বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শবে কদরের তাৎপর্য

পবিত্র রমজান মাসের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই যে, এ মাসেই পুণ্যময় রাত শবে কদর প্রচ্ছন্ন রয়েছে। দুনিয়ার বুকে এ রাতের মতো মূল্যবান রাত আর নেই।

এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, একদিন হযরত রাসুলে করিম (সা.) স্বীয় সাহাবায়ে কেরামদেরকে লক্ষ্য করে বনি ইসরাইল গোত্রের বিখ্যাত বুজুর্গ ‘শামউন’- এর কাহিনি বিবৃত করলেন। বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বললেন-বনি ইসরাইল গোত্রের একজন আবেদ যার নাম ছিল ‘শামউন’। তিনি সাড়ে তিনশত বছর বেঁচেছিলেন এবং দীর্ঘ জীবনভর তিনি রোজা রাখতেন এবং সারারাত আল্লাহ পাকের ইবাদত- বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতেন। শামউনের এহেন ইবাদতের কথা শ্রবণ করে সাহাবায়ে কেরাম বিমর্ষ হয়ে পড়লেন এবং বিনীতভাবে আরজ করলেন--হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমরা আপনার উম্মত। আমাদের অধিকাংশের হায়াতই ষাট এবং সত্তরের মাঝামাঝি শেষ হয়ে যাবে। আমরা একান্তই হতভাগ্য। কেননা আমরা এত দীর্ঘ সময় বাঁচব না এবং শামউনের মতো বেশি পরিমাণে ইবাদতও করতে পারব না।

সাহাবারা বিস্ময় প্রকাশ করলে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য মাত্র একটি রজনীর উল্লেখ করে বার্তা পাঠালেন। যে রজনীকে ‘খাইরুম মিন আলফি শাহরিন’ তথা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে আখ্যা দিলেন। এতে সাহাবাদের বিস্ময় ও হতাশা মনোভাব কেটে গেল। এ প্রসঙ্গে মহান প্রভু নাযিল করলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা-সূরায়ে কদর।

ইরশাদ হয়েছে: আমি এই কিতাব নাজিল করেছি কদরের রাত্রিতে। (হে মুহাম্মদ!) আপনি কি কদরের রাত সম্বন্ধে জানেন? (অর্থাৎ কদরের রাত কত বরকতময় তা কি আপনি জানেন?)

আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করে পরের আয়াতে নিজেই জবাব দিয়েছেন- ‘কদরের রাত্রি হলো (এমন এক মহিমান্বিত রজনী যা) হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ । এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ আপন প্রভুর নির্দেশে প্রত্যেক কাজের জন্যে (জমিনে) অবতরণ করেন। এটা এমন এক নিরাপত্তা যা সুবহে সাদিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে বস্তুত এই রজনী মহিমান্বিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হলো যে, আল্লাহ তার প্রেরিত সর্বশেষ গ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণের সূচনা এই রজনীতেই করেন। তাই একে ‘লাইলাতুল কদর’ বলে উল্লেখ করেন। কদরের অর্থ মহিমান্বিত ও সম্মানিত।

হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, এ রাত্রিকে মহিমান্বিত বলার কারণ হলো-সারাটি বছর ইবাদতে মশগুল না হওয়ার দরুন মূল্যহীন হয়ে পড়েছিল যে বান্দাটি, সেও এই রাতে ইবাদতের মাধ্যমে তওবা ইস্তেগফার করে সম্মানিত হয়ে যায়।- মা’আরিফুল কুরআন।

এই রজনীর মাহাত্যের দিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তাআলা অপর স্থানে ইরশাদ ফরমান- ‘সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ! আমি ইহা (কুরআন) নাজিল করেছি বরকতময় এক রজনীতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। (এটা এমন রাত) যে রাতে সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ছ্িরিকৃত হয়।' - সূরা দুখান: ২-৪।

আয়েশা (রা) বলেন: ‘যখন রামাদানের শেষ রাত এসে যেত তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত্রি জাগরিত থাকতেন, তার পরিবারের সদস্যদেরকে জাগিয়ে দিতেন, তিনি অত্যন্ত উদ্দীপনার সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকতেন এবং সাংসারিক, পারিবারিক বা দাম্পত্য কাজকর্ম বন্ধ করে দিতেন।’ (বুখারী, আস-সহীহ ২/৭১১; মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮৩২)

রামাদানের শেষ দশ রাতের মধ্যেই রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’ বা তাকদীর বা মর্যাদার রাত।

ইমাম বাইহাকী বলেন: লাইলাতুল কদর অর্থ হলো, এ রাত্রিতে আল্লাহ পরবর্তী বছরে ফেরেশতারা মানুষদের জন্য কী কী কর্ম করবেন তার তাকদীর নির্ধারণ করে দেন। (বাইহাকী, শুআবুল ঈমান ৩/৩১৯)। সুরা কদর-এ আল্লাহ বলেন: লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস থেকেও উত্তম।’

এই রাতটি উম্মতে মুহাম্মাদ এর জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত । একটি রাতের ইবাদত এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৪ বছর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কত বড় নেয়ামত! শুধু তাই নয়, এ রাত্রি কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে জাগ্রত থাকলে আল্লাহ পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: ‘যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারী, আস-সহীহ ২/৬৭২, ৭০৯; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৫২৩)

আমরা মনে করি, ২৭ শের রাত কদরের রাত। এই চিন্তাটি সঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনোই বলেননি যে, ২৭ রামাদানের রাত কদরের রাত । তবে অনেক সাহাবী, তাবিয়ী বা আলিম বলেছেন যে, ২৭শের রাত শবে কদর হওয়ার সম্ভবানা বেশি। এজন্য আমাদের দায়িত্ব হলো রামাদানের শেষ দশ রাতের সবগুলো রাতকেই ‘শবে কদর’ হিসেবে ইবাদত করব। ২৭শের রাতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করব।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর তরিকায় আমাদের জন্য সর্বোত্তম তরিকা। এতেই আমাদের নাজাত। তিনি নিজে লাইলাতুল কদর লাভ করার জন্য রামাদানের শেষ দশরাত সবগুলোই ইবাদতের ও

তাহাজ্জুদে জাগ্রত থেকেছেন এবং এরূপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন । রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: যদি কেউ লাইলাতুল কদর খুঁজতে চায় তবে সে যেন তা রামাদানের শেষ দশ রাত্রিতে খোজ করে ।’ (মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮২৩) এ অর্থে আরও অনেকগুলো হাদিস রয়েছে। এ সকল হাদিসে তিনি রামাদানের শেষ দশ রাত্রির সকল রাত্রিকেই শবে কদর ভেবে ইবাদত করতে বলেছেন।

এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘তোমরা রামাদানের শেষ দশ রাত্রিতে লাইলাতুল কদর সন্ধান করবে। যদি কেউ একান্তই দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে অন্তত শেষ ৭ রাতের ব্যাপারে যেন কোনোভাবেই দুর্বলতা প্রকাশ না করে।’ (বুখারী, আস-সহীহ ২/৭১১; মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮২৩)।

কোনো কোনো হাদিসে তিনি বেজোড় রাত্রিগুলোর বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তিনি বলেন. ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে তা খোজ করবে।’ (বুখারী, আস-সহীহ ২/৭০৯; মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮২৩)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) লাইলাতুল কদরের উদ্দেশে রামাদানের শেষ কয়েক বেজোড় রাত্রিতে সাহাবীদের নিয়ে জামাতে তারাবীহ বা কিয়ামুল্লাইল আদায় করেন । আবু যার (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ২৩শে রামাদানের রাত্রিতে আমাদের নিয়ে কিয়ামুল্লাইল করলেন রাত্রির এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। এরপর বলেন, তোমরা যা খুঁজছ তা মনে হয় সামনে । এরপর ২৭শের রাত্রিতে তিনি নিজের স্ত্রীরা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সবাইকে ডেকে আমাদেরকে নিয়ে প্রভাত পর্যন্ত জামাতের কিয়ামুল্লাইল করলেন, এমনকি আমরা ভয় পেয়ে গেলাম যে, সাহরি খাওয়ার সময় পাওয়া যাবে না। (তিরমিযী, আস-সুনান ৩/১৬৯)।

শবে কদরের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দুআ শিখিয়েছেন । আয়েশা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমি লাইলাতুল কাদর পাই তাহলে আমি কি বলব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তুমি বলবে, ‘হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল মর্যাদাময়, আপনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন’ (তিরমিযী, আস-সুনান ৫/৫৩৪, ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/১২৬৫)।

এ দুআটি মুখস্থ করে অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে এ দশ রাত্রির নামাজের সিজদায়, নামাযের পরে, এবং সর্বাবস্থায় বেশি বেশি করে পাঠ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে শবে কদরের ইবাদত করার তাওফিক দিন। আমীন।

ড. মাহবুবা রহমান: সাবেক বিভাগীয় প্রধান. ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা ।

 

Header Ad
Header Ad

সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মদপানের ফলে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৯ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুই যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে, ঈদের সন্ধ্যায় তারা মদপান করেন এবং রাতের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আশাশুনি উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের জাফর আলী খাঁর ছেলে জাকির হোসেন টিটু (৪০) ও সোহরাব গাজীর ছেলে নাজমুল গাজী (২৬)।

এ ঘটনায় অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণ তেতুলিয়া গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে ফারুক হোসেন, মোকামখালী গ্রামের কুদ্দুস সরদারের ছেলে ইমরান, মিত্র তেতুলিয়ার মর্জিনা খাতুনের ছেলে ইকবাল, কামরুলের ছেলে লিফটন, আজিবার সরদারের ছেলে রবিউল, শহীদ গাজীর ছেলে তুহিন, আনিসের ছেলে নাজমুলসহ আরও কয়েকজন।

গুরুতর অসুস্থদের মধ্যে ফারুক হোসেনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ইমরানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের দিন সন্ধ্যায় আশাশুনির তেতুলিয়া শ্মশানঘাট মাঠে বসে জাকির হোসেন টিটু, নাজমুল গাজীসহ মোট ১১ জন একসঙ্গে মদপান করেন। মদপানের পর তারা বাড়ি ফিরে যান এবং ঘুমিয়ে পড়েন।

এরপর রাত ১২টার দিকে একে একে সবাই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকির হোসেন টিটু ও নাজমুল গাজী মারা যান। বাকি ৯ জনের চিকিৎসা চলছে।

আশাশুনি থানার ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যু অন্য কোনো কারণে হয়েছে কিনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Header Ad
Header Ad

ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।

এই পদক্ষেপকে ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানো বা নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও বিচার বিভাগ যৌথভাবে জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান নির্মাতার জন্য মানববিহীন এয়ার ভেহিকল (ইউএভি)–এর উপকরণ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছয়টি সংস্থা ও দুই ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, "ইরান তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়াসহ তাদের প্রক্সিদের সরবরাহ করছে। রুশ বাহিনী এগুলো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে, যা বেসামরিক নাগরিক, মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা ইরানের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স এবং তাদের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রচলিত অস্ত্রের বিস্তার ব্যাহত করতে কাজ চালিয়ে যাব।"

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে একটি ইরান-ভিত্তিক সংস্থা, দুইজন ইরানি নাগরিক, একটি চীন-ভিত্তিক সংস্থা এবং চারটি সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক সংস্থা।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Header Ad
Header Ad

বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের দোসররা বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। তারা এই অবৈধ টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করতে চায়।"

বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেন, "শেখ হাসিনা জঙ্গি দমনের নামে একটি নাটক সাজিয়ে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করেছেন। এটি মূলত ক্ষমতায় টিকে থাকার একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল। এমনকি একজন সাবেক আইজিপির বইয়েও এটি উঠে এসেছে।"

তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো উত্থান ঘটেনি। বরং বর্তমানে দেশে ফ্যাসিবাদের কোনো ছোবল নেই, মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মপালন করতে পারছে, কথা বলতে পারছে। এবার মানুষ নির্ভয়ে ঈদ উদযাপন করেছে, যা অতীতে সম্ভব হয়নি।"

আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, "আওয়ামী লীগ বসে নেই, তারা কালো টাকা ব্যবহার করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারাই দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও বলেন, "শেখ হাসিনার নির্দেশে মুগ্ধ ফাইয়াজদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। প্রশাসনের চারপাশে আওয়ামী লীগের দোসররা বসে আছে, যার ফলে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।"

রিজভী আহমেদ দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, "নির্বাচনী সরকারই হচ্ছে বৈধ সরকার। নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হবে।"

তিনি নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দ্রুত নির্বাচনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ভ্যাল কিলমার আর নেই
ময়মনসিংহে সিনেমা হলে যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে দর্শকদের ভাঙচুর
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মিয়ানমারের ভূমিকম্পে এক ইমামের ১৭০ স্বজনের মৃত্যু
ঈদের আনন্দে যমুনার দুর্গম চরে গ্রাম-বাংলার ঘুড়ি উৎসব, আনন্দে মেতে উঠে বিনোদনপ্রেমীরা!
ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়, দেওয়া হলো ৯ লাখ টাকার সংবর্ধনা
লন্ডনে একসঙ্গে দেখা গেলো সাবেক চার আওয়ামী মন্ত্রীকে
ঢাকায় ফিরছে ঈদযাত্রীরা, অনেকে ছুটছেন শহরের বাইরে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আবারও সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭
বিটিভিতে আজ প্রচারিত হবে ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, নেই যানজটের চিরচেনা দৃশ্য
মাদারীপুরে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ২