শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

রোজাদারের বর্জনীয় ও করণীয়

হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, রমজান মাসে যারা সিয়াম পালন করেন তাদের দুটি শ্রেণি রয়েছে। এক শ্রেণির পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে। অন্য শ্রেণি ক্ষুধা-পিপাসায় কষ্ট করা ছাড়া কিছুই লাভ হবে না। প্রথম শ্রেণির রোজাদারদের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং আল্লাহর নিকট সাওয়াব অর্জনের খাঁটি নিয়তে রমজানের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে।” (বুখারি, আস-সহিহ ১/২২, ৬/৬৭২; মুসলিম, আস-সহিহ ১/৫২৩)

দ্বিতীয় শ্রেণির রোজাদারদের বিষয়ে তিনি বলেন: “অনেক সিয়াম পালনকারী আছে যার সিয়াম থেকে শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া আর কোন লাভ হয় না। এবং অনেক কিয়ামকারী বা তারাবিহ-তাহাজ্জুদ পালনকারী আছে যাদের কিয়াম-তারাবিহ থেকে শুধু রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কোনোই লাভ হয় না।” (ইবনু মাজাহ, আস-সুনান ১/৫৩৯; আলবানী, সহীহুত তারগীব ১/২৬২)
এরূপ রোজাদারদের প্রতি বদদোয়া করে তাদের দুর্ভাগ্যের কথা জানিয়ে রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, কিন্তু এই মাসে তাকে ক্ষমা করা হলো না সেই ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে চির বিতাড়িত।” (২. হাকিম, আল-মুসতাদরাক ৪/১৭০; ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ ২/১৪০-১৪১; আলবানী সহীহুত তারগীর ১/২৬২।)

আমরা যারা রমজানের সিয়াম পালন করতে যাচ্ছি তাদের একটু ভাবতে হবে, আমার কোন দলে পড়ব। আর তা জানতে হলে রোজা বা সিয়ামের অর্থ বুঝতে হবে। রাসূলুল্লাহ বলেন:
“পানাহার বর্জনের নাম সিয়াম নয়। সিয়াম হলো অনর্থক ও অশ্লীল কথা-কাজ বর্জন করা।” (৩. ইবনু হিব্বান, আস-সাহীহ ৮/২৫৫: হাকিম, আল-মুসতাদরাক ১/৫৯৫; আলবানী, সহীহহুত তারগীব ১/২৬১)।

বর্জনীয়:
তাহলে চিন্তাহীন, অনুধাবনহীন, সৎকর্মহীন পানাহর বর্জন “উপবাস” বলে গণ্য হতে পারে তবে ইসলামি “সিয়াম” বলে গণ্য হবে না। হারাম বা মাকরূহ কাজেকর্মে রত থেকে হালাল খাদ্য ও পানীয় থেকে নিজের বিরত রাখার নাম সিয়াম নয়। সিয়াম অর্থ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সকল হারাম, মাকরূহ ও পাপ বর্জন করার সঙ্গে সঙ্গে হালাল খাদ্য, পানীয় ও সম্ভোগ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। এভাবে হৃদয়ে সার্বক্ষণিক আল্লাহ সচেতনতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে লক্ষ্য রেখে শত প্রলোভন ও আবেগ দমন করে সততা ও নিষ্ঠার পথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য সিয়াম। যদি আপনি কঠিন ক্ষুধা বা পিপাসায় কাতর হয়েও আল্লাহর ভয়ে ও তার সন্তুষ্টির আশায় নিজেকে খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত রাখেন, অথচ সামান্য রাগের জন্য গালি, ঝগড়া ইত্যাদি হারাম কাজে লিপ্ত হন, মিথ্যা অহংবোধকে সমুন্নত করতে পরনিন্দা, গিবত, চোগলখুরী ইত্যাদির ভয়ংকর হারামে লিপ্ত হন, সামান্য লোভের জন্য মিথ্যা, ফাঁকি, ঘুষ ও অন্যান্য যাবতীয় হারাম নির্বিচারে ভক্ষণ করেন, তাহলে আপনি নিশ্চিত জানুন যে, আপনি সিয়ামের নামে আত্মপ্রবঞ্চনার মধ্যে লিপ্ত আছেন। ধার্মিকতা ও ধর্ম পালনের মিথ্যা অনুভূতি ছাড়া আপনার কিছুই লাভ হচ্ছে না।

রাসলুল্লাহ বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাপ, মিথ্যা বা অন্যায় কথা, অন্যায় কর্ম, ক্রোধ, মূর্খতাসুলভ ও অজ্ঞতামূলক কর্ম ত্যাগ করতে না পারবে, তার পানাহার ত্যাগ করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।” (৪. বুখারি, আস-সহীহ ২/৬৭৩, ৫/২২৫১)।

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, তোমরা রোজার সময় দিবসে পানাহার কর না। এরপরের আয়াতেই আল্লাহ বললেই, তোমরা অপরের সম্পদ অবৈধভাবে আহার কর না। এখন আপনি প্রথম আয়াতটি মেনে দিবসে আপনার ঘরের খাবার আহার করলেন না, কিন্তু পরের আয়াতটি মানলেন না, সুদ, জুলুম, চাঁদাবাজি, যৌতুক, গিবত, মিথ্যা মামলা, জবর-দখল, সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখল ইত্যাদি নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে অন্যের সম্পদ আহার করলেন, তাহলে আপনি কেমন রোজাদার?

ইফতারের সময় ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। সবরত ও ঠান্ডা তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়াই উত্তম। পরিমিত আহার করতে হবে। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে রোজার মর্ম উপলদ্ধি করা যাবে না। রোজা রেখে ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কষ্ট অনুভব করা যাবে না।

করনীয়:
সিয়াম শুধু বর্জনের নাম নয়। সকল হারাম ও মাকরূহ বর্জনের সঙ্গে সঙ্গে সকল ফরজ-ওয়াজিব ও যথাসম্ভব বেশি নফল মুস্তাহাব কর্র্ম করাই সিয়াম। বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় যে, রমজান মাসে নফল-ফরজ সকল ইবাদতের সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এজন্য সকল প্রকার ইবাদতের বেশি বেশি আদায় করা দরকার। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রমজান মাসে উমরা আদায় করা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে হজ করার সমতুল্য। যদি কেউ রোজা অবস্থায় দরিদ্রকে খাবার দেয়, অসুস্থ মানুষকে দেখতে যায় এবং জানাজায় শরিক হয় তবে সে ব্যক্তিকে আল্লাহ জান্নাত দান করবেন। এ ছাড়া হাদিসে রমজানে বেশি বেশি তাসবিহ, তাহলিল, দুআ ও ইসতিগফারের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, রোজা অবস্থার দুআ ও ইফতারের সময়ের দুআ আল্লাহ কবুল করেন।

বিশেষভাবে দু প্রকারের ইবাদত রমজানে বেশি করে পালন করতে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, দান। সাদকা বা দান আল্লাহ তাআলার প্রিয়তম ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, সাদকার কারণে মুমিন অগণিত সওয়াব লাভ ছাড়াও অতিরিক্ত দুটি পুরস্কার লাভ করেন: প্রথমত দানের কারণে গোনাহ ক্ষমা করা হয় এবং দ্বিতীয়ত দানের কারণে আল্লাহর বালা-মুসিবত দূর হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে, দুজন মানুষের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া, ন্যায় কর্মে নির্দেশ দেওয়া, অন্যায় থেকে নিষেধ করা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক দ্রব্য বা বস্তু সরিয়ে দেওয়া, বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা বা যে কোনোভাবে মানুষের উপকার করাই আল্লাহর নিকট সাদকা হিসাবে গণ্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা বেশি বেশি দান করতে ভালোবাসতেন। আর রমজান মাসে তার দান হতো সীমাহীন। কোনো বাঞ্ছাকারীকে বা প্রার্থীকে তিনি বিমুখ করতেন না।

রমজান এলেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। বাংলাদেশ মুসলমানদের দেশ। এদেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী মুসলমান। অধিকাংশ ব্যবসায়ী রোজা রাখেন ও দান করেন। কিন্তু আমাদের দান হালাল উপার্জন থেকে হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। গুদামজাত করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা বা স্বাভাবিকের বাইরে অতিরিক্ত দাম গ্রহণের মাধ্যমে ক্রেতাদের জুলুম করা নিষিদ্ধ। হারাম বা নিষিদ্ধভাবে লক্ষ টাকা আয় করে থেকে হাজার টাকা ব্যয় করার চেয়ে হালাল পদ্ধতিতে হাজার টাকা আয় করে তা থেকে দু-এক টাকা ব্যয় করা অনেক বেশি সাওয়াব ও বরকতের কাজ। এ ছাড়া অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে। আমরা জানি, মানুষের কল্যাণে ও সহমর্মিতায় যা কিছু করা হোক সবই দান। যদি কোনো সৎ ব্যবসায়ী যদি রমজানে ক্রেতা সাধারণের সুবিধার্থে তার প্রতিটি পণ্যে এক টাকা কম রাখেন বা নায্যমূল্যে তা বিক্রয় করেন তাও আল্লাহর নিকট অত্যন্ত বড় সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।

রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কুরআন তিলওয়াত। বিগত খুতবায় আমরা এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করেছি। রমজানে দুভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে: প্রথমত কুরআন কারীম দেখে দেখে দিবসে ও রাতে তিলাওয়াত করতে হবে। সম্ভব হলে অর্থসহ অন্তত একখতম কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে। যারা তিলাওয়াত করতে পারেন না তারা আল্লাহর ওয়াস্তে রমজানে তিলাওয়াত শিখতে শুরু করুন। অবসর সময়ে তিলাওয়াতের বা অর্থসহ তিলাওয়াতের ক্যাসেট শুনুন। কুরআন তিলাওয়াতে যেমন সাওয়াব, তা শ্রবণেও তেমনি সওয়াব।

কুরআনের দ্বিতীয় ইবাদত হলো কিয়ামুল্লাইল। সালাতুল ইশার পর থেকে সুবহে সাদেক পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যেকোনো সময়ে নফল সালাত আদায় করাকে কিয়ামুল্লাইল, সালাতুল্লাইাল বা রাতের সালাত বলা হয়। তাহাজ্জুদও কিয়ামুল্লাইল। একটু ঘুমিয়ে উঠে কিয়ামুল্লাহইল আদায় করলে তাকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। সারা বৎসরই কিয়ামুল্লাইল করা দরকার।

রমজানের কিয়ামের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি খাঁটি ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাওয়াবের উদ্দেশ্যে রমজানে কিয়ামুল্লাইল আদায় করবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে।” (বুখারি, আস-সহীহ ১/২২, ২/৭০৭; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৫২৩)

রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান ও গাইর রমজান সর্বদা প্রতি রাতে মধ্য রাত থেকে শেষ রাত পর্যন্ত ৪/৫ ঘণ্টা ধরে কিয়ামুল্লাইল আদায় করতেন। উমার (রা)- এর সময়ে দ্বিতীয় প্রজন্মের মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এরা কুরআনের হাফিজ না হওয়াতে হাফিযদের পেছনে কিয়াম করতে চেষ্টা করতেন। এজন্য মসজিদে নববীতে সালাতুল ইশার পর ছোট ছোট জামাত শুরু হতো। এ দেখে উমার (রা) উবাহ ইবনু কাব (রা) কে বলেন, মানুষেরা দিবসে রোজা রাখে, কিন্তু তারা কুরআনের হাফেজ না হওয়াতে রাতের কিয়াম ভালোভাবে আদায় করতে পারে না। এজন্য আপনি তাদের নিয়ে সালাতুল ইশার পরে জামাতে কিয়াম বা তারাবিহ আদায় করেন। এ ছাড়া তিনি সুলাইমান ইবনু আবী হাসমাকে নির্দেশ দেন মহিলাদের নিয়ে পৃথক তারাবিহের জামাত করতে। উসমান (রা) ও আলী (রা) এর সময়েও এভাবে জামাতে তারাবিহ আদায় করা হতো এবং মহিলাদের জন্য পৃথক তারাবিহের জামাত কায়েম করা হতো। (বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা, ২/৪৯৩)

উমরা (রা) সময়ে ৮ ও ২০ রাকাত তারাবিহ পড়া হতো বলে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় যে, সাহাবি-তাবিয়িদের সময়ে ইশার পর থেকে মধ্য রাত বা শেষ রাত পর্যন্ত তারাবিহের জামাত চলত এবং তারা প্রত্যেক রাকাতে ১/২ পারা কুরআন পাঠ করতেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, প্রথম দিকে ৮ রাকাত তারাবিহ আদায় করা হতো। প্রত্যেক রাকাতে তারা ১/২ পারা কুরআন পাঠ করতেন এবং ইশার পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত প্রায় ৫/৬ ঘণ্টা তারা এভাবে সালাত আদায় করতেন। প্রতি রাকাতে আধা ঘণ্টা বা তার বেশি দাঁড়াতে কষ্ট বেশি। এজন্য পরে তারা এরূপ ৫/৬ ঘণ্টা ধরে ২০ রাকাত পাঠ করতেন। রাকআতের সংখ্যা বাড়াতে দাঁড়ানো কষ্ট কিছুটা কম হতো।

সাহাবি-তাবিয়িরা প্রতি তিন দিন বা দশ দিনে তারাবিহের জামাতে কুরআন খতম করেতন। আর আমরা পুরো রমজানে এক খতম করতেও কষ্ট পাই। তারা ৫/৬ ঘণ্টা ধরে তারাবিহ পড়তেন। আমরা একঘণ্টাও দাঁড়াতে চাই না। হাফেজ সাহেব একটু সহিহ তারতিলের সঙ্গে পড়লে আমরা রাগ করি। কুরআনের সঙ্গে এর চেয়ে বেশি বেয়াদবি আর কী হতে পারে। কুরআন শ্রবণের আগ্রহ নিয়ে ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত তারাবিহ আদায় করুন। ইমামের সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ত করুন এবং পুরো কুরআন মহব্বতের সঙ্গে শুনুন। সময় তো চলেই যাবে। হয়ত এভাবে কুরআন শোনার সময় আর পাব না। আল্লাহ আমাদের সিয়াম ও কিয়াম কবুল করুন। আমীন।

পিতা-মাতার দ্বায়িত্ব:
পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো, সাত বছর থেকে ছেলেমেয়েদের নামাজ, রোজা,তারাবিহ ইত্যাদিতে অভ্যস্থ করা। তাদের বয়স দশ বৎসর হলে এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করা ফরজ। নিজের নামাজ-রোজা যেমন ফরজ, ছেলেমেয়েদের নামাজ-রোজা আদায় করানোও তেমনি ফরয। ছেলেমেয়েরো নামাজ পড়লে, রোজা রাখলে, তারাবিহতে শরিক হলে তারা যেমন সাওয়াব বরকত লাভ করবে, তেমনি তাদের পিতামাতাও সাওয়াব ও বরকত লাভ করবেন। এছাড়া ছেলেমেয়েরা আজীবন যত নামাজ, রোজা, তারাবিহ, কুরআন, যিক্র, দান ও অন্যান্য ইবাদত করবে সকল ইবাদতের সমপরিমাণ সাওয়াব পিতামাতা লাভ করবেন। পক্ষান্তরে পিতামাতার অবহেলার কারণে যদি ছেলেমেয়েরা বেনামাজি বা বে-রোজাদার হয় তবে তাদের গোনাহের সমপরিমাণ গোনাহ তারা লাভ করবেন। ছেলেমেয়েরা আমাদের হৃদায়ের শান্তি। আসুন রমজানের বরকতে তাদের শরিক করি। তাদের রোজা রাখতে উৎসাহিত করি। ৭ বৎসর বা তার বেশি বয়সের ছেলেদেরকে তারাবিহের জামাতে সঙ্গে করে নিয়ে যাই। তাদের নেককার রূপে গড়ে তুলি। তাহলে তারা দুনিয়াতে যেমন আমাদের হৃদয়ের শান্তি হবে, জান্নাতেও তেমনি আমাদের হৃদয়ের শান্তি হবে, জান্নাতেও তেমনি আমাদের হৃদয়ের শান্তি হবে। আল্লাহ কবুল করুন। আমীন।

ড. মাহবুবা রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা।

এসএন

Header Ad
Header Ad

বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্রীতিসভায় এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সৎ, আদর্শবান ও ইসলামপন্থী প্রার্থীদের জয়ী করে জাতিকে সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।

ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদিঘি) আসনে নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে আলহাজ দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে আবিদুর রহমান সোহেল এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশন (ইফসু)’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। এছাড়া জামায়াতের বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুর রহীম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে ছাত্রশিবিরের দুই হাজারেরও বেশি সাবেক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা পরিবেশনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াত নির্বাচনী মাঠে নিজেদের পুনরায় সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে। ছাত্রশিবিরের সাবেকদের অংশগ্রহণ দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে।

Header Ad
Header Ad

রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বদরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক জন নিহত এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিকের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি শহরের ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার এবং দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবুর মধ্যে দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্বকে ঘিরে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

জানা গেছে, দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু দাবি করেন, জাহিদুলের দোকান ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভাড়াটিয়া জাহিদুলের দাবি, তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৈধ এবং তিনি দোকান ছাড়বেন, যদি জামানত হিসেবে দেওয়া ৩৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু দোকান মালিক সেই অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে বুধবার সন্ধ্যায় দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে ইশতিয়াক বাবুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এর প্রতিবাদে শনিবার শহিদুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু মানববন্ধন চলাকালে মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন ও মাইক ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।”

 

Header Ad
Header Ad

গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার প্রতীক ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

তিনি বলেছেন, “জয় বাংলা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্লোগান নয়—এটা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্লোগান। গত ২৫ বছরে আমি একবারও ‘জয় বাংলা’ বলিনি। কিন্তু আজ শপথ করে বলছি, এখন থেকে আমি ‘জয় বাংলা’ বলব।”

গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল) রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ গ্রামে পিতামাতা ময়েজউদ্দিন ও আনোয়ারা সিদ্দিকার কবর জিয়ারতের সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আজকের দালান-কোঠা, ঘরবাড়ি কিছুই হতো না। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আজ অনেকেই সেই স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে চায় না। কেউ কেউ হাসিনা সরকারের পতনকে স্বাধীনতার পতন মনে করে—না, এটা কোনোভাবেই স্বাধীনতার পতন নয়।”

তিনি আরও বলেন, “যারা বিপ্লব ঘটিয়েছেন, স্বাধীনতা না থাকলে তারা তা পারতেন না। আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা যদি সঠিকভাবে পথ চলত, তবে মানুষ তাদের বহু বছর মনে রাখত। কিন্তু আজ তারা স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধুকে মানে না, জিয়াউর রহমানকেও মানে না, এমনকি আমাদের কাউকেও স্বীকার করে না। এটা ভালো লক্ষণ নয়।”

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বঙ্গবীরের স্ত্রী নাছরিন সিদ্দিকী, ভাই মুরাদ সিদ্দিকীর স্ত্রী নিহার সিদ্দিকীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫
‘বিদেশি কিছু গণমাধ্যম অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করছে’
সারা দেশে ৩২৯ উপজেলায় হচ্ছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: মহাপরিচালক
২৭৭ জনকে নিয়োগ দেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এইচএসসি পাসেও আবেদন
ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫৪
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো নিউজিল্যান্ড
স্বর্ণভর্তি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোরিকশাচালক খায়রুল
ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী
যারা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে, তারা রাজনীতি করার অধিকার রাখে না
লৌহজংয়ে কার্টনে পাওয়া মরদেহের টুকরোগুলো সাভারের সবুজ মোল্যার
মার্কিন শুল্ক নিয়ে সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা
গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ: পরীমনি বললেন ‘আমার হাতে সব প্রমাণ আছে’