বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

যাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলাম ধর্মের বুনিয়াদী শিক্ষার মধ্যে ঈমান ও নামাজের পরেই যাকাতের স্থান। অতএব জাকাত হলো ইসলামের তৃতীয় রোকন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কালামে পাক বহু স্থানে নামাজের সঙ্গেই যাকাতের উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি এরশাদ করেছেন, “নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত দাও।”

জাকাতের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা ও বৃদ্ধি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় বিত্তশালী ব্যক্তিদের প্রয়োজনাতিরিক্ত ধন-সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করার নাম যাকাত। যাকাত ধনের লবণস্বরূপ। এটি ধন-সম্পদকে কলুষমুক্ত করে পবিত্র করে। এটি ধনবান ব্যক্তিদের হৃদয়কে ধন-লিপ্সা, কৃপণতা, লোভ, স্বার্থপরতা ও কঠোরতা হতে পবিত্র রাখে। যাকাত প্রদানের বরকতে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। এই জন্যই এই দানের যাকাত নামকরণ করা হয়েছে।

“যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করবে সে ঈমানের স্বাদ ও মজা লাভ করবে; যে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, জানবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আনন্দিত চিত্তে পবিত্র মনে তার সম্পদের যাকাত দেবে।” (আবু দাউদ, আস-সুনান ২/১০৩; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১৮৩)

হাদিসের আলোকে জানা যায় যে, কিছু কঠিন পাপ আছে সেগুলির শাস্তি শুধু আখেরাতেই নয়, দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়। বিশেষত সে পাপগুলো মানুষের অধিকারের সঙ্গে জড়িত এবং যে পাপের ফলে অন্য মানুষ কষ্ট পায় বা সমাজের ক্ষতি হয়। এরূপ পাপ যদি সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তবে আল্লাহ সে সমাজে গজব দেন এবং সমাজের সকলেই সে শাস্তি ভোগ কনে। যাকাত প্রদান টালবাহানা সেসকল পাপের অন্যতম।

রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “(১) যখন কোনো সম্প্রদয়ের মধ্যে অশ্লীলতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে এমন সব রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পুর্বপুরুষদের মধ্যে প্রসারিত ছিল না। (২) যখন কোনো সম্প্রদয়ের মানুষেরা ওজনে কম বা ভেজাল দিতে থাকে, তখন তারা দুর্ভিক্ষ, জীবনযাত্রার কাঠিন্য ও প্রশাসনের বা ক্ষমতাশীলদের অত্যাচারের শিকার হয়। (৩) যদি কোনো সম্প্রদায়ের মানুষেরা যাকাত প্রদান না করে, তাহলে তারা অনাবৃষ্টির শিকার হয়। যদি পশুপাখি না থাকতো তাহলে তারা বৃষ্টি থেকে একেবারেই বঞ্চিত হতো।” (ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ২/১৩৩২; ইসলামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩১৮; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/১৮৭।)

যাকাতের নিসাব: যাকাতের পরিমাণ বৎসরের শেষে সঞ্চিত অর্থের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। কেবল টাকার উপরেই যাকাত নির্ধারিত হয়নি; বরং স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্যবসার পণ্যদ্রবা, জমির ফসল এবং গৃহপালিত গো, মহিষের উপরও ধার্য করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক প্রকারের সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য এটির নিম্নতম পরিমাণ নির্ধারিত আছে। এই পরিমাণের নাম নিসাব। যেমন স্বার্ণের নিসাব সাড়ে সাত তোলা, রৌপ্যোর নিসাব সাড়ে বায়ান্ন তোলা ইত্যাদি।

৪-খ মূলত পাঁচ প্রকার সম্পদের যাকাত প্রদান করা ফরয। (১) বিচরণশীল উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি গৃহপালিত পশু, (২) সোনা-রূপা, (৩) নগদ টাকা, (৪) ব্যবসা বা বিক্রয়ের জন্য রক্ষিত দ্রব্য ও (৫) কৃষি উৎপাদন বা ফল ও ফসল। যেহেতু আমাদের দেশে খোলা চারণভূমিতে পশু পালনের ব্যবস্থা নেই এবং নিসাবযোগ্য পশুও কারো থাকে না, সেহেতু আমাদের দেশে গৃহপালিত পশুর যাকাত সাধারণভাবে কাউকে দিতে হয় না। এ ছাড়া বাকি সম্পদগুলির যাকাত প্রদানের নিয়ম নিম্নরূপ:

(১)স্বর্ণ: যদি কারো নিকট সাড়ে ৭ তোলা (ভরি) বা তার বেশি স্বর্ণ থাকে তবে প্রতি চান্দ্র বৎসর (৩৫৪ দিন) পূর্তিতে মোট স্বার্ণের ২.৫% যাকাত প্রদান করতে হবে। যেমন কারো যদি ১০ ভরি স্বর্ণ থাকে তবে প্রতি বৎসরে তাকে ০.২৫ ভরি স্বর্ণ বা তার দাম যাকাত হিসাবে প্রদান করতে হবে। সাড়ে ৭ ভরির কম স্বর্ণ থাকলে যাকাত ফরজ হবে না।
(২) রৌপ্য: যদি কারো কাছে সাড়ে ৫২ তোলা বা তার বেশী রূপা থাকে তবে প্রতি চান্দ্র বৎসরে মোট রূপার ২.৫% যাকাত প্রদান করতে হবে।
(৩) নগদ টাকা। নগদ টাকার নিসাব হবে স্বর্ণ বা রৌপ্যের নিসাবে। হাদিসে মূলত রৌপ্যের নিসাবই বলা হয়েছে। এছাড়া রূপার নিসাবে আগে যাকাত ফরয হয়। এজন্য বর্তমানে কারো কাছে যদি সাড়ে ৫২ তোলা রূপার দাম এক বৎসর সঞ্চিত থাকে তবে তাকে মোট টাকার ২.৫% যাকাত দিতে হবে। যেমন কারো যদি ৩০ হাজার টাকা সঞ্চিত থাকে তবে তাকে বছর শেষে ৬৫০ টাকা যাকাত দিতে হবে।
(৪) ব্যবসায়ের সম্পদ। বিক্রয়ের জন্য রক্ষিত সকল সম্পদের যাকাত দিতে হবে। যদি দোকানে, গোডাউনে, বাড়িতে মাঠে বা যেকোনো স্থানে বিক্রয়ের জন্য রক্ষিত মাটি, বালি, ইট, গাড়ি, জমি, বাড়ি, ফ্লাট বা অন্য যেকোনো পণ্য থাকে এবং তার মূল্য সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্যের সমান বা তার চেয়ে বেশি হয় তবে বৎসর শেষে মোট সম্পদের মূল্যের ২.৫% যাকাত দিতে হবে।
(৫) ভূমিজাত ফল ও ফসল। ফল-ফসলের যাকাতকে “উশর” বলা হয়। ভূমি ব্যবহার করে উৎপাদিত সকল প্রকারের ফল, ফসল, মধু, লবন ইত্যাদির যাকাত দিতে হবে। ফল-ফসলের যাকাত দিতে হয় প্রতি মৌসূমে ফল-ফসল ঘরে উঠালে। হাদীসে শরীফে ফল ফসলের নিসাব বলা হয়েছে ৫ ওয়াসাক। অর্থাৎ প্রায় ২৫ মণ। তবে ইমাম অবূ হানীফা (রাহ) বলেছেন সে, কম বেশি সব ফল-ফসলেরই যাকাত দেওয়া দরকার। ফল-ফসলের যাকাতের পরিমাণ হলে ৫% বা ১০%। বৃষ্টির পানিতে বা স্বাভাবিক মাটির রসে যে সকল ফসল বা ফল হয় তা থেকে ১০% যাকাত দিতে হবে। আর সেচের মাধ্যমে উৎপাদিত ফল-ফসলের ৫% যাকাত দিতে হবে। ফল বা ফসলের মূল্যও প্রদান করা যায়।

ইসলামের যাকাত ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন করা। যাকাতের মাধ্যমে দুভাবে দরিদ্রদের সাহায্য করতে হবে। প্রথমত তাদের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানো এবং দ্বিতীয়ত তাদের দারিদ্রের স্থায়ী সমাধান করা। এজন্য ইসলামে যাকাতকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রদান করা হয়েছে। ইসলামের নির্দেশ হলো রাষ্ট্র নাগরিকদের নিকট থেকে যাকাত গ্রহণ করবে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তা বণ্টন করবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার অনুপস্থিতিতে মুমিন অবশ্যই নিজের ফরয ইবাদত নিজেই আদায় করবেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে যাকাত আদায়ের কারণে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত পূর্ণ অবদান রাখতে পারছে না। কারণ দরিদ্র ব্যক্তি নগদ টাকা খরচ করে ফেলেন এবং তা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন না। এতদসত্ত্বেও আমাদের চেষ্টা করতে হবে ব্যক্তিগতভাবে বা কয়েকভাবে মিলে একত্রিভাবে প্রতি বৎসর যাকাতের কিছু টাকা দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করার। যাকাতের টাকা দিয়ে দরিদ্রদের রিকশা, গরু, সেলাই মেশিন বা কুটিরশিল্প জাতীয় কিছু কিনে দেওয়া যায়। যেন গ্রহিতা এগুলি বিক্রয় না করতে পারে সেজন্য তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
যাকাত বণ্টনের খাত সমূহঃ যাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে সুপষ্ট বিধান রয়েছে। “যাকাতের অর্থ দরিদ্র, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের মন আকর্ষণ করা প্রয়োজন হয়, দাস-মুক্তি, ঋণ গ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের জন্য ব্যয়িত হবে।”

তবে যাকাতের সম্পদ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান মূলনীতি হলো তা ব্যক্তিকে প্রদান করতে হবে এবং প্রদান নিঃশর্ত হবে। যাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ স্বত্ব, মালিকানা ও ব্যয়ের ক্ষমতা দিয়ে তা প্রদান করতে হবে। এজন্য যাকাতের অর্থ কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে, মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি কাজে ব্যয় করা যাবে না। অনুরূপভাবে মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন বা ঋণ পরিশোধের জন্যও ব্যয় করা যাবে না। কারণ এখানে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে যাকাত সম্পদের মালিকানা প্রদান করা হচ্ছে না। কোনো নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যদি সঠিক খাতে ব্যয় করার জন্য যাকাত সংগ্রহ করে তাহলে তাদের যাকাত প্রদান করা যাবে। উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যাকাত প্রদানকারী মুসলিমের পক্ষ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি হিসাবে বিবেচিত হবেন। তাদের দায়িত্ব হলো সংগৃহীত যাকাত সঠিক খাতের মুসলিমগণকে সঠিকভাবে প্রদান বা বণ্টন করা।

যাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তি অবশ্যই মুসলিম হবেন। যাকাত শুধুমাত্র মুসলিমদের প্রাপ্য। কোনো অমুসলিম যাকাত পাবেন না। মুসলিম নামধারী কোনো ব্যক্তি যদি নামাজ না পড়ে বা প্রকাশ্য শিরক বা কুফরীতে লিপ্ত থাকে তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। একজন মুসলিম কোনো অমুসলিমকে নফল দান, সাহায্য ও সামাজিক সহযোহিতা করতে পারেন। কিন্তু তার ফরয দান বা যাকাত তিনি শুধুমাত্র মুসলিমকেই প্রদান করবেন। নিজের পিতামাতা, স্ত্রী ও সন্তানগণকে যাকাত দেওয়া যায় না। এছাড়া ভাই বোন, চাচা, মামা ও অন্যান্য স্বজন কেউ দরিদ্র হলে তাকে যাকাত দেওয়া যায়। বরং তাদেরকে সবচেয়ে আগে বিবেচনা করতে হবে।

যাকাত এবং সকল দানের ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি হলো এর উপকার যত ব্যাপক হবে সাওয়াব তত বেশি হবে। যেমন, যে কোনো মুসলিম দরিদ্রকে যাকাত প্রদান করা যাবে। তবে একজন দরিদ্র তালেবে এলেম বা আলেমকে যাকাত প্রদান করলে এ সাহায্য তাকে অধিকতর ইলম চর্চা ও প্রসারের সুযোগ দেবে, যা উক্ত যাকাত দ্বারা অর্জিত অতিরিক্ত উপকার। এজন্য যাকাত দাতার সাওয়াব বৃদ্ধি পাবে। যাকাত ও উশর প্রদানের সময় এ মূলনীতির দিতে লক্ষ্য রাখা দরকার, যেন আমাদের যাকাত শুধুই ব্যক্তিগত আর্থিক সাহায্য না হয়ে অধিকতর কিছু কল্যাণে পরোক্ষভাবে হলেও অবদান রাখে। কোনো ভাল মাদ্রাসায় যদি যাকাত তহবিল থাকে তাহলে আপনাদের যাকাত ও উশরের টাকা বা ফসল সেখানে দেবেন। এতে যাকাত আদায় ছাড়াও ইলম প্রচারের অতিরিক্ত সাওয়াব হবে। অনুরূপভাবে দীনদার দরিদ্র মানুষকে দিলে যাকাত আদায় ছাড়াও দীন পালনে সহযোগিত হবে।

যাকাত সাধারণত আমরা রমযান মাসেই দিয়ে থাকি। তবে যাকাত হিসাব করে একবারে রমযান মাসে দান করতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে সারা বছরই যখন কাউকে দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন তখন তা দিতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই হিসাব রাখতে হবে, যে পরিমাণ যাকাত আপনার হয়েছে তা আপনে ঠিকমত দান করেছেন কি না?

ড. মাহবুবা রহমান, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা।

এসএন

Header Ad
Header Ad

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এর আগে, সকাল ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকা ত্যাগ করেন।

ইতোমধ্যে বিমসটেক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অংশ নিয়েছেন। আলোচনার অংশ হিসেবে মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন সহযোগিতা চুক্তি সই হয়েছে, যেখানে সাত সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্বাক্ষর করেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ব্যাংকক স্থানীয় সময় বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখবেন ড. ইউনূস। এছাড়া, আগামীকাল (৪ এপ্রিল) তিনি মূল বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককের বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে সাইডলাইনে বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বাণিজ্য ও সমুদ্র নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তৃতীয় দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হবে।

এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

Header Ad
Header Ad

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে একটি মন্তব্য করেন, যা ভারতজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. ইউনূসের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, বঙ্গোপসাগরে সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর এক আলোচনায় এস জয়শঙ্কর ভারতের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "ভারতের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার। ভারত শুধুমাত্র পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে না, বরং তাদের অনেককে সংযুক্তও করে। ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্রদান করে।”

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য ‘সংযোগ কেন্দ্র’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও কৌশলগত সংযোগকে আরও মজবুত করেছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "এই বৃহত্তর ভৌগোলিক অঞ্চলে পণ্য, পরিষেবা ও মানুষের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভারত সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত এক দশকে ভারত বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে।"

তিনি আরও দাবি করেন, "সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়, পক্ষপাতমূলক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের বক্তব্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে সামনে এনেছে। এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। বিশেষ করে, ভারত যে বাংলাদেশকে ভৌগোলিক প্রবেশাধিকার ছাড়াই নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে চায়, তা আরও স্পষ্ট হলো।

এই বিতর্ক বিমসটেকের কৌশলগত পরিকল্পনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বর্ণের দর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (স্থানীয় সময়) বিকেল ৪টার দিকে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করা সব দেশের ওপর নতুন রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দেশভেদে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮.৩৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১২৯.৪৬ ডলারে, যা আগের চেয়ে ০.৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ দাম প্রায় ৩,৭৬,৮৯৯.৩৩ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাই উওং রয়টার্সকে বলেন, “নতুন এই শুল্ক পরিকল্পনা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কঠোর। এর ফলে স্বর্ণের বিক্রি আরও বাড়বে এবং ডলারের মান কমতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্বর্ণের বাজার এখনো চাঙা, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে। খুব শিগগিরই প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩,২০০ ডলার (প্রায় ৩,৮৫,৩৯৪.৮৮ টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। করোনা মহামারির পর থেকেই ডলারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের অন্যতম বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া, বিনিয়োগকারীরাও ডলারকে পুঁজি রাখার পরিবর্তে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন শুল্ক নীতি বাস্তবায়ন করে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা এর মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২
বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার আহ্বান ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবার প্রধানের
বিএনপি কখনোই নির্বাচনের পরে সংস্কারের কথা বলেনি: মির্জা ফখরুল
বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায় আটক ৫