শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এগিয়ে খুলনা শিপ ইয়ার্ড

জাহাজ রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অন্যতম প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপ ইয়ার্ড। এটি বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। জার্মানির সহায়তায় প্রায় ৬৫ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল এই শিপ ইয়ার্ড। তবে আশির দশকের দিকে এটি লোকসানের মুখে পড়ায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এরপর ১৯৯৯ সালের দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃতপ্রায় প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। তার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ইয়ার্ডটি উন্নয়নশীল লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি নিট মুনাফা করেছে ৪৩ দশমিক ২২ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে এক সময়ের বাংলাদেশে সাড়া জাগানো ম্যাজিষ্টেটি এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিরেক্টর (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী জানান, তিনি ৫/৬ মাস আগেই খুলনা শিপ ইয়ার্ড দিয়ে ঘুরে এসেছেন এবং সেখানকার পরিবেশ সন্তোষজনক। বাংলাদেশের যেকোনো শিপ ইয়াডের চেয়ে খুলনা শিপ ইয়ার্ড ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সকল শিপ ইয়ার্ডকে খুলনা শিপ ইয়ার্ড অনুসরন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন মানতে অনুরোধ জানান।


খুলনা শিপ ইয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, প্রতিযোগিতা মূলক দাম, স্বল্প সময়ে ডেলিভারি, কারিগরি দক্ষতার দায়িত্ববোধ, গুণগত মান, গ্রাহক বান্ধব সম্পর্ক, সেবা, পেশাগত ব্যবস্থাপনা, শ্রম প্রত্যায়ন, দক্ষতা সম্পন্ন কর্মশক্তি, মানব সম্পদ উন্নয়ন ইত্যাদি মিলিয়ে খুলনা শিপ ইয়ার্ড লিমিটেড শুধু বাংলাদেশে নয় বরং সমগ্র পৃথিবীতে একটি উজ্জবল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশান্তরের মানুষের নৌযানের জন্য হয়ে উঠেছে এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং জাহাজ নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে জাহাজ আমদানি করতে চাইছে। গত কয়েক বছরে দেশের শিপ ইয়ার্ডগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশে ৪০টি জাহাজ রপ্তানি করে। তাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জাহাজ যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছে। দেশের অন্য উদ্যোক্তারাও জাহাজ শিল্পে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। জাহাজ নির্মাণে অনুকূল পরিবেশ থাকায় উদ্যোক্তাদের এ খাতে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আমদানিকারকরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। এ জন্য বিশ্ববাজারে ছোট ও মাঝারি নৌযানের জন্য বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাইতো অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণ করে গত এক দশকে এ খাতের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জালানি, ৭০ শতাংশ কার্গো এবং ৩৫ শতাংশ যাত্রী নৌ-পথে পরিবাহিত হয়, যা দেশের অভ্যন্তরে জাহাজের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে। দেশে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩০০ শিপ ইয়ার্ড রয়েছে। তবে তার মধ্যে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান রপ্তানিযোগ্য জলযান তৈরি করে। আর এসব জলযান নির্মাণে প্রায় ৩ লাখ মানুষ জড়িত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়,অভ্যন্তরীণ বাজার ১০-১৫ শতাংশ হারে এবং রপ্তানি বাজার ৫-৬ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে ১০০টিরও বেশি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং ১২০টিরও বেশি নানা আকারের নিবন্ধিত শিপ ইয়ার্ড রয়েছে। দেশে ছোট-বড় মিলে পায় তিন শতাধিক শিপ ইয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে ১০টি রপ্তানিযোগ্য জাহাজ তৈরি করে।

দেশের অভ্যন্তরে ব্যবহারের জন্য স্থানীয়ভাবে নির্মিত নৌযানের মধ্যে রয়েছে এমপিভি, কন্টেনার, বাল্কার, ট্যাঙ্কার, ড্রেজার, টাগ এবং যাত্রীবাহী ফেরি। আকারে ওসব ১-২০ হাজার বিডাব্লিউটির মধ্যে।

এদিকে গত ২০১৮ সাল থেকেই বৈশ্বিক বাজারে আবারো বাংলাদেশের অবস্থান ফেরাতে শুরু করে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউরোপের বাজারে পরিবেশ বান্ধব জাহাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাহাজ রপ্তানিতে নতুন নতুন অর্ডার আসতে শুরু করেছে। ফলে বাংলাদেশও এখন পরিবেশ বান্ধব জাহাজ নির্মাণ করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ সালে অত্যাধুনিক কন্টেনার জাহাজ ‘স্টেলা মেরিস’ ডেনমার্কে রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রথম জাহাজ রপ্তানি শুরু হয়। তারপর মাত্র দুই বছরে বিভিন্ন দেশে ১১টি জাহাজ রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, জাহাজ শিল্পে নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশীয় উদ্যোক্তারা । জাহাজ নির্মাণে অনুকূল পরিবেশ থাকায় নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বর্তমানে বিশ্বের উপকূলীয় দেশগুলো সমুদ্র কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে-জোর দিচ্ছে। এ কারণে সমুদ্র থেকে মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণ, সামুদ্রিক নবায়নযোগ্য শক্তি, সামুদ্রিক পর্যটন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও গবেষণা ঘিরে কর্মযজ্ঞ বাড়ছে। সেজন্য উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষায়িত ছোট-বড় জাহাজ সমুদ্র অর্থনীতির ওইসব কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজন। ইতিমধ্যে জাহাজ ভাড়া ২৫-৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। আর বিশ্ববাজারেও ব্যাপক হারে বেড়েছে জাহাজের চাহিদা। তার সুফল পাচ্ছে দেশীয় রপ্তানিকারকরা। পাশাপাশি এ খাতের রপ্তানি বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারও। রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা, কর ছাড়সহ নানা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ওই খাতে ব্যাংকগুলোও মোটা অঙ্কের অর্থায়ন করেছে। একটি নীতিমালাও করা হয়েছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংক জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের লক্ষ্যে ২ হাজার কোটি টাকার একটি পুনরায় অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। তাতে প্রত্যাশা করা হচ্ছে জাহাজ রপ্তানি থেকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার আয় হবে।

সূত্র আরো জানায়, জাহাজ রপ্তানি থেকে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা থাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ধরা হলেও তখন রপ্তানিকারকরা কোনো জাহাজই রপ্তানি করতে পারেননি। ওই কারণে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় মাত্র ২ হাজার ডলার। মহামারীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নামমাত্র ওই লক্ষ্য ধরে সরকার। তারপরও অর্থবছর শেষে ওই খাত থেকে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। তবে ওই সময় জাহাজ রপ্তানিকারকরা প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর আবার ঘুরে দাঁড়ায় জাহাজ রপ্তানি। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় জাহাজের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। ফলে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।


এদিকে বাংলাদেশ থেকে জাহাজ আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান ও ভারতের ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংয়ে ওই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এমন আগ্রহ থেকে যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করা শুরু করে খুলনা শিপ ইয়ার্ড।

এ প্রসঙ্গে খুলনা শিপ ইয়ার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি সহযোগিতা ও নৌবাহিনীর মাননীয় প্রধানের অবদানে খুলনা শিপ ইয়ার্ড আজ অনেক উন্নত। আইএসও সনদ ও রপ্তানীমুখী জাহাজ তৈরির অনুমোদন পাওয়ায় তিনি এখানকার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এস ইমরানকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও জানান, এমনকি তার সময়ে বিগত ২০ বছরের চেয়ে ৪/৫ গুন বেশি লাভ হয়েছে। বতমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখেই সামনে এগিয়ে চলছেন।

এসআইএইচ

 

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা