শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘এরা হাওরের হাঙ্গর, এদের থেকে আমাদের রক্ষা করুন’

হাওরাঞ্চল শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের ইয়ারাবাদ গ্রামের কৃষক মাফিক মিয়া। পিআইসি বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইউএনও স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছিল, এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দিলে তিনি আমাকে পিআইসি দেবেন। স্যারের কথামতো নিজের হাতে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি । আমার প্রতিপক্ষ স্যারকে তিন লাখ টাকা অফার করলে স্যার আমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে এনে বলেন পিআইসিটা নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি চলছে। আপনারা দুই পক্ষ মিলে যান। আমি অস্বীকৃতি জানালে তিনি বলেন-আমাকে মোট তিন লাখ টাকা দেন। যা হয় হবে, আমি আপনাকে পিআইসি দিয়ে দিব। আমি বললাম স্যার তিন লাখ টাকা দিতে পারব না, আমি আপনাকে দুই লাখ টাকা দিব। তখন তিনি বলেন আমার বুঝার আছে । পরে তিনি তিন লাখ টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিপক্ষকে পিআইসি বাধঁটি দিয়ে দেন এবং আমার টাকাগুলোও ফেরত দেন।’

অপর কৃষক সোলেমান মিয়ার দাবি-‘বানের জল যতো না ভয়ংকর, তার চেয়ে বেশি ভয়ংকর ইউএনও এবং এসও। এরা হাওরের হাঙ্গর। এদের থেকে আমাদের রক্ষা করুন।’

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার পিআইসি বাঁধের দুর্নীতি বিষয়ে একজন ভোক্তভুগী কৃষকের এমন বক্তব্য কখনোই আশাব্যঞ্জক নয়। এই অবস্থায় কৃষকের সোনালী ফসল তলিয়ে যায় অকাল বন্যায়। ফসল তলিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আগামীর স্বপ্নগুলোও ফিকে হয়ে যায় কৃষকদের। উপজেলার রক্ষা কর্তা এবং এসও’র নেতেৃত্বে বারবার এমনটি হচ্ছে-এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় কৃষকদের।

ফসলের মাঠে যখন সোনালী রঙ কৃষকের মুখে তখন আনন্দের ঝিলিক। সেই থেকে আগামীর স্বপ্ন রচনা। ছেলে/মেয়ের বিয়ে, সন্তানের শিক্ষা খরচ/স্কুল ভর্তি, চিকিৎসা, বিদেশ যাত্রাসহ সবকিছু নির্ভর করে এই বোরো ফলনের উপর। ফলে বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল। এখানে বোরো ফসলই কৃষকদের জীবন-জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস। ফলে নিজেদের সর্বস্ব ঢেলে দিয়ে বোরো ফসল উঠার অপেক্ষায় উন্মুখ থাকে কৃষকরা কিন্তু বাঁধ সাধে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অকাল বন্যার কবলে তলিয়ে যায় কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অন্যান্য অঞ্চলের মতো প্রতিবারই হানা দেয় হাওরাঞ্চল শাল্লায়। এ জন্য প্রতি বছর ফসল রক্ষায় সহায়ক বাঁধ নির্মাণে আর্থিক বরাদ্ধ আসে যথারীতি। তবে এতে লাভবান হয় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দুর্নীতিবাজ কতিপয় মানুষ। কারণ সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙ্গে যায় অপরিকল্পিত বাঁধগুলো। তখন ফের সংস্কারের নামে আরও কিছু বরাদ্ধ লুটেপুটে নেয় দুর্নীতিবাজরা। এতে লাভ হয় না হাড়ভাঙ্গা খাটুনীর কৃষকদের। ফলে উৎবেগ, উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন লাখ লাখ কৃষকরা।

প্রতি বছর শাল্লার হাওরে বাঁধ নির্মাণের নামে টাকা লোপাটের ঘটনা নতুন নয়। একই ঘটনা চলতি বছরেও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, খোদ উপজেলা ইউএনও আবু তালেবের নেতৃত্বেই ঘটছে এমন লোটপাটের ঘটনা। সাথে যুক্ত আছেন উপজেলা পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী (এসও)আব্দুল কাইয়ুম।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, শাল্লায় মোট ফসল রক্ষা বাঁধের সংখ্যা ১৯৭টি। এর মধ্যে ঝঁকিপূর্ণ বাঁধের সংখ্যা ৫টি। তবে এমন সংবাদ যতটা স্বস্থির ঠিক ততটাই বেদনার। কারণ বাঁধগুলো ভারি বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ৮০ ভাগ। প্রতিটি বাঁধে প্রকৃত কৃষক রাখার শর্ত থাকলেও স্থান পেয়েছেন অকৃষক এবং দালাল শ্রেণির লোকজনরা। আর সবকিছুই সম্ভব হয়েছে এসও আব্দুল কাইয়ুম এবং ইউএনও আবু তালেবের সিন্ডিকেটের কারণে। এমন অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের। অভিযোগকারী কৃষকদের দাবি, টাকার বিনিময়ে এমন অপকর্ম করে কৃষকের স্বপ্ন ফিকে করে দিচ্ছেন এসও আব্দুল কাইয়ুম এবং ইউএনও আবু তালেব।

কৃষকদের দাবি, প্রতিটা পিআইসি বাধঁ দেওয়া হয়েছে ঘুষের বিনিময়ে। ফলে বাদ পড়েছেন প্রকৃত কৃষক। এর ফলে শর্ত ভঙ্গ হয়েছে নীতিমালার। অকৃষককে সভাপতি করেই অক্ষত এবং অপ্রয়োজনীয় বাধেঁ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। আবার একই পিআইসির জন্য দুটি পক্ষের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে কোন পক্ষকে পিআইসি দেবে, এটা নিয়ে বিপাকেও পড়েন তারা। সমস্যা সমাধানে অনেক পিআইসির দুইটি পক্ষকে মিলিয়ে একটা করে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই ঘুষের টাকার পরিমাণ বেশি হওয়ার ভয়ে রাজি না হওয়ায় তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ১৬৯ নম্বর পিআইসি। এই বাঁধের জন্য দুটি কমিটিকে লিখিত ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে। পিআইসি সভাপতিদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে অধিকাংশ বাধেঁ দুই থেকে তিন গুণ টাকা বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটা বাধঁ থেকে ঘুষ নেওয়া হয়েছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা।

এদিকে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে নেওয়া হয়েছে এক অভিনব কৌশল। কয়েক গুণ টাকা বরাদ্দ বেশি দিয়ে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে কয়েকটা পিআইসি বাধেঁর কাজ। গত বছর অকাল বন্যায় বাধঁ তলিয়ে যায় এবং পানি কমে যাওয়ায় কিছু ক্লোজার ছাড়া বাধঁগুলো অক্ষত থেকে যায়। এর আগে প্রতিটি বাধেঁ লাখ লাখ টাকার মাটি ফেলা হয়েছে। যার ফলে বাধঁগুলোর অবস্থা মোটামুটি ভাল। তারপরও ওই বাঁধগুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্ট কৃষকসহ অভিজ্ঞরা বলছেন, যেখানে দুই থেকে তিন লাখ টাকার কাজ করলেই বাধঁগুলোর কাজ সমপন্ন করা যেত সেখানে প্রতিটা বাধেঁ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।

বিশিষ্টজনদের অভিমত, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা পলি মাটি এবং পিআইসি বাধেঁর মাটি পড়ে নদীগুলো কাদায় পরিণত হচ্ছে । অদূর ভবিষ্যতে নদী বলতে কিছু থাকবে না। নদীগুলো খনন না করলে পিআইসির বাধঁ দিয়েও ফসল রক্ষা করা যাবে না। সুতরাং ভরাট নদীগুলো খনন করাই এখন ফসল রক্ষার চিরস্থায়ী সমাধান। নদী খননের অপশন পানি উন্নয়ন বোর্ডের থাকলেও নদী খনন না করে অক্ষত বাধঁগুলোতে বরাদ্দের নামে কোটি কোটি দুর্নীতি হয়েছে।

এ বিষয়ে ফয়জল্লাপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার লালচাঁদ মিয়া, চানঁ মিয়া চৌধুরী, মুখন্দ দাস, চেচরণ দাস, নূর মিয়া ও জিয়াউল হকসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ১৪ নম্বর বাধেঁ যে ২৪৮০৩৬৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ণ দুর্নীতি। এসও সাহেবকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তারা পিআইসি এনেছে। এখানে ৮৫ মিটার জায়গা লেখা থাকলেও সর্বোচ্চ জায়গা হবে ৫০ মিটার এবং কাজ করা হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার।

খালিয়াজুরী উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের প্রাক্তন মেম্বার জগন্নাথ দাস বলেন, খালিয়াজুরীর ১৩টা বাধঁই আমার নিজের চোখে দেখা এবং দুই-তিনটা ভাঙ্গা ছাড়া সব কয়টি বাধঁই অক্ষত, চার আনা কাজই করতে হচ্ছে না। সাধারণ কিছু মাটি দিয়ে শুধু ড্রেসিং আর স্লপ দিচ্ছে। প্রতিটা বাধেঁ সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানান তিনি । এ ছাড়াও আরও অসংখ্য বাধঁ রয়েছে, যা দুই থেকে তিন লাখ টাকার কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।

৪৮ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব, মৌরাপুর গ্রামের কৃষ্ণ কান্ত দাস চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কোথায়? এদেশের মানুষকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পিআইসি আনতে হয়। পাঁচ বছর যাবত এসও অফিসে যে দুর্নীতি হচ্ছে তা দেখেননি কেন?’

২১ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব মৌরাপুর গ্রামের সুকেশ চন্দ্র দাস বলেন, এসও সাহেবকে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পিআইসি এনেছি।

৩৮ নম্বর পিআইসির সভাপতি বাহাড়া গ্রামের মেঘলাল দাস বলেন, আমরা অনেক লসে আছি। কারণ দুটি পক্ষকে মিলাইয়া পিআইসি দেওয়া হয়েছে। এতে ঘুষের পরিমাণ অত্যধিক হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

৩৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি হরিনগর গ্রামের স্বনন্দ কুমার দাস বলেন, পিআইসি আনার আগেই অ্যাডভান্স ঘুষ দিতে হয় আর এটা কেউ বলবে না। কারণ আগেই সবাই হলফ করে আসে ঘুষের কথা প্রকাশ না করার জন্য ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হবিবপুর ইউনিয়নের এক পিআইসি সভাপতি বলেন, আমি এসও সাহেবকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছি। ইটনা উপজেলার, ধনপুর ইউনিয়নের এক পিআইসি সভাপতি বলেন, আমি এসও সাহেবকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে পিআইসি এনেছি। এ সংক্রান্ত সকল ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনও আবু তালেবের সঙ্গে প্রতিটি পিআইসি থেকে ঘুষ নেওয়া এবং বরাদ্দ বেশী দেওয়া সম্পর্কে কথা হলে তিনি বলেন, কোন পিআইসিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কার কাছ থেকে এবং কে টাকা নিয়েছে এসব সুনির্দিষ্ট করে লিখিত অভিযোগ দেন। আমি উপজেলা টেকনিক্যাল কমিটি দ্বারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

১৪ নম্বর পিআইসির কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আমি এটা তদন্ত করে দেখছি ।

১০৭ নম্বর পিআইসি দেওয়ার জন্য মাফিক মিয়ার কাছ থেকে আপনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাফিক মিয়া কে আমি চিনি না।

এসও আব্দুল কাইয়ুমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এসআইএইচ

Header Ad
Header Ad

নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

আকস্মিকভাবে নওগাঁ সদর হাসপাতাল, নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ও সিভিল সার্জিন অফিস পরিদশন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য সেবা) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আবু জাফর। শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় তিনি এই পরিদর্শন করেন।

হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগনকে সেবা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন। পরে নওগাঁ সদর হাসপাতাল , নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ও সিভিল সার্জন অফিসের উপস্থিত চিকিৎসকদের নিয়ে মত বিনিময় করেন।

মতবিনিময় সভায় নওগাঁয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

এসময় বিএমএ এর সভাপতি ডাঃ মোঃ ইসকেন্দার হোসেন নওগাঁ মেডিকেল কলেজ নিয়ে বর্তমান সরকারের নেতিবাচক মনোভাব তুলে ধরেন। তিনি নওগাঁ জেলার জনসংখ্যা, জেলার ক্যাটাগরি এবং মেডিকেল কলেজের ফলাফল সন্তোসজনক উল্লেখ করেন। সেইসাথে সরকারের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বাতিল করে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের বরাদ্দ ও দ্যূত স্থায়ী কাম্পাস প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, বিএমএ এর নওগাঁ সভাপতি ডাঃ মোঃ ইসকেন্দার হোসেন, সদর হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ মোঃ জাহিদ নজরুল, নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মুক্তার হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম সহ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫

ছবি: সংগৃহীত

জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীন অধিদপ্তরে ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ পদে ২৫৫ কর্মী নিয়োগে প্রকাশ করা হয়েছে এ বিজ্ঞপ্তি। আবেদন ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

 

প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়;

১. পদের নাম: সহকারী পরিচালক;

পদসংখ্যা: ২৬টি;

বেতন: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯);

আবেদনের যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে;

 

২. পদের নাম: টেলিফোন ইঞ্জিনিয়ার;

পদসংখ্যা: ১টি;

বেতন: ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯);

আবেদনের যোগ্যতা: টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;

 

৩. পদের নাম: ফিল্ড অফিসার;

পদসংখ্যা: ১৭টি;

বেতন: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০);

আবেদনের যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে;

 

৪. পদের নাম: সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর;

পদসংখ্যা: ৫টি;

বেতন: ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা (গ্রেড-১৩);

আবেদনের যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে;

 

৫. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর;

পদসংখ্যা: ১৪টি;

বেতন: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪);

আবেদনের যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে;

 

৬. পদের নাম: ওয়্যারলেস অপারেটর;

পদসংখ্যা: ২০টি;

বেতন: ৯,৭০০-২৩,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫);

আবেদনের যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;

 

৭. পদের নাম: অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট;

পদসংখ্যা: ২টি;

বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬);

আবেদনের যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;

 

৮. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক;

পদসংখ্যা: ২০টি;

বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬);

আবেদনের যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে;

 

৯. পদের নাম: গাড়িচালক;

পদসংখ্যা: ১৩টি;

বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬);

আবেদনের যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস হতে হবে;

 

১০. পদের নাম: রিসিপশনিস্ট;

পদসংখ্যা: ১টি;

বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬);

আবেদনের যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে;

 

১১. পদের নাম: ফিল্ড স্টাফ;

পদসংখ্যা: ১০৯টি;

বেতন: ৯,০০০-২১,৮০০ টাকা (গ্রেড-১৭);

আবেদনের যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে;

 

১২. পদের নাম: টেলিফোন লাইনম্যান;

পদসংখ্যা: ৩টি;

বেতন: ৯,০০০-২১,৮০০ টাকা (গ্রেড-১৭);

আবেদনের যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে;

 

১৩. পদের নাম: অফিস সহায়ক;

পদসংখ্যা: ২৪টি;

বেতন: ৮,২৫০-২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০);

আবেদনের যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস হতে হবে;

 

প্রার্থীর বয়স (সব পদের ক্ষেত্রে): ১৮-৩২ বছর (১ মার্চ ২০২৫ তারিখে);

 

আবেদন ফি— টেলিটক প্রি-পেইড নম্বর থেকে পরীক্ষার ফি বাবদ ১ থেকে ৩ নম্বর পদের জন্য ২০০ টাকা, ৪ থেকে ১০ নম্বর পদের জন্য ১০০ টাকা এবং ১১ থেকে ১৩ নম্বর পদের জন্য ৫০ টাকা ফরম পূরণের অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে;

আবেদন যেভাবে— আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন;

আবেদনের শেষ সময়: আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৫;

আবেদনপদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের বিজ্ঞপ্তি দেখুন—

 

ছবি: সংগৃহীত

 

Header Ad
Header Ad

‘বিদেশি কিছু গণমাধ্যম অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করছে’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বিদেশি কিছু গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করছে, যার মূল উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন। তিনি বলেন, “এই ধরনের অপপ্রচার রোধ করতে হলে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাহলেই বিদেশি গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ওপর ‘চুনকালি পড়বে’।”

শনিবার (৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসবের বিভিন্ন স্নানঘাট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত আর কোথাও নেই। লাঙ্গলবন্দের পুণ্যস্নানকে ঘিরে ধর্মীয় পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে।”

তিনি ব্রহ্মপুত্র নদ সম্পর্কে বলেন, “এই নদীর পানি এখনও পরিষ্কার রয়েছে। তবে এই পানি দূষণমুক্ত রাখতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি স্থানীয়দের প্রতি ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

লাঙ্গলবন্দে প্রতিবছর হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যস্নানে অংশ নেন। এই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫
‘বিদেশি কিছু গণমাধ্যম অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করছে’
সারা দেশে ৩২৯ উপজেলায় হচ্ছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: মহাপরিচালক
২৭৭ জনকে নিয়োগ দেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এইচএসসি পাসেও আবেদন
ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫৪
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো নিউজিল্যান্ড
স্বর্ণভর্তি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোরিকশাচালক খায়রুল
ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী
যারা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে, তারা রাজনীতি করার অধিকার রাখে না
লৌহজংয়ে কার্টনে পাওয়া মরদেহের টুকরোগুলো সাভারের সবুজ মোল্যার
মার্কিন শুল্ক নিয়ে সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা
গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ: পরীমনি বললেন ‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে’
যমুনা সেতু মহাসড়কে র‍্যাবের টহল জোরদার (ভিডিও)
শরীয়তপুরে দু’পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
গরমে তৃষ্ণা মেটানোর বদলে ডিহাইড্রেটেড করবে যেসব পানীয়
পরকীয়া থেকে ফেরাতে না পেরে স্বামীকে হত্যা করলেন স্ত্রী
গাজায় প্রতিদিন ১০০ শিশু হতাহতের শিকার: জাতিসংঘ
আয়ারল্যান্ডের পাসপোর্ট বিশ্বসেরা, বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম