত্যন্ত নির্মম। জেলায় ৫৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ শত শত নিরস্ত্র মানুষ পাক বাহিনীর হাতে নিহত হন। সম্ভ্রম হারান অগণিত মা-বোন।

পাক বাহিনীকে রুখতে আমাদের দামাল ছেলেরাও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা হানাদারদের মোকাবিলা করেছে শক্ত হাতে ও বীরদর্পে। নেত্রকোনার বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাঘমারা থেকে মহেষখোলা পর্যন্ত বাঘমারা, রংরা, মহষেখোলা সাব সেক্টর কমান্ডের অধীনে যুদ্ধ করেন।

যেভাবে হানাদার মুক্ত হলো নেত্রকোনা

১ ডিসেম্বর মোহনগঞ্জ থানার বড়তলী গ্রামে পাক আর্মিদের উপর বীর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করেছিলেন। সে আক্রমণে ৩৫ জন পাকসেনা নিহত হয়েছিল। পরদিন দুই ডিসেম্বর পাকবাহিনী বড়তলী গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে অনেক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

৩ ডিসেম্বর ঝাঞ্জাইল বিরিশিরি রাস্তায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর একটি ট্রাকের ওপর আক্রমণ করেন। সে সময় ছয় জন পাকসেনা নিহত হয়।

এই দিনে দূর্গাপুরের বিজয়পুরে পাকসেনাদের ক্যাম্পে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে আক্রমণ করেন। সে আক্রমণ একনাগাড়ে ছয় ডিসেম্বর পর্যন্ত চলেছিল। ছয় ডিসেম্বর পাকবাহিনী বিজয়পুর থেকে পালিয়ে দূর্গাপুরে চলে আসে। এই দিন বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়পুর ক্যাম্প দখল করে নেন। সাত ডিসেম্বর পাকবাহিনীরা দূর্গাপুর থেকে পালিয়ে যায়। স্বাধীন হয় দূর্গাপুর।

৮ ডিসেম্বর একে একে নেত্রকোনার প্রত্যেক থানা মুক্ত হয়ে যায়। পাকবাহিনীরা অনেক থানা ছেড়ে চলে যায়। তারা নেত্রকোনা শহরে আশ্রয় নেয়। নেত্রকোনাকে মুক্ত করতে তখন বীর মুক্তিযোদ্ধারা মরিয়া হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে নয় ডিসেম্বর ভোরে তারা আক্রমণ করেন পাক আর্মিদের উপর। এসময় শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। সে যুদ্ধ চলে ৫/৬ ঘন্টা। এ যুদ্ধে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু খাঁ, আব্দুস সাত্তার ও আব্দুর রশিদ।

৯ ডিসেম্বর রাতে নেত্রকোনা মুক্ত হয়। জয় বাংলা ধ্বনিতে আকাশ বাতাস প্রকম্মিত হয়। হানাদারদের ঘাঁটিতে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত ঘোষ জানান, ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার জন্য এক ঐতিহাসিক দিন।এই দিনে নেত্রকোনা জেলা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হয়।প্রতি বছর তা পালন করে আসছে। এটি গৌরবের , মহিমান্বিত।

সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আমিন বলেন,এ দিবসের মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। এই দিনে শহীদরা আমাদের ভাই। ভাইয়ের রক্তের দাগ অন্তর থেকে শুকায় নাই। আমরা সবাই মিলে তার মর্যাদা রক্ষা করবোই।
এএজেড

Header Ad
Header Ad

মার্কিন শুল্ক নিয়ে সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সভা আয়োজিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সভায় অংশ নেবেন শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এত দিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের ৪০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে। এই ধাক্কা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ খোঁজা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ: পরীমনি বললেন ‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে’

অভিনেত্রী পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি এখন একটি বিতর্কিত অভিযোগের শিকার। তার গৃহকর্মী পিংকি আক্তার পরীমনির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, পরীমনি তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করেছেন, বিশেষত এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানোর ঘটনায়।

অভিযোগ দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং সোশ্যাল মিডিয়া সহ গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে পরীমনি ফেসবুক লাইভে আসেন। তিনি জানান, তার কাছে সব প্রমাণ রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ করতে চান না কারণ তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

অভিনেত্রী পরীমনি। ছবি: সংগৃহীত

লাইভে পরীমনি বলেন, “যদি আমার বিগত জীবনযাপন দেখেন, বুঝবেন যে আমি আমার স্টাফদের সঙ্গেই সময় কাটাই, তারা আমার পরিবার। এক গৃহকর্মী যার সাথে এক মাসও হয়নি, সে নিজের বিরুদ্ধে এমন দাবি করতেই পারে, তবে আমি বলব সে আমার গৃহকর্মী নয়।”

এছাড়া পরীমনি আরো জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিডিয়া তাকে 'মিডিয়া ট্রায়াল' করেছে এবং তা একেবারেই সঠিক নয়। তিনি বলেন, “যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে জিডি করলেই সেটা কি সত্যি হয়ে যাবে? প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।”

লাইভে আবেগপ্রবণ হয়ে পরীমনি আরও বলেন, “এত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করুন, জনগণ আসলে পুরো একটা মিডিয়া।"

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার অভিযোগ করেন, পরীমনি তার মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানোর সময় তাকে মারধর করেন, ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান এবং পরে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে ডেকে আনেন। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

এদিকে, পরীমনি জানিয়েছেন, তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন এবং সমস্ত প্রমাণ আদালতের মাধ্যমে উন্মোচন করবেন।

Header Ad
Header Ad

যমুনা সেতু মহাসড়কে র‍্যাবের টহল জোরদার (ভিডিও)

যমুনা সেতু মহাসড়কে র‍্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে ঘরমানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফেরা ও সড়কে ডাকাতিরোধে র‍্যাবের টহল টিম জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে মহাসড়কের এলেঙ্গা ও মির্জাপুরসহ গুরত্বপূর্ণ এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে যাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মহাড়কে চলাচলের সার্বিক খোঁজখবর নিচ্ছে র‍্যাব সদস্যরা।

এছাড়াও ডাকাতিরোধসহ জরুরি প্রয়োজনে যাতে র‍্যাবের যোগাযোগ করতে জরুরি মোবাইল নম্বরও সরবরাহ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে র‍্যাব- ১৪ এর ৩ নং কোম্পানী কমান্ডার মেজর কাওছার বাঁধন বলেন, ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তাদের একাধিক টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

মার্কিন শুল্ক নিয়ে সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা
গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ: পরীমনি বললেন ‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে’
যমুনা সেতু মহাসড়কে র‍্যাবের টহল জোরদার (ভিডিও)
শরীয়তপুরে দু’পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
গরমে তৃষ্ণা মেটানোর বদলে ডিহাইড্রেটেড করবে যেসব পানীয়
পরকীয়া থেকে ফেরাতে না পেরে স্বামীকে হত্যা করলেন স্ত্রী
গাজায় প্রতিদিন ১০০ শিশু হতাহতের শিকার: জাতিসংঘ
আয়ারল্যান্ডের পাসপোর্ট বিশ্বসেরা, বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ, নেই যানজট ও ভোগান্তি
আইএমএফের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে আজ
অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ২৮ জনের ৩ কোটি আত্মসাৎ, ফেরত দেওয়ার দাবি
প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড
ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ