সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে গভীর রাতে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে ও তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ সময় তারা একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে আশুলিয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং সেইসঙ্গে একাত্তর টেলিভিশনকে বয়কটের ঘোষণা করেন।
শনিবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সাভারের ইপিজেড এলাকায় আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিও জানান।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসকে রাতের আধারে সাদা পোশাকে এক দল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। তাকে কেন রাতের আধারে গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি তো পালিয়ে যেতেন না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা নামক কালো আইন বাতিল করতে হবে।
তারা বলেন, আপনারা জানেন সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে যে নিউজের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই নিউজের একটা ভুয়া অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক ফারজানা রুপা। মামলার রেফারেন্সে সেই ভুয়া প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বিতর্কিত, ভুয়া প্রতিবেদন করার জন্য সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে আশুলিয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। সেই সাথে প্রায়ই বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশের জন্য একাত্তর টেলিভিশনকেও বয়কট করা হলো।
সাংবাদিকরা আরও বলেন, এই শামসুজ্জামানের ভাই পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ঢাকার হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন। যেখানে এক মায়ের সন্তান দেশের জন্য শহীদ হয়েছে সেখানে অন্য সন্তান দেশবিরোধী কার্যকালাপ কীভাবে করে। তিনি রাষ্ট্রের ভালোর জন্য কাজ করেন। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
মানববন্ধন শেষে তারা প্রতিবাদ মিছিল করেন। এ সময় সাভার, আশুলিয়া,ধামরাই ও কাশিমপুরের শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের জেরে ২৯ মার্চ ভোর ৪টার দিকে সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের আমবাগান এলাকায় শামসুজ্জামানের বাসা থেকে সিআইডির একটি দল তাকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তারা শামসুজ্জামানের থাকার কক্ষ তল্লাশি করে তার ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দুটি মুঠোফোন ও একটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক নিয়ে যান। পরে ৩০ মার্চ দুপুরে রমনা থানার এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে উঠানো হয়। পরে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসআইএইচ
