চোখ বেঁধে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

বরগুনার বামনায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর স্কুলব্যাগে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মানিব্যাগ পাওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে চোখ বেঁধে নির্মম নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসাপতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) নির্যাতনের বিচার চেয়ে ওই শিক্ষার্থীর চাচা মো. আব্দুল কুদ্দুস বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে বামনার বড় তালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সহকারী প্রধান শিক্ষিক মোসা. তানজিলা ও দপ্তরি নিজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর আগে গত ৩০ আগস্ট নির্যাতনের শিকার হন ওই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কর্মকারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি।
নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী জানান, পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রের কাছে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের একটি মানিব্যাগ গচ্ছিত রাখা হয়। যা ক্লাসের সবাই জানত। দুপুরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে খেতে যাওয়ার ফাঁকে তাকে ফাঁসানের জন্য কেউ মানিব্যাগটি তার ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। কিন্তু তিনি জানত না তার ব্যাগে ওই মানিব্যাগ আছে। পরে শিক্ষকরা তার ব্যাগে ওই মানিব্যাগ পায়। পরে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোসা. তানজিলা ও দপ্তরি নিজাম তাকে একটি কক্ষে আটকে চোখ বেঁধে বেত দিয়ে অনেক সময় ধরে পেটায়।
তার বাবা বাবুল মেকার বলেন, আমি অনেক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ছেলের এমন নির্যাতনের কথা শুনে বাড়িতে এসেছি। আমার ছেলে ব্যথায় এখনো বসতে পারে না। শরীরে বড় বড় কালো দাগ হয়ে গেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানালেও তারা বিচার করেনি। শেষ ভরসায় উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা মোসা. তানজিলা আক্তার জানান, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মানিব্যাগ সহ ১৬০০ টাকা চুরি হয়। আমি পঞ্চম শ্রেণির সকল ছাত্রকে বলি টাকা নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে। পরে ওই ছাত্র নিজে মানিব্যাগটি ফেরত দেয়। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক স্যার তার বাবাকে ফোনে অবহিত করেন। এতে তিনি স্কুলে তার ছেলের বিচার করতে বলেন। তবে তাকে আমি কিংবা স্কুলের কেউ মারধর করেনি।
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, আমার কাছে ওই ছেলে ও তার বাবা অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। আমি নিজে অমানুসিক নির্যাতনের ক্ষত দেখেছি। এভাবে কোনো শিক্ষক ছাত্রকে পেটাতে পারে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
এএজেড
