শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

‘ত্রাণ চাই না, স্থায়ী বাঁধ চাই’

ছারাতন বেগম (৪৮)। স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে নিয়ে সংসার ভালোই চলছিল। ১৮ দিন আগে ধরলার তীব্র ভাঙনে তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন ঠাঁই নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। স্বামীর দিনমজুরির টাকায় চলে সংসার। অনেকটা মানববেতর জীবনযাপন করছে ছারতান বেগমের পরিবার।

ছারাতন বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ধরলায় ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমার কোনো দুঃখ নেই। এখন অন্যের বাড়িতে ঠাঁই নিয়ে স্বামীসহ এক বোবা সন্তানকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও ত্রাণসামগ্রী নিতে চান না তিনি। তিনি চান ধরলার ভাঙন ঠেকানো। হাজার হাজার মানুষের ফসলি জমিসহ তার এলাকার প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি তার ভাঙন এলাকাগুলোতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র ভাঙন রক্ষার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক এলাকাবাসী দেড় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে। সেই মানবন্ধনে ছিলেন ছারাতন বেগমও।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চর গোরকমন্ডলের ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, স্থানীয় আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, গত দেড় থেকে দুই মাসে ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িসহ হাফ কিলোমিটার সড়ক ধরলায় বিলীন হয়েছে। নদীগর্ভে শতশত হেক্টর ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ভাঙন রক্ষা করতে না পারলে চর গোরকমন্ডল এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ পরিবারসহ একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি মাদ্রাসা, চারটি মসজিদ, একটি সরকারি আবাসন প্রকল্পসহ বেশকিছু গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে রবিবার সকাল ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী, শিক্ষার্থী আব্দুস সালাম, সমাজসেবক সিদ্দিক হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, নদীভাঙনের শিকার আব্দুল মালেক, নছিম উদ্দিন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ চলতি বছরে ৩৫০টি এবং গত ৩ বছরে ৬৮১টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে এক হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আবাসন প্রকল্পসহ ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গরুর প্রকল্প। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও আজ অবধি পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো সাড়া দেয়নি। এ কারণে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এসজি

Header Ad
Header Ad

দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ছবি: সংগৃহীত

চলতি এপ্রিলজুড়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় এবং কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অনুমোদিত বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশে ২ থেকে ৪টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯°C) অথবা মাঝারি (৩৮-৩৯.৯°C) তাপপ্রবাহ এবং ১ থেকে ২টি তীব্র (৪০-৪১.৯°C) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া মাসজুড়ে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকবে। তবে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হলে ওই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, চলমান তাপপ্রবাহের পরিধি আজ থেকে আরও বাড়তে পারে। তবে ৫ বা ৬ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে, যা তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে।

Header Ad
Header Ad

হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, প্রগতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান মিশ্রি। তিনি বলেন, ভারত চায় বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে।

এছাড়া, মোদি পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো বক্তব্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে।

Header Ad
Header Ad

মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

শুল্ক আরোপ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে তার নতুন শুল্ক নীতি। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সমস্ত যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা CUSMA (যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) মেনে চলে না।"

এর আগে, বুধবার ট্রাম্পের ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক নীতির আওতায় কানাডা অব্যাহতি পেয়েছিল। তবে নতুন নীতির ফলে মোটরগাড়ি শিল্প, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় এবার পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা।

ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, "ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ভেঙে ফেলবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছিল, যার এখন অবসান ঘটছে।"

তিনি আরও বলেন, "৮০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অর্থনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রেখেছিল, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করেছিল। কিন্তু এই শুল্ক নীতির মাধ্যমে সেই অধ্যায় শেষ হচ্ছে।"

এদিকে, শুল্ক ইস্যুতে গত সপ্তাহেই ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কার্নি। আলোচনায় তারা আগামী ২৮ এপ্রিল কানাডার নির্বাচনের পর ওয়াশিংটনে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকে বসার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু