শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শিক্ষক রাজনীতি চান না ডিসিরা, আমরাও কি চেয়েছি!

শোনা যাচ্ছে এখন শিক্ষক রাজনীতি চান না ডিসিরা! আমরাও কি চেয়েছি কখনো? স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করে দেশের সুশীল সমাজের কেউই সেটা চাননি, আমরাও চাইনি। কিন্তু এই চিৎকার এতোদিন সাধারণের হলেও অতি সম্প্রতি সরকারের আমলাদের মধ্য থেকেই আসা এমন প্রস্তাব ওঠায় আশান্বিত হচ্ছি আমরা।

শোনা যাচ্ছে আসছে ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারি ৬৪ জেলার ডিসিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে এই প্রস্তাব তোলা হবে। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতির বাইরে রাখার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে ডিসিরা। এজন্য সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার মত পৃথক সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে আসন্ন ডিসি সম্মেলনকে সামনে রেখে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে এই প্রস্তাব।

প্রস্তাবটি নিয়ে ২৪ জানুয়ারি বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের যে সেশন রয়েছে সেখানে আলোচনা হবে এতে শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এই প্রস্তাবটি পাশ হলে তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে হবে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা।

প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গবেষণায় প্রমাণিত— যে শিক্ষকদের রাজনৈতিক চর্চা শিক্ষার মানের ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি সার্বিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তোলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় সহকারী শিক্ষকের তকমা নিয়ে প্রধান শিক্ষককে হুমকি ধামকিতে তটস্থ রাখতে অপচেষ্টা চালান ফলশ্রুতিতে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

শুধু রাজনীতি নয়, এই প্রস্তাবে শিক্ষকদের শুধু শিক্ষকতা ছাড়াও ঠিকাদারি, সাংবাদিকতা, ব্যবসাসহ শিক্ষা কার্যক্রম বহির্ভূত সব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফলে শৃঙ্খলার উন্নতি হয়ে শিক্ষকরা পাঠদানে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবে। এতে শিক্ষকতার মান বাড়ার পাশাপাশি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে।

শিক্ষকতা মানুষ গড়ার পেশা। তাই রাজনীতি করার ক্ষেত্রেও তাদের দায়িত্ব অপরিসীম। বিশ্বের অনেক দেশেই ডাকসাইটে শিক্ষকরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সেখানে সুফল ও মিলেছে কিন্তু উল্টো ঘটেছে বাংলাদেশের বেলায়। এখানে শিক্ষকদের শিক্ষক পরিচয়টাই গৌণ। মুখ্য পরিচয় সে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা, দোকান মালিক কৃষিজীবী ইত্যাদি। তাদের যুক্তিও ফেলনা নয়। কম বেতনে বাড়তি আয়ের সুযোগ তারা হাতছাড়া করবে কেন।

সরকারি বেসরকারি বৈষম্য জিইয়ে রেখে, শিক্ষকদের আর্থিক প্রসঙ্গটি আমলে না নিয়ে, বেতন বাড়ার প্রসঙ্গটি কৌশলে এড়িয়ে তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কতটুকু সফল হবে সেটা সময় বলবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে বৈষম্য হ্রাস ও বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনার টেকসই পরিবর্তন আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে কথা সত্য যে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের উত্থান পর্বে ব্যাপকহারে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষক হয়েছেন লাখ লাখ রাজনৈতিক কর্মী। স্বজনপ্রীতি ও রাজনীতিকরণের এমন নজির দেশের ইতিহাসে বিরল। এতে শুধু শিক্ষাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ ও আমাদের ভবিষ্যৎ। আমাদের স্টেক হোল্ডাররা। যারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত ওই সব স্কুলের সেবাগ্রহিতা। হোটেল মালিক নিশ্চয় নিজের হোটেলে রান্না খান না। বেসরকারি স্কুল শিক্ষকের ছেলে নিশ্চয়ই সেখানে কমই পড়েন, মন্ত্রীর ছেলে যেভাবে পড়েন বিদেশে।

আমাদের দেশের তথাকথিত শিক্ষক রাজনীতি ও ছাত্র রাজনীতির কারণে ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার, সেই তুলনায় বাড়েনি রাজনীতির মান কিন্তু উদ্দেশ্য সেদিকেই ছিল বলে নীতি নির্ধারকরা মনে করেন। স্থানীয় রাজনীতি আর মাসলস পাওয়ার ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়া দেশের বৃহৎ অংশের শিক্ষক সমাজ বলবেন কী— শিক্ষায় তাদের অবদান কতটুকু? শিক্ষকতার মতো মহান ব্রতকে পেশায় পরিণত করার পরিণতি রাষ্ট্র খুব তাড়াতাড়িই টের পাবে। শিক্ষাকে অবহেলা করে পৃথিবীর কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারেনি সেখানে বাংলাদেশেরও কোনো বিকল্প আছে বলে আমরা অন্তত মনে করি না। ঠিক একই কথা অ্যারিষ্টোটল আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে বুঝলেও আমরা কেন তা বুঝলাম আজ বিষয়টি প্রশ্নাতীত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক এটা আমাদের সুযোগ্য জেলা প্রশাসকরা আজ বোঝেন, আমজনতা বুঝেছে আগেই। শুধু শিক্ষক রাজনীতি নয় ২৪ ঘণ্টা শিক্ষা চ্যানেল চালু করাসহ শিক্ষা সংস্কারের জন্য আরও নয়টি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়েপাস হওয়ার অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে। নতুন সিলেবাসে পুরনো বই ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের নামে সব অপরাজনীতি রুখে আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। আমাদের যাত্রা এমন সম্ভাবনাময় আগামীর দিকে।

হাসিবুল হাসান: প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও শিক্ষা গবেষক

আরএ/

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো