শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে পাঁচ দিনব্যাপি ‘অমর একুশে বই মেলা’ শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বই মেলার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বই মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামান।
এ সময় অতিথি ছিলেন- টাঙ্গাইল পৌরসভা মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী খোন্দকার ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহেল রানা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি প্রমুখ।
জালিয়াতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার (২১ জানুয়ারি) শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নিপুণ আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সমিতির অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করে কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে নিজেকে ‘সাবেক সাধারণ সম্পাদক’ বলে উল্লেখ করেন। এর পরদিন তিনি ফেসবুকে সেটি পোস্ট করেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এই অনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়ে ৩০ জুলাই সমিতির ষষ্ঠ সভায় আলোচনা করা হয় এবং নিপুণকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু নিপুণ তা অগ্রাহ্য করে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন তিনি ডিপজলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
নিপুণের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে কার্যনির্বাহী পরিষদ তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সমিতি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ডি এ তায়েব এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করলেও, নিপুণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়া, নিপুণের এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। প্রথমত, তিনি যখন ‘সাবেক সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করেন, তখন তার এই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্বিতীয়ত, তার বিবৃতিটি টেলিভিশন অভিনয়শিল্পী সংঘের বিবৃতির হুবহু কপি ছিল এবং তৃতীয়ত, সহিংসতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্যও তাকে সমালোচনার শিকার হতে হয়।
এই বিতর্কের মধ্যে নিপুণের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়। হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল ফজল পলাশ জানিয়ে ছিলেন, নিপুণ আক্তারের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পেনাল কোডের ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া, নিপুণের বহিষ্কার নিয়ে এফডিসির অনেক সিনিয়র শিল্পী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিপুণের কর্মকাণ্ড শিল্পী সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তার জন্য এই শাস্তি অনেক আগেই প্রাপ্য ছিল।
এদিকে, গত জানুয়ারির ১০ তারিখে সিলেট বিমানবন্দরে তাকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়, তবে পরে পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং তিনি ছেড়ে দেয়া হয়। নিপুণ দাবি করেন যে, বিমানবন্দরের আটকের খবর মিথ্যা, কিন্তু এ ব্যাপারে বিভিন্ন ফুটেজে তার উপস্থিতি স্পষ্ট দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাবেক ফ্লোরিডা সিনেটর মার্কো রুবিওকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মার্কো রুবিও ইসরায়েলপন্থি এবং চীনবিরোধী হিসেবে পরিচিত, এবং তার এই কট্টর অবস্থান তাকে রিপাবলিকান দলের সঙ্গে সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও সমাদৃত করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সিএনএন ও রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিওর নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। ৯৯ সিনেটরের সবাই তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
মার্কো রুবিও ২০১১ সাল থেকে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কয়েক বছর আগে তিনি ট্রাম্পের বিরোধিতা করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মার্কো রুবিও ইসরায়েলের প্রতি তার গভীর সমর্থন এবং চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন, যা তাকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তোলে।
এদিকে, সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর, ডোনাল্ড ট্রাম্প একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে তিনি জো বাইডেনের শাসনামলে নেওয়া ৭৮টি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন। পাশাপাশি, ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় জড়িত প্রায় ১৫০০ জনকে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ১৫০০ জনকে ক্ষমা করেছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এছাড়া, তার শপথগ্রহণের পরপরই ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, পানামা খাল ফেরত নেওয়া এবং বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করার মতো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি বাইডেন প্রশাসনের ৭৮টি নির্বাহী আদেশও বাতিল করেন, যা দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গায় যুক্ত থাকার জন্য আটক প্রায় ১৫০০ জনকে ক্ষমা করেছেন ট্রাম্প। ওই দিন সাভারের ডিসি জেলের বাইরে তার সমর্থকরা অপেক্ষা করছিলেন, যখন ট্রাম্প ক্যাপিটল ওয়ান অ্যারেনায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। ট্রাম্প তখনই ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি ওয়াশিংটনে ফিরে ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় অভিযুক্তদের ক্ষমা করবেন। এর পরপরই উপস্থিত জনতার মধ্যে উদযাপনের চিৎকার শোনা যায়, কেউ কেউ "ফ্রিডম!" বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
ট্রাম্প ক্যাপিটল হিলে হামলা চালানোদের 'রাজনৈতিক বন্দি' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাদের ক্ষমা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তবে এটি স্পষ্ট নয় যে, তিনি ক্ষমার আওতায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করবেন কিনা।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি, ট্রাম্প সমর্থকরা ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়, যেখানে সেদিন বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি চলছিল। হামলাকারীরা কংগ্রেসের অধিবেশন ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতার কার্যালয় তছনছ করে দেয়। সংঘর্ষে পুলিশের এক সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হন।
ডেমোক্র্যাটরা এই হামলার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করে তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের অভাবে ট্রাম্প শাস্তি থেকে মুক্তি পান।